8.19.2014

পবিত্র দিন ইসলামে বিয়ের রুকন ও শর্ত কি কি?

বিয়ে হচ্ছে এমন একটি বিষয় যার মাদ্ধমে নারি এবং পুরুষের একসাথে সামাজিক এবং হালাল ভাবে যৌন জীবন জাপনের বিশুদ্ব পথ। যা ব্যতিত সমাজে নারি এবং পুরুষ একত্রে বসবাস করতে পারেনা যদিও করে তাহলে ইসলামি শরিয়তে তা হবে সম্পূর্ণ হারাম এবং তাদের দুনজনকে জেনা কারির কাতারে দাড়াতে হবে। তাই বিয়ের ব্যপারে ইসলাম কি বলে বিয়ের জন্যে কতটুকু সামর্থ্যবান হতে হবে নিম্নে তার সামান্য আলোচনা করা হলো।

প্রশ্ন: বিয়ের রুকন ও শর্ত কি কি?

উত্তর: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, ইসলামে বিয়ের রুকন বা খুঁটি তিনটি:

এক: বিয়ে সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে সমূহ প্রতিবন্ধকতা হতে বর-কনে উভয়ে মুক্ত হওয়া: যেমন- বর-কনে পরস্পর মোহরেম হওয়া; ঔরশগত কারণে হোক অথবা দুগ্ধপানের কারণে হোকবর কাফের কিন্তু কনে মুসলিম হওয়া, ইত্যাদি

দুই: ইজাব বা প্রস্তাবনা: এটি মেয়ের অভিভাবক বা তার প্রতিনিধির পক্ষ থেকে পেশকৃত প্রস্তাবনামূলক বাক্যযেমন- বরকে লক্ষ্য করে বলা যেতে পারে আমি অমুককে তোমার কাছে বিয়ে দিলামঅথবা এ ধরনের অন্য কোন কথা

তিন: কবুল বা গ্রহণ: এটি বর বা বরের প্রতিনিধির পক্ষ থেকে সম্মতিসূচক বাক্যযেমন- বর বলতে পারেন আমি গ্রহণ করলামঅথবা এ ধরনের অন্য কোন কথা

বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার শর্তগুলো নিম্নরূপ:

(১) ইশারা করে দেখিয়ে দেয়া কিংবা নামোল্লেখ করে সনাক্ত করা অথবা গুণাবলী উল্লেখ অথবা অন্য কোন মাধ্যমে বর-কনে উভয়কে সুনির্দিষ্ট করে নেয়া

(২) বর-কনে প্রত্যেকে একে অপরের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া। এর দলীল হচ্ছে-নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উনার বাণী স্বামীহারা নারী (বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্তা) কে তার সিদ্ধান্ত জানা ছাড়া (অর্থাৎ সিদ্ধান্ত তার কাছ থেকে চাওয়া হবে এবং তাকে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে) বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া (কথার মাধ্যমে অথবা চুপ থাকার মাধ্যমে) বিয়ে দেয়া যাবে নালোকেরা জিজ্ঞেস করল,ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! কেমন করে তার সম্মতি জানব (যেহেতু সে লজ্জা করবে)তিনি বললেন,চুপ করে থাকাটাই তার সম্মতি”[সহীহ বুখারী, (৪৭৪১)]

(৩) বিয়ের আকদ (চুক্তি) করানোর দায়িত্ব মেয়ের অভিভাবককে পালন করতে হবে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বিয়ে দেয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশনা জারী করেছেনআল্লাহ তাআলা বলেন: আর তোমরা তোমাদের মধ্যে অবিবাহিত নারী-পুরুষদের বিবাহ দাও”[সূরা নুর, ২৪:৩২]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করবে তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল”[হাদিসটি তিরমিযি (১০২১) ও অন্যান্য গ্রন্থকার কর্তৃক সংকলিত এবং হাদিসটি সহীহ]

(৪) বিয়ের আকদের সময় সাক্ষী রাখতে হবেদলীল হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ছাড়া কোন বিবাহ নেই” [তাবারানী কর্তৃক সংকলিত, সহীহ জামে (৭৫৫৮)

বিয়ের প্রচারণা নিশ্চিত করতে হবেদলীল হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- তোমরা বিয়ের বিষয়টি ঘোষণা কর”[মুসনাদে আহমাদ এবং সহীহ জামে গ্রন্থে হাদিসটিকে হাসানবলা হয়েছে (১০৭২)।

বিয়ের অভিভাবক হওয়ার জন্য শর্তঃ

১. সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হওয়া

২. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া

৩. দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্ত হওয়া

৪. অভিভাবককে কনের ধর্মের অনুসারী হওয়াসুতরাং কোন অমুসলিম ব্যক্তি মুসলিম নর-নারীর অভিভাবক হতে পারবে নাঅনুরূপভাবে কোন মুসলিম ব্যক্তি অমুসলিম নর-নারীর অভিভাবক হতে পারবে নাতবে অমুসলিম ব্যক্তি অমুসলিম নারীর অভিভাবক হতে পারবে, যদিও তাদের উভয়ের ধর্ম ভিন্ন হোক না কেনকিন্তু মুরতাদ ব্যক্তি কারো অভিভাবক হতে পারবে না

৫. আদেল বা ন্যায়বান হওয়াঅর্থাৎ ফাসেক না হওয়াকিছু কিছু আলেম এ শর্তটি আরোপ করেছেনঅন্যেরা বাহ্যিক আদালতকে (দ্বীনদারিকে) যথেষ্ট ধরেছেনআবার কারো কারো মতে, যাকে তিনি বিয়ে দিচ্ছেন তার কল্যাণ বিবেচনা করার মত যোগ্যতা থাকলে চলবে

৬. পুরুষ হওয়াদলীল হচ্ছে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনার বাণী-এক মহিলা আরেক মহিলাকে বিয়ে দিতে পারবে নাঅথবা মহিলা নিজে নিজেকে বিয়ে দিতে পারবে নাব্যভিচারিনী নিজে নিজেকে বিয়ে দেয়”[ইবনে মাজাহ (১৭৮২) ও সহীহ জামে (৭২৯৮)

পবিত্র দিন ইসলামে বিয়ের রুকন ও শর্ত কি কি?
পবিত্র দিন ইসলামে বিয়ের রুকন ও শর্ত কি কি?
৭. বুদ্ধিমত্তার পরিপক্কতা থাকাএটি হচ্ছে বিয়ের ক্ষেত্রে সমতা (কুফু) ও অন্যান্য কল্যাণের দিক বিবেচনা করতে পারার যোগ্যতা ইসলামী আইনবিদগণ অভিভাবকদের একটি ক্রমধারা নির্ধারণ করেছেনসুতরাং নিকটবর্তী অভিভাবক থাকতে দূরবর্তী অভিভাবকের অভিভাবকত্ব গ্রহণযোগ্য নয়নিকটবর্তী অভিভাবক না থাকলে অথবা তার মধ্যে শর্তের ঘাটতি থাকলে দূরবর্তী অভিভাবক গ্রহণযোগ্য হবেনারীর অভিভাবক হচ্ছে- তাঁর পিতাএরপর পিতা যাকে দায়িত্ব দিয়ে যান সে ব্যক্তিএরপর পিতামহ, যতই উর্দ্ধগামী হোকএরপর তাঁর সন্তানএরপর তাঁর সন্তানের সন্তানেরা, যতই অধস্তন হোকএরপর তাঁর সহোদর ভাইএরপর তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইএরপর এ দুইশ্রেণীর ভাইয়ের সন্তানেরাএরপর তাঁর সহোদর শ্রেণীর চাচাএরপর বৈমাত্রেয় শ্রেণীর চাচাএরপর এ দুইশ্রেণীর চাচার সন্তানেরাএরপর মীরাছের ক্ষেত্রে যারা আসাবাহয় সে শ্রেণীর আত্মীয়গণএরপর নিকটাত্মীয় থেকে ক্রমান্বয়ে দূরের আত্মীয়যার কোন অভিভাবক নেই মুসলিম শাসক অথবা শাসকের প্রতিনিধি (যেমন বিচারক) তার অভিভাবক

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: