11.19.2014

নামাজ নিয়ে পবিত্র কোরআন উল কারিমে কিছু গুরুতপূর্ন কথা এবং ইসলামে (সালাত)নামাজ এর অবস্থান।

নামাজ নিয়ে কোরআনে কিছু গুরুতপূর্ন কথা ইসলামে (সালাত)নামাজ এর অবস্থান একটু দেখেন, ভালকিছু জানবেন? সম্মানিত ফ্যানগন ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ কেমন আছেন সবাই, আসা করি ভালসবাই ভাল থাকুন এই কামনা 

সালাত আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো- কারো দিকে মুখ করাঅগ্রসর হওয়াদোয়া করানিকটবর্তি হওয়াপবিত্রতা বর্ণনা করাক্ষমা প্রার্থনা করা। তবে সালাত নামায হিসেবেই আমাদের কাছে বেশী পরিচিত নামায ফারসী শব্দ। কোরআনের পরিভাষায় নামাযের অর্থ হলো আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেওয়াতাঁর দিকে অগ্রসর হওয়াতাঁর কাছে যাওয়াতাঁর একেবারে নিকটবর্তি হওয়া। এই সালাতের হুকুম দেয়া হয়েছে ইকামত শব্দের মাধ্যমে। ইসলামের ৫টি মৌল ভিত্তির মধ্যে সালাত দ্বিতীয়

নামাজ নিয়ে পবিত্র কোরআন উল কারিমে কিছু গুরুতপূর্ন কথা এবং ইসলামে (সালাত)নামাজ এর অবস্থান। 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি এরশাদ মোবারক করেছেন- "সালাত হচ্ছে মুমিনের জন্য মিরাজস্বরূপ

ইসলামের ৫টি মৌল ভিত্তির মধ্যে সালাতের অনস্তান দ্বিতীয়ঃ আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি আল-কোরাআন উল কারিম উনার বিভিন্ন জায়গায় বলেছেনঃ-

সূরা আনআমের ১৬২ নং আয়াত শরিফে ঘোষণা করেন- ''নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কোরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সবকিছু বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
সূরা যারিয়াতের ৫৬ নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন- ''আমি জ্বিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেনি
সূরা আনআমের ৭৯ নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন-  ''আমি নিষ্ঠার সাথে সেই মহান সার্বভৌম মালিকের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি যিনি এই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, আমি মুশরিকদের দলভুক্ত নই

সূরা মুমিনুন-এর ১-২নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন-  ''নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে মুমিনরা, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়াবনত হয়সূরা মুমিনুন-এ আল্লাহ মুমিনদের ৭টি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন

সূরা আলাকের ১৯ নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন-  ''সিজদা কর ও আল্লাহর নিকটবর্তী হও

সূরা বাকারার ৪৩ ও ৪৫ নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন- ''নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান করএবং যারা আমার সামনে অবনত হচ্ছে তাদের সাথে তোমরাও অবনত হওসবর ও নামায সহকারে সাহায্য চাওনিঃসন্দেহে নামায বড়ই কঠিন কাজ, কিন্তু সেসব অনুগত বান্দাদের জন্য নয় যারা মনে করে, সবশেষে মিলতে হবে তাদের রবের সাথে এবং তারই দিকে ফিরে যেতে হবে

সূরা আল কালাম এর ৪২-৪৩ নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন-  ''যেদিন কঠিন সময় এসে পড়বে এবং সেজদা করার জন্য লোকদেরকে ডাকা হবে কিন্তু তারা সেজদা করতে সক্ষম হবে নাতাদের দৃষ্টি হবে অবনতহীনতা ও অপমানবোধ তাদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলবেএর আগে যখন তারা সম্পর্ণ সুস্থ ছিল তখন সিজদার জন্য তাদের ডাকা হলে তারা অস্বীকৃতি জানাতো

এটা আয়শা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, নবী করিমকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন - তুমি এভাবে নামায আদায় করবে যেন তুমি স্বয়ং আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনাকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তোমার পক্ষে তা সম্ভব না হয়, তবে তুমি অবশ্যই মনে করে নিবে যে, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি তোমাকে সর্বক্ষণ দেখছেন (মুসলিম শরীফ)

আবু হোরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন - নবী করিমকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কেয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্য থেকে যে আমলটির হিসাব সর্বপ্রথম গ্রহণ করা হবে সেটিই হলো নামাযযদি এ হিসাবটি নির্ভুল পাওয়া যায় তাহলে সে সফলকাম হবে ও নিজের লক্ষে পৌঁছে যাবেআর যদি এ হিসাবটিতে ভুল দেখা যায় তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও ধ্বংস হয়ে যাবেযদি তার ফরযগুলোর মধ্যে কোন কমতি থাকে তাহলে মহান ও পরাক্রমশালী - অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার অনুগত নয় এবং আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তার জন্য নিয়মিত নামায পড়া একটি আপদের শামিলকিন্তু যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে আল্লাহর আনুগত্যের নিজেকে সোপর্দ করেছে এবং যে ব্যক্তি মৃত্যুর পর তার মহান প্রভুর সামনে হাযির হবার কথা চিন্তা করে, তার জন্য নামায ত্যাগ করাই কঠিন


নিশ্চয়ই নামায মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে নামাযীকে ফিরিয়ে রাখে:-

সূরা আনকাবুতের ৪৫নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন- ''তোমার প্রতি অহির মাধ্যমে যে কিতাব পাঠনো হয়েছে তা তেলাওয়াত করো এবং নামায কায়েম করো, নিশ্চয়ই নামায মন্দ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা নিশ্চয়তা দিয়েই কথাটি বলেছেনঅর্থাৎ আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন নামায কায়েমের মাধ্যমে সমাজ থেকে অশ্লীল ও নিষিদ্ধ কাজগুলো বন্ধ করতে চান

যে উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন নামায ফরয করেছেন, মুসলমানদের ব্যক্তি ও সমাজে বর্তমানে নামায সে উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থ হচ্ছে সালাতের গুরুত্বঃ হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর সমস্ত গভর্ণরদের কাছে এই মর্মে নির্দেশ জারি করেন যে- তোমাদের যাবতীয় দায়-দায়িত্বের মধ্যে নামাযই আমার নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণইসলামী জীবন বিধানে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল

প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছেঃ-

পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার আদেশ মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে আরশে আযীমে ডেকে নিয়ে সরাসরি দিয়েছিলেন কিন্তু অন্য সকল কাজের আদেশ জীব্রাঈল (আলাইহিস সালাম)-উনার মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেনপবিত্র কোরআন উল কারিমে ৮২ বার নামাযের কথা বলা হয়েছেসন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয় তখন নামায শিক্ষা দেয়া এবং দশ বছর বয়সে নামায পড়তে বাধ্য করার জন্য পিতা-মাতার প্রতি নির্দেশ রয়েছে

নামায ফরয হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তা অবশ্য পালনীয়মহিলাদের বিশেষ অবস্থা, অজ্ঞান ও পাগল হওয়া ছাড়া নামায থেকে বিরত থাকার কোন সুযোগ নেইঅসুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়তে ব্যর্থ হলে বসে, বসে পড়তে না পারলে শুয়ে শুয়ে এবং তাও না হলে ইশারায় নামায পড়ার বিধান রয়েছেসফরে রোজার জন্য শিথিলতা থাকলেও নামায সংক্ষিপ্তাকারে পড়ার বিধান রয়েছেএমনকি কোন অমুসলিম যদি আসরের সময় ইসলাম কবুল করে তবে ঐ দিন আসরের নামায থেকে তার ওপর নামায ফরয হয়ে যায়


বিশ্বের সবাই আল্লাহর তসবীহ্ পাঠ করে:-

সূরা আন নূরের ৪১ নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন-  ''তুমি কি দেখ না যে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবাই এবং উড়ন্ত পাখিরা আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছেওদের প্রত্যেকের জানা কিভাবে আল্লাহর মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করতে হয় গাছপালা পাহাড়-পর্বতসমূহ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, চতুর্দ জন্তুসমূহ অবনত হয়ে অর্থাৎ রুকুর হালতে, সরিসৃপ প্রাণীসমূহ বুকের উপর ভর দিয়ে অর্থাৎ সিজদার হালতে আর ব্যাঙ, কুকুর, বিড়াল, শিয়াল প্রভৃতি প্রাণীসমূহ তাশাহুদের সূরতে আল্লাহর তাসবীহ করছেআশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে মানুষ দাঁড়িয়ে, অবনত হয়ে, সিজদার হালতে ও তাশাহুদের সূরতে একমাত্র নামাযের মাধ্যমেই আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করতে সমর্থ হয় নামাযের মাধ্যমে কালেমার ওয়াদা পালনের অভ্যাস হয়:নামায এমন এক আমল যেখানে নামাযীর মন-মগজ, মুখ, হাত-পা, চোখ-কানথ সবই ব্যবহার করতে হয় নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবসময় সর্বাবস্থায় যা কিছু করা হয় বা বলা হয়, তা সবই আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার হুকুম ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার তরীকা মতো করতে হয়কোনো একটা কাজও নামাযীর নিজের ইচ্ছেমতো করা চলে নাএভাবে প্রতিদিন পাঁচবার নামাযে আল্লাহ পাক রাব্বুলা আলামিন উনার হুকুম ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম উনার তরীকা মতো মন-মগজ ও শরীরের সব অঙ্গকে কাজে লাগিয়ে কালেমার ২ দফা ওয়াদা পালনের অভ্যাস হয়

নামায আল্লাহকে ভুলতে দেয় নাঃ

সূরা তোয়াহার ১৪নং আয়াত শরিফে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেন- ''আমাকে মনে রাখার জন্য নামায কায়েম কর নামায আমাদেরকে সবসময় মনে করিয়ে দেয় যে-আমরা সবসময়ই আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা আমরা করতে পারি নাএভাবেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায যে মসজিদে আদায় করতে অভ্যাস করে নেয়, সে আল্লাহকে ভুলে থাকতে পারে না
মুসলমানদের নামাজের  ফল অর্জন না হওয়ার চারটি কারণ হলোঃ

নামাজের শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ না করা
নামাজের সূরা, দোয়া তাসবিহর সঠিক উচ্চারণ বা কেরাত বিশুদ্ধ না হওয়া
নামাজের গুরুত্বপূর্ণ নিময়কানুন বা মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে অজ্ঞতা

নামাজে পাঠকৃত সূরা, দোয়া তাসবিহর অর্থ ও তাৎপর্য না জানা

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন। 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: