8.24.2014

বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসা কি ইসলামে যায়েজ? বিস্তারিত পড়ুন।

যাদের বিয়ের আগে প্রেম করা, নারী পুরুষের সম্পর্ক এই বিষয় গুলোতে ইসলামের অবস্থান নিয়ে সন্দেহ আছে তাদেরকে ধৈর্যসহকারে এই লেখাটা পড়ার অনুরোধ করছি! এই বিষয়ে কয়েকজন আপুমনির প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এই লিখাটি। নিচে তাদের প্রশ্ন আর উত্তরটা দেওয়া হলো।

প্রশ্নঃ আমাদের একটি প্রশ্ন হলোঃ ইসলামে তো প্রতিটি মানুষ এর জোড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আগে থেকেই বানিয়ে রেখেছেন এই আয়াত শরিফ খানা কি সত্য ???? যদি সত্য হয় তাহলে যে আজকাল অনেক ধার্মিক ছেলে মেয়ে ও প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কে আছে ।। তাহলে কি আয়াত শরিফ খানা ভুল(নাউযুবিল্লাহ)??? আমি যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উনার কাছে আমার ভালবাসার মানুস এর জন্য দুয়া করি তাহলে কি তা পাপ হবে??? আমি কিভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উনার কাছে দুয়া করব??? এই সম্পর্কে ইসলাম কি বলে??? প্রেম ভালবাসা কি খারাপ??? প্লিজ আমাদের জানাবেন

অনেক প্রশ্নের সমন্নয়ে উপরের ঐ প্রশ্নটি যার উত্তর আমি নিচে আপনাদের কাছে বর্ণনা করবো।

উত্তরঃ আসসালামু আলাইকুমঃ আপনাদের প্রশ্ন পড়ে মনে হচ্ছে ইসলাম নিয়ে আপনারা খুবই ভয়ংকর ধারণা পোষণ করছেনআপনাদের মন ইসলামের ব্যপারে সন্দেহ বাতিকগ্রস্থআমি আপনাদেরকে স্পষ্ট করে কিছু কথা বলছিআশা করি আপনারা বুঝতে পারবেন যারা এই ব্যপারে দ্বিধা দন্ধে আছেনযদিও আপনাদের প্রশ্নটি নারী পুরুষ সম্পর্ক নিয়ে কিন্তু আমি আপনাদেরকে সতর্ক করে দিতে চাই কারন আপনারা কোরআন উল কারিমের আয়াত শরিফ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতেছেন যা অত্যন্ত ন্যাকারজনকএকজন মুসলিম সে যদি মনে করে কোরআন উল কারিমের কোন আয়াত শরিফে ভুল কিংবা তার কোন যথার্থতা নেই তাহলে সে আর মুসলিম থাকতে পারেবেনা সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে আর এই অবস্থায় তার মৃত্যু হলে ১০০% জাহান্নামি কারন সে ঈমানহারা হয়ে কবরে যাবে কেননা আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তালা তিনি নিজেই কোরআন উল কারিমের ব্যপারে এই সত্যতা দিয়েছেন...

“(এই) সেই মহাগ্রন্থ আল কুরান এতে কোন সন্দেহ নেই, যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে এই কিতাব তাদের জন্যই পথপ্রদর্শক। [সূরা বাকারাহঃ আয়াত শরিফ ২]

আর তাই কেউ যদি কোরআন উল কারিমের আয়াত শরিফ কে অস্বীকার করে তাহলে সে আল্লাহকেই অস্বীকার করে, তার মানে সে কাফির! আল্লাহ আমাদেরকে এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করুন... আমীন!

আপনাকে যে বিষয়গোলা সম্পর্কে সর্ব প্রথম জানতে হবে তা হলো ইসলামিক পর্দা আর এই পর্দা সম্পর্কে জানতে এই পোষ্টটি পড়ুন, তারপর জানতে হবে যিনা কি আর যিনা সম্পর্কে জানতে এই পোষ্টটি পড়ুন।

এবার আপনার মুল প্রশ্নে আসিআপনার প্রশ্নটাকে কয়েকটা অংশে ভাগ করলাম

প্রশ্ন ১- প্রত্যেক মানুষের জোড়া কি নির্ধারিত ?
প্রশ্ন ২- প্রেম করা মানে সহজ কথায় বিয়ের আগে নারী পুরুষ অবৈধ সম্পর্ক কি হারাম ?
প্রশ্ন ৩- প্রেম করা অবৈধ হলে অনেক ধার্মিক ছেলে মেয়ে প্রেম করে কেন?
প্রশ্ন ৪- পছন্দের মানুষের জন্য দোয়া করা যাবে কি?

উত্তর ১- জোড়া বিষয়ে কোরআন উল কারিমের স্পষ্ট আয়াত আছে একটা না, কয়েকটা এগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো।

আমি প্রতিটি জিনিসই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর। [আয যারিয়াতঃ আয়াত শরিফ ৪৯]

পবিত্র নিখুঁত সেই মহান স্রস্টা, যিনি জুড়ি সৃষ্টি করেছেন সবকিছুর__উদ্ভিদের, স্বয়ং তাদের (মানুষের) এবং এমন সব কিছুরও যাদের তারা জানেনা। (ইয়াসিনঃ আয়াত শরিফ ৩৬]

হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে। [আল হুজুরাতঃ আয়াত শরিফ ১৩]

হে মানুষ! তোমরা সতর্ক হও তোমাদের সেই মহান প্রভুর ব্যাপারে, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে, আর তাদের থেকেই সৃষ্টি করেছেন বিপুল সংখ্যায় পুরুষ আর নারী” [সূরা নিসাঃ আয়াত শরিফ ১]

এসব আয়াত থেকে একথা দিবালোকের মত পরিষ্কার যে মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি মানুষকে তার জোড়া বানিয়েই এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেনএমনকি উদ্ভিদও সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়সুতরাং এই বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই যে আল্লাহ আমাদের জোড়ায় জোড়ায় তৈরি করেছেন কিনা!

#ইসলামে নারী পুরুষের সম্পর্কের পবিত্র আর বৈধ পন্থা হল বিয়েএর বাইরে অর্থাৎ বিয়ের আগে নারী পুরুষের সম্পর্ক, বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, লিভ টুগেদার এসব সম্পূর্ণ হারাম

বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসা কি ইসলামে যায়েজ?
বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসা কি ইসলামে যায়েজ?
এটা শুধু আপনি নয়, নামাজ রোজা করা মুসলিম ছেলেমেয়েদেরও মেনে নিতে কষ্ট হয়! তার কথা তো আপনিই বললেন যে আপনি অনেক ধার্মিক ছেলেমেয়েকেও রিলেশন থাকতে দেখেছেনআমরা যারা ইসলামটাকে একটা পরিপূর্ণ জীবনব্যাবস্থা হিসেবে মেনে নিয়ে তা জীবনে প্রয়োগ করে দেখাতে পারিনা তার অন্যতম কারন আমরা ইসলামটাকে দেখি একটা হালাল হারামের লিস্ট হিসেবেআমরা যখন আমাদের প্রবৃত্তির পূজা করতে যাই, যখন সেখানে ইসলামের বাধা আসে তখনই আগে পিছে চিন্তা না করে আমাদের মনে প্রশ্ন আসে Why?? Why This Is Haram In Islam?? আপনি নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুনতো এই প্রেম করা নিয়ে কোন প্রশ্ন কি ছোটবেলা থেকে এসেছে? না! আসেনি! আমরা সবাই একটা নির্দিষ্ট বয়স পার করি, যে বয়সটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একই সাথে খুবই ভয়ংকর! যে বয়সটাতে আবেগ, ভালোলাগা, সবকিছু পজিটিভ ভাবা, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সীমাহীন আকর্ষণ সবকিছু আমাদের চারপাশে গিজগিজ করে! আর এই বয়সের সরলতা আর ভালোলাগার সুযোগ নেই শয়তান আর তা কাজে রুপান্তর করে দেখায় কাফির আর ইসলামের বিরুদ্ধ শক্তি যারা আল্লাহর নয় নিজেদের প্রবৃত্তির পূজা করে! আর তাই আজকে সমাজে স্কুলে প্রেম, কলেজে প্রেম, ভার্সিটিতে প্রেম, নাটক- সিনেমা- গল্প উপন্যাসে প্রেম! আর এসব দেখে শুধু আপনি নয় অনেকের মনে সেই একই প্রশ্ন Why?? Why প্রেম Is Haram In Islam?? কারন আল্লাহ মহা পরিকল্পনাকারী! তিনি তার সৃষ্টির জন্য মঙ্গলজনক পন্থাই পরিকল্পনা করেছেন! তিনি মানুষের শরীর আর আত্মিক ক্ষতির আসংখা থেকে মানুষকে মুক্ত থাকার ব্যবস্থা করেছেনঅতি সসীম এই মস্তিস্ক নিয়ে আমরা কখনও অসীম মহান আল্লাহর পরিকল্পনা বুঝতে পারবনা! কিন্তু আমরা এই দুনিয়াতেই তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আর আদেশ অমান্যকারিদের পরিণতি দেখেছি, দেখছি, দেখব ইনশাআল্লাহ! আমরা একটা হারামকে শুধু হারাম হিসেবে দেখি কিন্তু একটা হারাম শুধু হারাম নয় এটা অনেকগুলো পথ যে পথে মানুষের অপকার আছে সেই পথগুলোও বন্ধ করে দেয়! ইসলামে মদ হারামকিন্তু মদ তো মানুষ ভাল লাগে বলেই খায়!! তাহলে হারাম হবে কেন?? এটা বোঝা আমার আপনার কাছে দুরহ তো বটেই হজরত ওমর (রাঃ) ও বুঝতে পারেননি! প্রথমে আর তারই প্রার্থনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা তিনবার আয়াত নাযিল করার পর হজরত ওমর (রাঃ) বুঝতে পারেন কেন মদ হারাম হল! আর আমরা এখন জানতে পেরেছি বর্তমানে বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ...অ্যালকোহল! মদপান! যেটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা ১৪০০ বছর আগেই হারাম করেছেন! ইসলামে এরকম অনেকগুলো হারামের একটি হল বিয়ে বাদ দিয়ে কিংবা বিয়ের আগে নারী পুরুষ প্রেমের সম্পর্ক! আর বরাবরের মতই ইসলামকে অন্তরে ধারণ না করে পাশ্চাত্য আর কুফরি সিস্টেমর আধুনিকতা অন্তরে ধারণ করা আজকের তরুণ তরুণী সেই হারামের ধার দারে না! অনেকের কাছে এই হারামের জন্য ইসলাম হয়ে যায় সেকেলে! তার পরিণতিও হাতে নাতে!! পেটে অবৈধ বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে গর্ভপাত, রিকশা- সি এন জি তে মূল্যবোধ নৈতিকতা বিসর্জন, বয়ফ্রেন্ডের লালসার শিকার হয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে গণধর্ষণ, বাজারে সেক্স ভিডিও, নিজের অসম্মান, পরিবারের অসম্মান আর সবশেষে এত এত অসম্মান সইতে না পারে গলায় ফাঁস!

না না না!! হ্যাঁ আমি জানি! শুধু আপনি না সবাই এমনকি যারা এই পরিণতিগুলো বরণ করেছে তারাও বলেছিল, “না না আমরা তো সত্যই ভালোবাসি!! আমরা এসব করব না!সেজন্যই প্রথমে বলেছিলাম ইসলামে কোন একটা হারাম শুধু হারাম নয় এটা অনেকগুলো ক্ষতির পথও রুদ্ধ করেযে পরিণতিগুলোর কথা বললাম নিজের প্রতি সৎ থেকে বলুনতো এই পথগুলো কে উন্মুক্ত করেছে?? সহজ উত্তর___ নারীপুরুষ অবৈধ সম্পর্ক যেটা ইসলাম হারাম করার পরও তারা মানতে চায়না! ইসলাম সেই জীবন ব্যবস্থা যা মানুষকে নৈতিকতা আর মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়! মানুষকে নিজের শরীর আর মনের নিরাপত্তা দান করে! আর তাই ইসলামে নিজের শরীর আর মনের নিরাপত্তা এসেছে পবিত্র বিয়ের মাধ্যমেআল্লাহ বলেন...

আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের (মানব জাতির) মধ্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য (বিপরীত লিঙ্গের) জুড়ি, যাতে করে তোমরা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো! এ উদ্দেশ্যে তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন হৃদ্যতা- বন্ধুতা আর দয়া- অনুগ্রহ অনুকম্পাএতে রয়েছে বিপুল নিদর্শন চিন্তাশীল লোকদের জন্য। --[সূরা আর রুমঃ ২১।

সুবাহানাল্লাহআল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন বিবাহের মাধ্যমেই নারী পুরুষ পাবে প্রশান্তি, সৃষ্টি হবে হৃদ্যতা-বন্ধুতা, দয়া অনুগ্রহ অনুকম্পা! আর এটা চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ! কিন্তু আমরা কেউ চিন্তাশীল নই! আমরা মানুষের হারাম সম্পর্ক দেখে স্বপ্নের বীজ বুনি! হলিউড- বলিউড তারকাদের রিলেশনশিপ উইথ অমুকদেখে ভাবি হ্যাঁ আমারও চাই”!! সেলিনা-বিবার, এঞ্জলিনা- ব্র্যাড পিট লিভ টুগেদার দেখে ভাবি, “আহা! তারা কতই না সুখে আছে! কেন যে ইসলামে এসব হারাম করল বুঝি না!!এসব আধুনিকতার Art of Living এর রঙিন পর্দাটাই আমরা শুধু দেখি! পর্দার আড়ালের কঙ্কালসার, কুড়ে কুড়ে ধ্বংস হওয়া জীবনবোধের গল্প আমরা কেউ জানিনা! আসুন কয়েকটা গল্প শুনি......

বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসা কি ইসলামে যায়েজ?
বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসা কি ইসলামে যায়েজ?
শুধু আমেরিকাতেই একজন পুরুষ বিয়ের আগে গড়ে ৮ জন নারীর সাথে সম্পর্কে জড়ায়! তাদের সবার সাথেই অবাধ যৌনসম্পর্ক থাকেএরপর সে একটা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেএবং বিয়ের পরও দুই তিনটা অবৈধ যৌনসম্পর্ক থাকে একজন আমেরিকানেরভারতের একটি পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে (৮-১০ বছর আগের, জাকির নায়িকের লেকচার থেকে) শুধু মুম্বাই শহরেই ৫০% মেয়ে স্কুল জীবন শেষ করার আগেই তাদের কুমারিত্ত হারায়! এখন ২০১৩!! সেই % টা কি এখন ১০০%?? কিংবা তার কাছাকাছি??? এতসব জেনেও কিন্তু জাকির নায়িক নারি পুরুষের অবাদ মেলামেসার পথ সৃষ্টি করছে যা খালি চোখে ধরা খুবই কঠিন, আর যেসব তারকার প্রেমের সম্পর্ক দেখে আমাদের আবেগ উদ্বেলিত হয়ে উঠে তাদের কিছু গল্পও শুনি......

বছর কয়েক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন তিন্নি- হিল্লোল, নওশিন, প্রমিকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন ন্যান্সি, জনপ্রিয় তারকা জুটি হিসেবে পরিচিত ছিলেন শওকত আলি ইমন-বিজরি, প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন আরেফিন রুমি, একবছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন কঙ্গনা সেন শর্মা-রনবির, সেলিনা গমেজ-বিবার কে দেখে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন অনেক টিনেজার, “ গভীর ভালোবাসারবিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সেক্স টেপ বানিয়েছিলেন প্রভা সেটা ছড়িয়ে পরে তার ক্যারিয়ারটাই শেষ, জনপ্রিয় আরজে নিরব একের পর এক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করেন_এক লাইভ অনুষ্ঠানে যা এক মেয়ে এক কথায় প্রকাশ করেছেন এভাবে, “আর কইটা মেয়ের জীবন তুই নষ্ট করবি??” এরকম আরও অনেক......অনেক......অনেক.........

এগুলো তো প্রেমের গল্প! তারা অনেকেই বিয়েও করেছেন এই নিষিদ্ধ প্রেমকে পুঁজি করেতার ফলাফলটা দেখবেন না?? আসুন দেখি......

তিন্নি- হিল্লোল, নওসিন-তার স্বামী ছাড়াছাড়ি! এখন প্রেমের ট্রায়ালে আছেন হিল্লোল- নওসিন!! ন্যান্সির ছাড়াছাড়ি! বিজরির সাথে ছাড়াছাড়ির পর অনেক মেয়ের সাথে প্রনয়ে জড়িয়েছেন ইমন! তার একজন তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন! আরেফিন রুমির বিয়ে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে বলে সবাই জানলেও সেটা ছিল তার নিষিদ্ধ পরকীয়ার ফল! বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীর হাতে পায়ে ধরে সে তাকে রাজি করায়! (সুত্রঃ প্রথম স্ত্রীর রেডিও সাক্ষাৎকার)!! আর হলিউড, বলিউডের কথা বলার কোন দরকার মনে করছিনা!!
 
সেক্সুয়াল সম্পর্ক অনলাইনে হারাম
সেক্সুয়াল সম্পর্ক অনলাইনে হারাম
বোন! হিসাবটা সোজা! মহান আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন সেখানেই কল্যাণ আর প্রশান্তি লুকায়িত আছে! আর যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা অমান্য করায় আছে এই দুনিয়ায় ক্ষতি, লাঞ্ছনা, অসম্মান আর আখিরাতেও কঠিন শাস্তি! এই অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক, মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা, একসাথে ঘুরতে যাওয়া, Long Drive ( মতান্তরে Sex Drive) অন্ধকার কফি শপ!! অতি সহজ ভালোলাগা থেকে শুরু করে দুইটা শরীর কাছাকাছি আসলে দুর্বল চিত্তের অতি স্বাভাবিক শরীরের চাহিদা চরিতার্থ করার প্রয়াস আসবেইআপনি বা আমরা কেউই “Innocent Intention” এর দোহাই দিয়ে এই চাহিদাকে হালকা করতে পারবনা! একটি হারাম রিলেশন যেখানে আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, প্রশান্তির চেয়ে বেশী থাকে সন্দেহ, শরীরকেন্দ্রিক ভোগবাদী চিন্তা, মানসিক উত্তেজনা আর ধীরে ধীরে আত্মিক অবক্ষয়! আমরা আমাদের চারপাশে এগুলোই দেখে এসেছি, এখনো দেখছি আর ভবিষ্যতেও দেখব! আর তাই ইসলাম দুইজন নারী পুরুষকে বিয়ের পবিত্র বন্ধনে বেঁধে তাদের শারীরিক, আত্মিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে! একজন স্ত্রী, একজন স্বামী একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা, বিশ্বাসে যে সম্পর্ক তৈরি করে সেখানেই আছে যথার্থ Tranquility!! একজন গার্লফ্রেন্ড তার বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে যতটা অনিশ্চিয়তা নিয়ে ভাবে, “ও কি সত্যিই আমাকে ভালবাসে??” একজন স্ত্রী তার স্বামীর হাত ধরে ততটাই আস্থা আর বিশ্বাসের সাথে ভাবতে পারে, “He is Mine”!! একজন গার্লফ্রেন্ড যতটা অনিশ্চয়তা, ভয় আর আত্মসম্মানের হুমকি নিয়ে একজন বয়ফ্রেন্ডের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের দিকে যায়, একজন স্ত্রী ঠিক ততটাই আস্থা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভাবতে পারে তার স্বামী তার পবিত্রতার সঙ্গী, তার স্বামী তার অনাগত সন্তানের বাবা!!

ইসলাম এভাবেই সুন্দর! এভাবেই পবিত্র! এভাবেই শরীর মনের ক্ষতি রোধ করে! এভাবেই দুইজন নারী পুরুষকে একেবারে আপন করে দেয়! তার জন্য কোন হারাম সম্পর্ক দরকার পড়েনা! মিথ্যার মায়ায় সান্ত্বনা খোঁজার দরকার পড়েনা!!

বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসা কি ইসলামে যায়েজ?
বিয়ের আগে প্রেম ভালোবাসা কি ইসলামে যায়েজ? 
#আপনার এই প্রশ্নটা আমাদের সবার জন্যই লজ্জার! কিছু ইসলামের লেভেলধারী কুপ্রবৃত্তির পূজারির কার্যকলাপের কারণে প্রতিনিয়ত ইসলামকে অপমানিত হতে হয়! একটা কথা মনে রাখবেন, মানুষকে দিয়ে ইসলামকে বিচার করবেন না ইসলামকে দিয়ে মানুষকে বিচার করবেন! আমার এতক্ষণের আলোচনা থেকে নিশ্চয় আপনি এটা বুঝতে পেরেছেন যে আপনি যাদের দেখেছেন তারা নিষিদ্ধ কাজ করছেইসলাম নিয়ে জানার দরকার পড়েনা আমরা স্কুলে বিদায় হজ্জের ভাষণ পড়েছি! যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুরে পাক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনি বলে গিয়েছেন, “আমি তোমাদের কাছে দুইটা জিনিস রেখে যাচ্ছি, কুরান আর সুন্নাহ (নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুরে পাক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উনার হাদিস শরিফ)”! সুতরাং ইসলামে কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক আমরা তা জানতে হলে মুসলিম কে নয় বরং কোরআন শরিফ ও সুন্নাহ মোবারক থেকে শিখব, কোন মানুষকে দেখে নয় যতই তারা নিজেদের পরেহেজগার বলে জাহির করুক না কেনো আগে দেখবেন তারা কি পবিত্র কোরআন শরিফ এবং সুন্নাহ মোবারকের অনুসারে চলে কি না! আর এই ব্যপারে জানতে এই পোষ্ট খানা পড়তে পারেন। লিঙ্ক এখানে

#আপনাদের এই প্রশ্নটা খুবই Interesting! আমরা কি পছন্দের মানুষের জন্য দোয়া করতে পারবো?? অবশ্যই আপনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা উনার কাছে দোয়া করতে পারবেন যা আপনার জন্যে আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন ফিক্সড করে রেখেছেন সেই মানুষটার সাথে জেনো বিয়ের পবিত্রতায় আবদ্ধ হতে পারেন! আপনার জন্য নির্ধারিত মানুষটি যেন সৎ, তাকওয়াবান হয়! সে যেন আপনার হৃদয়ে প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসে! But it doesn’t mean that আপনি একটার পর একটা সম্পর্কে জড়াবেন আর প্রত্যেকজনকে আপনার জোড়া ভাববেন!! নিজের নফসকে সংযত করে , নিজের প্রতি, আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন উনার প্রতি সৎ থেকে আপনি অপেক্ষা করবেন! আপনি যদি নিজের সততা বজায় রাখতে পারেন তাহলে আশা করা যায় আপনার জোড়াও সংযম অবলম্বন করে আপনার অপেক্ষায় থাকবেআপনি সেই পুরুষটির জন্য সততার ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেন ইনশাআল্লাহ মানুষটিকে আল্লাহই আপনার কাছে পৌঁছে দেবেন! কারন আল্লাহ্‌ রাব্বুল ইজ্জৎ জাল্লে জালালুহু কালামুল্লাহ শরিফে বলেন দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যেসচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যেতাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীনতাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা (সূরা আন নিসা আয়াত শরিফ ২৬)

Allah has already written the name of your spouse for you. What you need to work on is your relationship with ALLAH (Subhanahu Wa Ta’la). He will send him to you when you are ready. It is only matter of time.

আর যদি চান আপনার মানুষটি সৎ আর ভাল হবে তাহলে আপনাকেও তা অর্জন করতে হবেকারন আল্লাহ স্পষ্ট করেই বলেছেন...

দুশ্চরিত্রা নারীকূল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যেসচ্চরিত্রা নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্যে এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্যেতাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীনতাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। (সূরা আন নিসা আয়াত শরিফ ২৬)


অনেক কথা বলে ফেলেছিঅনেক কথাই আপনি জানতে চাননি আমি নিজ থেকেই বলেছি একটা পরিপূর্ণ সমাধানমূলক উত্তর দেওয়ার জন্যহয়তো আপনি আমার সব কথা বুঝতে পেরেছেন, হয়তো বুঝতে পারেননি, হয়তো একদিন বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহআল্লাহ যেন আমাদেরকে ইসলামের সমাধান মেনে নেওয়ার আর এতে আস্থা রেখে হেফাজতে থাকার তৌফিক দিনআমরা যেন সাময়িক সুখ আর আবেগের কাছে এই দুনিয়া আর আখিরাতের যথার্থ প্রশান্তি নষ্ট না করি!

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: