11.03.2014

নিজের নফস কে করার জন্যে কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন! যদি পারেন তো জবাব দিন?

নিজের নফস কে করার জন্যে কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন! যদি পারেন তো জবাব দিন?
আজকের মুসলমান।
আসসালামু আলাইকুম প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের নফস কে করার জন্যে কিছু প্রয়োজনীয় প্রশ্ন! যদি পারেন তো জবাব দিন, না পারলে পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার দিকে ফিরে আসুনঃ আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন পরম করুনাময় আর অসিম দয়ালু যার দয়া হতে বঞ্ছিত কেউই নয়। আসুন নিচের বিষয় গুলো একটু ফিকির করি।

১/ আপনি শুধু জুমআর নামাজই পড়েন কেন? তাও ২ রাকাতঃ আপনাকে কি পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি শুধু জুমার দিনেই আলো, বাতাস, পানি খাবার দিয়ে থাকেন? শনিবার দেন না? রবি, সোম, মঙ্গল সব দিনই তো দেন, সবদিন পরিপূর্ণ পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার নেয়মত ভোগ করেন, কিন্তু পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনাকে শুধু একদিনই স্মরণ করেনএবার বলুন আপনি কি ঠিক পথে আছেন? এটা কি স্পষ্টত অপরাধ নয়?
...............................................................জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন

২/ আপনি কি মনে করেন ইসলাম শুধু মসজিদ, মাদ্রাসায়, ইমাম, আলেমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ? সবার জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কি ইসলাম নয়? তাহলে আমাদের প্রিয় নবী করিম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জীবনের প্রতিটি অংশই কেনো ইসলাম উনার সাথে জড়িত, কিংবা সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন এবং বিশিষ্ট সম্মানিত ৪ জন খলিফা আলাইহিমুস সালাম উনারা কেনইবা ইসলামিক জীবন যাপন করেছেন? এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কি নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছেন না?
..................................................................জবাব দিন, না হলে ফিরে আসুন

৩/ আপনি জানেন নামাজ পড়া ফরজ, আপনি এও জানেন নামাজ না পড়লে জাহান্নামে যেতে হবে, আপনার এটাও জানা আছে যে জাহান্নাম অত্যন্ত ভয়াবহ ভয়ঙ্কর একটি যায়গা, দুনিয়ার কোন শাস্তিই জাহান্নামের ধারে কাছেও নেই, তবু কেনো আপনি নামাজ পড়ছেন না? আপনি কি জেনে বুঝে নিকৃষ্ট জায়গায়, ভয়াবহ শাস্তির জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন না? কেউ যদি জেনে বুঝে শাস্তি পেতে চায়, অথচ সে ইচ্ছা করলে শাস্তির বদলে চির সুখের স্থান পেতে পারে তাকে আপনি কি বলবেন ? চরম দুর্ভাগা বলবেন না?
...............................................................জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন

৪/ আপনি তো জানেন জান্নাত উনার ভেতরে আরাম আয়েশের অভাব নেইইচ্ছা মত ভাল ভাল খাবার, পরমা সুন্দরী জান্নাতি হুরগন, বিশাল স্বর্ন, হিরার রাজপ্রসাদ, যা যা ইছে করে সব পাওয়া যাবে জান্নাতে গেলেদুনিয়ায় মানুষ কদিন বাঁচে? ৮০/১০০ বছর? আর আখিরাতের জীবন তো অনন্ত অসীমআপনি এই ৮০-১০০ বছর আরামে কাটিয়ে দিতে চান আর অনন্ত জীবন ছেড়ে দিতে চান? এর থেকে বোকামি আর কি হতে পারে?
...............................................................জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন

৫/ আপনি সবই মানেন সবই বোঝেন, কিন্তু অলসতা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে পালন করেন না, কি করে আশা করেন জান্নাত পাওয়ারঅনেকে বলেন ভাই আমি তো জাহান্নামী, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে ভাই জাহান্নামকে আপনি কি মনে করেন? সাধারন জেলখানা?
‪#‎তাহলে শুনুনঃ নুমান ইবনে বাশীর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছিঃ কেয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে লঘু শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি হবে এই যে, তার দুই পায়ের তালুর নিচে আগুনের দুটি অংগার রাখা হবে এবং তাতে তার মস্তিষ্ক সিদ্ধ হতে থাকবেসে মনে করবে, তার চাইতে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি আর কেউ হয়নিঅথচ সে-ই জাহান্নামীদের মধ্যে সবচাইতে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত [ বুখারী: ৬৫৬২ , মুসলিম: ২১৩ ]
...............................................................জবাব দিন , না হলে ফিরে আসুন

যারা ফিরে আসবে এই মুহূর্ত থেকে তাদের জন্য পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা সুসংবাদ দিয়েছেন, আর যারা খারাপ কাজ করে, তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান নিয়ে আসে, তবে নিশ্চয়ই তোমার রব এরপরও ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” [ সূরা আ'রাফ ১৫৩] তারা কি দেখে না, তারা প্রতি বছর একবার কিংবা দুবার বিপদগ্রস্ত হয়? এরপরও তারা তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না” [ সূরা তাওবা ১২৬] সুতরাং তারা কি পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার নিকট তওবা করবে না? এবং তার নিকট ক্ষমা চাইবে না? আর পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” [সূরা মায়েদা ৭৪] যারা ভাবে এখন পাপ করি পরে সময়মত তওবা করে নেব, তাদের সাধারণতঃ কোনদিনই তওবা করার সৌভাগ্য পাবে না পরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা তিনি বলেন, আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছিআর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেআমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি” [সূরা নিসা ১৮] তাই আমার ভাই ও বোনেরা ফিরে আসুন , এখনই, এখনই এবং এখনইতওবা করে ফিরে আসুনপরম করুনাময় অসিম দয়ালু মেহেরবান আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করুন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: