10.12.2014

উম্মুল মুমেনিন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাদের অবস্থা এবং আমাদের সমাজের প্রাক্টিসিং মুসলিমাহ দের অবস্থা।

আমাদের সমাজের প্রাক্টিসিং মুসলিমাহ দের অবস্থা।
আমাদের সমাজের প্রাক্টিসিং মুসলিমাহ দের অবস্থা।
উম্মুল মুমেনিন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাদের অবস্থা এবং আমাদের সমাজের প্রাক্টিসিং মুসলিমাহ দের অবস্থা। উম্মুল মুমেনিন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা যারা ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার স্ত্রী এবং উনাদের অবস্থা কি ছিলো তা এই হাদিছগুলোই তুলে ধরছে মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

১) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পরিবারের সদস্যরা মদীনায় আসার পর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মৃত্যু পর্যন্ত কখনো একাধারে তিন দিন তৃপ্তি নিয়ে গমের রুটি খেতে পারেন নি। [সহীহ বুখারীঃ খন্ড ৭৬, হাদীস ৪৬১]
.
(২) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পরিবারের সদস্যরা যখনি একদিনে দুইবার খেয়েছেন, দ্বিতীয় বেলায় শুধুমাত্র খেজুর খেতে পেরেছেন। (অধিকাংশ দিন এক বেলা খেতে পারতেনযদি দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা যেদিন হতো, শেষ বেলা খুরমা ছাড়া আর কিছু থাকত না খাবার।) [সহীহ বুখারীঃ খন্ড ৭৬, হাদীস ৪৬২]
.
(৩) হযরত কাতাদাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত, যখন এমন হতো যে আমরা আনাস ইবনে মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) কাছে গিয়েছি এবং তাঁর বাবুর্চি পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, তখন আনাস ইবনে মালিক (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলতেন - আপনারা খান, আমি জানি না নূরে মুজাসসাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাতলা, চমত্কার করে সেঁকা একটি চাপাতি রুটি দেখেছেন কি না! আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো একটি ভুনা ছাগল নিজ চোখে দেখেন নি। [সহীহ বুখারীঃ খন্ড ৭৬, হাদীস ৪৬৪]
.
(৪) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে বর্ণিত, মাস চলে যেত, কিন্তু আমরা ঘরে আগুন জ্বালাতে (রান্নার জন্য) পারতাম নাআমাদের একমাত্র খাবার হিসেবে থাকত শুধু খেজুর আর পানি, যদি না অল্প কিছু গোশত আমাদের কাছে এসে যেত। [সহীহ বুখারীঃ খন্ড ৭৬, হাদীস ৪৬৫]

এই যখন অবস্থা তখন খায়বারের যুদ্ধের পর নূরে মুজাসসাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার স্ত্রীগণ তাঁহাদের ভরণ-পোষণের জন্য কিছু অধিক অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করেনইহাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ও এক মাসকাল তাহাদিগো হইতে আলাদা বাস করেনআর এই ব্যপারে আল্লাহ তায়ালা আয়াতও নাযিল করে দিলেন তাই পবিত্র কোরাআনুল কারিমে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, "হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার স্ত্রীদিগনকে বলুন, 'তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও উহার ভূষণ কামনা করো তবে আসো, আমি তোমাদেরকে ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দেই এবং সৌজন্যের সহিত তোমাদিগকে বিদায় দেই 'আর যদি তোমারা কামনা কর আল্লাহ, রাব্বুল আলামিন উনি তাহার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আখিরাত, তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাহাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রাখিয়াছেন 'সূরা আহযাব - ৩৩ ; আয়াত -২৮, ২৯

অথচ আজকে আমাদের সমাজের তথাকথিত প্রাক্টিসিং মুসলিমাহ এবং তাদের অভিভাবকদের অবস্থা কি????

ছেলের পড়াশোনা কতদূর, কতো বেতনের চাকরি করে, ব্যাংক ব্যালেন্স কতো, কি পরিমান জায়গা-জমি আছে, কয়টা বাড়ি আছে, ইত্যাদি ইত্যাদিস্ত্রী বাপের বাসায় থেকে স্বামিকে আল্টিমেটাম দেয়, " মাসে ২০০০০/৫০০০০ টাকা আয় করতে না পারলে তোমার কাছে যাব না

এই হলো আমাদের সমাজের প্রাক্টিসিং মুসলিমাহ ও তাদের অভিভাবকদের অবস্থা!!! একবার চিন্তা করুন যদি উম্মুল মুমেনিনদের অবস্থা আমাদের তথাকথিত প্রাক্টিসিং মুসলিমাহদের কপালে পড়ে তাহলে তারা কি করবে???? অথবা তাদের অভিভাবকরা কি এই অবস্থা কখনো মেনে নেবে????

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: