12.01.2007

পবিত্র জুম্মার দিন মুমিন মুসলমানদের কি কি করনীয় অবশ্যই পড়বেন

আসসালামু আলাইকুম, পবিত্র জুম্মাহ মোবারক আজ আপনাদের সামনে পবিত্র জুম্মা উনার ফজিলত সম্পর্কে কিছু দলিল পবিত্র আল কোরআন উল কারিম ও হাদিস শরিফ উনাদের থেকে তুলে ধরবোঅজানায় হয়ে থাকা ভুল ত্রুটির জন্য অগ্রিম ক্ষমা চাচ্ছি মহান আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি ক্ষমা করুন

মহান আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফ উনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক করেন “(মুমিনগণ, পবিত্র জুম্মার দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণের পানে ত্বরা করো এবং বেচাকেনা বন্ধ করোএটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝোঅতঃপর পবিত্র নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ তালাশ করো ও মহান আল্লাহ পাক উনাকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হওসূরাহ জুম্মাহ শরিফঃ আয়াত শরিফ ৯-১০)

এখন দেখি হাদীস শরিফে কি বলা হয়েছেঃ

পবিত্র জুম্মার ‍দিনের মর্যাদাঃ হযরত আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনযির (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি বলেছেন, জুমআর দিন সকল দিনের সর্দারমহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সকল ‍দিনের চেয়ে মর্যাদাবানকোরবানীর দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশী মর্যাদাবান

আবু হুরাইরা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমরা শেষে এসেছি কিন্তু কেয়ামতের দিন সকলের আগে থাকবোযদিও অন্য সকল জাতিগুলো (ইহুদী ও খৃষ্টান) কে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আমাদের গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের পরেঅতঃপর জেনে রাখো এই (জুম্মার) দিনটি আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি আমাদের দান করেছেনতিনি এ ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেনআর অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে আমাদের পিছনে আছেইহুদীরা জুম্মার পরের দিন (শনিবার) উদযাপন করে আর খৃষ্টানেরা তার পরের দিন (রবিবার) উদযাপন করে। (বর্ণনায়ঃ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

আসুন আমরা সবাই জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে যাই, আমি আপনি যদি একটু আগে ভাগে মসজিদে যাই তবে এর জন্য অনেক ফজিলত রয়েছেহাদিস শরিফ উনার মধ্যে আছে পবিত্র জুম্মার দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কুরবানী করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “যে ব্যাক্তি পবিত্র জুম্মার দিন ফরজ গোসলের মত গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেনো একটি উট কুরবানী করলো, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেনো একটি গরু কুরবানী করলো, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেনো একটি ছাগল কুরবানী করলোঅতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেনো একটি মুরগী কুরবানী করলআর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেনো একটি ডিম কুরবানী করলঅতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যান” (বুখারীঃ ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)

যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে পবিত্র জুম্মার সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সমান সওয়াব লিখা হয়আউস বিন আউস আস সাকাফী (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পবিত্র জুম্মার দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) সে নিজেও  ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোন কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোন কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব” (মুসনাদে আহমাদ শরীফঃ ৬৯৫৪, ১৬২১৮)

আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন আমরা যখন মসজিদে যাই তখন সেখানে তিন ধরনের মানুষ দেখতে পাই, যা হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিম্নোক্ত হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয়ঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জুমআর সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়

(ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না
(খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুম্মায় হাজির হয় সেখানে দুআ মুনাজাত করে, ফলে মহান আল্লাহ পাক যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না
(গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা পবিত্র জুম্মার নামাজে হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুমআর মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরও তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা মহান আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন” (আবু দাউদ শরীফঃ ১১১৩)

যে সকল মসলমান পবিত্র জুম্মার নামাজ অত্যন্ত আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে আদায় করে, সেই সকল আদায়কারীদের জন্য দুই জুম্মার মধ্যবর্তী সময় গুনাহের কাফফারা স্বরূপরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুম্মার থেকে পরবর্তী জুম্মার, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সকল (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে” (মুসলিম শরীফঃ হাদিস শরীফ ২৩৩)

পবিত্র জুম্মার দিনে কিছু করণীয় কাজ নিচে দেয়া হলোঃ

  • ফজরের আগে গোসল করা
  • ফজরের ফরজ নামাজ়ে সূরা সাজদা [সিজদা] ও সূরা দাহর/ইনসান তিলাওয়াত করা
  • উত্তম পোষাক পরিধান করা
  • সুগন্ধি লাগানো
  • প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে যাওয়া
  • সূরা কাহাফ শরীফ তিলাওয়াত করা
  • মসজিদে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকাআত সুন্নত আদায় করা
  • ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা
  • মনযোগ দিয়ে খুৎবাহ শোনাখুৎবাহ চলাকালীন সময়ে কোন ধরনের কোন কথা না বলা; এমনকি কাউকে কথা বলতে দেখলে তাকে কথা বলতে বারণ করাও কথা বলার শামিল
  • দুই খুৎবাহর মাঝের সময়ে দুআ করা
  • অন্য সময়ে দুআ করাকারণ এদিন দুআ কবুল হয়
  • রসূলের উপর সারাদিন বেশী বেশী দরূদ পাঠানো

জুমুআর দিনের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যঃ

  • এই দিনে আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে
  • এই দিনে মহান আল্লাহ পাক সুবাহানাহু ওয়া তাআলা আদম আলাইহিস সালাম উনাকে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন
  • এই দিনে আদম আলাইহিস সালাম বিছাল শরীফ লাভ করেছেন
  • এই দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যে সময়ে হারাম ছাড়া যে কোন জিনিস প্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তা প্রদান করেন
  • এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবেতাই আসমান, যমীন ও মহান আল্লাহ পাক উনার সকল নৈকট্যশীল ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা পবিত্র জুম্মার দিনকে ভয় করে
  • (ইবনে মাজাহ্, মুসনাদে আহমদ)
আপনি প্রতিদিন জামাতে সব সালাত আদায় করছেন তো ?? সুবহান আল্লাহ আজ নয়তো কাল জুম্মাবার মনে রাখবেন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: