1.07.2007

আমরা কি আসলেই জানি নারী পুরুষের প্রেম ভালবাসার সত্যিকারের মানে কি?


প্রেম থেকেই প্রেমিকা নামক শব্দটির আগমন আমি যততুকু জানি, প্রেম নিয়ে অনেক গান উক্তি কবিতাও লিখা হয়েছে কিন্তু বাস্তবিক অর্থে প্রেমের আসল মর্মার্থ সবাই কি অনুধাবন করতে পারে? যেমন আপনি একটি মেয়েকে পছন্দ করে ফেলেছেন মন থেকে আর যদি তা সত্যিকার ভালবাসা হয় তাহলে সেই মেয়েটাকে নিয়ে আপনার মনে কোনোপ্রকার নোংরামি কখনোই আসবেনা, তাকে স্পর্শ করার কথা আপনি ঘূর্ণাক্ষরেও ভাবতে পারবেন না ভাবতে গেলেই আপনার মন খুঁতখুঁত করতে থাকবে, আপনার মনে হবে এই বুঝি আমি পাপ করে ফেললাম অথবা কারো (যাকে আপনি ভালবাসেন) পবিত্রতা স্পর্শ করতে যদি আপনার হাত কাঁপে আপনার দম বন্ধ হয়ে যায় যদি নিজের অপরাদবোধ জেগে ওঠে তাহলে আপনি বুঝবেন যে আপনি একজন সত্যিকারের প্রেমিক আর সেই মেয়েটা সবার থেকে আলাদা। এই জাতীয় বিশেষত্ব গুনের অধিকারিণী হয়ে লাখে একজন জন্মায় আমার দৃষ্টিতে

মনে করুন আপনি পেয়ে গেছেন আপনার সেই বহুল অপেক্ষিত প্রিয়তমাকে। এরপর একদিন আবেগের দাস হয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে গেলেন। সেই মুহূর্তে মেয়েটার উচ্ছাসিত হাসির বদলে আপনার চোখ চলে গেলো তার ভেজা জামায় গায়ের সাথে লেপ্টে থাকা তার বক্ষে ধারন করা সুডৌল যৌবন কে প্রস্ফুটিত করা দুই নীল পাহাড়ের দিকে, আর আপনার পুরুষত্ব আপনাকে জানান দিচ্ছে যাও এভারেস্ট জয় করে আসো তুমি না পুরুষ সেতো তুমারি আর ঠিক সেই মুহূর্তে আপনি যদি স্পর্শ করতে গিয়েও নিজের হাত কে গুটিয়ে নিজেকে বোঝাতে পারেন, যে নাহ সে আমার ঠিকিই কিন্তু ওর পবিত্রতার যত্ন করা আমার দায়বদ্ধতা আমার ঈমান", তাহলে বুঝতে পারবেন আপ্নিও তার মতো লাখে একজন আপনিও সেই প্রেমিক যার প্রেম জান্নাত থেকে এসে জীবনে অমর হয়ে রয়।

আমার মতে ভালোবাসার সম্পর্ক গুলোর মধ্যে সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক হলো ঐ দুটি মানুষেরঃ যারা থাকে দুনিয়ার দুই প্রান্তে!! দুজনের মাঝে কখনো দেখা হয়না, হয়না সামনা সামনি হাত ধরে বসে থাকা, চাইলেই একটু ছুয়ে দেখা যায়না একে অন্যকে!!! একটু বৃষ্টি পড়লেই দুটি মন তাদের ব্যাকুল হয়ে যায় একসাথে বৃষ্টিতে ভিজবে বলে!!! কিন্তু অনেক ইচ্ছাই অপূরণ থেকে যায় মনের গহীনে আর মাঝে মাঝে বের হয়ে আসে গভীর দীর্ঘশ্বাসে তারপরেও দিনের পর দিন, মাসের পর মাস একে অপরের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে!!! শুধুমাত্র একটি আশার উপর যে একদিন তাদের সব সপ্ন পূরণ হবে একে অপরের খুব কাছে থাকবে!! এতো কাছে যে তারা ভূলে যাবে তারা ব্যতিত দুনিয়ায় আর কেউ নাই।

প্রেম শব্দটা আসলে একটি পবিত্র শব্দ, এতে নোংরামির কোনো স্থান নেই, নেই কোনো পাপ পঙ্খিলতা। আসলে প্রেম ভালবাসা আজকাল খুজে পাওয়া খুব দুষ্কর কারন আজকাল কথায় কথায় সম্পর্ক ভাঙ্গে মিনিটের ভেতরে বছরের পর বছর নোংরামি করা আবেগ কে ভালবাসা নাম দিয়ে প্রেম কে করা হয় কলুষিত আজকাল সমাজে প্রেম নাই বললেই সারে ভুলে যাওয়ার নাম কি প্রেম? হঠাৎ ছেড়ে দেয়ার নাম কি প্রেম? কি মনে করেন আপনারা? ভালবাসলে কি তারে ভুলা যায়? আপনারাই বলুন?

যে সম্পর্ক ভাঙার তা ভাঙবেই, সে কোন কথাটা বলে সম্পর্ক ভাঙলো, সেটা কোনো বড় ব্যাপার নয়, সত্যি বলতে কী, সেটা আসলেই কোনো ব্যাপার নয়!

একটা মানুষ অনেক কিছু বলে সম্পর্ক ভাঙতে পারে হয়তো সে বলবে, আমি আসলে তোমাকে বিয়ে করে স্থায়ী সম্পর্কে যাবার জন্যে প্রস্তুত না যদি কাউকে বিয়ে করতে হতো, তাহলে তোমাকেই করতাম! অর্থাৎ, "আমি সারাজীবন একজনের সাথে বিছানা শেয়ার করতে পারবো না যদি পারতাম, তাহলে তোমার সাথেই করতাম!"

হয়তো বলবে, "তোমার জন্যে এখনো ভাবি কিন্তু" অর্থাৎ, "ভাবি কিন্তু সারাজীবনের জন্যে ভাবা সম্ভব না"

কিংবা বলবে, "আর কন্টিনিউ না করলেও আমরা বন্ধুর মত থাকতেই পারি!" অর্থাৎ, "তুমি বন্ধু হিসেবে ভালোই কিন্তু সারাজীবনের জন্যে যথেষ্ট এক্সাইটিং না!"

অথবা বলতেই পারে, "আমাকে বাইরে যেতে হবে, ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, তোমাকে তো সময় দেয়া সম্ভব না, তাই" অর্থাৎ, "আমার মেইন ফোকাস তুমি না, পাসটাইম হিসেবে চলে আরকি"

হয়তো বলতে পারে, "তুমি আসলে আমার চেয়ে বেটার কাউকে ডিজার্ভ করো!" অর্থাৎ, "আমিই আসলে তোমার চেয়ে বেটার কাউকে ডিজার্ভ করি!"

হয়তো বলবে, "আমার স্পেস দরকার, এভাবে পারছি না!" অর্থাৎ, "তোমার থেকে দূরে থাকা দরকার, তোমাকে সহ্য হচ্ছে না!"

অথবা বলবে, "তোমাকে যে বিয়ে করবে, সে অনেক লাকি হবে!" অর্থাৎ, "আমি অত লাকি হতে চাচ্ছি না!"

কিংবা, "আমরা অনেক কম সময়ে কাছে এসেছি, আমাদের আরো সময় নেয়া উচিত ছিলো!" অর্থাৎ, "এই অল্প সময়েই তোমাকে আমার পড়া শেষ! এক বই আর কতবার পড়বো?"

আমাকে অনেকেই বলে, "ভাইয়া" ও এই কথাটা বলার পর আর যোগাযোগ করে নি, কিন্তু ওর এই কথাটার মানে কী? ও কি আবার ফিরে আসবে ভাইয়া?"

অথবা, "ভাইয়া জানো, ও এমন একটা কথা বলে চলে গিয়ে আবার অন্য একজনের সাথে নতুন করে সম্পর্কে জড়ালো! তাহলে সে ঐ কথাটা কেন বললো ভাইয়া?"

এইসব ভেবে কষ্ট পাওয়া? খুব খারাপ! মনে রাখবেন যে সম্পর্ক ভাঙবে, সে চাইলেও সম্পর্ক ভাঙার কারণ স্পষ্ট করে বলতে পারবে না, কোনো কিছু গড়াটা যতটা সাহসের, গড়ে তাকে ধরে রাখা যতটা দুঃসাহসের, ভেঙে ফেলা ততটাই সহজ, তুচ্ছ, ভীরু, মেরুদণ্ডহীনের কাজ! আর এই মেরুদণ্ডহীন মানুষ তোমার সততার সামনে দাঁড়িয়ে সত্যি কথাটা বলবে, তা তুমি কীভাবে আশা করো? কখনোই না।

আর এইজন্য আজকাল এই প্রেম ভালবাসা মূল্যহীন এবং বিয়ের কোনো বিকল্প নাই, এতে থাকে নিশ্চয়তা থাকে ভরশা থাকে সত্যিকারের মুহব্বত প্রেম আর ভালবাসা, যেখানে দায়বদ্বতা নেই সেখানে প্রেম ভালবাসার উপস্থীতি কোনো অবস্থায় থাকেনা আর দায়বদ্বতা একমাত্র স্বামি স্ত্রীর মধ্যেই থাকে যে কারনে হাজার ঝগড়ার পরেও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সহজে ব্রেকাপ হয়না অথচ প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে মুহূর্তেই ব্রেকাপ হয়ে বছরের পর বছর ভালবাসার নাটকের অবসান মুহূর্তেই হয়ে যায়।

আর প্রেমিকদের বলছি বাস্তবতাময় প্রেম করুন মনে রাখবেন ভালোবাসার সাথে ভালো একটি বাসাও প্রয়োজন না হলে আপনার প্রিয়তমা স্ত্রীর সৌন্দর্য আপনার থেকে আপনার প্রতিবেশীরাই বেশি উপভোগ করবে যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম এই ব্যপারে পবিত্র আল-কোরআন ২৪/৩১ ও ৩৩/৩১,৩২,৩৩,৩৫,৩৬,৫৯ এর এই আয়াত শরীফগুলো দেখতে পারেন।

যাই হউক যে বিষয়টা বলতে চাচ্ছি আপনি যখন আপনার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের পথে হাটার জন্যে প্রস্তুত হবেন তখন আপনার মনকে দুভাগ করে একটি কলম আর একটি পেন্সিল বানিয়ে নেবেন যেনো জীবনের ডায়রিতে তার প্রত্যেক্টা আচরণ আপনি লিখে রাখেন কিন্তু শর্ত হলো আপনার প্রীয় মানুষটির দেওয়া কষ্টগুলো লিখবেন পেন্সিল দিয়ে আর তার থেকে পাওয়া উত্তম ব্যবহার মুহুব্বত আর ভালবাসাগুলো লিখবেন কলম দিয়ে। আপনি হয়তো ভাব্বেন কেনো? কারন আপনি নিশ্চয় তাকে নিয়ে আমৃত্যু থাকার পরিকল্পনা করেই একসাথে চলার প্রয়াস ব্যক্ত করেছিলেন এবং সেও আপনার মত একই প্রয়াস ব্যক্ত করে জীবন যুদ্ধে পা রেখেছিলো তাহলে এমন কাজ না করাই ভালো যা আপনাদেরকে আলাধা করে ফেলবে তাই তার দেওয়া কষ্ট গুলোকে কাট পেন্সিল দিয়ে লিখবেন এই কারনে যেনো ভালবাসার রাবার দিয়ে মুছে ফেলা যায় যাতেকরে আপনি তার খারাপ ব্যবহার গুলো ভুলে যান আর তার দেওয়া ভালোবাসা আর উত্তম ব্যবহার কলম দিয়েই লিখবেন যাতে সবসময় তা অক্ষুন্য থাকে, আর এই কাজটি যারাই করতে পারবেন তারাই হবেন জগতের সবথেকে সুখী মানুষ। মনে রাখবেন ইগো অহংকার ওয়ালা মানুষ অন্যের ক্ষতির চেয়ে নিজের ক্ষতি সবথেকে বেশি করে, মান অভিমানে আমি কেনো তার সাথে আগে কথা বলবো টাইপের ইগো মানুষের সবথেকে বড় শত্রু মনে রাখবেন আপনি পরাজিত হয়ে তাকে জয়ী করা মানে আপনি চোট হওয়া নয় হোন আপনি স্বামী বা স্ত্রী বরং যে আগ বাড়িয়ে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করবে সেই জয়ী সেই মহান সেই উদার আর এতে কখনোই নিজেকে পরাজিত মনে করার কোন কারন নাই।

একটি কথা মনে রাখবেন কখনো এই ধারনা পোষণ করবেন না আমি তার স্বামি সে আমার কথা সবসময় শুনা লাগবে, না সে আপনার কাজের মেয়ে না সে আপনার অর্ধাঙ্গিনী যে কোনো বিষয়ে সে আপনার সাথে দ্বিমত করতেই পারে কিন্তু তা অবশ্যই হতে হবে যুক্তিপূর্ণ এবং ইসলাম অনুসারে। আর আপুমনিরা আপনারা স্বামিদের ব্যপারে হবেন উদার মায়েদের মতো তাহলে দেখবেন কক্ষনই আপনি কষ্টে পতিত হবেন না যেমন একজন মায়ের মনে তার সন্তান যতই অপরাধি হউক ক্ষমা সে পাবেই।

ভাইয়েরা শুনুন আপনার প্রিয়তমা স্ত্রী আপনার জন্যে কি অনুভব করছেন সেটা তার বলার প্রয়োজন নেই। তার না বলা কথা গুলো সবই লেখা থাকে তার অসাধারণ দুই চোখে। যদি আপনি তার নিঃশব্দ চোখগুলোকে বুঝতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনি তার মনটাকেও বুজতে পারবেন। আর যদি আপনি তার মনকে বুজতে পারেন তাহলে আপনি দুনিয়াতে বসেই জান্নাতুল ফেরদৌস এর স্বাদ পাবেন।


আসা করি লিখাটি অনুধাবন করতে পেরেছেন। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবার মনের নেক আশা পূরন করুন আর বিবাহ পূর্ব প্রেম নয় বিয়ের পরে দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রেম করুন প্রেম কি জিনিস বুঝতে পারবেন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: