12.07.2017

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিপরীতে সুন্নী মুসলমানদের করণীয়


জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ছাড়া আমেরিকান দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প। (http://nyti.ms/2AepBA8)

বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে এক ভাষণে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেয়হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া সেই বক্তব্যে ট্রাম্প এ স্বীকৃতির ব্যাপারে নিজের দৃঢ় সংকল্পের কথাই পুনর্ব্যক্ত করে বলে, ‘আমি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ছিলামকাজটা ঠিকই হয়েছে

গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো কট্টর ইসলামবিরোধী ট্রাম্পহোয়াইট হাউসে প্রবেশের ১০ মাসের মাথায় সে তার কথিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলোফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিয়ে অতীতের মার্কিন নীতিকেও নিজের বক্তব্যে কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলে, ‘অতীতের অনেক প্রেসিডেন্টই বলেছিলো যে তারা এটি করতে চায় (জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া)কিন্তু তারা তা করেনিতারা করার সাহস পায়নি, নাকি নিজেদের মতের পরিবর্তন করেছিলো, আমি বলতে পারব নাআমি মনে করি, অনেক আগেই এটি করা উচিত ছিল

১৯৯৫ সালে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নেওয়া হবে-এই মর্মে একটি আইন পাস হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রেকিন্তু এরপর থেকে প্রতি ৬ মাস পরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি আদেশে সই করেনএর মাধ্যমে এই স্থানান্তরপ্রক্রিয়া ৬ মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়

এদিকে হামাস ট্রাম্পের এ ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেতারা বলেছে, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে নরকের দরজাখুলে গেল তারা আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে নিজ নিজ দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছে (http://dailym.ai/2AE9yc4)


১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে জেরুজালেমে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর জিম্মাদার জর্ডান এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ
এই সিদ্ধান্ত চরম সীমাঅতিক্রম করবে বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান (http://bit.ly/2jnSks5)সৌদি আরবও এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে(http://bit.ly/2ksGdNF) ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে সায় নেই তাদের অন্যতম মিত্র যুক্তরাজ্যেরও (http://dailym.ai/2BNHnYf)

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে ঐতিহাসিকবলেছে যদিও নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে মুসলমানদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে বলেছে, মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিষ্টান-এই তিন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর পবিত্রভূমি হিসেবে জেরুজালেমের যে অবস্থান, ট্রাম্পের এ ঘোষণায় এর কোনো পরিবর্তন হবে না (http://bit.ly/2AX9WF4)

আমার মন্তব্যঃ আমি দেখলাম অনলাইনের কিছু চুষিল মুসলমানদের ঐক্য(বদ আক্বিদার লোকদের সাথে) করতে হবে বলে গলা ফাটাচ্ছে কিন্তু তারা যে নিয়তে ঐক্য করতে বলছে তাতে ঐক্য তো হবেনা উল্টো ঈমানটাই চলে যাবে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে আপনারা দেখতে পাবেন যে এই যুদ্ধ ইংরেজ কাফেররা সৃষ্টি করে গেছে আপনি যদি বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ ইমানদিপ্ত দাস্তান পড়েন তাহলে দেখতে পাবেন ইংরেজরা ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি ব্যবহার করেই শেষ পর্যন্ত এই দেশ শোষন করা শুরু করেছিলযদিও এই উপমহাদেশের মুসলিমরা হাজার বছর ধরে ইসলাম পরিষোধক সর্বজন স্বীকৃত ৪ মাজহাবের উপর এক ছিল কিন্তু কাফের বৃটিশরা ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবে আহলে কুরআন/আহলে হাদিস/লা-মাজহাবীদের সৃষ্টি করেছিল সেইসব পবিত্র মাজহাবের উপর এক থাকা মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্টের জন্য আর সেই ষড়যন্ত্র লা-মাজহাবীরা এখনো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে তাহলে কিভাবে সেইসব ছুপা দালাল যারা ইহুদী খ্রিষ্টানদের সাথে আতাত করে ইসলাম ধ্বংস করার মিশনে নেমেছে তাদের সাথে ঐক্য করবে মুসলমান? অথচ তারাই আমাদের দেশে বড় বড় ইসলামিস্ট সেজে বসে আছে তাদের সাথে ঐক্য করা কি কুরআন সুন্নাহর অনুসারী মুসলমানদের পক্ষে সম্ভব?

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যতদিন মুসলিমরা এক হতে পারবেনা ততদিন নির্যাতন, নিপিড়ন ছাড়া কপালে কিছুই জুটবেনাঅথচ একসময় মুসলিমরা সংখ্যায় কম হয়েও অর্ধেক পৃথিবী শাসন করেছেনমুসলমানদের ওপর কথা বলার সাহস পর্যন্ত কারো হয়নিআমাদের এই ভারতবর্ষও মুঘল সম্রাটরা রাজত্ব করেছেন দীর্ঘদিন আর বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি এই মুসলমানেরাকিন্তু কোন একতা নাইএকদেশ আরেক দেশের শত্রুনিজেদের মধ্যে মারামারি, কাটাকাটি নিয়ে ব্যাস্ত যার মূল কারন ডিভাইড এন্ড রুল পলিসি আর এর থেকে মুক্তি পেতে এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে সহিহ শুদ্ধ আক্বিদা নিয়ে কিন্তু ইমান আকিদার দিক দিয়ে আমরা যে খুবই দুর্বল মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য চাওয়ার মতো লোকের যে বড়ই অভাবএছাড়াও আমাদের ধর্মীয় নেতারা দুর্বল ঈমানের দরুন তাগুতের গুলামি করে সঠিক ইসলামি শিক্ষা থেকে আমাদের বঞ্চিত করে আমাদেরকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছেজ্ঞান বিজ্ঞানে আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি

আর সমস্ত বাতিল ফিরকাই দালালি করবে কাফের মুশরিকদের যেভাবে বৃটিশ আমলে করেছিলকাফের মুশরিকদের বৃটিশ আমলের নির্যাতিত নিপিরিত সাধারন মুসলিম জনতা সুন্নী মুসলিমদের ব্যতীত কাউকে নিজের দুর্দিনের সাথী হিসেবে পায়নি ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও মহান আল্লাহ পাক ও নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরে সুন্নী মুসলমানেরা এই দেশের মানুষের শেষ ভরসার স্থল ছিলোইনশাআল্লাহএই দেশে যত বিপদ ই আসুক না কেনো, সুন্নী মুসলমানদের সবসময় নিজেদের পাশে পাবে এই দেশের মানুষ

শেষ করার আগে আবারো বলছিঃ যেহেতু ঐক্য ঐক্য(বদ আক্বিদার লোকদের সাথে) বলে গলা ফাটিয়ে কিয়ামত অবধি চিল্লাচিল্লি করলেও কোনোদিন ঐক্য তৈরি হবেনাসেহেতু যার যার(সুন্নী গ্রুপগুলো) মতামত অনুসারে সামনের কঠিন দিন গুলোতে নিজ নিজ প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে বিজাতীয়দের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে যদি সবাই নিজেকে দালাল না মনে করে মুসলিম মনে করেআর যদি এটি করতে পারে তবে বিজয় সু নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ!!! 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: