12.17.2017

আকায়েদের পাইপ বোমা বনাম সিআইএ-র চুরুট বোমা কিংবা সেলফোন বোমা


আকায়েদকে নিয়ে প্রকাশিত বেশকিছু খবরে দেখলাম, তাকে নিয়ে আমেরিকার বাঙালি কমিউনিটি তো বটেই এমনকি বাংলাদেশে তার শ্বশুরবাড়ির প্রতিবেশীরাও একেবারে লজ্জায় খোলসের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে। অথচ আকায়েদ কাউকে খুন করা তো দূরে, তার সাথে বহনকৃত পাইপ বোমার বিস্ফোরণে সে নিজেও মারা যায়নি। এখন প্রশ্ন হলো, যেই বোমার বিস্ফোরণে বহনকারী নিজেই মারা যায় না, সেই বোমা নিয়ে আত্মঘাতীহামলা সে করতে যাবে কোন যুক্তিতে?

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে deadliest warrior নামে একটি সিরিজ প্রচারিত হতো। সিরিজের প্রতিটি পর্বে দুটি আলাদা সেনাদল থেকে প্রতিনিধি আনা হতো, তাদের সঙ্গে থাকতো তাদের নিজ নিজ ব্যবহৃত অস্ত্র, বোমা প্রভৃতি। অনুষ্ঠান সেসব অস্ত্রের পারস্পরিক শক্তি তুলনা করা হতো এবং শেষে বিজয়ী ঘোষণা করা হতো।

একটি পর্বে আনা হয় ইসরায়েলি কমান্ডো সদস্যদের, অনুষ্ঠানে সেমটেক্সবোমার ব্যবহার তারা তুলে ধরে। সেমটেক্স হচ্ছে একটি প্লাস্টিক বিস্ফোরক, অনেকটা আটার খামিরের মতো। ইসরায়েলি কমান্ডোরা যেই ফিলিস্তিনি নেতাকে হত্যা করতে চায়, তার নিকট তারা যে কোনভাবে একটি মোবাইল ফোন প্রেরণ করে। মোবাইল ফোনের ভেতরে থাকে বড়ির মতো একটি ছোট সেমটেক্সের টুকরা। যখনই টার্গেটকৃত ব্যক্তি সেই ফোনটি কানে দিয়ে কথা বলতে থাকে, তখনই সেমটেক্সের বিস্ফোরণ ঘটানো হয় আর কানে ফোন দেয়া সেই ব্যক্তিটির মৃত্যু ঘটে।

আরেকটি পর্বে দেখানো হয় আমেরিকার সিআইএ এজেন্টদের দ্বারা কিউবার কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত চুরুট বোমা। কিউবার সংস্কৃতির অঙ্গ এই চুরুট বা সিগার। ফিদেল কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারার অনেক ছবিতে চুরুট টানার দৃশ্য রয়েছে। সিআইএ-র এজেন্টরা এই চুরুটের মাঝখানে সামান্য এক টুকরা সি-ফোর (সেমটেক্সের মতো আরেকটি প্লাস্টিক বিস্ফোরক) দিয়ে টার্গেট ব্যক্তিটির কাছে পাঠাতো। চুরুটটি ফুঁকতে ফুঁকতে যখনই তামাকের আগুন চুরুটের মাঝখানে থাকা সি-ফোরের টুকরায় স্পর্শ করতো, তখনই বিস্ফোরণে টার্গেটের চোয়াল উড়ে যেত।

প্রশ্ন হতে পারে, এই সেলফোন কিংবা চুরুট কিভাবে নেতাদের হাতে পৌঁছে দেয় এসব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো? এর উত্তর হলো, নেতাদের আশেপাশের মানুষদের মধ্যেই কিন্তু মিশে থাকে শত্রুপক্ষের এজেন্ট। ধরা যাক, কোন ফিলিস্তিনি নেতার এক বন্ধু, যে তলে তলে ইসরাইলের এজেন্ট, ফোনে কথা বলার ভান করতে করতে নেতাটির উদ্দেশ্যে নিজের ফোনটি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, নে দোস্ত অমুকের সাথে কথা বল। সে কানে দেয়ার সাথে সাথেই ফোনটির বিস্ফোরণ ঘটল।

এখন প্রশ্ন হলো, এই আকায়েদ তো থাকে আমেরিকায়, তার আশেপাশের লোকজন ইহুদী-খ্রিস্টান। এটি কি হতে পারে না যে, তার কোন বিধর্মী বন্ধু্ই তাকে ঐ পাইপসদৃশ বস্তুটি দিয়েছিল, সে নিজেও জানত না বস্তুটি কি? এটি হওয়ার সম্ভবনাই কিন্তু বেশি, কারণ এর আগে নাফিসনামক যেই ছেলেটিকে স্টিং অপারেশনে ফাঁসানো হয়েছিল, তাকেও কিন্তু নকল বিস্ফোরকসরবরাহ করে ফাঁদে ফেলেছিল এই সিআইএ এজেন্টরাই।

সুতরাং মুসলমানরা, বিধর্মীরা কিছু বললেই সেটা সাথে সাথে মেনে না নিয়ে প্রশ্ন করতে শিখুন। সবচেয়ে ভালো হয় নিজের সমাজের দিকে তাকিয়ে বিচার করলে। আমাদের সমাজের মুসলমানরা নিতান্তই গোবেচারা, প্রতিবেশী কিংবা এলাকার হিন্দুরা ইসলাম নিয়ে যাচ্ছেতাই অবমাননা করলে, কিংবা এদেশের হিন্দুরা স্পেনের মুসলমানদের মতো বাংলার মুসলমানদের হত্যার ঘোষণা দিলেও মুসলমানরা টু শব্দটাও করে না। রাজস্থানে সম্প্রতি আফরাজুলের হত্যাকারী শম্ভুলালের হত্যাকাণ্ডের ভিডিও করেছিল কে জানেন, তার নাবালক ভাতিজা। বিপরীতে আপনার মুসলমান ঘরের বাচ্চা, যাকে আপনি ছোটকাল থেকেই অছাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন, সে তো রক্ত দেখলেই ফিট হয়ে যাবে!

সুতরাং এই হিন্দু-খ্রিস্টানরা কিছু বললেই নিজেদের সমাজের লোকদের সন্ত্রাসী ভাবা থেকে বিরত হউন। সন্ত্রাস তো দূরে, বর্তমানে মুসলমানদের মতো ভীরু জাতি দুনিয়ার বুকে আর একটিও নেই যদি মুসলমান হযরত ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মতো ঈমান আর সাহস ধারণ করতো তবে মার না খেয়ে অর্ধেক পৃথিবী শাসন করতো।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: