7.14.2011

মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীদের নিয়ে সূরা আরাফ শরীফের ৩ নং আয়াত শরীফের অপব্যাখ্যার জবাব

মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীদের নিয়ে সূরা আরাফ শরীফের ৩ নং আয়াত শরীফের অপব্যাখ্যার জবাব
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পবিত্র আল কোরআন
আজকাল কিছু জাহেল লোক যারা কোরআন সুন্নাহর ক টাও জানেনা তারাও পবিত্র আল কোরআনের তরজমা তাফসির করতে লেগে যায় নিজের মনগড়া মতামত প্রদান করে ফিত্না সৃষ্টি করতে যেমন সূরা আরাফের ৩নং আয়াত শরীফের ভুল তরজমা করে করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে যাদের মুল উদ্যশ্যে হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার খাস বন্ধু অলি আল্লাহ বিদ্বেষী বানানোতারা এর অর্থ করছে, তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে তার অনুসরণ করো এবং উনাকে(পবিত্র আল কোরআন) ছাড়া কোন ওলি বা পীরের অনুসরণ করো না নাউযুবিল্লাহ

অথচ এই পবিত্র আয়াত শরীফের প্রকৃত তরজমা হচ্ছে, তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে উনার(পবিত্র আল কোরআন) অনুসরণ করো এবং উনার(পবিত্র আল কোরআন) ছাড়া অন্য কোনো সাথির(অলির) অনুসরণ করো না
তোমরা কমই খেয়াল করে থাকো

প্রথমত, তাফসীরে ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুতে এ আয়াত শরীফের তাফসীরে ইরশাদ মোবারক করেনঃ যার বাংলা হচ্ছেঃ তোমাদের পালনকর্তার তরফ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল হয়েছেন উনার অনুসরণ করো”, এর মানে হচ্ছে, পবিত্র আল কোরআনে নিদের্শিত হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জানা ও অকপটে মানা আর উনাকে(পবিত্র আল কোরআন) ছাড়া অন্য কোনো সাথিদের অনুসরণ করো না”, এর অর্থ হলো, মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা তিনি ছাড়া মূর্তিদের প্রভু হিসেবে গ্রহণ করে তাদের ইবাদত করবে না তাদের অনুসরণ করবেনাআর তোমরা কমই খেয়াল করে থাকো”, এর অর্থ হচ্ছে, তোমরা অল্প বা বেশি কোনো উপদেশই গ্রহণ করো না

সুতরাং রাসুলে খোদা হুযুপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার চাচা রইসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিআল্লাহু তালা আনহু উনার তাফসীরের মোকাবেলায় এই আয়াত শরীফের অন্য কোনো তরজমা তাফসীর বা ব্যখা বিশ্বাসী মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়

দ্বিতীয়ত, ওলী বা আওলিয়া শব্দকে কোনো আয়াতে মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা টার্গেট করলে বা ইরশাদ মোবারক করলে এখানে ভয় পাওয়ার কিছুই নাই কারন বিভ্রান্ত তারাই হয় যারা অজ্ঞ মূর্খ

জেনে রাখুন, ওলী (বহুবচনে আওলিয়া) শব্দটিকে আল্লাহুতালা আল-কুরআনে উঁনার নিজের এবং শয়তানের উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার
করেছেনযেমনঃ-

- যারা ঈমান এনেছে তাদের ওলী হচ্ছেন, মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা তিনি তাদের আঁধার রাশি থেকে নূরের দিকে বের করে আনেন; আর যারা কুফরি করেছে তাদের ওলি হচ্ছে, তাগুতরা (শয়তানরা); ওরা ওদের নূর থেকে আঁধার রাশির দিকে নিয়ে যায়ওরাই দোযখবাসী (আসহাবুন নার) সেখানে ওরা চিরকাল থাকবে (সূরা আল-বাকারাহ শরীফঃ ২৫৭)

কাজেই, “ওলীশব্দটি আল-কুরআনে মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা ভালো-মন্দ এবং ভিবিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন আর এইটা কেউ না জেনে থাকলে সে চুপ থাকবে তার মুর্খামি প্রকাশ করবেনা

উল্লিখিত আয়াত শরীফে (সূরা আরাফ শরীফের ৩ নং আয়াত শরীফ) মন্দের ক্ষেত্রে যে অলি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা কিভাবে যে এই কপট দাজ্জাল রা অপব্যখা করে তা আমার বুঝে আসেনা

তারা কি দেখেনা? ওলীআল্লাহদের ব্যপারে মহান আল্লাহ পাক তিনি কি বলেছেন?

মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা ইরশাদ মোবারক করেনঃ যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী (অলি আউলিয়া) তাদের কোনো চিন্তা পেরেশানি ভয় নেই এবং তারা কখনো দুঃখিতও হবে না(সূরা ইউনুস শরীফঃ আয়াত শরীফ ৬২)

সুতরাং ওলী শব্দ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনোই অবকাশ নেই পবিত্র আল-কোরআন উনার প্রয়োগবিধি লক্ষ্য করলেই এ সংক্রান্ত সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিরসন হয়ে যায় এবং অজ্ঞতাও দূর হয়ে যায়

তৃতীয়ত, মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা তিনি পরিষ্কার করেই বলেছেনঃ যারা ঈমান এনেছো তাদেরকে বলছি! তোমরা মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা উনার তাবেদারী করো এবং রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তোমাদের হুকুমদাতাদের তাবেদারী করোতবে কোন ব্যাপারে তোমাদের মাঝে মতবিরোধ হলে তোমরা যদি মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা ও আখেরাতে বিশ্বাসী হও তাহলে তা (মতবিরোধের বিষয়টি) মহান আল্লাহু পাক সুবাহানাহু ওয়া তালা ও রাসূলের সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমীপে পেশ করোওটাই কল্যাণকর এবং এর ফলাফল খুবই ফলপ্রসূ (৪:৫৯)

উপরের আয়াত শরীফে ৩টি আনুগত্য বা তাবেদারীর কথা পরিষ্কার করেই বলা আছেকাজেই, আল-কোরআনে ওলী শব্দের নেতিবাচক প্রয়োগের উদাহরণ টেনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির
কোনোই সুযোগ নেই

আর মহান আল্লাহ পাক তিনি জানতেন যে একদল লোক উনার কিতাবের অপব্যখা করবে এবং ফিত্না সৃষ্টি করবে আর কিতাবের যা নিজের পক্ষে তা মানবে যা বিপক্ষে যাবে তার অস্বীকার করবে তাই তিনি বলেনঃ তিনিই(মহান আল্লাহ পাক) আপনার প্রতি কিতাব(আল কোরআন) নাযিল করেছেনতাতে কিছু আয়াত শরীফ রয়েছেন সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাব(আল কোরআন) উনার আসল অংশআর অন্যগুলি হলেন রূপকসুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোরআর সেগুলোর ব্যাখ্যা মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কেউ জানে নাআর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছিএই সবই আমাদের মহান পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছেনআর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করেন না (পবিত্র সূরা আল ইমরানঃ আয়াত শরীফ ৭)

এবং যারা কিতাবের অর্ধেক মানে এবং নিজের বিপক্ষে যাওয়ার কারনে বাকি অর্ধেক মানেনা তাদের ব্যপারে মহান আল্লাহ পাঁক তিনি পবিত্র সুরা বাক্বারার ৮৫ নাম্বার আয়াত শরিফে এরশাদ মোবারক করেনঃ তবে কি তোমরা কিতাবের কিয়দাংশ বিশ্বাস করো এবং কিয়দাংশ অবিশ্বাস করো? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেইকিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবেআল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন

এতএব যারা জানেনা তারা জানার পরে অবশ্যই শুধরে নেবে - ধন্যবাদ


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: