10.13.2014

যারা ওলি আউলিয়া মানে না এবং গালিগালাজ করে তারা কুফরী করে ।

যারা ওলি আউলিয়া মানে না এবং গালিগালাজ করে তারা কুফরী করে ।
যারা ওলি আউলিয়া মানে না এবং গালিগালাজ করে তারা কুফরী করে ।
আজকাল আমাদের সমাজে ওলি আউলিয়া বিরোধী অনেক ভন্ড জাহেল কপট দাজ্জাল মুনাফেক মৌলভি ও তাদের অনুসারী আছে যারা আউলিয়ায়ে কেরামের নাম শুনলে তাদের মনটাকে সংকুচিত করে ফেলে এবং ওদের শরীরে চুলকানি উঠে যায়, আর আউলিয়া কেরামের শান শুনলেতো শিম্পাঞ্জির মত ভেটকি মারে ও মুখটাকে বেন্গাচির মত বানিয়ে ফেলে, আমার প্রশ্ন হলো অলি আউলিয়া কি ইসলাম তথা কোরআন সুন্নাহর বাইরের কোনো বিষয় যে এটা মানা হারাম, বেদাত, শিরক বা কুফরী হবে? যারা ওলি আউলিয়া মানে না তারা বরং কুফরী করে কারন পবিত্র আল-কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক স্পষ্টভাবে প্রমান করে যে ওলি আউলিয়ার ইজ্জত মুহব্বত করা হালাল কখনোই হারাম নয়, তাই এখন যারা ওলি আউলিয়া অস্বীকার করে তারাতো পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ শরিফ কে অস্বীকার করে, আর পবিত্র কোরআনের একটা আয়াত বা নূর নবীজির একটা হাদিস যে অস্বীকার করবে সে সাথে সাথে কাফের হয়ে যাবে, নিঃসন্দেহে আর ওলী-আল্লাহগণ উনাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআন শরীফে ইরশাদ করেন, ﺃَﻻ ﺇِﻥَّ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺀ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻻَ ﺧَﻮْﻑٌ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻻَ ﻫُﻢْ ﻳَﺤْﺰَﻧُﻮﻥَসাবধান! নিশ্চয়ই যারা আল্লাহপাকের ওলী তাদের কোন ভয় নেই এবং চিন্তা-পেরেশানীও নেই” [সূরা ইউনূছঃ আয়াত শরীফ ৬২]

পবিত্র আল-কুরআন উল কারিমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার রহমত মুহসিন বা আল্লাহওয়ালাগণ(অলি আওলিয়া) উনাদের নিকটে” (সূরা আরাফঃ আয়াত শরীফ ৫৬)

পবিত্র আল-কুরআন উল কারিমের সূরা কাহাফ’-এর ১৭ নম্বর আয়াত শরীফে উল্লেখ রয়েছে, কামিল মুর্শিদের গুরুত্ব সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, যেআল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি যাঁকে হিদায়েত দান করেন, সেই হিদায়েত পায়আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, সে কোন ওলীয়ে মুর্শিদ(কামিল শায়খ বা পীর) উনার ছোহবত লাভ করতে পারে না। 

আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, “তোমরা সব আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও। (সূরা ইমরান- আয়াত শরীফ ৭৯)

আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র আল-কুরআন উল কারিমের সূরা তওবার ১১৯ নম্বর আয়াত শরীফে ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ পাককে ভয় করো এবং ছাদিক্বীন বা সত্যবাদীগণের সঙ্গী হওএখানে ছাদিক্বীন বলতে ওলী-আল্লাহ গণকেই বুঝান হয়েছে

আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র আল-কুরআন উল কারিমে বলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও উনার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ইত্বায়াত কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা (উলিল আমর) আদেশদাতা, তাদের অনুসরণ কর

সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদুত্ ত্বায়িফা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আরো অনেকেই বলেন যে, “যার কোন পীর বা মুর্শিদ নেই তার মুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক হলো শয়তান। (ক্বওলুল জামীল, নুরুন আলা নূর, তাছাউফ তত্ত্ব)

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন শিক্ষা করছো, তাকে দেখে নাও। (মুসলিম শরীফ)তাই, ইসলাম কখনও বলে না যে তোমরা কোন ওলী-আল্লাহর কাছে যেও না, বরং উনাদের কাছে যাওয়ার জন্যই নির্দেশ করা হয়েছে

ওলী-আল্লাহগণের বিরোধিতা প্রসঙ্গে হাদীসে ইরশাদ, হয়েছেঃ- ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ ، ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻗَﺎﻝَ ﻣَﻦْ ﻋَﺎﺩَﻯ ﻟِﻲ ﻭَﻟِﻴًّﺎ ﻓَﻘَﺪْ ﺁﺫَﻧْﺘُﻪُ ﺑِﺎﻟْﺤَﺮْﺏِ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﻘَﺮَّﺏَ ﺇِﻟَﻲَّ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﺃَﺣَﺐَّ ﺇِﻟَﻲَّ ﻣِﻤَّﺎ ﺍﻓْﺘَﺮَﺿْﺖُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻳَﺰَﺍﻝُ ﻋَﺒْﺪِﻱ ﻳَﺘَﻘَﺮَّﺏُ ﺇِﻟَﻲَّ ﺑِﺎﻟﻨَّﻮَﺍﻓِﻞِ ﺣَﺘَّﻰ ﺃُﺣِﺒَّﻪُ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺃَﺣْﺒَﺒْﺘُﻪُ ﻛُﻨْﺖُ ﺳَﻤْﻌَﻪُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺴْﻤَﻊُ ﺑِﻪِ ﻭَﺑَﺼَﺮَﻩُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺒْﺼِﺮُ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﺪَﻩُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﺒْﻄِﺶُ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺭِﺟْﻠَﻪُ ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻳَﻤْﺸِﻲ ﺑِﻬَﺎ ﻭَﺇِﻥْ ﺳَﺄَﻟَﻨِﻲ ﻟَﺄُﻋْﻄِﻴَﻨَّﻪُ ﻭَﻟَﺌِﻦْ ﺍﺳْﺘَﻌَﺎﺫَﻧِﻲ ﻟَﺄُﻋِﻴﺬَﻧَّﻪُ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺮَﺩَّﺩْﺕُ ﻋَﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﺃَﻧَﺎ ﻓَﺎﻋِﻠُﻪُ ﺗَﺮَﺩُّﺩِﻱ ﻋَﻦْ ﻧَﻔْﺲِ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻦِ ﻳَﻜْﺮَﻩُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﻛْﺮَﻩُ ﻣَﺴَﺎﺀَﺗَﻪُ .
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার অলীর সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছিআমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করেআমার বান্দা নফল কাজের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকেঅবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলিযখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করেসে আমার কাছে কিছু চাইলে, আমি তাকে তা দেইসে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেইআমি যা করার ইচ্ছা করি, সে ব্যাপারে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি না কেবল মুমিনের আত্মার ব্যাপার ছাড়াসে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি। [বুখারী শরিফঃ ৬৫০২]


অতএব কোরআন সুন্নাহ দিয়ে প্রমান হলো অলি আউলিয়াদেরকে মুহব্বত উনাদের কে ইজ্জত করা জায়েজ, এখন যারা ওলি আউলিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে কি মুসলমান বলা যাবে আমার মুমিন মুসলমান ভাইয়েরা? অতএব না বুজে ফাল পাড়বেন না আর আরেকটি কথা অলি মানে দেওয়ানবাগির মতো ভণ্ড পিরেরা নয় এটাও মনে রাখবেন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: