9.25.2014

হরতালের অর্থ ও উৎপত্তির ইতিহাস ।

হরতাল শব্দের অর্থ- বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার, অবাধ্যতা, অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ইত্যাদি হরতালের ব্যাখ্যায় বলা হয়, বিক্ষোভ প্রকাশের জন্য যানবাহন, হাট-বাজার, দোকানপাট, অফিস-আদালত ইত্যাদি বন্ধ করা। হরতাল গুজরাটি শব্দহরঅর্থ প্রত্যেকতালঅর্থ তালাঅর্থাৎ প্রতি দরজায় তালা

মানব সভ্যতার ইতিহাসে প্রাচীনকাল হতেই দাবী আদায়ের কৌশল হিসেবে নানা প্রকার পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়যেমন, আমেরিকার ফিলাডেলফিয়াতে ১৭৮৬ সালে ছাপাখানার কর্মচারীরা, জার্মানে ১৯২০ সালে রাজনৈতিক কারণে, বৃটেনে ১৯২৬ সালে কয়লা শ্রমিকরা, এছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকার নানা স্থানে বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের দাবী আদায় করার জন্য যে কৌশল অবলম্বন করেছিল, তার নাম দেয়া হয়েছে স্ট্রাইক

হরতালের অর্থ ও উৎপত্তির ইতিহাস
আর ভারত উপমহাদেশে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, বৃটিশদের রাউলাট আইন বাতিল করার জন্য তার প্রতিবাদে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে, তার নাম দেয়া হয় হরতালএ হরতাল পালিত হওয়ার কথা ছিল ১৯১৮ সালের ৩০শে মার্চপরে এ তারিখ পিছিয়ে ৬ই এপ্রিল করা হয়ফলে কোন স্থানে ৩০শে মার্চ আবার কোন স্থানে ৬ই এপ্রিল সর্ব প্রথম হরতাল পালিত হয়। বলাবাহুল্য, হরতাল গুজরাটি শব্দমোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী কট্টর মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দু, সে দাবী আদায়ের পদ্ধতির নামকরণ করে হরতাল

মূলতঃ স্ট্রাইক শব্দের প্রবর্তক হলো, ইহুদী-নাছারাআর হরতাল শব্দের প্রবর্তক হলো, মুশরিক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী

অনেকেই বলতে চায়, হরতাল পালন করা নাকি শরীয়ত সম্মত! অথচ হরতাল পালন করা শরীয়ত সম্মত তো নয়ই, বরং কেউ যদি হারাম হরতালকে যায়েজ মনে করে, তবে সে ব্যক্তি মুরতাদ হবে
জানা যাক, হরতাল হারাম হওয়ার কারণসমূহ:

(১) বিজাতীয়দের উদ্ভাবিত পন্থা- হরতাল হচ্ছে, ইসলামী রীতিনীতি বর্হিভূত গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি বিজাতীয় ধ্যান-ধারণা ও অপকৌশলযাতে শান্তি তো না-ই বরং অশান্তির পথকে প্রশস্ত করেতাই এটি কোন মুসলমানের জন্য অনুসরনীয় নয়কেননা হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن عبد الله بن عمر رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تشبه بقوم فهو منهم.
অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছেহুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে” (মসনদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, বিজাতীয় বিধর্মীদের কোন নিয়ম-নীতি, আমল-আখলাক ও সীরত-ছূরত কোনটাই অনুসরণ-অনুকরণ করা যাবেনাযদি কেউ করে তবে সে ইহকালে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং পরকালেও তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে, যাদেরকে সে অনুসরণ করবেকাজেই হরতাল কোন মতেই জায়েয নেই

(২) জনজীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি -করে হরতাল হারাম হওয়ার আর একটি কারণ হলো, এটা মানুষের স্বাভাবিক কাজ-কর্মকে ব্যহত করে, জনজীবনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেএবং তা মানুষের কষ্টের কারনও বটে
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক বলেন,
لاتفسدوا فى الارض.
অর্থঃ- তোমরা যমীনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করোনা”(সূরা বাক্বারা/১১)

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
ايذاء المسلم كفر.
অর্থঃ- কোন মুসলমানকে কষ্ট দেয়া কুফরী
হরতাল এক ধরণের জুলুম, যা শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয় বরং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও হয়
কাজেই হরতাল করা জায়েয নেই, তা সম্পূর্ণরূপে হারাম

(৩) জান-মালের ক্ষতি- হরতালের ফলে জান-মালের ক্ষতি হয়মানুষের সম্পদের ক্ষতি হয়, গাড়ী ভাংচুর করা হয়, গরীব সাধারণের আয়ের সম্বল রিক্সা ভেঙ্গে দিয়ে আয়ের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়হরতালের ফলে হতাহতও সংঘটিত হয়ে থাকেযাদের হরতাল ডাকার কারণে এ সমস্ত নিহত-আহত হবে, তারাই হত্যাকারী হিসেবে সাব্যস্ত ও দায়ী হবে

কুরআনুল করীমে ইরশাদ হয়েছে,
ومن يقتل مؤ منا متعمدا فجزاؤه جهنم خالدا فيها.
অর্থঃ- যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে” (সুরা নিসা-৯৩)

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن عبد الله رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال سباب المسلم فسوق وقتاله كفر.
অর্থঃ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, কোন মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসিকী, আর ক্বতল করা কুফরী” (বুখারী, মুসনদে আহমদ)
হরতালের দ্বারা ব্যক্তিগত জান-মালের ক্ষতি তো হয়ই এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও ঘটেকাজেই হরতাল করা সম্পূর্ণরূপে নাজায়েয ও হারাম

(৪) একজনের অন্যায়ের শাস্তি অন্যকে দেয়া হয়-হরতাল যে কারণে করা হয়, অর্থাৎ অপরাধীকে শাস্তি দেয়া; তা মোটেই হয়নাবরং অপরাধী অর্থনৈতিক ও মানবিক সব দিক থেকেই বহাল তবিয়তে অবস্থান করে থাকেকিন্তু শাস্তি ভোগ করে জনসাধারণ, যারা অপরাধী নয়অথচ হরতালের ফলে একজনের অপরাধের শাস্তি অন্যজনকে চাপিয়ে দেয়া হয়, এটা ইসলামের বিধান নয়বরং আল্লাহ্ পাক-এর হুকুম হলো,
ولا تزر وازرة وزر اخرى.
অর্থঃ- একজনের গুণাহ্র বোঝা অন্যজন বহন করবে না” (সূরা আনয়াম-১৬৪)
অর্থাৎ একজনের অপরাধের শাস্তি আরেকজনকে দেয়া যাবেনা, যা মূলতঃ নিষেধকাজেই শরীয়তের দৃষ্টিতে হরতাল সম্পূর্ণ হারাম

(৫) হারাম পন্থায় ইসলাম কায়েমের চেষ্টা-হারাম উপায়ে ইসলাম প্রচারের কথা কুরআন-সুন্নাহ্র কোথাও নেইইসলাম প্রচার করতে হলে আল্লাহ্ পাক-এর বিধান অনুযায়ী করতে হবেযেমন আল্লাহ্ পাক কুরআনুল করীমে ইরশাদ করেন,
وان احكم بينهم بما انزل الله ولا تتبع اهواءهم.
অর্থঃ- তারা আপনার নিকট কোন মোকদ্দমা নিয়ে আসলে, তার ফায়সালা শরীয়ত অনুযায়ী করুনআর তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না” (সূরা মায়িদা-৪৯)

এ আয়াত শরীফ হতে বুঝা যায় যে, সর্ববিধ ক্ষেত্রেই আল্লাহ্ পাক-এর বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করতে হবেআর যারা আল্লাহ্ পাক-এর বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করবেনা, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন,
ومن لم يحكم بما انزل الله فا ولئك هم الكفرون.
অর্থঃ- আল্লাহ্ পাক যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী যারা ফায়সালা করেনা, তারা কাফির” (সূরা মায়িদা-৪৪)


অতএব, এ সমস্ত হারাম কাজকে যারা শরীয়তসম্মত মনে করে, তারা আলিম হওয়া তো দূরের কথা, সাধারণ মুসলমান হিসেবেও বিবেচিত নয়বরং তারা শরীয়তের দৃষ্টিতে মুরতাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবেকারণ ইসলামী আক্বাইদ ইচ্ছে, কোন হারাম বিষয়কে হালাল বলা সম্পূর্ণ কুফরী এবং কোন অনৈসলামিক কার্যকলাপকে ইসলামিক কার্যকলাপ হিসেবে শামীল করা সেটাও কুফরীশরীয়তের মাসয়ালা হচ্ছে- যে কুফরী করে, সে মুরতাদ হয়ে যায়

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: