3.20.2008

ইসলামিক শরিয়তে মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে সেজদা করা হারাম

আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে সেজদা করা হারাম স্পষ্ট কুফরি শিরিকি কাজ।
আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে সেজদা করা হারাম ।
যারা না বুঝে মাজার এবং পীরকে সেজদা করেন তাদের মহান আল্লাহ পাক হেদায়েত দিন কারন আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করা নিষিদ্ধ হারাম। তাই নিচে এ সম্পর্কিত কয়েকটি হাদিস শরিফ বর্ণনা করা হলোঃ হযরত মুআজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহি তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি সিরিয়া গেলে সেখানকার খৃষ্টান অধিবাসী কর্তৃক পোপ ও পাদ্রীদেরকে সেজদা করতে দেখলেনহযরত মুআজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহি তায়ালা আনহু বলেন, আমি তাদেরকে বললামঃ তোমরা কেনো এমন কর? তারা উত্তরে বললো, এটাতো আমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অভিবাদন [ভক্তি ও সম্মান প্রকাশের মাধ্যম] ছিলআমি [মুআজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহি তায়ালা আনহু] তাদের বললাম, তাহলে আমরা স্বীয় নবীকে এই প্রকারের ভক্তি প্রকাশের অধিক অধিকার রাখি। [সিরিয়া হতে প্রত্যাবর্তনের পর হযরত মুআজ বিন জাবাল রদ্বিয়াল্লাহি তায়ালা আনহু রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উনাকে সেজদা করার অনুমতি চাইলে তিনি ইরশাদ মোবারক করেন, এরা [খৃষ্টানরা] স্বীয় নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপর মিথ্যা আরোপ করছে [যে তাদের অভিবাদন সেজদা ছিল।] যেভাবে ওরা নিজেদের আসমানী কিতাব কে বিকৃতি সাধন করেছেনিশ্চয়ই আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা তাদের মনগড়া অভিবাদনের চাইতে অতি উত্তম অভিবাদন সালাম আমাদের দান করেছেন। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস শরিফ নং-১৯৪০৪, আলমুজামুল কাবীর, হাদীস শরিফ নং-৭২৯৪, মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, হাদীস শরিফ নং-৭৩২৫] 

[دَّثَنِي جُنْدَبٌ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِخَمْسٍ، وَهُوَ يَقُولُ: ……أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، إِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ]
হযরত জুনদুব রদ্বিয়াল্লাহি তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি উনার বিসাল শরীফের পূর্বে পাচটি বিষয় বলেছিলেন[এর মাঝে] বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী কত উম্মত স্বীয় নবী ও বুজুর্গদের কবরকে সেজদার স্থান বানিয়েছেসাবধান! তোমরা কবরকে সেজদার স্থান বানিও নাআমি তোমাদের তা হতে বারণ করছি। [সহীহ মুসলিম শরিফ, হাদীস শরিফ নং-৫৩২] 

[عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ؛ أَنَّ [ص:241] رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اللَّهُمَّ لاَ تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَناً يُعْبَدُ. اشْتَدَّ غَضَبُ اللهِ عَلَى قَوْمٍ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ] 
হযরত আতা বিন ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহি তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিতনিশ্চয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেছেন, হে আল্লাহ পাক! আমার কবরকে প্রতিমার ন্যায় ইবাদতের বস্তু বানিও নাআল্লাহ পাক উনার গজব সেসব লোকের উপর কঠোর আকার ধারণ করেছে, যারা তাদের নবীদের কবরকে সেজদার স্থল বানিয়েছে। [মুয়াত্তা মালিক, হাদীস শরিফ নং-৫৭০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস শরিফ নং-৭৩৫৮]

এসব হাদীসসহ আরো অনেক হাদীস শরিফ প্রমাণ করে আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া কারো সামনে বা কারো কবরের সামনে সেজদা দেয়া ইসলামি শরিয়তে হারাম কাজতাই এসব থেকে বিরত থাকা প্রতিটি মুসলমানের জন্য আবশ্যক। আর কেউ হারাম জানার পরেও যদি এই কাজ করতে থাকে তাহলে তা কুফুরি হবে এবং কেউ কুফুরি করলে এবং এর উপর ইস্তিকামত থেকে মারা গেলে মুরতাদ বলে গন্য হবে।

কবর/মাজার/রওজা হলো সেই পবিত্র স্থান যেখানে একমাত্র জিয়ারত প্রযোজ্য ইহা ব্যতীত অন্য কোন কাজ ইসলাম সম্মত নহে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: