8.28.2011

মুসলমানদের জন্য পবিত্র কুরবানী সম্পর্কিত একটি দলিল ভিত্তিক পোষ্ট

পবিত্র কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত সামর্থ্যবানের জন্য কুরবানী আদায় করা ওয়াজিবসামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, 'যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে'-মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস শরীফ ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫

কুরবানীর ইতিহাস , ফযীলত , মাসয়ালা বিস্তারিতঃ কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতসামর্থ্যবানের জন্য কুরবানী আদায় করা ওয়াজিবসামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করে না তার ব্যাপারে হাদীস শরীফে এসেছে, 'যার কুরবানীর সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে'(মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৩৫১৯; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব ২/১৫৫)

কুরবানী শব্দের অর্থ এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ কুরবানীশব্দটি قُرْبَانٌকুরবানশব্দ হতে উদ্ভূত যার শাব্দিক অর্থ নৈকট্যযা শব্দমূল قُرْبর্কুবশব্দ থেকে উদ্গতনিকটবর্তী হওয়া বা নৈকট্য লাভ করা, বিলীন হওয়া, উৎসর্গ করা অর্থে قُرْبَانٌকুরবানশব্দটি ব্যবহৃত হয়

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ قُرْبَانٌকুরবানশব্দটি মোট তিন জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছেযেমন-
সূরা আলে ইমরান শরীফ : ১৮৩ নং আয়াত শরীফ,সূরা মায়িদা শরীফ : ২৭ নং আয়াত শরীফ এবং সূরা আহক্বাফ শরীফ : ২৮ নং আয়াত শরীফ

অনুরূপভাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ কুরবানী অর্থে اُضْحِيَّةٌউদ্বহিয়্যাহএবং ضَحِيَّةٌদ্বাহিয়্যাহপ্রভৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে

اُضْحِيَّةٌউদ্বহিয়্যাহকুরবানীর দিনসমূহে মহান আল্লাহ পাক-উনার সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে যবেহযোগ্য উট, গরু, ছাগল বা ভেড়াকে বলা হয়

এ শব্দটি ضُحٰيদ্বুহাশব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ পূর্বাহ্নযেহেতু কুরবানী যবেহ করার উত্তম সময় হলো ১০ই যিলহজ্জ শরীফ বা কুরবানী ঈদের দিনের পূর্বাহ্নকালতাই ঐ সামঞ্জস্যের জন্য উদ্বহিয়্যাহবলা হয়েছে

এটিকে আবার ضَحِيَّةٌদ্বাহিয়্যাহবা اَضْحٰيআদ্বহাও বলা হয়আর আদ্বহাহএর বহুবচন হলো আদ্বহা’, যার সাথে সম্পর্ক জুড়ে ঈদের নাম হয়েছে عِيْدُ الْاَضْحٰيঈদুল আদ্বহা

সম্মানিত ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক-উনার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক-উনার নামে নির্দিষ্ট তারিখে অর্থাৎ যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন দিনে নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট প্রাণী অর্থাৎ দুম্বা, মেষ, ভেড়া, খাসী, ছাগল, উট, গরু, মহিষ প্রভৃতি গৃহপালিত হালাল চতুষ্পদ প্রাণীসমূহকে মহান আল্লাহ পাক-উনার পবিত্র নাম মুবারক উচ্চারণ করে যবেহ করাকে কুরবানী বলে

পৃথিবীর সর্বপ্রথম কুরবানীঃ কুরবানীর ইতিহাস খুবই প্রাচীনআদি পিতা হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যুগ থেকেই কুরবানীর বিধান চলে আসছেহযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুই ছেলে হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম ও কাবীলের কুরবানী পেশ করার কথা আমরা আল-কুরআন উল কারীম থেকে জানতে পারি

মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেনঃ
﴿ ۞وَٱتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَأَ ٱبۡنَيۡ ءَادَمَ بِٱلۡحَقِّ إِذۡ قَرَّبَا قُرۡبَانٗا فَتُقُبِّلَ مِنۡ أَحَدِهِمَا وَلَمۡ يُتَقَبَّلۡ مِنَ ٱلۡأٓخَرِ قَالَ لَأَقۡتُلَنَّكَۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِينَ ٢٧ [المائدة: ٢٧
অর্থাৎ, হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুই পুত্রের (হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম ও কাবিলের) বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দিন, যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল, তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো এবং অন্যজনের কুরবানী কবুল হলো নাতাদের একজন বলল, ‘আমি আপনাকে অবশ্যই হত্যা করবঅপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো সংযমীদের কুরবানীই কবূল করে থাকেন।[সূরা মায়িদা (৫):২৭]

কুরবানী হচ্ছে আবুল মুসলিমীন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার সুন্নতঃ এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ زَيِدِ بْنِ اَرْقَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ اَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! مَا هذِهِ الْاَضَاحِىْ؟ قَالَ سُنَّةُ اَبِيْكُمْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ الـسَّلاَمُ.
অর্থ : হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি? তিনি জাওয়াবে বললেন, আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-উনার সুন্নত” (ইবনে মাজাহ শরীফঃ৩১২৭, বাংলা মিশকাত শরীফঃ ১৩৮৭)

কুরবানীর উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক এবং রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের সন্তুষ্টি-রিযামন্দি মুবারক হাছিল করামহান আল্লাহ পাক-উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হওয়া এবং রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হওয়াই কুরবানীর একমাত্র উদ্দেশ্য

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেনঃ- قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَـحْيَايَ وَمَـمَاتِي لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
অর্থঃ হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার হায়াত মুবারক ও আমার বিছাল শরীফ সবই খালিক, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক-উনার জন্যে যিনি সমস্ত আলমের রব তায়ালা” (সূরা আনআম শরীফ : আয়াত শরীফ ১৬২)

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছেঃ-لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُـحُوْمُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلٰـكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰى مِنْكُمْ ۚ
অর্থ : মহান আল্লাহ তায়ালা-উনার দরবার শরীফ-এ কুরবানীকৃত পশুর গোশত কিংবা রক্ত কিছুই পৌঁছেনাবরং শুধুমাত্র তোমাদের তাক্বওয়া উনার দরবার শরীফ-এ পৌঁছে থাকে” (সূরা হজ্জ শরীফ : আয়াত শরীফ ৩৭)

উক্ত আয়াত শরীফ-এর মাধ্যমে সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহ পাক ও রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পশুর কোন কিছুই গ্রহণ করেন নাউনারা দেখেন, কে উনাদের সন্তুষ্টির জন্য উনাদের নির্দেশ মুতাবিক কুরবানী করলোআর কে গাইরুল্লাহর জন্য নিজের খেয়াল-খুশী মতো কুরবানী করলোআর যখন কেউ মহান আল্লাহ পাক-উনার মত মুবারক অনুযায়ী এবং রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পথ মুবারক অনুযায়ী কুরবানী করল তিনি হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক-উনার তরফ থেকে যে সালাম বর্ষিত হয়েছে তার হিস্যা লাভ করবে

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেনঃ-سَلَامٌ عَلٰى إِبْرَاهِيمَ كَذٰلِكَ نَـجْزِي الْمُحْسِنِينَ
অর্থঃ হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক! আমি নেককারদেরকে এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি” (সূরা আছ-ছফফাত শরীফ : আয়াত শরীফ ১০৯-১১০)

মূলত কিয়ামত পর্যন্ত যারাই উক্ত নিয়মে কুরবানী করবে তারা সবাই সেই সালাম মুবারক-এর হিস্যা লাভ করবে

আরো একটি বিষয় স্মরণীয় যে, কুরবানী নিছক গোশত খাওয়ার জন্য নয় বরং প্রাণ প্রতিম সন্তানের বিনিময়যদি হযরত ইসমাঈল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম হাক্বীক্বীভাবে প্রকৃতপক্ষে যবেহ হতেন তাহলে আমাদেরকেও আমাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদেরকে কুরবানী দিতে হতোসুতরাং মহান আল্লাহ পাক এবং রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের সন্তুষ্টি-রিযামন্দি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক-উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হওয়া রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হওয়ার লক্ষ্যেই কুরবানী করা উচিতকোন প্রকার বাহবা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয় কিংবা কোন বড়ত্ব/কৃতিত্ব জাহির করার উদ্দেশ্যে নয় বরং নিজের আমিত্ব/বড়ত্ব বিসর্জন দেয়ার নামই কুরবানী

কুরবানীদাতার ফাযায়িল-ফযীলতঃ কুরবানীর ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছেযেমন
(ক) পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ زَيِدِ بْنِ اَرْقَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ اَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! مَا هذِهِ الْاَ ضَاحِىْ؟ قَالَ سُنَّةُ اَبِيْكُمْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ الـسَّلاَمُ قَالُوْا فَمَا لَنَـا فِيْهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ قَالُوْا فَالصُّوْفُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ مِّنَ الصُّوْفِ حَسَنَةٌ.
অর্থ : হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি? তিনি জাওয়াবে বললেন, আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম-উনার সুন্নতউনারা পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এতে আমাদের জন্য কি পরিমাণ নেকী রয়েছে? তিনি বললেন, কুরবানীর পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছেহযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পশমওয়ালা পশুর ক্ষেত্রে কি হুকুম? তিনি বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকী রয়েছে” (ইবনে মাজাহ শরীফঃ৩১২৭, বাংলা মিশকাত শরীফঃ১৩৮৭)

(খ) পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ الصِدّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ مَا عَمِلَ اِبْنُ اٰدَم مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ مِنْ اِهْرَاقِ الدَّمِ وَاِنَّهُ لَيَأْتِىْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُوْنِـهَا وَاَشْعَارِهَا وَاَظْلَافِهَا وَاِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِـمَكَانِ قَبْلَ اَنْ يَّقَعَ بِالْاَرْضِ فَطِيْبُوْا بِـهَا نَفْسًا.
অর্থ : উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম-উনার থেকে বর্ণিতরসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত কুরবানীর দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো কুরবানী করাক্বিয়ামত দিবসে কুরবানীর পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাক-উনার নিকট পৌঁছে যায়কাজেই আপনারা আনন্দচিত্তে কুরবানী করুন” (ইবনে মাজাহ শরীফঃ৩১২৬)

রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব
পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে-
عَنْ اُمُّ الْمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ يَطَأُ فِي سَوَادٍ وَيَبْرُكُ فِي سَوَادٍ وَيَنْظُرُ فِي سَوَادٍ فَأُتِـيَ بِهِ لِيُضَحِّيَ بِهِ فَقَالَ لَـهَا‏ يَا عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ هَلُمِّي الْمُدْيَةَ‏‏. ثُـمَّ قَالَ‏ اشْحَذِيهَا بِـحَجَرٍ‏. فَفَعَلَتْ ثُـمَّ أَخَذَهَا وَأَخَذَ الْكَبْشَ فَأَضْجَعَهُ ثُـمَّ ذَبَـحَهُ ثُـمَّ قَالَ‏ بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُـحَمَّدٍ وَاٰلِ مُـحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُـحَمَّدٍ‏. ثُـمَّ ضَحَّى بِهِ.
অর্থ : উম্মুল মুমিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত রয়েছে, একবার রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, এমন একটি শিংওয়ালা দুম্বা আনতে যা কালোতে হাঁটে, কালোতে শোয় ও কালোতে দেখে অর্থাৎ যার পা, পেট ও চোখ সবই কালোঅতঃপর কুরবানী দেয়ার উদ্দেশ্যের জন্য এরূপ একটি দুম্বা আনা হলোতখন তিনি বললেন, হে হযরত উম্মুল মুমিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম! ছুরিটি দিন! অতঃপর বললেন, পাথরে তা ধারালো করুনহযরত উম্মুল মুমিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম বললেন, আমি তা করলামঅতঃপর তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং দুম্বাটিকে ধরলেন তারপর পার্শ্বদেশ করে শোয়ালেন এবং যবেহ করতে গিয়ে বিসমিল্লাহ বললেন আরো বললেন, হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি এই কুরবানী কবুল করুন রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার তরফ থেকে এবং উনার সম্মানিত পরিবারের তরফ থেকে এবং উনার উম্মতদের তরফ থেকেঅতঃপর উক্ত দুম্বাটি দ্বারা সকালের খাবার খাওয়ালেন” (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফঃ২৭৮৩)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الأَضْحَى بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا قَضَى خُطْبَتَهُ نَزَلَ مِنْ مِنْبَرِهِ وَأُتِيَ بِكَبْشٍ فَذَبَـحَهُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ وَقَالَ بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ هَذَا عَنّي وَعَمَّنْ لَـمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي‏.
অর্থ : হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমি কুরবানীর দিন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার সাথে ঈদগাহে উপস্থিত হলামযখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নামাযের পর) খুতবা শেষ করলেন এবং মিম্বর শরীফ থেকে নেমে আসলেন এরপর উনার জন্য একটি দুম্বা আনা হলোতখন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাত মুবারকে সেটা যবেহ করলেন এবং বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বললেন অর্থাৎ বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করলেনআরো বললেন, এই কুরবানী আমার তরফ থেকে এবং আমার ঐ সকল উম্মতের তরফ থেকে যারা কুরবানী দেননি অর্থাৎ যাদের কুরবানী করার সামর্থ নেই” (বুখারী ৫৫৬৫, মুসলিম ১৯৬৬, আত্ তিরমিযী ১৪৯৪, নাসায়ী ৪৩৮৭, ইবনু মাজাহ্ ৩১২০, আহমাদ ১৩২০২, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৮৯৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯১৬০, মিশকাতঃ১৪৫৩)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَأَيْتُ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ يُضَحّىْ بِكَبْشَيْنِ فَـقُلْتُ لَه مَا هٰذَا فَقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْصَانِـىْ اَنْ اُضَحّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحّىْ عَنْهُ.
অর্থ : তাবিয়ী হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত আলী কাররামাল্লাহু আলাইহিস সালামকে দুটি দুম্বা কুরবানী করতে দেখে উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম ইহা কি? অর্থাৎ দুটি কেন? তিনি বললেন, নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে ওছীয়ত মুবারক করেছেন, আমি যেনো উনার পক্ষ হতে কুরবানী করিসুতরাং আমি উনার পক্ষ হতে অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ থেকে একটি কুরবানী করছি। (আর অপরটি আমার পক্ষ থেকে)” (আবূ দাঊদ শরীফঃ২৭৮১, তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ হতে বুঝা যাচ্ছে-

১. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামর্থ্যবান ও সামর্থ্যহীন সকল উম্মতের পক্ষ হতে কুরবানী করেছেন
২. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামর্থ্যহীন উম্মতের পক্ষ হতেও আলাদাভাবে কুরবানী করেছেন
৩. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ হতে কুরবানী করার জন্য ওসীয়ত মুবারক করেছেন
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের তরফ থেকে কুরবানী কেন করেছেন? উম্মত যাতে ফযীলত লাভ করতে পারেঠিক একইভাবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার তরফ থেকে কুরবানী করার ওসীয়ত মুবারক করেছেন যাতে উম্মত বিশেষ ফযীলত লাভ করতে পারে

তাই প্রত্যেক উম্মতের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার পক্ষ হতে কুরবানী করাকেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتَّى اَكُونَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ اَجْـمَعِينَ‏‏.
অর্থ : হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা থেকে, পুত্র থেকে এবং সকল মানুষ থেকে অধিক প্রিয় না হই” (বুখারী শরীফ, কিতাবুল ঈমান, হাদীছ শরীফ : ১৫; মুসলিম শরীফ, কিতাবুল ঈমান, হাদীছ শরীফ : ১৭৭

পবিত্র কুরবানী কার উপর ওয়াজিবঃ যিলহজ্জ মাসের দশ, এগার, বার অর্থাৎ দশ তারিখের সুবহে সাদিক হতে বার তারিখের সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ মালিকে নিসাব হয় অর্থাৎ হাওয়ায়িজে আছলিয়াহ (নিত্য প্রয়োজনীয় ধন-সম্পদ) বাদ দিয়ে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা তার সমপরিমাণ মূল্যের মালিক হয়, তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিবউল্লেখ্য যে, যদি কারো নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে এবং তা যদি নিসাব পরিমাণ হয়, যেমন- কারো পাঁচটি ঘর আছে, একটির মধ্যে সে থাকে আর তিনটির ভাড়া দিয়ে সে সংসার চালায় আর একটি অতিরিক্ত, যার মূল্য নিসাব পরিমাণএ ক্ষেত্রে তার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে। (দলীলসমূহঃ- আলবাহরুর রায়েক-৮/৩১৭, আলমগীরী-৩/৩৪৪ ,হেদায়া-৪/৪২৭,বাদায়েউস সানায়ে-৪/১৯২,খুলাসাতাতুল ফতওয়া-৩/৩০৯,আন নাহরুল ফায়েক-৮/৩১৭)

আইইয়ামে নহর বাপবিত্র কুরবানীর দিনের সময়সীমাঃ পবিত্র কুরবানী করার সময়সীমা হচ্ছে পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০তারিখ পবিত্র ঈদুল আদ্বহা্র নামায এর পর হতে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্তপবিত্র ঈদুল আদ্বহা এর নামায এর পূর্বে পশু যবেহ করলে যেমন কুরবানী আদায় হবে না, তেমনিভাবে ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পরও কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হবে না

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ এ আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنِ حَضْرَت الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِى اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَاِنَّ اَوَّلَ مَا نَبْدَاُ فِي يَوْمِنَا هَذَا اَنْ نُصَلّيَ ثـمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ اَصَابَ سُنَّتَنَاوَمَنْ نَـحَرَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَاِنَّـمَا هُوَ لَـحْمٌ قَدَّمَهُ لاَهْلِهِ لَيْسَ مِنَ النُّسْكِ فِي شَيْءٍ.
অর্থ :হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা মুবারক দিলেন এবং তাতে বললেন, আমাদের এই পবিত্রতম দিনে তথা পবিত্র ঈদুল আদ্বহার দিনে সর্বপ্রথম কাজ পবিত্র নামায আদায়করা, অতঃপর নামায থেকে ফিরে গিয়ে পবিত্র কুরবানী করাসুতরাং যে এভাবে করবে তার কাজ আমাদের তরীক্বা মতো হবেআর যে পবিত্র নামায এর আগেই পবিত্র কুরবানী করবে (তার কাজ তথা পবিত্র কুরবানী আমাদের তরীক্বামতো হয়নি)অতএব তা স্বীয় পরিবারের জন্য প্রস্তুতকৃত গোশত হিসেবে গণ্য হবে, মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য উৎসর্গিত পবিত্র কুরবানী হিসেবে গণ্য হবে না” (ইবনে হিব্বান শরীফ : ৫৯০৭)

পবিত্র হাদীছ শরীফ এ মধ্যে আরো বর্ণিত আছে যেঃ কোনো কোনো ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা পবিত্র ঈদুল আদ্বহার নামায এর আগে কুরবানী করেছিলেনরসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে পুনরায় কুরবানী করার আদেশ করেন। (ইবনে হিব্বান শরীফ : ৫৯১২, ৫৯১৩, ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৩১৫১,৩১৫২, ৩১৫৩)

পবিত্র কুরবানীর পশুর বৈশিষ্ট্যঃ
কুরবানী যোগ্য পশুঃ ইসলামী শরীয়তে পবিত্র কুরবানীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু পশুর কথা বর্ণনা করা হয়েছেযেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَزَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ
অর্থ :আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত করেছিলাম, যেনো তারা ওই নির্দিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলির উপর (যবেহ করার সময়) মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে রিযিক হিসেবে দান করেছেন। (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ৩৪)

অর্থাৎ পবিত্র কুরবানী উনার পশু গৃহপালিত হতে হবেআর গৃহপালিত পশুর মধ্যে কুরবানী যোগ্য পশুর বর্ণনা বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফ এর মধ্যে বর্ণিত রয়েছে

হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্র্ণিতরসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুটি সাদা-কালো বর্ণের বড়শিং বিশিষ্ট নর দুম্বা কুরবানী করেছেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফঃ ৪৯২৮)

অন্য হাদীছ শরীফ এর মধ্যে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত- রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিনিজ হাত মুবারক-এ তেষট্টিটি উট নহর করলেন।(মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
وضحىرسولاللهصلىاللهعليهوسلمعننساءهبالبقر
অর্থ : রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী করেছেন” (বুখারী শরীফঃ ১৭৫০, ১৭৫১)

বন্য পশু গরু হোক, মহিষ হোক তা দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হবেনাকারণ কুরবানী উনার জন্য গৃহপালিত পশু হওয়া শর্তউল্লেখ্য, পশুর নছব বা পরিচিতি হলো মায়ের দ্বারাঅর্থাৎ পশু গৃহপালিত বা জংলী তা চেনার জন্য সহজ পন্থা হলো- যে পশুর মা গৃহপালিত হবে, সে পশুটি গৃহপালিত বলে গণ্য হবেআর যে পশুর মা জংলী হবে, সে পশুটি জংলী বলে গণ্য হবেগৃহপালিত ছাড়া অন্যান্য পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়িয হবেনাতা হরিণ হোক অথবা বন্য গরু, ছাগল, বকরী, ভেড়া ইত্যাদি যাই হোক না কেন। (সমূহ্ ফিক্বাহ ও তাফসীরের কিতাব)

জাল্লালা প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা নাজায়িযঃ জাল্লালা প্রাণী দিয়ে কুরবানী করা জায়িয নেইজাল্লালা প্রাণী বলে ওই প্রাণীকে, যে প্রাণী সদা-সর্বদা মল খেয়ে জীবন ধারণ করে, যার কারণে ঐ সমস্ত পশুর গোশতে দুর্গন্ধ পয়দা হয়আর যে সমস্ত পশু প্রায় প্রায় মল বা নাজাসাত খেয়ে থাকে, সে সমস্ত পশু দিয়ে কুরবানী করা সম্পর্কে ইখতিয়ার রয়েছেতবে যারা জায়িয বলেছেন, তারা বলেছেন- উট হলে ৪০ দিন, গরু হলে ২০ দিন, ছাগল হলে ১০ দিন, মোরগ হলে ৩ দিন, চড়ুই পাখি হলে ১ দিন বেঁধে রেখে ভাল খাদ্য দিয়ে তার গোশতের দুর্গন্ধ দূরীভূত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পর যবেহ করা জায়িয ও তা দ্বারা কুরবানী আদায় করা জায়িয। (সমূহ ফিক্বাহের কিতাব)

পবিত্র কুরবানী পশুর শরয়ী ত্রুটিঃ হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র কুরবানীর পশু সম্পর্কে বর্ণনা করেন-
اشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده ويدي قصر من يده اربع لا يضحى بـهن العوراء البين عورها والـمريضة البين مرضها والعرجاء البين ظلعها والعجفاء التي لا تنقي فقالوا للبراء فانـما نكره النقص في السن والاذن والذنب قال فاكرهوا ما شئتم ولا تـحرموا على الناس.
অর্থ : রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাত মুবারক দিয়ে ইশারা মুবারক করেন- আমার হাত মুবারক তো উনার হাত মুবারক থেকে ছোট এবং বলেন, ‘চার ধরণের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়না- ১) যে পশুর চোখের দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট, ২) যে পশু অতি রুগ্ন, ৩) যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং ৪) যে পশু এত জীর্ণ-শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেইহযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী দ্বারাওকুরবানী করা অপছন্দ করিতিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারেন তবে তা অন্যের জন্য হারাম করবেন না” (ইবনে হিব্বান শরীফ : ৫৯১৯)

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত-
امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نستشرف العين والاذن وان لا نضحي بـمقابلة ولا مدابرة ولا شرقاء ولا خرقاء.
অর্থ : রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের আদেশ মুবারক করেন, আমরা যেন পবিত্র কুরবানী উনার পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ করি এবং ওই পশু দ্বারা কুরবানী না করি, যার কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কর্তিততদ্রুপ যে পশুর কান ফাড়া বা কান গোলাকার ছিদ্রযুক্ত” (ইবনে মাজাহ শরীফঃ৩১৪২)

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে-
نـهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يضحى باعضب القرن والاذن.
অর্থ : রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমাদের শিংভাঙ্গা বা কান-কাটা পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন” (ইবনে মাজাহ শরীফঃ ৩১৪৫)

অর্থাৎ নিম্নোক্ত দোষ-ত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে না-
১. শিং ভাঙ্গা,
২. কান কর্তিত বা গোলাকার ছিদ্রযুক্ত,
৩. চক্ষুহীন বা দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট,
৪. নাক কাটা,
৫. ঠোঁট কাটা বা দাঁত ভাঙ্গা,
৬. পা খোড়া বা পঙ্গু,
৭. লেজ কর্তিত,
৮. খুজলী/পাচড়াযুক্ত
৯. অতি রুগ্ন বা এমন জীর্ণ শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই,
১০. ত্রুটিযুক্ত বাঁট,
১১. পিছন দিক ত্রুটিযুক্ত

খাসী, বলদ ইত্যাদি দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা খাছ সুন্নত এর অন্তর্ভুক্তঃ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে খাসীবকুরবানী করেছেনযা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال ذبح النبى صلى الله عليه وسلم يوم الذبح كبشين أقرنين املحين موجوئين.
অর্থ :হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক কুরবানী উনার দিন সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের শিং বিশিষ্ট খাসীকৃত দুটি তাজা দুম্বা কুরবানী করলেন।(আবু দাউদ শরীফঃ২৭৯৫)

পবিত্র কুরবানীর পশুর বয়সঃ
ইসলামী শরীয়তেপবিত্র কুরবানীর জন্য শুধু পশুই নির্দিষ্ট করে দেয়নি সাথে সাথে তার বয়সও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন-
لا تذبـحوا الا مسنة، الا ان يعسر عليكم فتذبـحوا جذعة من الضأن.
অর্থ : আপনারা মুছিন্না ব্যতীত কুরবানী (যবেহ) করবেন না, তবে সংকটের অবস্থায় ছয় মাস বয়সী ভেড়া-দুম্বা যবেহ করতে পারেন”(আবু দাউদ শরীফঃ ২৭৮৮, মুসলিম শরীফ)

মুছিন্না (مسنة) শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, উট ৫ বছর হলে, গরু, মহিষ ২ বছর হলে আর খাসী-বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি ১ বছর হলে মুছিন্নার হুকুম বর্তায় অর্থাৎ পবিত্র কুরবানী উনার উপযুক্ত হয়এর কম বয়সের পশুকে কুরবানী করলে কুরবানী হবেনাতবে শুধুমাত্র ভেড়া ও দুম্বার বেলায় বলা হয়েছে, যদি ৬ মাসের দুম্বা বা ভেড়াকে দেখতে ১ বছরের মত মনে হয় তবে সে দুম্বা বা ভেড়া দিয়ে কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে।(কুদূরী, হিদায়া)

কুরবানীর দিনে পবিত্র কুরবানীর পশু ব্যতীত অন্যান্য প্রাণী যবেহ করার বিধানঃ পবিত্র কুরবানীর দিনে মজূসী বা অগ্নি উপাসকরা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে থাকেএখন যদি কোন মুসলমান তাদের সাথে মুশাবাহ বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানীর দিন হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবেকারণ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ مَنْ تَشَبَّهْ بِقَوْمِ فَهُوَ مِنْهُمْ.
অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইবনেহযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত” (আবূ দাঊদ শরীফ)

আর যদি কোন মুসলমান সাধারণভাবে উক্ত সময়ে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা মাকরূহ তাহরীমী হবে, যেহেতু এটাও মুশাবাহ হয়ে যায়

আর যদি কোন মুসলমান খুব জরুরতে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটাও মাকরূহ তানযীহী হবেআর এমন কোন মুসলমান, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব অথবা ওয়াজিব নয়, তারা যদি পবিত্র কুরবানীর দিন হাঁস, মুরগি ইত্যাদি খেতে চায়, তাহলে তারা যেনো ছুবহি ছাদিকের পূর্বেই সেটা যবেহ করে কেটে রান্না করে রেখে দেয় অথবা শুধু যবেহ করে কেটে রেখে দিবে পরে রান্না করলেও চলবে। (শামী, আলমগীরী, ফতহুল ক্বাদীর, শরহে হিদায়া)

যিলহজ্জ্ব শরীফ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল,নখ,মোচ ইত্যাদি না কেটে সকলেই কুরবানী দেওয়া ফযিলত হাসিল করুনঃ যারা কুরবানী দিবে ও যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয় নাই উভয়য়ের উপরই এই হুকুমযিলহজ্জ্ব শরীফ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল,নখ,মোচ ইত্যাদি না কাটলে সকলেই কুরবানী দেওয়া ফযিলত পাবেসুবহানাল্লাহ!!

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ لَهُ ذِبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أُهِلَّ هِلاَلُ ذِي الْحِجَّةِ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّيَ "
উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যার কুরবানী করতে হবে সে যেন চাঁদ দেখার পর যতক্ষণ না কুরবানী করেছে ততোক্ষণ চুল ও নখ না কাটে।(মুসলিম শরীফঃ৪৯৫৫,৪৯৫৯,তিরমিযীঃ১৫২৯ জামউল ফাওয়ায়েদ)

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ: أُمِرْتُ بِيَوْمِ الْأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ، فَقَالَ الرَّجُلُ: أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيحَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا؟ قَالَ: لَا، وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ، وَتُقَلِّمُ أَظْفَارَكَ، وَتَقُصُّ شَارِبَكَ، وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ، فَذَلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থঃ
হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে হুকুম করা হয়েছে যে, আমি যেন ঈদুল আযহার দিনে (যিলহজ্জে মাসের ১০ তারিখে) ঈদ পালন করিমহান আল্লাহ পাক এ দিন উম্মতের জন্যে ঈদ নির্ধারিত করেছেনএকজন জিজ্ঞেস করলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, একজন আমাকে দুধ পানের জন্যে একটা বকরী দিয়েছেনএখন ঐ বকরী কি আমি কুরবানী করব? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, না আপনি তা কুরবানী করবেন নাকিন্তু কুরবানীর দিন আপনার চুল ছাঁটবে, নখ কাটবেন, গোঁফ ছোট করবেন এবং নাভির নীচের চুল পরিষ্কার করবেনএতে করে মহান আল্লাহ পাক আপনাকে কুরবানীর ফযিলত দান করবেন। (সুনানে আবু দাউদঃ ২৭৮৯; সুনানে নাসায়ীঃহাদীস ৪৩৬৫,জামউল ফাওয়ায়েদ)

তাকবীরে তাশরীক পাঠ করাঃ পবিত্র যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আছর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পর যে তাকবীর পাঠ করা হয় তাকেই তাকবীরে তাশরীক বলে

তাকবীরে তাশরীকঃ الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلاالله والله أكبر، الله أكبر ولله الحمد
উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাঃ ৫৬৯৬, ৫৬৯৭, ৫৬৯৮, ৫৬৯৯)
জামায়াতে বা একাকী, মুসাফির অথবা মুকীম, শহর অথবা গ্রামে প্রত্যেককেই প্রতি ফরয নামাযের পর উক্ত তাকবীর পাঠ করতে হবে

দুররুল মুখতারকিতাবে উল্লেখ আছে যে, “তাকবীরে তাশরীক একবার বলা ওয়াজিব, তবে যদি (কেউ) একাধিকবার বলে, তাহলে তা ফযীলতের কারণ হবেআর ফতওয়ায়ে শামীকিতাবে উল্লেখ আছে,
وقيل ثلاث مرات
অর্থ: কেউ কেউ বলেছেন (তাকবীরে তাশ্রীক) তিনবার” “গায়াতুল আওতার শরহে দুররুল মুখতারকিতাবে উল্লেখ আছে,
اور واجب ہے تکبیر تشریق صحیح ترقول میں ایکبار بسبب اسکے مامور ہونے کے اور اگر زیادہ کہےایکبار سے تو ہوگا ثواب.
অর্থ: বিশুদ্ধ বর্ণনা মতে (আল্লাহ পাক-উনার পক্ষ থেকে) আদিষ্ট হওয়ার কারণে একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিবআর যদি একবারের চেয়ে অতিরিক্ত বলে তবে ছাওয়াবের অধিকারী হবে
উপরোক্ত নির্ভরযোগ্য কিতাবের বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, একবার তাকবীরে তাশরীক বলা ওয়াজিব এবং তিনবার বলা মুস্তাহাব{দলীলসমূহ: শামী, আইনী, আলমগীরী, হাশিয়ায়ে তাহতাবী, রদ্দুল মুহতার, দুররুল মুখতার ইত্যাদি}

আপনি কি জানেন কোন রাতের ইবাদত লাইলাতুল ক্বদরের ইবাদতের সমতূল্যঃ পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ اَيَّامٍ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ اَنْ يَّتَعَبُّدَ لَهُ فِيْهَا مِنْ عَشْرِ ذِى الْـحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَ قِيَامُ كُلّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ.
অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিততিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নেই যে দিন সমূহের ইবাদত মহান আল্লাহ পাকের নিকট যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয় বা পছন্দনীয়যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১ম দশ দিনের প্রতি দিনের রোযার ফযীলত হচ্ছে ১ বছর রোযা রাখার সমপরিমাণ এবং প্রতি রাতের ইবাদতের ফযীলত হচ্ছে ক্বদরের রাতের ইবাদতের সমপরিমাণসুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

সুতরাং যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১ম দশ দিনের প্রতি রাতের ইবাদতের ফযীলত হচ্ছে ক্বদরের রাতের ইবাদতের সমতুল্য

ঈদের রাতের ফযীলতঃ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন-
ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتى العيدين.
অর্থ: নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে
(১) রজব মাসের প্রথম রাতে,
(২) শবে বরাতের রাতে,
(৩) ক্বদরের রাতে,
(৪) ঈদুল ফিতরের রাতে,
(৫) ঈদুল আযহার রাতে

(দলিলঃ মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ, আমালুল ইয়াত্তমি ওয়াল লাইলাতি উপমহাদেশের বিখ্যাত হাদীস বিশারদ শায়েখ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি)


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: