1.07.2011

গাউসুল আ’যম বড়পির সাইয়্যিদ আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংখিপ্ত জীবনী


পিতা মাতা যদি হন খালিছ অলীআল্লাহ তাহলে সন্তান কেমন হবে? সে মর্মে ওয়াকিয়াঃ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছেঃ ان الله يبعث لهذه الامة على رأس كل ما ءة سنة من يجدد لها دينها (ابو داود)
অর্থঃ- প্রত্যেক হিজরী শতকের প্রথমে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের জন্য এমন একজন অলি আল্লাহ প্রেরণ করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করবেন, বিদয়াত বেশরা এবং শরীয়ত বিগর্হীত হারাম কাজগুলোর সংশোধন করবেন

সেই রকম একজন খাছ ও বিশিষ্ট ওলী আল্লাহ্ হলেন মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৪৭০ কিংবা ৪৭১ হিজরীতে পবিত্র জ্বিলান নগরে জন্মগ্রহণ করেনজ্বিলান নগরীটি তৎকালে ইরানে অবস্থিত ছিল

বিখ্যাত ওলীআল্লাহ্ হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্বন্ধে জানা যায় যে, তিনি একদিন মোরাকাবার হালতে ছিলেন, হঠাৎ বলে উঠলেন, “উনার কদম আমার গর্দানের উপরএই বলে তিনি ঘাড় নত করলেনলোকেরা কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ৫০০ হিজরীতে হযরত আব্দুল কাদির জ্বিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি নামে একজন বিখ্যাত ওলীআল্লাহ জন্মগ্রহণ করবেনউনার উপাধি হবে মুহিউদ্দীনমহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে তিনি বলবেন, “সকল ওলীগণ উনাদের গর্দানের উপর আমার কদম

মূলতঃ বড়পীর গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মর্যাদা মর্তবা মুবারক এত বেশী যে, আমার মতো নাফরমান নালায়েক অজ্ঞ মূর্খ আর বেয়াদব লোকের পক্ষে ইজ্জত সম্মান আর আদবের উচ্চ মাকামে আহরন করে উনার সম্পর্কে লিখা সম্ভব নয় তার পরেও যদি চেষ্টা করি বা এই বিষয়ে আমরা যদি একটু চিন্তা করি তবে দেখতে পাবো তিনি পিতার দিক থেকে হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং মাতার দিক থেকে হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার বংশধরউনার বুযুর্গ পিতা এবং মাতা সাহেবানীর আমল আখলাক ও জীবনী মুবারক সম্পর্কে পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবো যে, সত্যিই উনারা গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাতা-পিতা হবার উপযোগী
উনার পিতার পবিত্র নাম সাইয়্যিদ আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি। (যেহেতু তিনি জিহাদ প্রিয় ছিলেন সেহেতু উনাকে জঙ্গী দোস্ত বলা হয) এবং উনার মাতার পবিত্র নাম উম্মুল খায়ের আমাতুল জাব্বার ফাতিমা রহমতুল্লাহি আলাইহা

হযরত আবু সলেহ্ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন যুবক ছিলেন, তখন একদিন তিনি ক্ষুধার্ত অবস্থায় দজলা নদীর তীর দিয়ে যাচ্ছিলেনতখন দজলা নদীর মধ্যে একটি ছেব ফল ভাসমান অবস্থায় দেখে ক্ষুধার তাড়নায় খেয়ে ফেললেনতিনি রাত্রে বিছানায় শুয়ে চিন্তা করতে লাগলেন, ছেব ফল খাওয়া কতটুকু জায়েয হলো। (যদিও পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার মাসয়ালা হলো - কোন ব্যক্তি যদি ৩ দিন না খেয়ে থাকে তাহার জন্য জরুরত আন্দাজ হারাম খাওয়া হালাল নয় কিন্তু মুবাহ অর্থাৎ জায়িয) এ থেকেই বুঝা যায় যে, উনারা হালাল খাদ্যের প্রতি কতটা দৃঢ় ও মজবুত ছিলেনকেননা ইচ্ছাকৃত এক পয়সা হারাম খেলে চল্লিশ দিন ইবাদত কবুল হয়না

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেনঃ يايها الناس كلوا ممافى الاض خلالا طيبا ولا تتبعوا خطوات الشيطان ط انه لكم عدومبين البقره
অর্থঃ হে ইনসানেরা! তোমরা যমীনে হালাল খাদ্য খাও আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনানিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু

অতঃপর হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি পরদিন সকালে দজলা নদীর তীর দিয়ে হাটতে লাগলেন, যেদিক থেকে ছেব ফলটি ভেসে আসছিলকিছুদূর যাবার পর তিনি দেখলেন, নদীর কিনারায় একটি ছেব ফলের বাগানবাগানের একটি গাছের একটি ডালা ফলসহ নদীর উপর ঝুলন্ত অবস্থায়আর তার কিছুফল পানিতে ভেসে আছেতখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে, নিশ্চই আমি এই গাছেরই ফল খেয়েছিঅতঃপর তিনি বাগানের মালিকের বাড়ীতে গেলেনবাড়ীতে গিয়ে উনার সাথে বাগানের মালীর সহিত দেখা হয়মালী উনাকে অপেক্ষা করার জন্য বলে বাগানের মালিককে সংবাদ দেয়কিছুক্ষণ পর বাগানের মালিক হযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেখানে এসে উপস্থিত হলে হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘হুযূর! আমি না বলে আপনার বাগানের একটি ছেব ফল ক্ষুধার তাড়নায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় পেয়ে খেয়ে ফেলেছিএখন আমি তার মূল্য পরিশোধ করতে এসেছিএকথা শুনার পর হযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আশ্চার্য্য হলেন এবং মনে মনে ভাবলেন, ‘কত লোকইতো আমার বাগানের কত ফল খেয়েছে কিন্তু কেউই এ পর্যন্ত দাম দিতে আসেনিনিশ্চয়ই এ যুবক একজন আল্লাহ পাক উনার ওলী হবেন
বাগানের মালিক জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার নিকট কত দেরহাম আছেউত্তরে হযরত আবু সলেহ্ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘দেরহাম থাকলে তো আপনার ফলই খেতাম নাপুণরায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘তাহলে কি দিয়ে মূল্য পরিশোধ করবেন?’ হযরত আবু সলেহ্ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘আপনার বাগানে কাজ করে ফলের মূল্য পরিশোধ করতে চাইবাগানের মালিক হযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘বেশ কাজ করতে থাকুন

অনেকদিন কাজ করার পর হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে বললেন, ‘হুযূর! আমার ফলের মূল্য কি এখনও পরিশোধ হয় নাই?’ হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ হয়েছেতবে আর একটি শর্তে আপনাকে মুক্তি দিতে পারিহযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘কি আপনার শর্ত? হযরত আব্দুল্লাহ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘আমার একটি মেয়ে আছে তাকে বিয়ে করতে হবেমেয়েটি অন্ধ, বোবা, বধির, খঞ্জ, লুলা, কালো ও কুৎসিতশুনে হযরত আবু সলেহ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভাবলেন, ‘এ ধরনের একটি মেয়েকে বিয়ে করবো! যার কাছ থেকে খেদমত পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো তাকেই খেদমত করতে হবেকিন্তু পরক্ষণেই চিন্তা করলেন, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, কাজেই এখন যদি তিনি ক্ষমা না করেন (বিবাহ করা ব্যতীত) তবে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কি জবাব দিবইত্যাদি চিন্তা করে রাজী হয়ে গেলেনবিয়ে হয়ে গেলো

হযরত আবু সলেহ্ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বাসর ঘরে প্রবেশ করেই (হযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি যা বলেছেন তার বিপরীত দেখতে পেয়েই) তাড়াহুড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে আসলেনঘর থেকে বের হয়েই দেখলেন, সন্মুখের রাস্তায় (ঘরের সামনে একটি ছোট রাস্তা ছিল) হযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেবললেন, হুযূর! আপনি যা বলছিলেন এখন দেখি তার বিপরীতহযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, (যা তিনি পূর্বেই বুঝতে পেরেছিলেন এমন কিছু ঘটবে) বাবা ইনিই আপনার স্ত্রীআর কাল সকালে আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দেব

পরদিন হযরত আব্দুল্লাহ্ সাওমাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবু সলেহ্ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, ‘বাবা, আমার মেয়েকে আমি অন্ধ বলেছি এই জন্যে, আমার মেয়ে কখনও কোন পর পুরুষকে দেখেনি; বোবা বলেছি এজন্যে সে কখনও কোন পাপের কথা মুখে আনেনি; বধির বলেছি এজন্যে সে কখনও পাপের কথা কানে শুনেনি; খঞ্জ ও লুলা বলেছি এজন্যে সে কখনও কোন পাপের পথে পা বাড়ায়নি এবং কোন পাপ কাজ স্পর্শ করেনি; কালো ও কুৎসিত এজন্যে বলেছি, তাকে কখনও কোন পর পুরুষ দেখেনিএই কথা শুনে হযরত আবু সলেহ্ মুসা জঙ্গী দোস্ত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার শোকরগুজার করলেন

এখানে ফিকিরের বিষয়, কেমন নেককার ও পরহেযগার মুত্তাকী পিতা ও মাতার ঘরে ওলীয়ে মাদারজাত, মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি গাউসুল আযম হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জন্মগ্রহণ করেন

একবার লোকেরা বড়পীর গাউসুল আযম হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জিজ্ঞেস করল, হুযূর! আপনি কি মুজাদ্দিদে যামান? তিনি বললেন, হ্যাঁতারপর বলা হলো, ‘আপনি কি সুলতানুল আরিফীন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁআবার বলা হলো, ‘আপনি কি কুতুবুল আলম?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁতখন সবাই নিশ্চুপ হয়ে গেল

তিনি বললেন, ‘আরও প্রশ্ন করতোমরা যা বলবে আমি তারও উপরে, তারও উপরে, তারও উপরেতোমাদের মধ্যে অনেক লোক আছে, আমি যে মাকামে অবস্থান করি, তারা তার কোন খবরই রাখেনাসে সমস্ত মাকামগুলির বর্ণনা পরবর্তীতে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মকতুবাত শরীফ’-এ উল্লেখ করেছেন

মোটকথা হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের পর একজন মানুষের পক্ষে যত মাকাম অর্জন করা সম্ভব মহান আল্লাহ পাক তিনি মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি গাউসুল আযম হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে তা দিয়েছেনএটা সত্যিই উনার জন্য এক বিশেষ মর্যাদা (বলা হয়ে থাকে মহান আল্লাহ পাক উনার এমন ওলী কমই অতিবাহিত হয়েছেন, যাঁরা মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি গাউসুল আযম হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহানী তাওয়াজ্জুহ্ বা নিছবত হাসিল করেননি।)

মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মুবারক যখন প্রায় আঠারো বৎসর ছিলো, তখন একবার তিনি আরাফার দিবসে গরু নিয়ে নিজের জমি চাষ করতে যাচ্ছিলেনএমন সময় সেই গরুটি উনার দিকে ফিরে বললো-
يا عبد القادر- ما بهاذا خلقت وما بها ذا امرت.
অর্থঃ হে আব্দুল কাদির রহমতুল্লাহি আলাইহি! এই কাজের জন্য আপনাকে সৃষ্টি করা হয়নিএবং এই কাজের জন্য আপনাকে আদেশ মুবারক করা হয়নিএই ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে বাড়িতে ফিরে গেলেনএতদিন পর্যন্ত স্থানীয় মক্তবে যা কিছু শিখেছিলেন তার চেয়েও অনেক বেশী কিছু শিক্ষার জন্য তিনি বাগদাদ যেতে মনস্ত করলেন। (তিনি মাতৃগর্ভ থেকে অধিকাংশ মতে আঠার পারার হাফিয হয়েই জন্মগ্রহণ করেনঅতঃপর অতি শৈষবেই পূর্ণ পবিত্র কুরআন শরীফ হিফজ করেন)

মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি গাউসুল আযম হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বাগদাদে পৌঁছিয়াই তৎকালীন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা নিযামিয়াতে ভর্তি হনদুনিয়ার বিশিষ্ট ওলামায়ে কিরামগণ এই মাদ্রাসায় তালীম দান করতেনএই শ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কিরামগণ উনাদের নিকটেই হযরত গাউসুল আযম শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি তাফসীর শরীফ, হাদীছ শরীফ, ফিকাহ শরীফ, দর্শন, সাহিত্য, ইতিহাস, তর্কবিদ্যা, ইলমে কালাম, ইলমে উরূজ ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়ে খোদা প্রদত্ত তীক্ষ্ম মেধা শক্তি বলে মাত্র নয় বৎসরের মধ্যেই তিনি বুৎপত্তি লাভ করেনতিনি বাগদাদে শুধু কিতাবী ইলমই অর্জন করেন নাইসঙ্গে সঙ্গে তিনি তৎকালীন বাগদাদের শ্রেষ্ঠ ও বিখ্যাত আউলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের ছোহবতও ইখতিয়ার করেনকারণ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-
العلم علمان فعلم فى القلب فذاك العلم النافع ةعلم على اللسان فذ الك حجة الله عز وجل على ابن ادم (الدارمى مشكوة(
অর্থ- ইলম দুই প্রকারএকটি হলো ক্বল্বি ইলম যা ফায়দাজনক বা উপকারী বিদ্যাঅপরটি হলো যবানী ইলম যা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে বান্দার জন্য দলীলস্বরূপ

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত আছে যা হযরত মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মিশকাত শরীফকিতাব উনার শরাহ মিরকাত শরীফকিতাব উনার মধ্যে বর্ণনা করেন,
من تفقه ولم يتصوف فقد تفسق ومن تصوف ولم يتفقه فقد تزندق ومن جمع بينهما فقد تحقق.
অর্থঃ যে শুধু ফিকাহ্কে গ্রহণ করল কিন্তু তাছাউফ গ্রহণ করলনা সে গুনাহ্গার; আর যে শুধু তাছাউফ দাবী করে এবং শরীয়তকে অস্বীকার করে সে কাফির; আর যিনি দুটিই অর্জন করলেন তিনি হলেন মুহাক্কিক

তাই মাদ্রাসার শিক্ষা সমাপ্ত করে ইলমে বাতিন অর্জন করার জন্য মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি হযরত গাউসুল আযম, শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ব্যকুল হয়ে উঠলেনতিনি হযরত শায়েখ আবুল খায়ের হামদান বিন মোছলেম দাব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে আসা-যাওয়া করতে লাগলেন এবং কঠোর রিয়াজতের মাধ্যমে তাসাউফ শিক্ষায় নিমগ্ন হলেনহযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘ পচিঁশ বৎসরকাল ইরাকের নির্জন বন-জঙ্গলে, মাঠে-প্রান্তরে এবং ভগ্ন প্রায় বাড়ী-ঘরে কাটিয়েছেনতিনি বলেন, আমি যখন ইরাকের জঙ্গলে সাধনা বা রিয়াজত করতাম তখন একদা আমার খুব পানির তৃষ্ণা পেলো, এমন সময় মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতে আকাশে ঘন কালো মেঘের ছায়া নেমে এলো এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি আরম্ভ হলআমি তৃপ্তিভরে পানি পান করলামএরপর আকাশে একটা আলোকপাত দেখা দিলো, যা সমস্ত আকাশকে আলোকিত করে ফেললোঅতঃপর ঐ আলোকপিন্ড হতে আওয়াজ এলো- হে আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আমি আপনার মহান আল্লাহ পাকআমি আপনার ইবাদত-বন্দিগীতে সন্তুষ্ট হয়ে সমস্ত হারামগুলিকে আপনার জন্য হালাল করে দিলামএটা ইবলিশের ধোকাবাজি বা প্রতারনা বুঝতে পেরে সাথে সাথে পড়লেন, “হে বিতাড়িত শয়তান! দূর হয়ে যা এখান থেকে

এই ওয়াকেয়া দ্বারা বুঝা যায়, হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কত বড় সুক্ষ্মদর্শী ছিলেনকারণ যা হারাম হওয়ার তাহা হারাম হিসাবে সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছেআর যা হালাল হওয়ার তাহা হালাল হিসাবেই সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছেকেননা, পবিত্র ওহী মুবারক বন্ধ হয়ে গিয়েছেঅথচ আজকাল এক শ্রেণীর ফকীর নামধারী ভন্ড ব্যক্তিরা বলে থাকে যে, উপরের মাকামে উঠলে ইবাদতের প্রয়োজন হয়নাতারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার নিম্মোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ভুল ব্যাখ্যা দেয়যেমন-
واعبد ربك حتى يأقيك اليقين (৯৯ الحجر)
অর্থঃ- ইয়াক্কীন বা মৃত্যু আসা পর্যন্ত তোমরা ইবাদত করতে থাকভন্ডরা ইয়াক্কিন এর শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস ধরে নিয়েছেইবাদত-বন্দেগীতে মোটামুটি বিশ্বাস এসে গেলে তাদের মতে আর ইবাদত না করলেও চলবে

অথচ সমস্ত হযরত মোফাচ্ছিরে কিরামগণ উনারা একমত যে এখানে ইয়াক্কীন শব্দের অর্থ হচ্ছে মৃত্যুতাছাড়া যিনি সকল হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসুল, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও জীবনের শেষ পর্যন্ত এত বেশী যিকির-আযকার ও ইবাদত-বন্দিগী করতেন যে, নামায পড়তে পড়তে মহান আল্লাহ পাক উনার রসুল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পা মুবারক ফুলে যেতহযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ উনাকে জিজ্ঞাসা করতেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি তো আপনার উপর ইবাদত ফরজ করেন নাই আর নিষ্পাপ বেগুনা করেই জমিনে প্রেরন করেছেনতবে আপনি কেনো ইবাদত করেন ইবাদতে এত কষ্ট করেন? মহান আল্লাহ পাক উনার রসুল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, “আমি কি মহান আল্লাহ পাক উনার শোকরগুজারি বান্দা হবনা?”

তাই মৃত্যু পর্যন্ত মানুষকে ইবাদত-বন্দিগী করে যেতে হবেএবং যিনি যত মর্যদাশীল হবেন উনার ভয়ভীতিও তত বেশী হবে এবং ইবাদত ও বেড়ে যাবেমহান আল্লাহ পাক উনার রসুল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খালেছ অনুসরণকারী হিসাবে মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি হযরত গাউসুল আযম শায়েখ হযরত সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেই আমরা দেখতে পাই

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ উনাদেরকে অনেক বুযূর্গী বা কারামত দান করেছেনযা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যেও উল্লেখ করেছেনযেমন হযরত মরিয়ম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র হুযরা শরীফ উনার মধ্যে মৌসুম ব্যতীত ফল ফলাদি পাওয়া যেতো যা আসতো জান্নাত থেকেআর হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম উনার প্রধানমন্ত্রী হযরত আসাফ বিন বরখীয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন ওলীআল্লাহ ছিলেনতিনি রানী বিলকিস আলাইহাস সালাম উনার সিংহাসন চোখের পলকে হযরত সোলায়মান আলাইহিস সালাম উনার দরবার শরীফ উনার মধ্যে পেশ করেছিলেন

উপরোক্ত দুটি ঘটনা সম্পর্কেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা ইমরান আলাইহিস সালামউনার ৩৭ নং পবিত্র আয়াত শরীফ এবং সূরা নমল শরীফউনার ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন
আর পবিত্র আকাইদ শরীফ উনার কিতাবেও উল্লেখ করা হয়েছে, كرامت الاو لياء حق
অর্থঃ মহান আল্লাহ পাক উনার অলিয়াল্লাহগন উনাদের কারামত সত্য
আর কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
اولياء راهست قدرت ازاله تير جست بازكر داتند زرا ه.
অর্থঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন যে, ইচ্ছে করলে উনারা নিক্ষেপীত তীরকে লক্ষ্যস্থানে পৌঁছার পূর্বেই আবার তা ফিরিয়ে আনতে পারেন

সেই কারণেই আমরা প্রত্যেক আল্লাহ্ওয়ালাগণ উনাদের জীবনীতে কমবেশী কারামত দেখতে পাইতদ্রুপ হযরত গাউসুল আযম শায়খ হযরত সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনেও আমরা উনার অসংখ্য আশ্চর্য্য ধরণের কারামত দেখতে পাইউনার দোয়ার বরকতে অনেক নেক সন্তান জন্মগ্রহণ করেছেযাঁরা নাকি পরবর্তীতে অনেক উঁচু পর্যায়ের ওলীআল্লাহ হয়েছেনউনাদের মধ্যে হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন সোহ্রাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং মহীউদ্দীন হযরত ইবনুল আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাম মুবারক উল্লেখযোগ্যফুরফুরা শরীফ উনার পীর ছাহেব হযরত আবু বকর ছিদ্দীক ফুরফুরাবি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে একবার কিছু লোক মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দীর্ঘ ১২ বৎসর পর ডুবে যাওয়া একটি বর যাত্রীদলকে নতুন করে বাঁচানোর কারামতের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলজবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই হযরত মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এই কারামত বিশ্বাস করেনকেননা ওলীআল্লাহগণ উনাদের কারামত সত্যতাই হযরত গাউসুল আযম শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কারামত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল দ্বারাই প্রমানিত

আপনারা অনেকের জানা নাই হয়তো যে প্রত্যেক চন্দ্রমাস, একজন আরব মেহ্মানের ছুরতে মাহবুবে সুবহানি কুতুবে রাব্বানি হযরত গাউসুল আযম শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট দেখা করত এবং মাসের মধ্যে ভাল-মন্দ কি ঘটনা ঘটবে তা উনাকে জানাতহিজরী ৫৬০ সালের পবিত্র রমযান শরীফ মাসে এসে উনাকে বিদায় সম্ভাষন জানিয়ে গেলঅর্থাৎ পরবর্তী রমযান শরীফ মাস পর্যন্ত তিনি এই নশ্বর দুনিয়ায় থাকবেন না

বেহেজাতুল আসরারনামক কিতাবে হযরত শায়খ শাহাবুদ্দীন সোহ্রাওয়াদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত গাউসুল আযম শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৫৬০ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাস হতে কঠিন রোগে আক্রান্ত হন

তাশারেখে আওলিয়ানামক কিতাবে শায়খ আব্দুল ফতেহ্ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইয়াওমুল আহাদি বা রোববার দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার রাত্রে হযরত গাউসুল আযম শায়েখ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি গোসল করেনগোসলান্তে এশার নামায পড়ে তিনি উম্মতে হাবীবীগণ উনাদের গুনাহ্খাতা মাফের জন্য ও তাদের উপর খাছ রহ্মতের জন্য দোয়া করলেনএরপর গায়েব হতে আওয়াজ আসল, “হে প্রশান্ত নফ্স, আপনি প্রসন্ন ও সন্তুষ্টচিত্তে নিজ প্রতিপালকের দিকে প্রত্যাবর্তন করেনআপনি আমার নেক্কার বান্দার মধ্যে শামিল হয়ে যান এবং বেহেশ্তে প্রবেশ করেনএরপর তিনি কালিমা পাঠ করিয়া তাআজ্জাজা (অর্থ বিজয়ী হওয়া) উচ্চারণ করতে লাগলেনএবং তিনি আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ বললেনএটার পর জিহ্বা তালুর সাথে লেগে গেলএই ভাবে ৫৬১ হিজরীর (১১১৬ খৃঃ) ১১ই রবিউস্ সানী মাসে মাহবুবে সোবহানী, কুতুবে রব্বানী হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহান দরবার শরীফ উনার মধ্যে প্রত্যাবর্তন করলেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)

হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ক্রমান্বয়ে চারটি বিবাহ করেছিলেনউনাকে বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক মুতাবিক বিবাহ করেছেনউনার মোট ৪৯ জন সন্তান-সন্ততি ছিলেনউনাদের মধ্যে ২৭ জন পুত্র সন্তান এবং ২২ জন মেয়ে সস্তান ছিলেনউনারা সকলেই অতি উঁচু দরজার ওলীআল্লাহ্ ছিলেনউনাদের অনেক বড় বড় সন্মানিত উপাধি ছিলো

হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রায় সারা বৎসরই রোজা থাকতেনসাধারণ রুটি খেতেনঅনেক সময় খুব মূল্যবান কাপড় পড়তেনঅনেক সময় অল্প দামের কাপড়ও পরতেনঅর্থাৎ হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উঠা-বসা, চলা-ফেরা, কথা-বার্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর-সংসার ইত্যাদি প্রতিটি কাজ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করতেনকেননা তিনি ছিলেন খাছ নায়েবে নবী আওলাদুর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, মাহ্বুবে সোবহানী, কুতুবে রব্বানী হযরত গাউসুল আযম শায়খ সাইয়্যিদ মহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনীতে অনেক নসিহত ও ইবরত মুবারক রয়ে গেছেমহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা ইউসুফ শরীফবর্ণনা করার পর বলেন-
لقد كان فى قصصهم عبرة لأولى الالباب ط
অর্থঃ নিশ্চয়ই এই ঘটনার মধ্যে জ্ঞানী উনাদের জন্য রয়েছে নছীহত

উপরোক্ত আয়াত শরীফ থেকে ছাবেত করা হয় যে, পরবর্তী লোকদের জন্য পূর্ববর্তী লোকদের ঘটনাগুলি ইবরতস্বরূপ

সুতরাং আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে এই দোয়াই করবো যে, মহান আল্লাহ পাক যেন আমাদেরকে আল্লাহ্ওয়ালাগণ উনাদের মর্তবা, মর্যাদা ও ফযীলত বুঝার তাওফীক দান করেনএবং আমরা যাতে উনাদের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা বা ওয়াকেয়া থেকে নসীহত হাসিল করে নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে পারিমহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করুনমুলতঃ আমাদের সকলকে যেন মহান আল্লাহ পাক তিনি খালিছ আল্লাহওয়ালা হওয়ার তাওফীক দান করুন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: