5.19.2005

বিদয়াত কি? ইসলামে বিদয়াতের অবস্তান কি? যায়েজ না নাজায়েজ?

বিদাত কি? ইসলামে বিদাতের অবস্তান কি? যায়েজ না নাজায়েজ?
আপনি কি পবিত্র পবিত্র মিলাদ শরিফ মাহফিল, এবং পবিত্র মহাসম্মানিত শবে বরাত, শবে মেরাজ শরিফ এলে উনাদের ইবাদতের কথা শুনলে বেদাত বেদাত বলে চিল্লাচিল্লি করেন?? যদিও আপনারা অনেকে দলিল মানেননা আর বলেন, পবিত্র পবিত্র মিলাদ শরিফ শরিফ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার আমলে ছিলো নাকাজেই, পবিত্র মিলাদ শরিফ পড়া যাবে নাতাহলে আপনাকেই বলছি, আরোও কিছু বেদাত আছে, যেগুলো আপনার জানা দরকার

কয়েকটা উদাহরন নিচে দেওয়া হলো যেমনঃ
  • আপনি যে নাওয়াইতুয়ান উসাল্লিয়া লিল্লাহে…….” পড়ে নামাজের নিয়ত করেন, এটি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার আমলে ছিলো নানবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার যামানার কয়েকশ বছর পর এটির প্রচলন হয়
  • আপনি যে মাদরাসা মক্তবে ছাত্র পড়িয়ে বেতনভাতা নিচ্ছেন, এটা তো নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার জামানায় ছিলো না, তাহলে আপনি এমনটা করছেন কেনো? ইহাও তো বিদাত ??
  • নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি সবসময় একটি তরকারি দিয়ে আহার করতেন, অল্প খেতেনআপনি কেনো একাধিক তরকারি দিয়ে গলা পর্যন্ত খাবার ঢুকান? ইহাও তো বেদাত
  • বর্তমানে পবিত্র মাদরাসা বা মসজিদ উঁনাদের জন্য যে বিরাটাকার দালান নির্মিত হচ্ছে, এবং বিভিন্ন উপকরণ দ্বারা সজ্জিত করা হচ্ছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার জামানায় এমনটি ছিলো নাআপনি কেনো এমনটি করছেন? এটিও তো বেদাত
  • নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার জামানার বহু বছর পরে পবিত্র আল কোরআন শরীফ উঁনার মধ্যে জের, জবর, পেশ সংযোজিত হয়, এটাও তো বেদাততাহলে আপনি জের, জবর, পেশ ওয়ালা আল কোরআন পড়ছেন কেন?
  • আপনি যে প্রতি বছর পবিত্র মাদরাসা/মসজিদের সামনে সম্মেলন করেন, এটা তো নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার জামানায় ছিলো না নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনারা কি টাকার বিনিময়ে এভাবে পবিত্র দিন ইসলাম উঁনার দাওয়াত দিতেন? কাজেই এটাও বেদাতআপনি এটা করছেন কেনো?
  • আপনি যে আজানের সময় মসজিদে মাইক ব্যবহার করেন, এটা তো নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনারা করেন নাই, কাজেই এটাও বেদাত
  • আজকে যে বিমানে চড়ে আপনি হজ্ব করতে আরব দেশে যান, এটা তো নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার আমলে ছিলো নাকাজেই এটাও বেদাত
  • সবশেষে মুন্সী আপনাকে বলি, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার জামানায় আপনিও তো ছিলেন না, কাজেই আপনিওতো একজন বেদাত আরও আছে অনেক কিছু বললে বলে শেষ করা যাবেনা
এখন আসি মূল বিষয়ে দেখি সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন তবে তাবেঈন রহিমাহুল্লাহ আলাইহিমাগন কি বিদাত পালন করেছেন? যেহেতু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার অবর্তমানে যা কিছু দিন ইসলামে নতুন করে ঢুকানো হবে তাই বিদাত সেহেতু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি করেছেন কি না তাঁর প্রশ্নই আসেনাবিদাত নিয়ে আজকাল ওয়াহাবী মঔদুদি, আহলে হাদিস, দেওবন্দি সহ অনেক বাতিল সম্প্রদায় নানা ধরনের বিদ্রান্তি ছড়াচ্ছেতাই আসুন বিদাত নিয়ে কিছু আলোচনা করি

প্রথমতঃ ওয়াহাবী মঔদুদি, আহলে হাদিস, দেওবন্দি এদের কুনো অস্তিত্ব নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার জামানায় ছিলো না যাদের জন্ম মাত্র কয়েকশো বছর এবং এরা বিদাত ই না শুধু স্পষ্ট হারাম। কারন পবিত্র দিন ইসলামে ভিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করা সম্পূর্ণ নিষেদ যেমনঃ পবিত্র সুরা আর রুম উনার ৩১-৩২ নং আয়াত শরিফ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন সবাই উঁনার অভিমুখী হও এবং ভয় করো, পবিত্র নামায কায়েম করো এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো নাযারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেপ্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত

আজকের ফেতনার দলাদলির যুগের জন্যে পবিত্র হাদিস শরিফ উঁনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার ও বিভিন্ন হাদীছ শরিফ উঁনার মধ্যে উঁনাকে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেনবিশেষত মতপ্রার্থক্যের সময়(আজকের জামানায়) নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার ও খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেনঃ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلاَفًا كَثِيْرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِىْ وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِيْنَ الْمَهْدِيِّيْنَ عَضُّوْا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُوْرِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ-

তোমাদের মধ্যে থেকে যারা জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবেঅতএব (মতভেদের সময়) আমার পবিত্র সুন্নত মোবারক এবং আমার হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র সুন্নত উঁনার অনুসরণ করা হবে তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্যএ পবিত্র সুন্নাত উঁনাকে খুব মযবুতভাবে মাড়ির দাঁত দিয়ে অাঁকড়ে ধরে থাকোআর সমস্ত বিদআত(বিদায়াতে সায়্যিয়াহ) থেকে বিরত থাকোকেননা প্রত্যেকটি বিদআত(বিদায়াতে সায়্যিয়াহ) গুমরাহী

দলিলঃ- আবূ দাউদ শরিফ হা/৪৬০৭; তিরমিযী শরিফ হা/২৬৭৬; ইবনু মাজাহ শরিফ হা/৪২৪৪; আহমাদ শরিফ হা/১৬৬৯৪; ইবনু খুযায়মা শরিফজুমঅধ্যায় হা/১৭৮৫; মিশকাত শরিফ হা/১৬৫; রিয়াদুছ ছালেহীন শরিফ হা/১৫৭

বিদাত কি? ইসলামে বিদাতের অবস্তান কি? যায়েজ না নাজায়েজ?

বিদাত অর্থ নতুন আবিষ্কারঃ যার অস্তিত্ব নুরে মুজাসসাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার যামানায় ছিলনা পারিভাষিক অর্থে যা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি সময় ছিলনা বা যা তিনি করেন্নাই উনার জীবদ্দশায় ইহাকেই বিদাত বলে

বিদাতের প্রকারভেদঃ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি বলেছেন যে ব্যাক্তি ইসলামে নতুন একটি ভাল রীতি(বিদআতে হাসানাহ) আবিষ্কার করলো তার জন্য উত্তম প্রতিদান আছে এবং যারা তা আমল করবে তারাও উত্তম প্রতিদান পাবেকিন্তু যে বাক্তি একটি খারাপ রীতি আবিষ্কার করলো তার জন্য খারাপ প্রতিদান আছে এবং যারা তা আমল করবে তারাও খারাপ প্রতিদান পাবে

দলিলঃ- সহীহ মুসলিম শরিফ, মেশকাত শরিফ পৃষ্ঠা ৩।

উপরের হাদীস শরিফ উঁনার ভিত্তিতে ইমাম নববী (রাঃ), মোল্লা আলী কারি (রাঃ) ও পূর্ববর্তী উলামাগন বিদাতকে ২ ভাগে ভাগ করেছেন

১/ বিদাতে হাসানাহ বা ভাল বিদাত যেমন মাদরাসা, ইসলামী মাহফিল, খুতবার আযান ইত্যাদি
২/ বিদাতে সায়্যিয়াহ বা খারাপ বিদাতযেমন পরিবারের ভরন পোষণ ছেড়ে চিল্লায় যাওয়া, গনতন্ত্র কে খেলাফতের অংশ মনে করা যা বিদাত তো নয়ই বরং হারম, হিন্ধুয়ানি অনেক রিতি নিতি মানা, ব্যান্ড প্যাকেজ, ইত্যাদি কুসংস্কার

ভালো বিদাত খুলাফা এ রাশেদিন আলাইহিমুস সালাম, সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তথা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত উনার কাছে গ্রহণযোগ্য, আর খারাপ বিদাত সর্ব সম্মতিক্রমে পরিতাজ্যআসুন খুলাফা-এ রাশেদিন আলাইহিমুস সালাম ভাল বিদাত করেছেন কিনা দেখি

১/ হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম যখন পবিত্র আল কোরআন উঁনাকে সংকলন করার কথা বললেন তখন সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা আরজ করলেন হে খলিফাতুল মুসলেমিনআপনি কি এমন কাজ (বিদাত) করবেন যা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিঁনি করেননি? তখন সিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম তিঁনি বললেন মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার কসম এটা ভালো কাজ.

দলিলঃ- সহীহ বুখারী শরিফ, মেশকাত শরিফ পৃষ্ঠা ১৯৩। তাহলে প্রমাণিত হলো হযরত আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম ভাল বিদাত গ্রহণ করেছেন

২/ হযরত উমর আলাইহিস সালাম সম্পূর্ণ এক মাস জামাত সহকারে পবিত্র তারাবিহ উঁনার পবিত্র নামাজ চালু করেন, যা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর সিদ্দিক আলাইহিস সালাম উঁনাদের সময় ছিলনাহযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম একদা হযরত আব্দুর রহমান রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনাকে সাথে নিয়ে রাতে বের হলেন, যখন তিঁনি সবাইকে জামাত সহকারে পবিত্র তারাবীহ উনার নামাজ পড়তে দেখলেন তখন তিঁনি খুশি হয়ে বললেনএটা কতইনা উত্তম বিদাত!

দলিলঃ- সহীহ বুখারী শরিফ পার্ট ১ পৃষ্ঠা ২৬৯। খুব পরিষ্কার ভাবে প্রমাণিত হলো ভাল বিদাত ফারুকে আজম আলাইহিস সালাম তিঁনিও করেছেন

৩/ হযরত উস্মান(ওসমান) আলাইহিস সালাম জুম্মার নামাজে খুতবার আযান চালু করেছেন, যা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁনার ও দুই খলিফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের আমলে ছিলনা

দলিলঃ- সহীহ বুখারী শরিফ পার্ট ১ পৃষ্ঠা ১২০। প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা উপরোক্ত দলিল দারা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমান হলো যে ভাল বিদাত গ্রহণ করা ও আমল করা খুলাফায়ে রাশেদিন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মোবারক সুন্নত

আজকাল ওয়াহাবী, মঔদুদিরা ভাল বিদাত কে ও নাজায়েজ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে অথচ তারা নিজেরাও বিদাত নয় শুধু বরং স্পষ্ট হারাম কাজ করে তাই তাদের কাছে প্রশ্ন আপনারা বিশ্ব ইজতেমা, ইসলামী মহাসম্মেলন, মাদ্রাসার বার্ষিক সভা, সিরাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো কোথায় পাইলেন? এগুলোকি বিদাত নয়? যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রতি মোহাব্বত ও সম্মান দেখেন সেখানে আপনারা বিদাতের ফতুয়া লাগায় দেন অথচ আপনাদের গুলো বিদাত নয় এই ইসলাম আপনাদের কে শিখাইলো? নিশ্চই আপনাদের আদি পিতা ইয়াজিদতা-না হলে আপনারা মিলাদুন্নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে করা সত্তেও তা বিদাত কেন বলছেন?, পবিত্র মিলাদ শরিফ শরিফ কেন বিদাত বলছেন? কিছু মানবেন কিছু মানবেন না এটা তো মুনাফিকের আলামতভালো বিদাত খুলাফায়ে রাশেদিন আলাইহিমুস সালামগন যেখানে গ্রহন করেছেন সেখানে আপনারা হারাম বলার কে? মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি এসব ইয়াজিদি ও নজদি থেকে মানুষের ইমান হেফাজত রাখুন আমিন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু-বান্দবদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! মহান আল্লাহ পাঁক তিঁনি আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

1 comment:

  1. হযরত আবু বকর (রা) কে আলাইহি ওয়াস্সালাম বললেন কেন?

    ReplyDelete