11.04.2014

নবী নন্দিনী উনার ঘর-সংসার - ভাই ও বোনেরা অবশ্যই পড়বেন।

নবী নন্দিনী উনার ঘর-সংসার - ভাই ও বোনেরা অবশ্যই পড়বেন।
নবী নন্দিনী উনার ঘর-সংসার
হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সবথেকে আদরের কন্যা। উনার নিকাহ মুবারকের আগে তিনি একজন আলোকিত বালিকা ছিলেন। নিকাহ মুবারকের সংসার-জীবনেও তিনি হয়ে ওঠেন মুসলিম নারী সমাজের অনুপম উদাহরণ। হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তিনি বহুমুখী কর্মকান্ডের মাধ্যমে ধর্মনিষ্ঠ ও খোদা-ভীরু মহিলার এক শ্র্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। স্বামীর প্রতি আনুগত্যে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তার যাপিত জীবন সব মুসলিম নারীর জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। অপরিসীম গুণের আধার হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তিনি একসময় বড় হয়ে উঠলেন। তিনি পূর্ণ বয়সে উপনীত হলে বহু স্বনামধন্য সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন নিকাহ মোবারকের জন্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছে প্রস্তাব দেন। অবশেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নিজ চাচাতো ভাই হজরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াসহাহু (আলাইহিস সালাম) উনার সঙ্গে আদরের মেয়ের নিকাহ মোবারক দেন। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত অনাড়ম্বরভাবে হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) উনার নিকাহ মোবারক সম্পন্ন করেন। ইচ্ছা করলে বড় ধনী সাহাবা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে তিনির নিকাহ মোবারক দিতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি। বরং নিকাহ মোবারকের পর হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) উনাকে সান্ত্বনা দিলেন, 'মা ফাতেমা! তোমাকে আমি অপাত্রে দান করিনি। সে খুবই ভালো একজন মানুষ। সর্বপ্রথম ইসলামে দীক্ষিত এবং আমার সাহাবিদের মধ্যে জ্ঞান-গরিমায়, বিদ্যা-বুদ্ধিতে ও শৌর্য-বীর্যে সবার সেরা ব্যক্তির হাতেই তোমাকে সমর্পণ করেছি।' এ কথা শুনে হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তিনি খুশি হলেন।
সংসার-জীবনে হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তিনি ছিলেন পরিতৃপ্ত। কখনও কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি। হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তিনি আরবের সবচেয়ে ধনাঢ্য মহিলা হজরত খাদিজাতুল কুবরা (আলাইহাস সালাম) উনার উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাকে তিন দিন পর্যন্ত উপবাস থাকতে দেখা যেতো। সংসারের যাবতীয় কাজ নিজ হাতে করতে হতো। এতে তার হাতে ও কোমরে দাগ পড়ে যেতো। শুধু তাই নয়, শিশুদের দোলনা ঝোলানো ও আটা পেষাসহ সংসারের সব কাজ নিজ হাতেই সম্পন্ন করতেন। অবসরে উলের সুতা কেটে পরিবারের ভরণপোষণের কাজে হজরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (আলাইহিস সালাম) উনাকে সাহায্য করতেন।
এ দম্পতির সংসার ছিল অভাব-অনটনে জর্জরিত, যা খুবই বেদনাদায়ক। হজরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (আলাইহিস সালাম) বলেন, হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তিনির সঙ্গে নিকাহ মোবারক হওয়ার সময় আমার কোনো বাসস্থান ছিল না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সঙ্গেই কেটে যেত সময়। ছিল না একটা বিছানাও। একটা চামড়া ছিল, যা আমরা রাতের বেলা বিছানা এবং দিনে পানির পাত্র হিসেবে ব্যবহার করতাম। একটি চাদর ছিল, তাও অপ্রশস্ত, যা দিয়ে পা ঢাকলে মাথা, মাথা ঢাকলে পা উদোম হয়ে যেত। হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) এসব কষ্ট মেনে নিতেন। বিলাসিতার জীবন-যাপনের চিন্তাও করতেন না তিনি।' হজরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (আলাইহিস সালাম) দাওয়াতের কাজে ব্যস্ত থাকতেন। আর্থিক উন্নতির অবকাশ ছিল না। হজরত হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) কখনও কোনো বিষয়ে স্বামীকে পীড়াপীড়ি করতেন না। সন্তুষ্ট-চিত্তে নিজ হাতে ঘরের যাবতীয় কাজ করে যেতেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংসারে জাঁকজমক ও অপচয় মোটেও পছন্দ করতেন না। একবার হজরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (আলাইহিস সালাম) শখ করে স্ত্রীকে একটি সোনার হার বানিয়ে দিয়েছিলেন। দুনিয়া আসক্তির ভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোনার হারটি নিয়ে বিক্রি করে দেন এবং এর মূল্য দিয়ে একটা গোলাম খরিদ করে দিলেন। তেমনি একদিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আসার খবর পেয়ে হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) উনার ঘর সাজালেন। দরজায় সুন্দর পর্দা ঝোলালেন। শিশু ইমাম হাসান ও হোসেন আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে রুপার বালা পরালেন। এসব জাঁকজমক ও চাকচিক্য দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) উনার বাড়ি থেকে ফিরে এলেন। হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) তা জানতে পেরে সব সাজসজ্জা অপসারণ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে আগমন করেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) উনাকে সব সময় স্বামীর আনুগত্য করার নির্দেশ দিতেন। একদিন হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) কোনো কারণে স্বামীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তার প্রতিকারের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছে গিয়ে স্বামীর রাগের বিরুদ্ধে নালিশ জানালেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, হে মা! মনোযোগ দিয়ে শোন, পৃথিবীতে এমন দম্পতি নেই, যাদের মধ্যে কোনো মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়নি। তাছাড়া স্ত্রী লোকের ইচ্ছামোতাবেক কাজ করা পুরুষের জন্য জরুরি নয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সামান্য মনোমালিন্য হতে পারে। বাড়াবাড়ি না করে তা সহজে মিটিয়ে ফেলাই শ্রেয়। হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) উনার দাম্পত্য জীবনেও এমনটি ঘটেছে। সেক্ষেত্রে তারা দ্রুত মীমাংসায় চলে এসেছেন। হজরত ফাতেমাতুজ যাহ্‌রা (আলাইহাস সালাম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছ থেকে ঘর-সংসারের নানা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করতেন। পৃথিবীর সব মানুষ তথা দম্পতির জন্য, তা পরম আদর্শ ও শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত।

এতএব প্রানপ্রিয় ভাই ও বোনেরা একবার ভেবে দেখুন নবি নন্দিনি উনার যদি হয় এই অবস্থা তাহলে আপনাদের কেমন হওয়া উচিৎ?

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: