5.17.2017

মুসলমানদের জন্য দাড়ি রাখা ফরজ এবং দাড়ি কাটা হারাম কবিরা গুনাহ

দাড়ি রাখা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করুনঃ আমাদের দেশে দাড়ি রাখা সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, সেটা হল ''দাড়ি রাখা সুন্নত; অতএব দাড়ি রাখলে ভাল আর না রাখলে তেমন কোন সমস্যা নেই, একটা সুন্নত পালন করা হল না এই আর কি।'' নাউযুবিল্লাহ জেনে রাখুন, এটা সম্পূর্ণ একটা ভুল ধারণা।

দাড়ি রাখা কোন অর্থে সুন্নত আর কোন অর্থে ফরয বা ওয়াজিব আগে সেটা বুঝার চেষ্টা করুন। ইসলামে শরীয়তের আইনের প্রধান সুত্র হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নাহ মুবারক অর্থাৎ সমস্থ হাদিস শরীফ। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে-সকল বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন ও নিষেধ করেছেন তা পালন করা আমাদের জন্য ফরয। আশা করি বিষয়টি সকলের কাছেই পরিষ্কার অর্থাৎ বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয়।

এবার আসুন, দাড়ি রাখা কোন অর্থে সুন্নত আর কোন অর্থে ফরয বা ওয়াজিব সেটা জানার ও বুঝার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআনে বহু আয়াত শরীফে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মেনে চলার জন্য আমাদের বলেছেন। মানে হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সকল বিষয়ে আমাদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন তা মেনে চলাও আমাদের জন্য ফরয/ওয়াজিব। পবিত্র কুরআনের আয়াত শরীফগুলো এখানে দেয়া হলোঃ- [لَّا تَجْعَلُوا۟ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُم بَعْضًۭا ۚ قَدْ يَعْلَمُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنكُمْ لِوَاذًۭا ۚ فَلْيَحْذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত মনে করো না। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তালা তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা উনার(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে। [পবিত্র সূরা আন-নুর শরীফঃ আয়াত শরীফ ৬৩]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [وَأَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ] আর তোমরা আনুগত্য করো মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, যাতে তোমাদের উপর রহমত নাজিল করা হয়। [আল-ইমরান শরীফঃ আয়াত শরীফ ১৩২]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِى يُحْبِبْكُمُ ٱللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَٱللَّهُ غَفُورٌۭ رَّحِيمٌۭ] (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি তাদের বলে দিন) যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভালবাসো, তাহলে আমাকে [রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] অনুসরণ করো, যাতে মহান আল্লাহ পাক তিনিও তোমাদিগকে ভালোবাসেন [আল ইমরান শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩১]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ وَلَا تَوَلَّوْا۟ عَنْهُ وَأَنتُمْ تَسْمَعُونَ] হে ঈমানদারগণ, মহান আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মান্য করো এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না। [আল-আনফাল শরীফঃ আয়াত শরীফ ২০]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍۢ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى ٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ ٱلْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ ۗ وَمَن يَعْصِ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَـٰلًۭا مُّبِينًۭا] মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন কিছু করার ক্ষমতা নেই যে, মহান আল্লাহ পাক ও উনার রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। [সূরা আল আহজাব শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩৬]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [قُلْ أَطِيعُوا۟ ٱللَّهَ وَأَطِيعُوا۟ ٱلرَّسُولَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا۟ فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُم مَّا حُمِّلْتُمْ ۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا۟ ۚ وَمَا عَلَى ٱلرَّسُولِ إِلَّا ٱلْبَلَـٰغُ ٱلْمُبِينُ] (হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলুনঃ মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো এবং উনার রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে উনার(সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর অর্পিত দায়িত্বের জবাব তিনি দেবেন এবং তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্যে তোমরা দোষী হবে। তোমরা যদি উনার(সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য কর, তবে সৎ পথ পাবে। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টরূপে পৌছে দেয়া। [আন-নুর শরীফঃ আয়াত শরীফ ৫৪]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمْ عَنْهُ فَٱنتَهُوا۟ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ ۖ إِنَّ ٱللَّهَ شَدِيدُ ٱلْعِقَابِ] রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। [আল-হাশর শরীফঃ আয়াত শরীফ ৭]

অবশেষে আমরা যা পেলাম তা হলো মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশক্রমে পবিত্র আল কুরআন অনুসারে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রত্যেকটি হুকুম মানা ফরজ উনার আদেশ নিষেদ সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার আদেশ নিষেদ।

এবার আসুন দাড়ি রাখার জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ কি জেনে নেই? ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছেনঃ তোমরা মুশরিকদের বিপরীত অবস্থান করবে। দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। (বুখারী শরীফ, নবম খণ্ড, হাদিস শরীফ নং - ৫৪৭২ ই,ফা)

তাহলে বুঝা গেল যে, শরীয়তের বিধানের দ্বিতীয় সুত্র যেহেতু রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদিস শরীফ, কাজেই সেই অর্থে দাড়ি রাখা খাস সুন্নত কারন রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনদিন দাড়ি শেইভ করেন নি বা ক্ষুর লাগান নাই। আর পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ পাক তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ ও নিষেধ মেনে চলার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন কাজেই সেই অর্থে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মেনে চলা আমাদের জন্য ফরয। আরও একটি বিষয় স্বরন রাখা প্রয়োজন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরাঈল আমিন আলাইহিস সাল্লাম উনার মাধ্যমে প্রাপ্ত মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ ব্যতিত কোন কথা বা কাজের নির্দেশ বা আদেশ নিষেধ করতেন না যেমন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ [وَمَا يَنْطِقُ عَنْ الْهَوَى، إِنْهُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى] (রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি যখন কথা বলেন তখন নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা বলেন না। বরং যা বলেন তা মহান আল্লাহ পাক তিনি অহির মাধ্যমে উনাকে জানিয়ে দেন।

দাড়ি রাখা সম্পর্কে উলামাগন বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ফরজ। কারন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ ব্যতিত কোন কথা বলতেন না আর তাই দাড়ি রাখার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মানে মহান আল্লাহ পাক উনারই নির্দেশ। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব আবার কেউ বলেছেন সুন্নাতে মুয়াক্কাদা কিন্তু দাড়ি কাটার বা না রাখার মতো একজন ইমাম মুস্তাহিদ পাওয়া যাবেনা। মহান আল্লাহ পাক তিনি ভালো জানেন। আশা করি এবার সকলের দাড়ি রাখার বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মেনে জীবন চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।

কুরআন শরীফে সরাসরি দাড়ি রাখার কথা যদিও বলা হয়নি তবে হারুন আলাইহিস সালাম উনার ঘটনায় দাড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে। পবিত্র কুরআনে দাড়ি সম্পর্কে একটি আয়াত শরীফ আছে যেখানেঃ [قَالَ يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِى وَلَا بِرَأْسِىٓ ۖ إِنِّى خَشِيتُ أَن تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِىٓ إِسْرَٰٓءِيلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِى] মুসা আলাইহিস সালাম উনার কওমের নিকট ফিরে এসে যখন দেখলেন উনার কওম গোমরা হয়ে গেছে, তখন তিনি হারুন আলাইহিস সালাম কে প্রশ্ন করলেন এবং হারুন আলাইহিস সালাম জবাবে বলেনঃ হে আমার মায়ের ছেলে! আমার দাড়ি ধরো না এবং আমার মাথার চুলও টেনো না” [ত্বোয়া-হা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৯৪] এখানে বুঝা যাচ্ছে হারুন আলাইহিস সালাম উনার দাড়ি ছিল আর মুসা আলাইহিস সালাম উনার দাড়ি ধরেছিলেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে দাড়ি রাখার আদেশ করেছেন। এখানে একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার, দাড়ির বিধানটি শরীয়তের একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ হুকুম। একে নিছক আরবীয় রীতি বা বিশেষ স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করা মারাত্মক ভ্রান্তি কুফুরি ও। আশা করি, এবার সকলের দাড়ি রাখার বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ মেনে জীবন চলার তৌফিক দান করুন। আমীন।

এবার আসুন আরো কিছু জ্ঞান অর্জন করি যেমনঃ সব কিছু মহান আল্লাহ পাক তিনি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেনঃ মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন [وَمِن كُلِّ شَىْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَيْنِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ] আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর। [আয-যারিয়াত শরীফঃ আয়াত শরীফ ৪৯]

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো বলেনঃ [سُبْحَـٰنَ ٱلَّذِى خَلَقَ ٱلْأَزْوَ‌ٰجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنۢبِتُ ٱلْأَرْضُ وَمِنْ أَنفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ] পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, মানুষকে এবং যাদের সম্পর্কে তারা জানে না, তাদের প্রত্যেককেও জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। [ইয়াসিন শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩৬]

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ [وَخَلَقْنَـٰكُمْ أَزْوَ‌ٰجًۭا] আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি [আন্-নাবা শরীফঃ আয়াত শরীফ ৮]

উপরের আয়াত শরীফত্রয় অনুযায়ী দাড়ির মাধ্যমে মানুষকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
যথাঃ
১) দাড়িযুক্ত মানুষ (পুরুষ) ও
২) দাড়িবিহীন মানুষ (মহিলা)।

কোন পুরুষকে যদি বলা হয় আপনি কি মহিলা হতে চান? কোনো বিবেকবান লোকই তা চাইবে না। তাহলে আমরা কেন মহান আল্লাহ পাক ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশের বিপরীত কাজ করি । অর্থাৎ দাড়ি ক্লিন করে মহিলাদের সুরত ধারন করি!!

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ [لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ ٱللَّهِ] "আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই । " [আর-রুম শরীফঃ আয়াত শরীফ ৩০]

এ প্রসঙ্গে শয়তানের একটা উদ্ধত ঘোষনাও মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, [لَّعَنَهُ ٱللَّهُ ۘ وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًۭا مَّفْرُوضًۭا وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَءَامُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ ءَاذَانَ ٱلْأَنْعَـٰمِ وَلَءَامُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ ٱللَّهِ ۚ وَمَن يَتَّخِذِ ٱلشَّيْطَـٰنَ وَلِيًّۭا مِّن دُونِ ٱللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًۭا مُّبِينًۭا] শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করবো। তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব; তাদেরকে পশুদের কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব। যে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনাকে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হয়। [আন-নিসা শরীফঃ আয়াত শরীফ ১১৮-১১৯]

''এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।'' আয়াতের এ অংশের আলোচনায় শাববীর আহমদ উসমানী বলেছেন, ‘দাড়ি মুন্ডানোও এ আকৃতি পরিবর্তনের মধ্যে পড়ে।’ (দেখুনঃ তাফসীরে উসমানী (মূল) পৃঃ ১২৫; (অনুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১/৪৪৬)

মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিকে বিকৃত করার প্রসঙ্গে তাফসীরে বয়ানুল কুরআনে বলেছেন, এটা ফাসেকী কাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি দাড়ি মুন্ডানো, শরীরে উল্কি আঁকা ইত্যাদি হারাম।-তাফসীরে বয়ানুল কুরআন ১/২/১৫৭।

বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা আলাইহে রাহমা বলেন, জনৈক অগ্নিপূজক মহান আল্লাহ পাক উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নিকট এসেছিল। তার দাড়ি মুন্ডানো ছিল ও মোচ লম্বা ছিল। মহান আল্লাহ পাক তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের ধর্মের নিয়ম।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘কিন্তু আমাদের দ্বীনের বিধান, আমরা মোচ কাটবো ও দাড়ি লম্বা রাখবো।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১৬-১১৭, হাদীস শরীফঃ ২৬০১৩)
দাড়ি রাখা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে পোষ্টটি পড়ুন।
দাড়ি রাখা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে পোষ্টটি পড়ুন।
পারস্যের সম্রাট কিসরা ইয়েমেনের শাসকের মাধ্যমে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে দুজন দূত পাঠান। এদের দাড়ি ছিল কামানো আর গোঁফ ছিল বড় বড়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে তাদের এই অবয়ব এতই কুৎসিত লেগেছিল যে তিনি মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের ধ্বংস হোক, এমনটি তোমাদের কে করতে বলেছে? তারা উত্তর দিল, আমাদের প্রভু কিসরা। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন উত্তর দেন, আমার রব্ব, যিনি পবিত্র ও সম্মানিত তিনি আদেশ করেছেন যেনো আমি দাড়ি লম্বা রাখি এবং গোঁফ ছোট রাখি। (ইবনে জারির আত তাবারি, ইবন সাদ ও ইবন বিশরান কর্তৃক নথিকৃত। দেখুন আল গাযালির ফিক্বহুস সিরাহ ৩৫৯ পৃষ্ঠা)

পরিশেষে দাড়ি রাখা যাই হোক না কেন প্রকৃত মুসলমান দাড়ি রাখবে, এটাই স্বাভাবিক । আমাদের দাড়িতে মানাক বা না মানাক আমরা মহান আল্লাহ পাক ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ভালবেসে দাড়ি রাখব।

এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কাটার সুযোগ শরীয়তে রয়েছে কিন্তু এক মুষ্টির নিচে কাটা হারাম কবিরা গুনাহ। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এক মুষ্ঠি দাড়ির অতিরিক্ত অংশ কেটেছেন।

আবু যুরা আলাইহে রাহমা বলেন, আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার দাড়ি মুঠ করে ধরতেন। এরপর এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১২, হাদীস শরীফঃ ২৫৯৯২; ২৫৯৯৯)


কিন্তু কোনো সহীহ বর্ণনায় এক মুষ্ঠির ভিতরে দাড়ি কাটার কোনো অবকাশ পাওয়া যায় না। এখন আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আপনি কি করবেন। মহান আল্লাহ পাক ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ মানবেন নাকি সমাজের মানুষের কাছে লজ্জার ভয়ে কিংবা কাফির-মুশরিকদের অন্ধ অনুসরণ করতে দাড়ি রাখবেন না?

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: