11.29.2014

জেনে নিন রহস্যেঘেরা ‘আদম পাহাড়ের কথা ।

জেনে নিন রহস্যেঘেরা ‘আদম পাহাড়ের কথা ।
জেনে নিন রহস্যেঘেরা ‘আদম পাহাড়ের কথা ।
শ্রীলংকার রহস্যময় এক পাহাড়নাম তার আদম পাহাড় নানা কারণে এ পাহাড়টি রহস্যে ঘেরা, এর শীর্ষে রয়েছে বিরাট আকারের এক পায়ের ছাপ যা মূলত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পবিত্র পাও মোবারকের চিনহরহস্য তা নিয়েইএ পায়ের ছাপকে সব ধর্মের মানুষই পবিত্র হিসেবে মনে করে

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বে নানা রকম পায়ের ছাপ পাওয়া গেছেতা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা কল্পনাএসব পায়ের ছাপ একেকটা একেক রকমআকৃতি নানা রকমকিন্তু এসব পায়ের ছাপ সম্পর্কে মানুষের জানার আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরেএমনই এক পায়ের ছাপ আদম পাহাড়েশ্রীলংকার মুসলমানরা বিশ্বাস করেন পৃথিবীর আদি মানব হজরত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম এই শ্রীলংকায় পদার্পণ করেছিলেনওই পাহাড়ে রয়েছে উনারই পায়ের ছাপতার জন্য এ পাহাড় ও পাহাড়ের ওই পায়ের ছাপ মুসলমান উনাদের কাছে পবিত্র হিসেবে পরিণতি হয়ে আসছে

শুধু শ্রীলংকার মুসলমান উনারাই নন, এর বাইরের অনেক দেশের মুসলমান উনারা বিশ্বাস করেন হজরত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে যখন পৃথিবীতে পাঠানো হয় তখন তিনি প্রথম পা রাখেন শ্রীলংকায়আর আদম পাহাড়ের ওপর ওই পায়ের ছাপ দেখে তারা মনে করেন তা হজরত আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনারএজন্য মুসলমানরা এ পাহাড়কে অসীম শ্রদ্ধার চোখে দেখেনআর এজন্য এর নাম দেয়া হয়েছে আদমস পিক বা আদমের পাহাড়এ পাহাড়ের প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে রহস্য

এ পাহাড়ের চূড়ায় যে পদচিহ্ন রয়েছে সেখানে পৌঁছা খুব ঝুঁকিপূর্ণ এডভেঞ্চারতবে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে সেখানে গিয়েছেনতারা নিজের চোখে ওই পায়ের ছাপ দেখে বিস্মিত হয়েছেনএই পায়ের ছাপ শুধু মুসলমানদের কাছেই নয়, একই সঙ্গে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও হিন্দুদের কাছেও পবিত্রতারাও মনে করে তাদের ধর্মের সঙ্গে এর রয়েছে ওতপ্রোত সম্পর্ক যদিও তা কাল্পনিকতবুও এতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আদমের পাহাড় সব শ্রেণীর মানুষের কাছেই পবিত্রতারা শ্রদ্ধার চোখে দেখে এ পাহাড়কেতারা সবাই স্বীকার করে এ পাহাড়ের চূড়ায় আছে ওই পবিত্র পদচিহ্নউনার আকৃতি বিশালশুধু এজন্যই নয়, এ পাহাড় নিজেই একটি রহস্য

এ্যাডামস পিক পাহাড় আরোহণ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণচূড়ায় পৌঁছতে হলে যে পথ তা চলে গেছে জঙ্গলের ভিতর দিয়েসেই জঙ্গল নানারকম ঝুঁকিপূর্ণআছে বিষধর কীটপতঙ্গতবে চূড়ার কাছাকাছি একটি ধাতব সিঁড়ি আছেতাতে রয়েছে ৪০০০ ধাপএর প্রতিটি ধাপ নিরাপদ নয়তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষে যেতে হলে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা সময় লাগেজটিল এক আবহাওয়ার এক অঞ্চলের মধ্যে এর অবস্থানবছরে মাত্র তিন থেকে চার মাস এ পাহাড়ে আরোহণ করা যায়বছরের অন্য সময়টাতে এতে আরোহণ অসম্ভব হয়ে ওঠেকারণ, কাব্যিক অর্থে বলা যায় এ পাহাড় তখন মেঘের ভিতর লুকিয়ে যায়চারদিক থেকে মেঘে জেঁকে ধরে

এ পাহাড় ও পাহাড়ের পদচিহ্ন নিয়ে একটি বই লিখেছেন মারকুস অকসল্যান্ডবইটির নাম দ্য স্যাক্রেট ফুটপ্রিন্ট: এ কালচারাল হিস্ট্রি অব আদমস পিকএতে বলা হয়েছে, এ পাহাড়টি ২২৪৩ মিটার উঁচুআকৃতি কোণের মতোভারত মহাসাগর থেকে এ পাহাড় পরিষ্কারভাবে দেখা যায়আগেকার দিকে আরবের সৌখিন ব্যক্তিরা সমুদ্র যাত্রায় এসে পিরামিডের আকৃতির এ পাহাড় দেখে পুলকিত হতেনতাদের কেউ কেউ এটাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পাহাড় বলেও অভিহিত করেছেন

প্রাচীনকালে সিংহলিরাও এ পাহাড়কে বিশাল উচ্চতার বলে মনে করতকেউ কেউ মনে করত এটিই বিশ্বের সর্বোচ্চ পাহাড়৮৫১ সালে এ পাহাড়ে পদচিহ্ন প্রথম দেখতে পান আরবের মোঃ সোলাইমানরত্নপুরা হয়ে পবিত্র এ পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন বিখ্যাত আরব দার্শনিক ইবনে বতুতাতিনি এখানে উঠার জন্য যাত্রা শুরু করেছিলেন বারবেরিন থেকেতার আগে ব্যাপক পরিচিত বণিক ও ভ্রমণ পিপাসু মার্কো পোলো আদম আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পদচিহ্নে উনাকে সম্মান জানানোর জন্য আরোহণ করেন এ পাহাড়েতিনি ১২৯২ সালে চীন থেকে ভেনিস যাওয়ার পথে এ সফর করেন


এ পাহাড়ের চূড়া সামান্য একটি সমতল ক্ষেত্র১৮১৬ সালে লেফটেন্যান্ট ম্যালকম এর পরিমাপ করেনতাতে দেখা যায় এর দৈর্ঘ্য ৭৪ ফুট এবং প্রস্থ মাত্র ২৪ ফুটমোট আয়তন ১৭৭৬ বর্গফুটএর চূড়ায় রয়েছে একটি প্রকাণ্ড পাথরখণ্ডএর উচ্চতা ৮ ফুটএর ওপরেই রয়েছে ওই পদচিহ্নএর দৈর্ঘ্য ৬৮ ইঞ্চি৩১ ইঞ্চি চওড়াএই পদচিহ্নকে খ্রিস্টানরাও সম্মানের চোখে দেখেসকল ধর্মের মানুষের কাছেই এ এক মিলন মেলার নাম যেখানে সকলেই খুঁজে পায় তার বিশ্বাস আর শান্তির উৎস

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: