8.10.2014

বদর যুদ্ধ: ইসলামের প্রথম সামরিক বিজয়।


মুসলমানদের গৌরবময় উজ্জ্বল ইতিহাসের স্বর্ণখচিত দিন ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ হিজরি ২য় সনের ১৭ রমজান ইসলাম ও মুসলমানের প্রথম এই যুদ্ধটি সংঘটিত হয় মহানবি হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সেনাপতিত্বে এমন এক সময় এ যুদ্ধটি সংঘটিত হয়, যখন মুসলমানের সংখ্যা ছিল একেবারেই নগণ্যরাসুলউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফেরদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর হুকুমে মদিনায় হিজরত এবং নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে সামনে অগ্রসর হচ্ছিলেন ঠিক তখনই সত্যের ধর্ম, শান্তির ধর্ম ইসলমাকে চিরতরে নিঃশেষ করে দিতে তত্পর হয়ে উঠল কাফের ও মুশরিকরা বদর ইসলাম ও মুসলমানের জয়ের ইতিহাসবদর হলো অধিক সংখ্যকের ওপর স্বল্পসংখ্যক মুমিনের সফলকাম হওয়ার ইতিহাসবদর হলো আত্মত্যাগের ইতিহাস বদর হলো শাহাদাতের সূচনার ইতিহাসবদর হলো ইসলাম ও রাসুলউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সবচেয়ে বড় শত্রু আবু জাহেলের করুণ মৃত্যুর লজ্জাকর ইতিহাসবদর হলো যুদ্ধের ময়দানে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের দিয়ে মুমিনদেরকে আল্লাহর সাহায্য করার ইতিহাস ৩১৩ জন সাহাবিকে নিয়ে রণক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েরাসুলউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলে প্রার্থনা করতে থাকেন হে প্রভু! আজ তুমি যদি মুসলমানদের এ ক্ষুদ্র দলটিকে সাহায্য না করো, তারা যদি নিশ্চিহ্নই হয়ে যায়, তাহলে তোমার মহিমান্বিত নামটি কে উচ্চারণ করবে? আর এ পৃথিবীর বুকে তোমার নাম উচ্চারণকারী কেউই তো থাকবে নাবদর একটি কূপের নামএই কূপের নিকটবর্তী স্থানকে বদর প্রান্তর বলা হয় পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন এরশাদ মোবারক করেন "নিশ্চয়ই পরস্পর সম্মুখীন বাহিনীদ্বয়ের মধ্যে তোমাদের জন্য সুন্দর দৃষ্টান্ত আছে একটি বাহিনী আল্লাহর পথে যুদ্ধ করেছিল, অপর বাহিনীটি ছিল খোদাদ্রোহী’ (আল কোরআন)

বদর যুদ্ধ: ইসলামের প্রথম সামরিক বিজয়।
বদর যুদ্ধ: ইসলামের প্রথম সামরিক বিজয়।
এটি মদিনা থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিতএ প্রান্তরেই ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মুসলমান ও কাফেরদের মধ্যে হক ও বাতিলের যুদ্ধ সংঘটিত হয়মক্কাতে এই বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য কাফেলা মদিনার মুসলমানদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়েছেআর সেজন্যই আক্রমণাত্মক নীতি অনুসরণ করে ইসলাম ও মুসলমানের চিরশত্রু আবু জাহেল ১০০০ সৈন্যসহ আবু সুফিয়ানের সাহায্যে মদিনার পথে রওনা হয় রাসুলউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত হয়ে সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ ১৬ রমজান ৩১৩ জনের একটি মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে কুরাইশদের মোকাবিলা করার জন্য আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে বদর প্রান্তের উদ্দেশে রওনা হন এরপর রাসুলউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩১৩ জন মুজাহিদের একটি বাহিনী নিয়ে মদিনার ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বদর নামক উপত্যকায় মুসলিম মুজাহিদদের শিবির স্থাপন করেনআরবদের প্রাচীন নিয়মানুযায়ী প্রথমে মল্লযুদ্ধ দ্বারাই যুদ্ধের সূচনা করা হয় আর প্রথমত মল্লযুদ্ধের মাধ্যমেই কাফেরদের ৩ নেতা উতবা, শায়বা ও ওয়ালিদ ইবনে উতবা শোচনীয়ভাবে পরাজয়বরণ করে নিহত হয় যুদ্ধের ভয়াবহ অবস্থা দেখে আবু জাহেল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তার দলবলসহ মুসলিম মুজাহিদদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েঅপ্রস্তুত অবস্থায় মুসলিম বাহিনীর রণকৌশল আর যুদ্ধের ভয়াবহ অবস্থায় কাফেরদের ময়দানে টিকে থাকা সম্ভব হলো নামুসলিম সেনাবাহিনীর যুদ্ধের নিয়মানুবর্তিতা কুরাইশদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হয়আর বিশেষ করে বদর যুদ্ধে মুসলমানের সফলতার আসল কারণ হলো আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সরাসরি ৩ থেকে ৫ হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য দান করাএ যুদ্ধে স্বয়ং জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তিনি অংশগ্রহণ করেন

বদর যুদ্ধে আবু জাহেল, উতবা, শায়বাসহ মোট ৭০ জন কাফের নিহত হয়আর ৭০ জন কাফের মুসলিম মুজাহিদদের হাতে বন্দি হয় অন্যদিকে ১৪ জন মুসলিম মুজাহিদ বীরবিক্রমে লড়াই করে ইসলামের জন্য প্রাণ উত্সর্গ করে শাহাদত লাভ করেনরাসুলউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে যে আদর্শ নীতি দেখিয়েছেন, বিশ্ব ইতিহাসে তার নজির মেলে নাতাঁর আদেশে আনসার ও মুহাজিররা বন্দিদের ভাগ করে আপন গৃহে নিয়ে যান মুসলমানদের মেহমানদারি আর সুন্দর আচরণে বিমুগ্ধ হয়ে অনেকেই পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। রাসুলউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পূর্ব অপরাধের জন্য প্রতিশোধ গ্রহণ না করেমদিনার শিশুদের শিক্ষাদান ও মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের মুক্তিদান করেন বদর যুদ্ধ ইসলাম ও মুসলমানের প্রথম সামরিক বিজয় নিঃসন্দেহে এটি ইসলামের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাএ বিজয় মুসলমানদের মনে অধিক সাহস, উত্সাহ, উদ্দীপনা ও আত্মপ্রত্যয়ের সূচনা করেবদর বিজয়ের পর মদিনাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন দলে দলে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করতে থাকেবদরের যুদ্ধে ইসলামের চূড়ান্ত সামরিক বিজয়ের পথ নির্মিত হয়

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: