8.04.2014

কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে যৌনকর্ম এবং লজ্জাস্থানের হেফাযত করা।

কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে যৌনকর্ম এবং লজ্জাস্থানের হেফাযত করা। নিছে বিস্তারিত দেওয়া হলো আশা করি খুব মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ
নিশ্চয় মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে; যারা নিজেদের সালাতে বিনয়াবনত; আর যারা অনর্থক কথা-বার্তা থেকে বিরত থাকে; আর যারা তাদের যাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়; এবং যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাযত রাখে; তবে তাদের স্ত্রীদের ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না; অতঃপর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালংঘনকারী হবে। আল-মু‘মিনুন, ২৩/১-৭

وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ إِلا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ
আর যারা তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত রাখে তবে তাদের স্ত্রীদের ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না; অতঃপর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালংঘনকারী হবে। আল-মা‘আরিজ, ৭০/২৯-৩১

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
আপনি মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্রতা; নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। আন-নুর, ২৪/৩০

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ
আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; আর যাহা সাধারণভাবে প্রকাশ পায় তাছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না দিয়ে বক্ষদেশেকে আবৃত করে রাখে। আন-নুর, ২৪/৩১

فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ
নেকস্ত্রীরা হয় অনুগতা আর আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আন-নিসা, ৪/৩৪

পোশাকের বিধান
يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ
হে আদমের সন্তান, আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করবে আর যা সৌন্দর্য্স্বরূপ এবং তাকওয়ার পোশাক (মানে আল্লাহকে ভয় করা), এটি সর্বোত্তম; এটি আল্লাহর নিদর্শনবলীর অন্যতম, হয়ত তারা চিন্তা-ভাবনা করবে। আল-আ’রাফ, ৭/২৬

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়, এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না; আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আহযাব, ৩৩/৫৯

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الأولَى
আর তোমরা নিজ গৃহের মধ্যে অবস্থান কর, প্রাচীন অজ্ঞ্যুগের ন্যায় নিজেদেরকে প্রদর্শন কর না। আহযাব, ৩৩/৩৩

অবৈধ যৌনকর্ম থেকে বিরত থাকা
وَلا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلا
আর তোমরা যিনার (অবৈধ যৌনকর্মের) কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। আল-ইসরা, ১৭/৩২

وَلا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا
আর যারা ব্যভিচার (অবৈধ যৌনকর্ম) করে না, আর যে এ কাজ করবে সে শাস্তি ভোগ করবে। আল-ফুরকান, ২৫/৬৮

অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা
قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ
আপনি বলে দিনঃ অবশ্যই আমার রব হারাম করেছেন অশ্লীল কাজসমূহকে যা প্রকাশ পায় আর যা গোপন থাকে, এবং হারাম করেছেন পাপ, অসংগত ভাবে সীমালঙ্ঘন করা; এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছু অংশীদার করা, যার সর্ম্পকে কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেন নাই এবং আল্লাহর প্রতি এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না। আল-আ‘রাফ, ৭/৩৩

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَاحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ
যারা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি; আর আল্লাহ জানেন তোমরা জান না। আন-নুর, ২৪/১৯

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ وَمَنْ يَتَّبِعْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ
হে মুমিনগণ, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না আর যে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন সে (শয়তান) নির্লজ্জতার ও মন্দ কাজের আদেশ করবে। আন-নুর, ২৪/২১

ফেসবুক, you tube ইত্যাদি দ্বারা পাপ কাজ না করা
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولا
নিশ্চয়ই কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটি সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল-ইসরা, ১৭/৩৬

يَعْلَمُ خَائِنَةَ الأعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
চোক্ষুসমূহের খেয়ানত করা আর অন্তরসমূহে যাহা গোপন রাখে তিনি (আল্লাহ) তা জানেন। আল-মু’মিন, ৪০/১৯

الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
আজ (বিচারের দিনে) আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। ইয়াসীন, ৩৬/৬৫

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الإنْسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার অন্তর তাকে যে কুমন্ত্রণা দেয় সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি আর আমি তার ঘাড়ের শিরার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী (জ্ঞানের দিক থেকে)। যখন দুইজন গ্রহনকারী (ফেরেশতা) ডানে ও বামে বসে তাদের কর্ম্ লিপিবদ্ধ্ করছে। যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত সংরক্ষণকারী রয়েছে। ক্বাফ, ৫০/১৬-১৮

সমকামীতা থেকে বিরত থাকা
إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِنْ دُونِ النِّسَاءِ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ
অবশ্যই তোমরা (পুরুষেরা) পুরুষদের কাছে যৌন ইচ্ছা পূর্ণ্ করছ নারীদেরকে বাদ দিয়ে বরং তোমরা সীমালংনকারী সম্প্রদায়। আল-আ’রাফ, ৭/৮১

أَتَأْتُونَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعَالَمِينَ وَتَذَرُونَ مَا خَلَقَ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ عَادُونَ
দুনিয়ার সৃষ্টির মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের কাছে যৌন ইচ্ছা পূর্ণ্ করছ? আর তোমাদের রব তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করেছেন তোমরা তা বর্জন করছ বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। আশ-শু‘আরা, ২৬/১৬৫-১৬৬

বিবাহ করা
وَأَنْكِحُوا الأيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের তোমরা বিবাহ দাও আর তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল তাদেরকেও; যদি তারা অভাবগ্রস্ত হয় তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন; এবং আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। আন-নুর, ২৪/৩২

فَانْكِحُوهُنَّ بِإِذْنِ أَهْلِهِنَّ وَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ مُحْصَنَاتٍ غَيْرَ مُسَافِحَاتٍ وَلا مُتَّخِذَاتِ أَخْدَانٍ
অতএব, তাদেরকে তাদের অভিভাবকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর আর নিয়ম অনুযায়ী মোহরানা দাও, যারা হবে সতী-সাধ্বী তবে অবৈধ যৌনকর্মকারী ও গুপ্ত প্রেমিকা গ্রহনকারী ব্যতীত। আন-নিসা, ৪/২৫

বিবাহ নবীগণের সুন্নাত
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً
অবশ্যই আমি আপনার পূর্বেও অনেক রসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাঁদেরকে অনেক স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম। আর-রাদ, ১৩/৩৮

বৈধ যৌনকর্ম্ করা
فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ
অতএব তোমরা তাদের (তোমাদের স্ত্রীদের) সাথে সহবাস কর (যৌনকর্ম্ কর) আর যা কিছু আল্লাহ লিখে দিয়েছেন তোমাদের জন্য তা (সন্তান) সন্ধান কর। আল-বাকারা, ২/১৮৭

فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট গমন কর (যৌনকর্ম্ কর) যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কারীদেরকে আর পবিত্রতা অবলম্বন কারীদেরকে ভালবাসেন। আল-বাকারা, ২/২২২

نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র তাই তোমরা শস্যক্ষেত্রে গমন কর যেভাবে ইচ্ছা চাও। আল-বাকারা, ২/২২৩

هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ
তারা (তোমাদের স্ত্রীরা) তোমাদের জন্যে পোশাক আর তোমরা তাদের জন্যে পোশাক। আল-বাকারা, ২/১৮৭

বিবাহে শান্তি ও কল্যান আনে
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
আর তার নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে সঙ্গিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাদের থেকে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মাঝে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন, নিশ্চয়ই এর নিদর্শনাবলী সেসব লোকদের জন্য যারা চিন্তা ভাবনা করে। আর-রূম, ৩০/২১

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا
আর তাদের (নারীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন কর; অতঃপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন। আন-নিসা, ৪/১৯

একাধিক বিবাহ করা

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ذَلِكَ أَدْنَى أَلا تَعُولُوا
আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, এতীমদের প্রতি তোমরা সুবিচার করতে পারবে না, তবে তাদের বিয়ে কর, নারীদের মধ্যে হতে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দুই, বা তিন, কিংবা চারটি; আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে সমান আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে একটি; অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে, এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা। আন-নিসা, ৪/৩

পরিবারের দায়িত্ব পালন করা
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর। আত-তাহরীম, ৬৬/৬

قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلا ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ
আপনি বলুন, নিশ্চয় তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত, যারা কেয়ামতের দিন নিজেদেরকে ও তাদের পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; জেনে রাখ এটা হল সুস্পষ্ট ক্ষতি। আয-যুমার, ৩৯/১৫

সন্তান হত্যা মহাপাপ
وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا
তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না দারিদ্রের ভয়ে, আমিই তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আহার দিয়ে থাকি, নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ। আল-ইসরা, ১৭/৩১

وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ
আর যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কি অপরাধে তাকে হত্য করা হয়েছে? আত-তাবীর, ৮১/৮-৯

নেককার সঙ্গী ও সন্তানের জন্যে দো‘আ
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
রাব্বানা- হাব্লানা- মিন্ আয্ওয়া-যিনা- ওয়া যুর্রিইয়া-তিনা- ক্বুর্রাতা আ‘ইউনিও ওয়াজ্'আল্না- লিল্মুত্তাক্বি-না ইমা-মা-
হে আমাদের রব! আমাদের জন্যে আমাদের সঙ্গীদেরকে ও আমাদের বংশধরদেরকে চক্ষুসমূহের শীতলতা দান করুন, এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে নেতা বানিয়ে দিন। আল-ফুরকান, ২৫/৭৪
কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে যৌনকর্ম এবং লজ্জাস্থানের হেফাযত করা।
কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে যৌনকর্ম এবং লজ্জাস্থানের হেফাযত করা।
রাসূল সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
  • ১। কিয়ামতের আগে আগে অবৈধ যৌনকর্ম্ ব্যাপকতা লাভ করবে। বোখারী।
  • ২। কেউ যখন অবৈধ যৌনকর্ম করে তখন তার ঈমান চলে যায়। আবু দাউদ।
  • ৩। আমার উম্মতের কিছু লোক অবৈধ যৌনচার, রেশম, মদ এবং গান-বাজনাকে হালাল মনে করবে। বোখারী।
  • ৪। কিয়ামতের আলামত সমূহের মধ্যে কিছু আলামত হলঃ অজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে, ওহীর জ্ঞান লোপ পাবে, অবৈধ যৌনকর্ম্ ব্যাপকতা লাভ করবে, যত্রতত্র মদপান করা হবে। বোখারী।
  • ৫। আদম সন্তানের জন্য তার প্রত্যেক অঙ্গের যেনা নির্দিষ্ট আছে, যা সে অবশ্যই পাবে। কামভাবে দেখা বা কুদৃষ্টিতে দেখা চোখের যেনা। কামসুচক কথাবার্তা শোনা কানের যেনা। কামসুচক কথাবার্তা বলা জিহবার যেনা। হাত দিয়ে ধরা হাতের যেনা। এ জন্য হেঁটে যাওয়া পায়ের যেনা। এ সম্পর্কে কামনা বাসনা পোষন করা অন্তরের যেনা। এরপর লজ্জাস্থান হয় ব্যভিচার কাজটা সম্পন্ন করে অথবা বিরত থাকে। বুখারী, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসাঈ।
  • ৬। রাসূল সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি স্বপনে একটি চুলা দেখতে পেলাম যা উপরের অংশ ছিল চাপা, আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত, আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল, আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্ব্দা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী পুরুষ। বোখারী।
  • ৭। হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা রাখে, তাদের উচিত বিবাহ করা। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাযত রাখে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালন করার যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত সিয়াম পালন করা। বুখারী ও মুসলিম।
  • ৮। চারটি জিনিসের ভিক্তিতে মেয়েদের বিয়ে হয়ে থাকে। তার সম্পদের জন্যে, বংশ মর্যাদার জন্যে, রূপের জন্যে ও দ্বীনদারীর জন্যে। তাই তোমরা দ্বীনদার নারী বিয়ে করো তাহলে তোমাদের কল্যাণ হবে। বুখারী ও মুসলিম।
  • ৯। যে ব্যক্তি স্বীয় জিহবা এবং লজ্জাস্থানের জামিন হবে আমি তার জান্নাতের জন্যে জামিন হবো। বুখারী ৬৪৭৪।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: