10.28.2014

সচেতন অভিভাবকদের মনে রাখা ও পালন করার জন্য কিছু ১৬ টি প্রয়োজনীয় টিপস ।

সচেতন অভিভাবকদের মনে রাখা ও পালন করার জন্য কিছু ১৬ টি প্রয়োজনীয় টিপস নিচে বর্ণনা করা হলো যা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যেক শিশুদের মাতাপিতার জন্যে যাতেকরে তাদের সন্তান হয়ে উঠে তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের পাথেও।

১) কারো কোলে বসা (প্রতিবেশি চাচা, মামা, ভাই ইত্যাদি) থেকে আপনার ২-৩ বসরের শিশু কন্যাকে বিরত রাখুন বা সাবধানতা বজায় রাখুন

২) সন্তান ২-৩ বছর বয়স হলে (ছেলে/মেয়ে) তার সামনে নিজের পোশাক পরিবর্তন করা থেকে বিরত থাকুন

৩) কোন বয়স্ক ব্যক্তি (সে যতই নিকটাত্মীয় হোক না কেন) যেনো আপনার সন্তানকে আমার বউবা আমার বরবলে সম্বোধন না করে, সে ব্যপারে কঠোর ও অনমনীয় থাকবেন

৪) যখনই আপনার সন্তান বাইরে (আপনার চোখের আড়ালে) খেলতে যাবে, জানার চেষ্টা করুন তারা কোন ধরনের খেলা খেলে এবং কার সাথে ও কোন বয়সী বাচ্চাদের সাথে খেলে?

৫) কারো কাছে থাকার জন্য কক্ষনই আপনার বাচ্চাকে (ছেলে/মেয়ে) বাধ্য বা জোর করবেন না, বিশেষ করে সে (বাচ্চা) যদি থাকতে না চায় বা অস্বস্তির ভাব দেখায়এমনকি, হঠাৎ করেই যদি আপনার সন্তান কোন বিশেষ কারো সাথে থাকতে চায় বা তার প্রতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী অনুরক্ত আচরণ করে তবে বিষয়টি অনুসন্ধান করবেন

৬) কোন প্রাণবন্ত বা খুবই হাসিখুশি বাচ্চা যদি হঠাৎ করে খুব বিমর্ষ বা চুপচাপ অথবা সব কাজেই অনাগ্রহ দেখায়, তাহলে সময় ও ধৈর্যশীলতার সাথে এর কারণ অনুসন্ধান করুন

৭) শিশু যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকবে তখন নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক (right values of sex) সম্মন্ধে সঠিক শিক্ষা দিন (ছেলেকে বাবা এবং মেয়েকে মা)যদি আপনি সেটা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার পারিপার্শ্বিক সমাজ ও বন্ধুরা তাকে সেই শিক্ষা দেবে; এবং সেটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল বা বিকৃত শিক্ষা হবে

৮) আপনার শিশুর জন্য যদি কোন ভিডিও বা কার্টুন কিনে আনবেন না কারন এগুলো ইসলামে হারাম আর যদি অনিচ্ছাকৃত এসেই যায়, তবে সে (শিশু) দেখার আগে আপনারা দুজন (বাবা-মা) দেখে নিবেন এটা আসলেই তার দেখার উপযোগী কি না

৯) টিভি দেখা ইসলামি শরিয়তে হারাম তা ইসলামিক অনুষ্টান হলেও তার পরেও যদি আপনার বাসায় ক্যাবল টিভি থাকে তাহলে সেটি কঠোর প্যারেনটাল কন্ট্রোলের আওতায় আনুন, যেন আপনার অনুপস্থিতিতে শিশুর টিভিতে কোন ধরনের অশালীন-অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখার সম্ভবনা না থাকেআপনার শিশুর যারা খেলার সাথী, তাদের অভিভাবকদেরকেও এই ব্যপারে পরামর্শ দিন

১০) আপনার তিন বছরের সন্তানকে ভালভাবে তার লজ্জাস্থানসমূহ পরিষ্কার করা শেখানএবং সতর্ক করে দিন যেন কেউ তার সেই সব স্থান স্পর্শ না করে বা করার চেষ্টা না করে। (এমনকি আপনিও পারতপক্ষে এটি থেকে বিরত থাকবেন)

১১) আপনার সন্তানের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কিছু জিনিস এমনকি কিছু ব্যক্তিকেও ব্ল্যাকলিস্টের অন্তর্ভুক্ত করুন (বিনোদনমুলক অনুষ্ঠান [হারাম গান, মুভি, সিরিয়াল, কার্টুন], ভিডিও গেইম, ক্ষতিকর আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব ইত্যাদি )

১২) আপনার সন্তানকে নৈতিকতায় স্বতন্ত্র বা লাখে একজন (the value of standing out of the crowd) হওয়ার আবশ্যকতা শেখান

১৩) আপনার সন্তান যখন কোন ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ করবে (যতই অবাস্তব/ অসম্ভব/অকল্পনীয় সেই অভিযোগ হোক না কেন), অবশ্যই জরুরী ভিত্তিতে গুপনে হলেও বিষয়টি অনুসন্ধান করবেনএবং সবসময় আপনার সন্তানের পাশে থাকবেনআপনার সন্তান জানু্ক যে, আপনি তাকে রক্ষা করার ক্ষমতা ও সাহস রাখেন মনে রাখবেন, আপনি হয় অভিভাবক অথবা তার ভবিষ্যৎ।

১৪) সবসময় তার সাথে বন্ধু সুলভ আচরণ করুন, বেশি বেশি করে ইসলামিক বিষয়ে আলোচনা করুন ইসলামিক বই পড়ার প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টি করুন।

১৫) ছেলে হলে পিতার উচিৎ যখন সম্ভব তাকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার, আর সপ্তাহে অন্তত একবার তাকে সঙ্গে নিয়ে যাদের বাবা মা নাই তারা জেনো তাদের কবর জিয়ারত করেন যাতে করে এই অভ্যেসের কারনে সেও আপনার মৃত্যুর পরে তার সন্তানকে নিয়ে আপনার কবর জিয়ারত করে।

১৬) আর মেয়ে হলে প্রত্যেক মা জেনো তাকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যেক ওয়াক্তে একসাথে নামাজ পড়েন, দুয়া দুরুদ তসবি তাহলিল এগুলো শিখান। কোরআন পড়তে উৎসাহ দেন।

আশাকরি সবাই বিষয় গুলো থেকে উপকৃত হবেন, এই কামনা করে আপনাদের জন্যে এই টিপস গুলো লিখা হয়েছে, আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন আমিন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: