11.01.2014

ইয়াজিদের পক্ষে বলতে গিয়ে জাকির নায়েক হাদিস শরীফের ব্যপারে মিত্যাছার করলো।

ইয়াজিদের পক্ষে বলতে গিয়ে জাকির নায়েক হাদিস শরীফের ব্যপারে মিত্যাছার করলেন।
ইয়াজিদের পক্ষে বলতে গিয়ে জাকির নায়েক
হাদিস শরীফের ব্যপারে মিত্যাছার করলো
জাকির নায়েক তার কাজকে সঠিক প্রমান করার জন্য যুক্তি প্রদান করে যে, “ সহীহ বুখারীতে একটি হাদীস আছে যেখানে বলা হয়েছে যে যারা কনস্টান্টিনোপল (কুসতুনতুনিয়া) জয় করবেন তাঁরা জান্নাত পাবেন এবং ইয়াজিদ লানতুল্লাহি ছিলো ঐ বাহিনীর কমান্ডার” [www.youtube.com/watch?v=R1qgyHCb0Jw]

প্রিয় পাঠক! এই ব্যক্তি সহীহ বুখারীর নামে সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলেছেসহীহ বুখারীতে এমন কোন হাদীস নেই যেখানে বলা হয়েছে যে যারা কনস্টান্টিনোপল (কুসতুনতুনিয়া) জয় করবেন তাঁরা জান্নাত পাবেন এবং ইয়াজিদ লানতুল্লাহি ছিলো ঐ বাহিনীর কমান্ডারইহা সহীহ বুখারীর নামে সরলপ্রান মুসলিমগনকে বিভ্রান্ত করার একটি ঘৃন্য প্রচেষ্টা হাদীসের নামে যারা মিথ্যা কথা বলে তাদের ইসলাম নিয়ে কথা বলার কি অধিকার আছে? হাদীসের নামে জেনেশুনে মিথ্যা কথা বলা কি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে ও ইসলামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেন নি, “যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে তার ঠিকানা জাহান্নাম?” [তথ্যসূত্রঃ সহীহ বুখারী - খন্ড নং ০১- পৃ নং ৪১ হাদীস নং ১০৬]

উক্ত ইয়াজিদ লানতুল্লাহির-প্রেমিক তার কাজকে সঠিক প্রমান করার জন্য সহীহ বুখারীর সুবিখ্যাত তফসীরকার ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার নামেও সম্পূর্ন মিথ্যা কথা বলেছেনতিনি বলেছেন, “ইবনে হাজার যেখানে বুখারীর তফসীরে তাকে (ইয়াজিদ লানতুল্লাহিকে) জান্নাতী বলেছেন, সেখানে আমি কিভাবে তাকে (ইয়াজিদ লানতুল্লাহিকে) অভিশাপ দিতে পারি”? [www.youtube.com/watch?v=R1qgyHCb0Jw] 

প্রিয় পাঠক! এটিও সম্পূর্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট কথা ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার তফসীরে কোথাও ইয়াজিদ লানতুল্লাহিকে জান্নাতী বলেন নি আল্লাহু আকবার ! ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) তো ইয়াজিদের মাগফুরবা ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার ধারণাটিকে তাঁর তফসীরে ধূলিসাৎ করেছেন এবং আল ইমতা বিল আরবাঈনগ্রন্থের শিরোনামই দিয়েছেন ইয়াযীদের প্রতি লানতসর্বোপরী, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করেছেন যে, খলীফা উমর বিন আবদুল আযীয বা দ্বিতীয় উমর ইয়াযীদের প্রশংসা কারীকে কুড়িটি দোররা মারার নির্দেশ দান করে ছিলেনকিন্তু মিথ্যাচারিতার সওদাগর উক্ত ইয়াজিদ লানতুল্লাহি-প্রেমিক জাকির নালায়েক ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার নামে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা বলে ফেললেনপ্রিয় পাঠক! আসুন, দেখে নিই, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) ইয়াযিদ সম্পর্কে ঠিক কি বলেছেনঃ

(১) ইমাম ইবনে হাজার ইয়াজিদের ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার ধারণাটিকে ধূলিসাৎ করেছেন : ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার তফসীরে ইয়াজিদের মাগফুরবা ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়ার ধারণাটিকে ধূলিসাৎ করেছেন এভাবে, “ইবনে মুহলাব বলেছেন যে এই হাদীসে আমীর মুয়াবিয়ার কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে কারন তিনি প্রথম নৌ-অভিযান করেছিলেন এবং এই হাদীসে ইয়াযিদের কথাও ইঙ্গিত করা হয়েছে কারন সে প্রথম কাইসারের নগরী আক্রমন করেছিল (এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা কারন ইয়াযিদ প্রথম যুদ্ধে অংশগ্রহন করে নি সে অনেক পরের একটি অভিযানে তার পিতা কর্তৃক শাস্তিস্বরুপ প্রেরিত হয়েছিল- লেখক) কিন্তু ইবনে আল তীন এবং ইবনে আল্ মূনীর এর উত্তর দিয়েছেন এবং বলেছেন যে ইহা অপরিহার্য নয় যে ব্যতিক্রম ব্যতিরেকে সকলেই এই ক্ষমাপ্রাপ্তির অন্তর্ভুক্ত কারন জ্ঞানীব্যক্তি-বর্গ সকলেই একমত যে, তারাই এই ক্ষমাপ্রাপ্তির অন্তর্ভুক্ত হবে যারা প্রকৃতই তার উপযুক্ত হবে কারন আক্রমনকারীদের মধ্যে যদি কেউ পরে মুরতাদ হয়ে যায় তহলে সে আর ক্ষমাপ্রাপ্তগনের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে না এবং এটা প্রমান যে উক্ত হাদীসে উল্লেখিত ক্ষমাপ্রাপ্তির বিষয়টি শর্তাধীন [তথ্যসূত্রঃ ফাতহুল বারী শারাহ সাহীহ বুখারী - ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি ) খন্ড নং ৬ পৃ নং ২০০-২০১ ] প্রিয় পাঠক! দেখলেন তো, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) যে ধারণাটিকে খন্ডন করলেন উক্ত ইয়াজিদ লানতুল্লাহি-প্রেমিক ঐ ধারণাটিকেই তাঁর নামে চালিয়ে দিলেন !

(২) ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার আল ইমতা বিল আরবাঈনগ্রন্থের শিরোনামই দিয়েছেন ইয়াযীদের প্রতি লানতঃ ইয়াযিদের প্রতি ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার ঘৃনা এবং অসন্তোষের অধিক প্রমান আর কি হতে পারে যে তিনি দ্বীধাহীন চিত্তে ঘোষনা করেছেন যে, একমাত্রপথভ্রষ্ট-গোমরাহব্যক্তিরাই ইয়াযিদের প্রশংসা করে এবং তিনি তাঁর আল ইমতা বিল আরবাঈনগ্রন্থের শিরোনামই দিয়েছেন ইয়াযীদের প্রতি লানত’! ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) লিখেছেন, ইয়াযীদকে ভক্তি ও তার প্রশংসা পথভ্রষ্ট-গোমরাহব্যক্তি ছাড়া আর কেউই করে না যার বিশ্বাস একেবারেই শূন্যকেননা, ইয়াযীদের এমন সব বৈশিষ্ট্য ছিল যার ভক্ত-অনুরক্ত হলে কুফর তথা অবিশ্বাসের যোগ্য হতে হয় কারন কেবল আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে ভালোবাসা এবং কেবল আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে ঘৃণা করাই হল ঈমানের লক্ষণ” [ তথ্যসূত্রঃ ঃআল-এমতা বিল্ আরবাঈন আল-মাতবাইনাত আস্ সামা’- ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) পৃষ্ঠা নং ৯৬ - দার আল-কুতুব আল-এলমিয়্যা, বৈরুত, লেবানন হতে ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত]

(৩) ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এর মতে, ইয়াযীদের প্রশংসা কারীকে কুড়িবার দোররা মারতে হবেঃ ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) লিখেছেন, “এয়াহইয়া ইবনে আব্দিল মুলক্ বিন আবি গানিয়্যা  যিনি নির্ভরযোগ্যবর্ণনাকারীদের একজন’, তিনি নির্ভরযোগ্যবর্ণনাকারী নওফল বিন আবি আকরাব থেকে শুনেছেনঃ একবার খলীফা উমর ইবনে আবদিল আযীয (২য় উমর)-এর দরবারে মানুষেরা ইয়াযীদ ইবনে মুআবিয়া সম্পর্কে আলাপ করছিলেনওই সময় একজন লোক ইয়াযীদকে আমীরুল মূমীনীন’(ঈমানদারদের শাসক) খেতাবে সম্বোধন করেএটি শুনে খলীফা ২য় উমর (রাগান্বিত হয়ে) তাকে বলেন, “তুমি ইয়াযীদকে আমীরুল মোমেনীন ডেকেছ?” অতঃপর তিনি ওই লোকটিকে ২০টি দোররা মারার হুকুম দেন। [ তাহযিবুত্ তাহযিব’- ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি ) খন্ড নং ৬ পৃষ্ঠা নং ৩১৩ ]

এর পরেও যারা সন্দেহ রাখে তারা এই পোষ্ট পড়তে পারেনঃ- ইয়াযীদ সম্পর্কে জগৎবিখ্যাত ঈমামগনেরসিদ্ধান্ত ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

2 comments: