11.01.2014

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত সকল (৫০ জন) বংশ-পুরুষের নাম।

জেনে নিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত সকল (৫০ জন) বংশ-পুরুষের নাম পবিত্র সাজরা শরিফ যা নিচে একাধারে বর্ণনা করা হলো।

 নূরে মুজাসসাম, রাহমাতাল্লিল আলামিন, শাফিউল মুজনবিন,  সায়্যিদুল কাওনাইন,  সাইয়্যিদুল মুরসালীনইমামুল মুরসালীনখাতামুন্ নাবিইয়ীন, হযরত মুহম্মদ আহাম্মদে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস্ সালাম। হাদীস শরীফে আছে মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট অতি প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান” নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানিত পিতা সেই প্রিয় নামেরই অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুল হালাবিয়া ১/৯)
। সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস্ সালাম। তিনি উনার সম্প্রদায়ের সাইয়্যিদ .ছিলেন। (রওদুল উন্ফ ১/২৩)
তিনি সেই ব্যক্তি যিনি জাহিলী যুগেই নিজের জন্য শরাবকে হারাম করেছেন। তিনি ছিলেন মুজতাজাবুদ দাওয়াতমানে উনার দোয়া কবুল হতো (সূরা ফীলের শানে নুজুল দেখুন )। কুরাইশদের সহনশীল ধৈর্য্যশীল এবং সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তিগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। দানশীলতার জন্য উনাকে ফাইয়াজ” উপাধিতে অবহিত করতো মানুষ” (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/৯)
। সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস্ সালাম
। সাইয়্যিদুনা হযরত আবদে মানাফ আলাইহিস্ সালাম। উনার নাম মুগীরা। তিনি অতি সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিলেন। সেই সৌন্দর্যের
কারণে উনাকে উপত্যকার চাঁদ’ উপাধিতে সম্বোধন করা হতো” (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/১৩ রওদুল উন্ফ ১/২৫তারিখতু তাবারী ১/২৩৭)
। সাইয়্যিদুনা হযরত কুসাই আলাইহিস্ সালাম
। সাইয়্যিদুনা হযরত কিলাব আলাইহিস্ সালাম
। সাইয়্যিদুনা হযরত র্মুরা আলাইহিস্ সালাম
। সাইয়্যিদুনা হযরত কাব আলাইহিস্ সালাম
১০। সাইয়্যিদুনা হযরত লুয়াই আলাইহিস্ সালাম
১১। সাইয়্যিদুনা হযরত গালিব আলাইহিস্ সালাম
১২। সাইয়্যিদুনা হযরত ফিহির আলাইহিস্ সালাম
১৩। সাইয়্যিদুনা হযরত মালিক আলাইহিস্ সালাম
১৪। সাইয়্যিদুনা হযরত নযর আলাইহিস্ সালাম
১৫। সাইয়্যিদুনা হযরত কিনানাহ্ আলাইহিস্ সালাম
১৬। সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস্ সালাম
১৭। সাইয়্যিদুনা হযরত মাদ্রিকাহ্ আলাইহিস্ সালাম
উনার নাম মুবারক আমর। এই কারণে উনাকে মাদরিকাহ্ বলা হয় যেতিনি সেই যুগের সমস্ত সম্মান-ইজ্জত ও গৌরবের অধিকারী ছিলেন। উনার মধ্যে আখিরী রসূল নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নূর মুবারক এমন উজ্জ¦লভাবে প্রকাশ ঘটেছিলযা সবাই দেখতে পেতেন” সুবহানাল্লাহ! (রওদুল উন্ফ ১/৩০)
১৮। সাইয়্যিদুনা হযরত ইলিয়াস আলাইহিস্ সালাম। তিনি ছিলেন উনার সম্প্রদায়ের সাইয়্যিদ।  হাদীছ শরীফে আছে, “তোমরা হযরত ইলিয়াস আলাইহিস্ সালামকে গালি দিও না। কারণতিনি ছিলেন প্রকৃত মুমিন। তিনিই উনার পিঠ মুবারক এর মধ্যে আখিরী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তালবিয়া (যা হজ্জের মধ্যে পড়া হয়) পাঠ শুনতে পেতেন” সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/২৭রওদুল উন্ফ- ১/৩০)
১৯। সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বার আলাইহিস্ সালাম। উনার কন্ঠস্বর  ছিলো অত্যন্ত সুন্দর।  হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, “তোমরা হযরত মুদ্বার আলাইহিস সালামকে গালি দিও নামন্দ বলিও না। কারণ তিনি হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালামের  পবিত্র দ্বীন/ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন” সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/২৭ রওদুল উন্ফ ১/৩০)
২০। সাইয়্যিদুনা হযরত নিযার আলাইহিস্ সালাম। তিনি স্বীয় চক্ষু মুবারকের সামনে নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নূর দেখতে পেতেন” সর্বপ্রথম আরবী ভাষায় বিশুদ্ধ কিতাব তিনিই রচনা করেন। (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/২৮)
২১। সাইয়্যিদুনা হযরত মায়াদ আলাইহিস্ সালাম। তিনি জিহাদপ্রিয় ছিলেন অর্থাৎ তিনি বড় মুজাহিদ ছিলেন। এমন কোনো জিহাদ নেই যেতিনি বিজয়ী হননি। সুবহানাল্লাহ! (সীরাতুল হালাবিয়া- ১/২৮)
২২। সাইয়্যিদুনা হযরত আদ্নান আলাইহিস্ সালাম
২৩। সাইয়্যিদুনা হযরত আদ্দ আলাইহিস্ সালাম
২৪। সাইয়্যিদুনা হযরত মাকুম আলাইহিস্ সালাম
২৫। সাইয়্যিদুনা হযরত নাহুর আলাইহিস্ সালাম
২৬। সাইয়্যিদুনা হযরত তারিহ্ আলাইহিস্ সালাম
২৭। সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়ারিব আলাইহিস্ সালাম
২৮। সাইয়্যিদুনা হযরত ইয়াশ্যুব আলাইহিস্ সালাম
২৯। সাইয়্যিদুনা হযরত নাবিত আলাইহিস্ সালাম
৩০। সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাইল আলাইহিস্ সালাম। তিনি একজন রসূল

৩১। সাইয়্যিদুনা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম। তিনি মুসলিম মিল্লাতের পিতা। মহান আল্লাহর রসূল
৩২। সাইয়্যিদুনা হযরত তারাহ আলাইহিস্ সালাম। যদিও কেউ কেউ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালামর পিতা হিসাবে আযরের নাম উল্লেখ করেছে। নাউযুবিল্লাহ! এটা কুফরী আক্বীদা। কারণ আযর কাফির ছিলো। তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ও অশুদ্ধ এবং কাট্টা কুফরী। কারণ সীরাতুল হালাবিয়াসহ অন্যান্য সীরাত গ্রন্থে উল্লেখ আছে
اجمع اهل الكتاب على أن ازر كان عمهوالعرب سمى العم ابا كما تسمى الخالة
অর্থাৎ আহলে কিতাবদের ইজমা হয়েছে যেআযর ছিল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনার চাচা। আরবরা সাধারণত চাচাকে বাবা বলে সম্বোধন করেন। যেমন খালাকে মা বলে সম্বোধন করতেন। (সীরাতুল হালাবিয়া-১/৪৫)
৩৩। সাইয়্যিদুনা হযরত নাহুর আলাইহিস্ সালাম
৩৪। সাইয়্যিদুনা হযরত আরগুবী আলাইহিস্ সালাম
৩৫। সাইয়্যিদুনা হযরত সারিহ্ আলাইহিস্ সালাম
৩৬। সাইয়্যিদুনা হযরত ফালিহ্ আলাইহিস্ সালাম
৩৭। সাইয়্যিদুনা হযরত আবির আলাইহিস্ সালাম
৩৮। সাইয়্যিদুনা হযরত শালিখ আলাইহিস্ সালাম
৩৯। সাইয়্যিদুনা হযরত আরফাখ্শাজ আলাইহিস্ সালাম
৪০। সাইয়্যিদুনা হযরত শাম আলাইহিস্ সালাম
৪১। সাইয়্যিদুনা হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম। তিনি মহান আল্লাহর রসূল। সুবহানাল্লাহ!
৪২। সাইয়্যিদুনা হযরত লাম্ক আলাইহিস্ সালাম
৪৩। সাইয়্যিদুনা হযরত মাতুশালাখ আলাইহিস্ সালাম
৪৪। সাইয়্যিদুনা হযরত আখনুখ আলাইহিস্ সালাম। যিনি হযরত ইদ্রীস আলাইহিস্ সালাম নামে পরিচিত। উনার উপর ৩০খানা ছহীফা নাযিল হয়েছিল। (তারিখুত তাবারী ১/৫১৮)
৪৫। সাইয়্যিদুনা হযরত ইর্য়াদ আলাইহিস্ সালাম
৪৬। সাইয়্যিদুনা হযরত মাহ্লাইল আলাইহিস্ সালাম
৪৭। সাইয়্যিদুনা হযরত কাইনান আলাইহিস্ সালাম
৪৮। সাইয়্যিদুনা হযরত আনুশ আলাইহিস্ সালাম
৪৯। সাইয়্যিদুনা হযরত শীস আলাইহিস্ সালাম। তিনিও মহান আল্লাহর রসূল ছিলেন। উনার উপর ৫০খানা সহীফা নাযিল হয়েছিল
৫০। সাইয়্যিদুনা  হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম। তিনি সর্বপ্রথম নবী ও রসূল। উনার উপর ১০খানা ছহীফা নাযিল হয়েছিল

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত
সকল (৫০ জন) বংশ-পুরুষের নাম।

(সূত্র: দালায়িলুন্ নবুওওয়াত লিল বাইহাক্বী ১/১৭৯- সীরাতু ইবনে হিশাম- ১/১-২সীরাতুল হালাবিয়া- ১/৯মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াতারিখুত্ তাবারী ১/৪৯৭ রাওদুল উন্ফ ১/২৩ শরহুল আল্লামাতিয্ যারকানী ১/৩৫ ইত্যাদি)

উল্লেখ্য তাহ্ক্বীকুল মাক্বাম আলা কিফাইয়াতিল আওয়াম” কিতাবে উল্লেখ রয়েছে ,  নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
অর্থ: আমি সব সময় পবিত্র পুরুষদের পৃষ্ঠ মুবারক হতে পবিত্রা মহিলাগণ উনাদের রেহেম শরীফে স্থানান্তরিত হয়ে আসতেছিলাম” (সুবহানাল্লাহ)

অনেকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ব-পুরুষদের মুশরিক বলতে চায় (নাউযুবিল্লাহ মিন জালিক)। এটা কুফরী আকিদাকারণ মুশরিকরা নাপাকনবীজি কাফিরদের মধ্যে দিয়ে এসেছেন। (নাউযুবিল্লাহ)। উনার পবিত্রতম চরিত্রে কালিমা লেপন করতে কাফিররাই এটা রটিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ব পুরুষগণ জান্নাতি ও পবিত্র তো অবশ্যই। বরং উনারা ছিলেন ঐ জামানার নবী-রাসূল অথবা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। (সুবহানাল্লাহ)।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: