8.24.2014

বনি ইসরায়েলের বারসিসা ও নারী ফিতনা, যা আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।

বারসিসার এই কাহিনী হয়ত অনেকেই শুনেছেন বারসিসা ছিল বনী ঈসরাইলের একজন সুখ্যাত উপাসক, ধর্মযাজক,‘আবিদতার নিজের মন্দির ছিল আর সেখানে সে একাগ্রভাবে নিজেকে উপাসনায় নিয়োগ করতবনী ঈসরাইলের তিন জন পুরুষ জিহাদে যেতে চাচ্ছিল, তাদের একমাত্র বোনকে কোথায় রেখে যাবে বুঝতে পারছিল নাতারা সবাইকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, ‘কোথায় আমরা আমাদের বোনকে রেখে যেতে পারি? তাকে তো আমরা একা ফেলে যেতে পারিনাকোথায় তাকে রেখে যাওয়া যায়?’ তখন তারা তাদেরকে বলল, ‘তাকে রেখে যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান হবে তাকে ঐ উপাসকের কাছে রেখে যাওয়া, সেই-ই সবচেয়ে ধার্মিক ব্যক্তি, আর সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্যতোমাদের বোনকে তার কাছে রেখে যাও, সে তার খেয়াল রাখবেতারা আবিদের নিকট গেলতাকে সব বর্ণনা করে বলল, ‘এই হল অবস্থা - আমরা জিহাদে যেতে চাইআপনি কি কষ্ট করে আমাদের বোনকে দেখে রাখতে পারবেন?’ সে বলল, ‘আমি তোমাদের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইআমার কাছ থেকে চলে যাওতখন শয়তান তাকে প্রলুব্ধ করল, ‘তুমি তাকে কার কাছে রেখে আসবে? তুমি যদি তার খেয়াল না রাখো তাহলে হয়ত কোন দুষ্ট লোক তার খেয়াল রাখবে, আর তারপর তো তুমি জানোই কী ঘটবে! তুমি কি করে এই ভাল কাজটা তোমার হাতছাড়া করে দিতে পার?’

দেখুন ! শয়তান তাকে ভাল কাজে উৎসাহিত করছে! তো সে তাদেরকে আবার ডেকে এনে বলল, ‘ঠিক আছে, আমি তার খেয়াল রাখব, কিন্তু সে আমার সাথে আমার মন্দিরে থাকতে পারবে না, আমার আরেকটা বাড়ি আছে সে সেই ঘরে থাকবেসে মেয়েটিকে বলল, ‘তুমি ওখানে থাক, আমি আমার মন্দিরে থাকবতো মেয়েটা সেই বাড়িতে একটা ঘরে থাকত, আর সেই ধর্মযাজক তার জন্য প্রতিদিন খাবার নিয়ে এসে তার নিজের দরজার বাইরে রেখে দিতসে মেয়েটির বাড়িতে পর্যন্ত যেত না, নিজের দরজার বাইরেই খাবার রেখে দিত আর মেয়েটিকে ঘর থেকে বের হয়ে এসে খাবার নিয়ে যেতে হত; সে মেয়েটির দিতে তাকিয়ে দেখতে পর্যন্ত ও চাইত নাতখন শয়তান আবার তার কাছে এসে বলল, ‘তুমি করছটা কি? তুমি কি জানো না মেয়েটা যখন তার ঘর থেকে বের হবে আর তোমার মন্দির পর্যন্ত আসবে লোকে তাকে দেখতেপাবে? তোমার উচিত তার দরজায় যেয়ে খাবারটা রেখে আসাসে বলল,‘হ্যাঁ, আসলেই

শয়তান কিন্তু তার সাথে সামনা-সামনি কথা বলছেনা,তাকে ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা দিচ্ছেধর্মযাজক আবিদ তাই এবার খাবার নিয়ে মেয়েটির দরজা পর্যন্ত রেখে আসতে শুরু করলএভাবে কিছুদিন চলল, এরপর শয়তান তাকে বলল, ‘মেয়েটা এখনও তার দরজা খুলছে আর বাইরে বের হয়ে আসছে প্লেট নেয়ার জন্য, কেউ তাকে দেখে ফেলতেপারে, তোমার উচিত প্লেটটা তার ঘরে গিয়ে দিয়ে আসাশয়তান কিনাতাকে বলছে আরো ভাল কাজ করতে! তাই সে খাবারের প্লেটটা ঘরে রাখা আরম্ভ করল, সেখানে রেখেই সে সঙ্গে সঙ্গে চলে আসতএভাবে আরো কিছুদিন পার হলোআর ওদিকে জিহাদ চলতে থাকায় ভাইদেরফিরে আসতে বিলম্ব হচ্ছিলশয়তান আবারো তার কাছে আসল, বলল, ‘আচ্ছা, তুমি তাকে এভাবে একা ছেড়ে দিবে, কেউ তো নেই যে তার দিকে একটু খেয়াল রাখবে, একটু কথা বলবেসে যেন জেলখানায় আবদ্ধ হয়ে আছে, কথা বলার কেউ নেইতুমি কেন ওর দায়িত্ব নিচ্ছ না? ওর সাথে একটু সামাজিকতা বজায় রেখে তো চলতে পার, যেয়ে একটু কথা বলো যাতে করে তুমি তার খোঁজখবর রাখতে পারোতা না হলে দেখা যাবে সে বাইরে যেয়ে কোন পরপুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বেতাই সে মেয়েটির সাথে ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলতে শুরু করল, মেয়েটা ঘরের মধ্য থেকেই কথা বলত; দুজনকেপ্রায় চিৎকার করে কথা বলতে হতো যেন তারা একজন অন্য জনকে শুনতে পায়

শয়তান এবার তাকে বলল, ‘তুমি এরকম দূর থেকে একজন আরেকজনের উপর চিৎকার না করে কেন ব্যাপারটাকে নিজের জন্য আরেকটু সুবিধাজনক করে নিচ্ছনা? কেন তার সাথে একই ঘরে বসে কথা বলছ না?’ তো এবার সে মেয়েটার সাথে একই ঘরে বসে কিছুসময় ব্যয় করতে শুরু করলতারপর ধীরে ধীরে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একসাথে কাটাতে লাগল,আর আস্তে আস্তে তারা পরস্পরের আরো কাছাকাছি আসতে লাগলএক সময় এমন হল যখন সেই আবিদ,ধর্মযাজক,উপাসক সেই মেয়ের সাথে যিনায় (ব্যাভিচার) লিপ্ত হলফলে মেয়েটা অন্তসত্ত্বাহয়ে পড়ল

কাহিনী এখানেই শেষ নয়মেয়েটি একটি সন্তানের জন্ম দিলশয়তান ধর্মযাজকের কাছে এসে বলল, ‘একি করেছ তুমি! তুমি কি জানো যখন ওর ভাইরা ফিরে আসবে তখন কি হবে? তারা তোমাকে মেরে ফেলবে, এমনকি তুমি যদি এটাও বলো যে – “এটাআমার বাচ্চা না”,তারা তোমাকে বলবে যে তোমার বাচ্চা না হলেও তুমি তার দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলে, তাই এটা এখন তোমারই দায়ভারবাচ্চার বাবা কে আমরা তার পরোয়া করি না, তুমিই এর জন্য দায়ীসুতরাং এখনএকটাই উপায়, তুমি বাচ্চাটাকে মেরে তাকে পুঁতে ফেলবারসিসাবলল, ‘এটা কি গোপন থাকবে আমি তার ছেলেকে মেরে ফেলার পরে?’ শয়তান বলল, ‘তোমার কি মনেহয় ও এটাকে গোপনে রাখবে? তুমি যদি এরকম ভাব, তাহলে তুমি মস্ত বড় বোকাসে জিজ্ঞেসকরল, ‘তাহলে আমি কি করব?’শয়তান জবাব দিল, ‘তোমার ঐ মেয়েটাকেও মেরে ফেলা উচিততাই সে মেয়েটা কে আর বাচ্চাকে মেরে ফেলল, এরপর দুজনকে একই ঘরের নিচে কবর দিয়ে দিল

ভাইয়েরা একসময় ফিরে আসল, তারপর জানতে চাইল,‘আমাদের বোন কোথায়?’, সে উত্তরে বলল, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, সেঅসুস্থ হয়ে পড়ে এরপর মারা যায়, তাকে ওখানে কবর দেয়া হয়েছেএই বলে সেমনগড়া একটা কবর দেখিয়ে দিল তাদেরকেতারা বলে উঠল, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহিরাজিউন’, তারা বোনের জন্য দুআ করল, আর নিজেদের বাসায় ফিরে গেল

বনি ইসরায়েলের বারসিসা ও নারী ফিতনা, যা আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।
বনি ইসরায়েলের বারসিসা ও নারী ফিতনা, যা আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।
রাতের বেলা, তিনজনের মাঝে এক ভাই একটা স্বপ্নদেখল, কে তার সেই স্বপ্নে এসেছিল? শয়তান, সে তাকে বলল, ‘তুমি বারসিসা কে বিশ্বাস করো? তুমি কি তাকে বিশ্বাস করো? সে মিথ্যা বলেছেসে তোমার বোনের সাথে ব্যাভিচার করেছে,তারপর তাকে আর তার ছেলেকে মেরে ফেলেছেআর এই কথার প্রমাণ হল সে তোমাদেরকে যেখানে সে কবর দেখিয়েছে তোমাদের বোন সেখানে নেই, আছে তার ঘরের পাথরের নিচেতার ঘুম ভেঙ্গে গেল আর সে তার বাকি ভাইদেরকে স্বপ্নের কথা জানালতারা বলল, ‘আমরাও তো একই স্বপ্নই দেখেছি, তাহলে এটা নিশ্চয়ই সত্যিপরদিন তারা সেই মিথ্যা কবরটা খুড়ল কিন্তুকিছুই পেল না, এরপর তারা তাদের বোনের ঘরে যেয়ে মাটি সরাল তখন দেখতে পেল তার বোনের মৃতদেহসাথে একটা শিশুতারা যেয়ে বারসিসাকে ধরল, ‘মিথ্যুক! এইসব করেছ তুমি?’ তারা তাকে ধরে টেনে হিঁচড়ে রাজার কাছে নিয়ে গেলএমন সময় শয়তান আসল বারসিসার কাছে, এবারে কিন্তু সে মনের ওয়াসওয়াসা হিসেবে আসেনি, সে আসল মানুষের রূপ ধরেতাকে বলল, ‘বারসিসা, তুমি কি জানো আমি কে? আমি শয়তান, আমিই সে, যে তোমাকে এতো ঝামেলার মধ্যে ফেলেছিআর আমিই সেএকজন, যে তোমাকে এখন এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবআমিই এসব ঘটনা ঘটিয়েছি আর আমারকাছেই আছে এসবের সমাধানএখন তোমার উপর নির্ভর করে, তুমি যদি মরতে চাও তো ঠিক আছেতুমি যদি চাও আমি তোমাকে রক্ষা করি, তাহলে আমি করতে পারিবারসিসাবলল, ‘দয়া করে আমাকে বাঁচাওশয়তান বলল, “আমাকে সিজদাহ করোবারসিসা শয়তানের প্রতি সিজদাহ করলকিন্তু শয়তান কি বলল? সে বলল, ‘তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, তোমার সাথে দেখা হয়ে ভাল লাগলএরপর সে তাকে আর কোনদিন দেখতে পেল নাবারসিসা শয়তানের উদ্দেশ্যে সিজদাহ করল, আর এটাই ছিল তার জীবনে করা শেষ কাজ, কারণ এর কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়সুতরাং তার জীবনের শেষ কাজটা তাহলে ছিল- শয়তানকে সিজদাহ করা, সে ছিল সেই উপাসক যে কিনা ছিল সরল পথের উপর, কিন্তু যেহেতু সে সেপথ থেকে বাঁক নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যদিওখুব খুব ছোট্ট একটা বাঁক, প্রথমদিকে যেটাকে একেবারেই তুচ্ছ মনে হচ্ছিল, একটু সুবিধারনামে, দ্বীনের মাসলাহার নামেই সে এগুলো করেছিলসরলপথ থেকে তার বিচ্যুতির পরিমাপটা ছিল একদমই নগণ্য কিন্তু দেখুন তার শেষ পরিণতি! নিজের ইচ্ছাকে অনুসরণ করার বিপত্তিটা এখানেই; আমরা আমাদের জ্ঞান, কুরআনের যতখানি জানি, আমাদের ইবাদত ইত্যাদি নিয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাইসুবহান আল্লাহ! আমাদের তো সব সময় উচিত নিজেদের নিয়ে শঙ্কায় থাকা, আমরা কখনই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হব না বরং আমাদের সব সময় উদ্বিগ্ন থাকতে হবে, আর এটাই হল আল্লাহ-ভীতি,এটাই সত্যিকার অর্থে জ্ঞানআল্লাহ বলেন,

আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে” (ফাতির ৩৫:২৮)

আসুন এবার আমরা দেখি বারসিসার এই কাহিনী থেকে আমাদের জন্য কি কি রয়েছে

ইমাম আওলাকি (রহঃ) তার Hereafter সিরিজে মৃত্যু ফিতনারকথা বলতে গিয়ে এই কাহিনী বর্ণনা করেনখেয়াল করে দেখুন শয়তান বারসিসার সাথে কোন নীতিগ্রহণ করেছিল? যদি শয়তান বারসিসার কাছে এসে সরাসরি বলত, ‘আমাকে সিজদাহ করোবারসিসা কি কখনো তা করত? না, করত নাশয়তান Step By Step ‘ধাপে ধাপেমানুষকে দীনথেকে বিমুখ করার নীতি গ্রহণ করেছিলশয়তানের কাজই হল এটা যে সে সারাজীবন আপনার আমার পেছনে লেগে থাকবে এবং তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ঈমান থেকে বিচ্যুত করে মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুমুখে পতিত করাসুবাহানাল্লাহ বারসিসার করুণ পরিণতি থেকে আমরা সেটা উপলব্ধি করতে পারি! এখানে ইমাম আহমেদের মৃত্যুর সময়টার কথা বলা যেতে পারেআবদুল্লাহ ইবন ইমাম আহমেদ বলেন, তার পিতা যখন অবচেতন পর্যায়ে পৌঁছে যান আর বলতে থাকেন, ‘লা বাআদ, লা বাআদ’ – ‘না এখনওনয়, না এখনও নয়একথা শুনে আবদুল্লাহ প্রচন্ড চিন্তিত বোধ করলেন! চিন্তা করে দেখুন, আপনি যদি আপনার বাবাকে তার মৃত্যুকালীন সময়ে বলতে শুনেন, ‘না এখনও না, না এখনও না’, আপনি কিভাবে এটাকে ব্যাখ্যা করবেন? এটার অর্থ কী বলে আপনার কাছে মনে হবে? ‘না এখনও না, আমি এখনও মরতে চাইনাএমনই মনে হওয়ার কথা, তাইনা?

তো ইমাম আহমেদ জেগে উঠলে, আবদুল্লাহ উদ্বিগ্ন হয়ে পিতাকে জিজ্ঞেস করল, ‘হে আমার পিতা, কেন আপনি বলছিলেন – “এখনও না, এখনও না” ?’ ইমাম আহমেদ বললেন, “শয়তান আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল, সে তার অঙ্গুলি কামড়ে বলছিল, “হে আহমেদ, তুমিতো আমার হাত ফসকে বের হয়ে গেলে, হে আহমেদ, তুমি তো আমার হাত ফসকে বের হয়ে গেলে” !’ তাই আমি তাকে বলছিলাম, ‘না, এখনও না, যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি মারা যাচ্ছিতোমার আর আমার যুদ্ধ এখনও চলছে, যখন আমি মারা যাব, একমাত্র তখনই আমি তোমার হাত থেকে রক্ষা পাব

ইবন তাইমিয়্যাহ বলে, ‘এরকম হওয়ার কারণটা হলো এই যে, শয়তান বুঝতে পারে আপনার সাথে এটাই তার শেষ সুযোগ, যদি এবার আপনি তার হাতথেকে ছুটে যান তো আপনি চিরকালের জন্যই তার কাছ থেকে পার পেয়ে গেলেনশেষ সময়ে আপনাকে পথভ্রষ্ট করতে না পারার অর্থ সে আপনাকে আর ধরতে পারল নাএজন্যই শয়তান আপনার জীবনের শেষ সময়ের দিকে বিশেষ নজর দেয় আর আপনার বিরুদ্ধে তার কাজকে আরো জোরদার করে তুলেসুবাহানাল্লাহ! আল্লাহ আমাদের উপলব্ধি করার তৌফিক দান করুণ যে শয়তান আমাদের পেছনে কি পরিমাণ পরিশ্রম করে যাচ্ছে শুধু আমাদের পথভ্রষ্ট করে মৃত্যুমুখে পতিত করার জন্যআল্লাহ আমাদের উপর রহম করুণ, আমীন

খালি চোখে বারসিসার কাহিনী থেকে যে শিক্ষাটা আমাদের প্রথমে মনে আসে সেটা হল নারী ফিতনানারী ফিতনার প্রকটতা বুঝতে হলে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে কেননা নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুরে পাক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলে গেছেন, “আমি আমার উম্মতের জন্য নারীর চেয়ে অধিক বড় কোন ফিতনা রেখে যাচ্ছি নানূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুজুরে পাক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘যখন দুইজন নারী পুরুষ একাকী অবস্থান করে তাদের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে শয়তান অবস্থান করে। শুধু তাই নয় স্বয়ং আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে(নারীদের প্রতি)। [সূরা নিসাঃ ২৮]

যখন এখানে নারীদের প্রতি দুর্বলতার কথা বলা হয়েছে এটা বলা হয় তখন নলেজেবল ভাই বোনেরাও অবাক হন! কিন্তু তাফসীরে নারীর প্রতি দুর্বলতার কথাই বলা হয়েছেএছাড়াও আল্লাহ তায়ালা সূরা আলে ইমরানের ১৪ নং আয়াতে আল্লাহর রাহে যুদ্ধকরা থেকে যেসব বিষয় মানুষকে বিরত রেখেছে তার কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই বলেছেন, “মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী...। [সূরা আলে ইমরানঃ১৪]সুবাহানাল্লাহ! আমরা যারা নিজেদের ইসলামপন্থী বলে পরিচয় দিই, ইসলামের খাতিরে ফেসবুকব্লগ কিংবা ভার্চুয়াল জগতে দাওয়া দিয়ে বেড়ায় খুবই দুঃখজনক সত্যি এই যে নারী ফিতনার এই হাদিস আর কুরানের আয়াতগুলো কখনো আমাদের মনে থাকেনা কিংবা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আমরা জানিই না! দেদারছে ছেলে মেয়ে মাখামাখি, হাসি তামাশা, রসালো কমেন্ট বিনিময় করেই যাচ্ছিআর ইনবক্সের কি অবস্থা আল্লাহই ভাল জানেনআমি আমার এই ২৯ বসরের জিবনে আগ বারিয়ে কোন মেয়ের সাথে নিজ থেকে কথা বলতে গেছি এরকম কিছু আমার মনে নেই। আমার দেখা স্কুল কলেজে আজকাল সারাদিন বয়ফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরাফেরা করা মেয়েগুলোও নিজ থেকে আমার সাথে কথা বলার সাহস করেনিএখন সবার সামনে আমি এত সাধু কিন্তু একটু চিন্তা করেন তো কেমন লাগবে যদি দেখেন আমি একটা নন মাহরাম মেয়েকে চোখ মারছি, ভেংচি কাটছি, মুচকি হাসি-অট্ট হাসি দিচ্ছি কিংবা কাগজে করে একটা লাল রঙের হার্টের চিহ্য একে দিলাম!! কি ভণ্ড মনে হবে না আমাকে? Exactly আমি একজন ভণ্ড বলে বিবেচিত হবসুবাহানাল্লাহ এই ভণ্ডামিটাই কোন রাখ ঢাক না রেখে করে যাচ্ছে আমাদের মুসলিম ভাইবোনেরা যারা নাকি আবার দাওয়াও দেনআঙ্গুলের একটা খোঁচা দিলেই ফেসবুকের স্ট্যাটাসে, ছবিতে কমেন্ট চলে যাচ্ছে ভেংচি কাটা, চোখ মারা, অট্টহাসি, মুখ বাঁকানো ইমুশন! সুবাহানাল্লাহ! নেট জগত বলে কি নন মাহরাম আপনার জন্য মাহরাম হয়ে গেল Dear Muslims? নাকি নিজেকে সব ফিতনা থেকে নিরাপধ ভাবেন? নাকি জান্নাতের টিকেট পকেটে নিয়ে ঘুরছেন? আল্লাহু আকবর! মৃত্যু খুব নিকটেই ভাই, খুব নিকটেই! নিজের ঈমান নিয়ে সচেতন হনএত এত ইসলামিক জ্ঞান, দাওয়া, ইবাদাত নিয়ে শেষ পর্যন্ত যেন বারসিসার মত করে মরতে না হয়! আল্লাহ রহম করুন

বারসিসার এই কাহিনী থেকে আরেকটা জিনিস লক্ষণীয়সেটা হল “Good Intention”আমি তো ভালোর জন্যই কাজটা করছি এই সান্ত্বনা দিয়ে শয়তান আমাদের ফাঁদে ফেলেএকটু লক্ষ্য করলেই আমরা দেখবো শয়তান বারবার বারসিসাকে মেয়েটির ভালোর জন্য ওয়াসওয়াসা দিয়েছেতুমি এমন না করলে মেয়েটির এই হবে, তুমি তেমন না করলে মেয়েটির সেই হবে এই ওয়াসওয়াসাএবং বারসিসা প্রতিবার সেই ফাঁদে পা দিয়েছে আর তার ফল সে পেয়েছে অবশেষে! এই বিষয়টা খুব সূক্ষ্মভাবে আমাদের লক্ষ্য করা উচিতআমাদের মধ্যে একটা কমন Tendency থাকে আমরা ইসলাম পালনের চেয়ে এক ধাক্কায় দাঈ হয়ে যেতে চাইএকটু আধটু জেনে মানুষজনকে ধুমাইয়া দাওয়া করে বেড়াইসেখানে শয়তানের এসব ওয়াসওয়াসা আর নারী ফিতনার বিষয়ে কোন ধারণা না থাকায় এরকম অসংখ্য উদাহরণ আছে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ারএক মেয়ে স্ট্যাটাস দিল, “ইশ! কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে!ছেলে গিয়ে সেখানে চান্দের ফজিলত বর্ণনা করে বিশাল দাওয়া প্রগ্রাম শুরু করে দিল! শয়তানের ওয়াসওয়াসা কি? “আমি তো দাওয়া দিচ্ছি। মেয়ে স্ট্যাটাস দিল আমার মন খুব খারাপছেলে গিয়ে Islam এর ফতোয়ায় কমেন্ট বক্স ভরিয়ে ফেলল, মন খারাপ হলে কি করতে হবে, হতাশ হওয়া চলবেনা, জীবনে আসলে এসব ঘটেই তারপরও মুসলিমদের এই করতে হবে সেই করতে হবে! বিশাল এক শায়খ (Only for Girls)!! মেয়ে তো মহা খুশি! ভাইয়া আপনি এত কিছু জানেন, সব প্রশ্নের উত্তর আপনার কাছে পাওয়া যায়, আপনি একটা জিনিয়াস ব্লা ব্লা ব্লা। এখন শয়তান এই আলাপ যে ইনবক্সে নিয়ে যায়নি তার গ্যারান্টি কি!!

সুবাহানাল্লাহ! আমরা যেটা মাথায় রাখব দাওয়ার কিছু Rules and Regulations আছেনিজে জানার এবং মানার বিষয় আছেশয়তানের ফাঁদ নিয়ে উপলব্ধির বিষয় আছেঅনেক ভাই বোনদের আমি দেখেছি তাদের ফেসবুক পোষ্টের কমেন্ট অপশন পাবলিক থাকলেও সেখানে কোন নন মাহরাম কমেন্ট করেনাকেন?? কেন তারা সেই সুযোগটা কখনো দেন না! আপনি একটা ফান পোস্ট দিলেনআপনার ফ্রেন্ড লিস্টে নন মাহরামনা থাকলেও কমেন্ট অপশন পাবলিক থাকার কারনে নন মাহরামরা সেখানে ফান কমেন্ট করা শুরু করল! জাহেলরা যে কায়দায় কথাবার্তা বলে অবিকল সেই কায়দায় লুতুপুতু আর ইমুশনের জোয়ার! এখানে শয়তানের সাথে আপনার বোঝাপড়া! সেই নন মাহরাম ছেলে কিংবা মেয়ে একবার কমেন্ট করবেদুইবার কমেন্ট করবে কিন্তু যখন দেখবে আপনি তাতে কোন রেসপন্সই দিচ্ছেন না তখন সে বুঝেযা বে এবং কেটে পড়বেকিন্তু আপনি যদি তার সমান তালে রেস্পন্স করা শুরু করেন তাহলে ঘটনা গড়াতে থাকবে এবং শয়তান আপনাদের নিয়ে খেলতে থাকবেফেসবুক দিয়ে উদাহরন দিলাম মাত্র এবার এটাকে বাস্তব জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন ফলাফল এক ও অভিন্ন! আপনাকে মনে রাখতে হবে শয়তান স্বভাবতই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আপনাকে আকৃষ্ট করবে তাই শয়তান যার দিকে আপনাকে আকৃষ্ট করছে তার দিকে দাওয়ারঅজুহাত নিয়ে এগিয়ে যাবেন না! সবাইকে দাওয়া দেওয়ার জন্য আপনি Responsible ননএটামনে করার কোন কারন নেই যে আপনি দাওয়া না নিলে সর্বনাশ হয়ে যাবেবরং সর্বনাশটা হবে আপনি শয়তানের ফাঁদে পা দিলেসর্বনাশ হবে আপনি ফিতনায় জড়িয়ে গেলে! শয়তানের হাতে নিজের প্রবৃত্তিকে সঁপে দেওয়ার আগেতাই খুব গভীর দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবা উচিতসামনে তো বারসিসার কাহিনী আছেই Reminder হিসেবে!

সর্বশেষ একটা Lesson আমরা বারসিসার কাহিনী থেকে নিতে পারি সেটা হল বৈরাগ্য বা একাকীত্বের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হয়েএকটুচিন্তা করুন মেয়েটি যদি বারসিসার স্ত্রী হত, কিংবা বারসিসার যদি পরিবার থাকত তাহলে হয়ত শয়তান এত সুযোগ পেত না তাকে পথভ্রষ্ট করারএকটি কথা আমার খুব ভাল লাগে আপনি একা থাকলে যা করেন সেটাই আপনার চরিত্র! একাকীত্ব শয়তানকে খুব বেশী সুযোগ করে দেয় তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করারযে কারনে দ্বীনের পথে থাকতে চাওয়া ভাই বোনদের সবসময় একটা Motivation এর মধ্যে থাকা উচিতবারসিসার ক্ষেত্রে শয়তান এই সুযোগটা নিয়েছিল! তাকে ওয়াসওয়াসা দিয়েছিল যা বারসিসা এড়িয়ে চলতে পারেনিএকাকিত্বের সময়ের শয়তানী ওয়াসওয়াসা মানুষের তাক্বওয়ার লেভেলকেও নিচে নামিয়ে দেয় খুব সহজেআল্লাহ ক্ষমা করুন আমাদেরআমাদের উপর রহম করুন

শেষকথাঃ একটা বিষয় ইদানীং আমাকে খুব ভাবায় সেটা হল ইসলামের ব্যাপারটা আসলে পুরোটা উপলব্ধির! যে কারনে অনেক নলেজেবল ভাই বোনকেও দেখবেন ইসলামের অনেক কিছু জানা সত্বেও আমল করার ব্যাপারে তারা উদাসীনসেসব ভাই বোনদের জন্য আমরা দোয়া করি যাদের অর্জিত জ্ঞান তাদের জীবনবোধের কোন পরিবর্তন করতে পারেনিযারা কুরআন অধ্যয়ন করেছে, ইসলামের অনেক জ্ঞান অর্জন করেছে আর এই জ্ঞান জাহির করে বেড়িয়েছে কিন্তু নিজের জীবনে তার কোন Reflection পড়েনিআল্লাহর কাছে এমন ভণ্ডামি আর মুনাফেকি থেকে পানাহ চাইআল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুনআল্লাহ আমাদের ভুলগুলো শুধরে সত্যকে আঁকড়ে ধরার তৌফিক দান করুন

বারসিসার যে কাহিনীটা বর্ণনা করলাম এটা হয়ত অনেকেই জানেনকিন্তু হয়ত এভাবে ভেবে দেখেননিএখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাটুকু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশগুলোকে Purify করার কাজে লাগতে পারে ইনশাআল্লাহভুলকে মেনে নিয়ে তার জন্য অনুতপ্ত হয় মানুষ আর ভুলের উপর অবিচল থেকে তার জন্য অজুহাত দেখায় শয়তানআমরা আশরাফুল মাখলুকাত আমরা আমাদের ভুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব ইনশাআল্লাহএই লেখায় উপলব্ধি করার মত কিছু থাকলে আল্লাহ যেন আমাদেরকে তা উপলব্ধি করার তৌফিক দেনযেন আমাদের পাপগুলো মুছে দেনবিগত দিনের ভুলগুলো যেন আজকের দিনের শুদ্ধতার অনুপ্রেরণা হয় ইনশাআল্লাহ! ইসলামের শিক্ষা আর উপলব্ধি যেন আমাদের জান্নাতের পথের পথিক হতে সাহায্য করেশয়তান যেন দুর্ভাগা বারসিসার মতো আমাদেরকে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামের কঠিন আগুনে নিয়ে না যায়সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য চাইআল্লাহ রহম করুনআল্লাহ ক্ষমা করুনইহদিনাস সিরাত্বাল মুস্তাকিম, আমীন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন। 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: