11.02.2014

পবিত্র মাজার শরীফ বিষয়ে বাতিলদের মূর্খতাসূচক বিতন্ডার দাঁতভাঙ্গা জবাব ।

Old Picture of Kabba 1850
Including How Many Mazar
Of Sahabaye Keram Radiallahu tayala anohum.
মদিনা শরীফের জান্নাতুল বাকির একাংশ যেখানে পবিত্র মাজার শরীফ সমূহকে গম্বুজ দ্বারা আবৃত করা হয়েছিলো প্রায় ১৩শবছর  মুবারক মাজার শরীফগুলো গম্বুজ দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিলোসকল সাহাবী তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ীন , ইমাম-মুজতাহিদ, আওলিয়া কিরামসহ সকল মুসলমানগণ অতি শ্রদ্ধার সাথে এ সকল মাজার শরীফ জিয়ারত করতেনকিন্তু ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগীতায় ইবনে সউদ (বর্তমান সউদী সরকারের পূর্বপুরুষ) হেজাজ দখল করার পরই সে দাবি করে বসলো এতদিন যা হয়েছে সব ইসলাম বিরোধী হয়েছে, এ সকল পবিত্র মাজার শরীফ ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবেতাই ১৯২৫ সালের ২১শে এপ্রিল (হিজরী ১৩৪৫, ৮ই শাওয়াল) বুলডোজার দিয়ে পবিত্র জান্নাতুল বাকির সকল মাজার শরীফ গুড়িয়ে দেয়। (দ্বিতীয় ছবিতে জান্নাতুল বাকি গুড়িয়ে দেয়ার পরের অবস্থা) বলাবাহুল্য, দীর্ঘ ১৩০০ বছর জগৎশ্রেষ্ঠ বড় বড় বুজুর্গ মদীনা শরীফে এসেছিলেন কিন্তু কেউ এতদিন জানতেন না মাজার শরীফ ইসলাম বিরোধী, কেউ জানাতেন না মাজার শরীফ ভেঙ্গে দিতে হয়, কিন্তু ব্রিটিশ গোয়েন্দা টিই লরেন্সের সৃষ্টি ইবনে সউদ প্রথম বুঝলো মাজার শরীফ ইসলাম বিরোধী, তাই সেগুলো সে ভেঙ্গে দিলো

আসুন দেখি, সউদী ওহাবী শাসক, সালাফিপন্থী, পিসটিভির আলোচক জাকির নায়েক-বিলাল ফিলিপস কিংবা সাম্প্রতিক ইরাকে আইএসআইএল নামক দলটি কোন কোন দলিলের ভিত্তিতে সকল মাজার শরীফ গুড়িয়ে দিচ্ছে বা দিতে বলছে, যেগুলো এর আগে কোন ইমাম মুজাতাহিদ জানাতেন (!) না

(১) তারা দলিল দিচ্ছেঃ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের উপর চুনকাম করা, ইমারাত তৈরী করা এবং এর উপর বসাটা নিষেধ করেছেন। (মিশকাত শরীফ)

অথচ এ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা হচ্ছে,
ক) কবরের ভেতরের অংশ পাকা করা নিষেধ, কারণ রওজা শরীফের চর্তুপাশ ইটের দেয়াল তুলেছেন স্বয়ং হযরত উমর ফারুক (আলাইহিস সালাম) নিজেইসেটা যদি হারাম হতো তবে তিনি তা কখনই করতেন না

খ) সাধারণ মানুষ নয়, তবে বিশিষ্ট বুজুর্গদের জন্য করব ইট বা পাথর দিয়ে স্মৃতি রক্ষা বা চিহ্নিত করা যায়কারণ নবীজি নিজে হযরত উছমান ইবনে মযউন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মাজার শরীফ পাথর দ্বারা সংরক্ষণ করেছিলেন। (সূত্র: মিশকাত শরীফ, কিতাবুর জানায়েজ)

গ) ইমারত বলতে এখানে একেবারে কবরের উপর মাটির স্তুপ করা কিংবা কিছু নির্মাণ করা ঠিক নয়কিন্তু মাজারের চর্তুপাশে পরিবেষ্টন করা নিষেধ নয়কারণ
-স্বয়ং হযরত উমর ফারুক (আলাইহিস সালাম) নবীজির রওজা শরীফের চারিদিকে এ ইটের দেয়াল তুলেছেন
হযরত ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা আরো সুন্দর করেছিলেন
গম্বুজের বিষয়টা শুধু নবীজির জন্য খাস না, কারণ ঐখানে আরো দুইজন বিশিষ্ট সাহাবী শায়িত আছেনতারমানে বিষয়টা উম্মতে মুহম্মদীর মধ্যে বুজুর্গদের জণ্যও করা যায়
-হযরত যাইনুল আবেদিন রহমতুল্লাহির পবিত্র মাজার শরীফের উপর উনার সম্মানিত স্ত্রী তাবু স্থাপন করেছিলেন যেন সবাই সেখানে যিকর-আজকার, কুরআন তিলাওয়াত দোয়া প্রার্থনা করতে পারে
-হযরত আয়িশা সিদ্দিকা (আলাইহাস সালাম) নিজের ভাই হযরত আবদুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত মুহম্মদ ইবনে হানিফা ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মাজার শরীফের উপর গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। (মুনতাকা শহরে মুতা ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি)
-হযরত উমর ফারুক (আলাইহিস সালাম) হযরত যয়নব বিনতে যাহশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার মাজার শরীফের উপর গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। (মুনতাকা শহরে মুতা ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি)
-হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু ইন্তেকালের পর মুহম্মদইবনে হানিফা উনার মাজার শরীফ প্রস্তুত করেছিলেন এবং গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেন। (বদায়েউস সানায়ে গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত)
এত বড় বড় সাহাবীগণ গম্বুজ নিমার্ণ করলেন, কিন্তু সেই গম্বুজ ভেঙ্গে দিলো সউদী ওহাবী বাদশাহ!! হায়রে মানুষ কত নির্বোধ হলে এগুলো মেনে নিতে পারে!

Kabba 1921
(২)তারা দলিল দিচ্ছেঃ মিশকাত শরীফে বর্ণিত আছেঃ [عن أبي الهياج الأسدي. قال: قال لي علي بن أبي طالب: ألا أبعثك على ما بعثني عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ؟ أن لا تدع تمثالا إلا طمسته. ولا قبرا مشرفا إلا سويته]

বাংলা অর্থঃ আবু হায়াজ আসদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন যেঃ, “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (আলাইহিস সালাম) আমাকে বলেছেন, “আমি কি তোমাদের ঐ কাজের জন্য পাঠাবো না, যে কাজের জন্য রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে পাঠাতেন? (হায়াজ আসদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিজ্ঞেস করলেন ইহা কি?) আর তা হলো মূর্তি ও যেকোন ছবি(প্রানির) বিনষ্ট করা ছাড়া খ্যান্ত হয়োনা এবং কোন উচু কবরও রাখিওনা, তাদের সমান করে দাও

সুত্রঃ বুখারি শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ।

অথছ দেখুন জাহেলরা ছবির বিষয়টা অনায়াসে এড়িয়ে যায় এবং যে কবরগুলো সমান করার কথা বলেছিলেন সেগুলো কার ছিলো তা না জেনেই অলি আল্লাহ উনাদের কবর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে চায় হাদিস শরীফ এর নিজের মনগড়া অর্থ করে ছবির অংশ কারচুপি করে কেটে কারন এরাই সারাদিন সেলফি, ভিডিও করে হারাম ছবিকে হালাল বানাতে চায়। নাউযুবিল্লাহ।

এই হাদীস শরীফের অরিজিনাল ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো।

ক) যারা উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা দিয়ে সকল মাজার শরীফ গুড়িয়ে দেয়ার কথা বলে, তারা কিন্তু কখনই হাদীস শরীফের প্রথম অংশ মানে ছবি তোলার বিরুদ্ধচারণ করে নাবরং তারা নিজেরাই অহরহ ছবি তুলেঅথচ কিতাবের কিছু অংশ মানা এবং কিছু অংশ না মানা মুনাফিকি ছাড়া অন্য কিছু নয়

এদের এই মুনাফিকির ব্যপারে কালামুল্লাহ শরিফে বর্ণিত আছে যে তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস করো এবং কিছু অংশে অবিশ্বাস করো? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই আর কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন{সূরা বাক্বারা আয়াত শরিফ ৮৫}

খ) হুজুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যুগে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (আলাইহিস সালাম) যে সকল কবর গুড়িয়ে দিয়েছিলেন, সেগুলো কি মুসলমানদের কবর ছিলো??? নাকি কাফেরদের? অগুলো তো কাফেরদের চিলো কারণ ঐ সময় যে মুসলমানগণ ইন্তেকাল করেছিলেন তাদের প্রত্যেকের মাজার শরীফ নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে উপস্থিত থেকে বা উনার অনুমতি সাপেক্ষে করা হয়েছিলোতাহলে মুসলমানদের কবর ভাঙ্গার হুকুম আসে কিভাবে?তাহলে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু (আলাইহিস সালাম) তিনি কোন কবরের কথা বললেন?? তিনি মূলত কাফিরদের উচু কবর ভাঙ্গার কথা বলেছিলেন, কারণ ঐ সময় মুশরিকরা উচু করব তৈরী করতো এবং সেখানে সেজদা আর উপাসনা করতো যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সকল কবর ভাঙ্গতে বলেছিলেনঅথচ দেখুন এ সকল বিভ্রান্ত লোকেরা কাফিরদের জন্য প্রদান করা হাদীস শরীফ মুসলমানদের জন্য ব্যবহার করছে! নাউযুবিল্লাহ!!

(৩) তারা দলিল দিচ্ছে বুখারি শরীফে আছেঃ হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত আব্দুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাজার শরীফের উপর তাবু দেখে বলেছিলেন, “হে বৎস, একে সরিয়ে ফেলো, উনার আমলই উনার উপর ছায়া দিচ্ছেএই হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা হচ্ছে, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পিতা নিজেই গম্বুজ নির্মাণ করেছিলেনতারমানে এর অর্থ হচ্ছে, কেউ যদি ভাবে ঊক্ত গম্বুজ মাজার শরীফে অবস্থিত ব্যক্তিতে আরাম দিচ্ছে তখন ই তা অনৈসলামিক, বরং ভাবতে হবে উনার আমলই উনাকে ছায়া দিচ্ছেকিন্তু গম্বুজ নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য মাজার শরীফে অবস্থানকারী বুজুর্গকে আরাম দেয়ার জন্য নয় বরং যিয়ারতকারীদের ছায়া ও নির্বিঘ্নে আমল করার জন্য

(৪) তারা দলিল দিচ্ছে মিশকাত শরীফের হাদীস শরীফে আছেঃ হে মহান আল্লাহ! পাক আমার কবরকে মূর্তিতে পরিণত করো না, যার পূজা করা হবেঐ কওমের জন্য খোদার কঠিন গযব আছে, যারা স্বীয় নবী আলাইহিমুস সালামদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে

উপরোক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা হচ্ছেঃ কবরকে মসজিদে পরিণত করা বা সেদিকে কিবলা মেনে নামাজ পড়া বা করবকে ইবাদতের লক্ষ্যবস্তু বা খোদা মনে করা যা স্পষ্ট শিরক ও কুফরী

কিন্তু কোন মুসলমান কি সে যখন পবিত্র মাজার শরীফ যিয়ারত করতে যায় তখন বলে আমি এই বুজুর্গকে পূজা করতে এসেছি?, কিংবা উনাকে মহান আল্লাহ পাক মনে করে?কখনই এ কথা কেউ বলবে নাবরং যাকে মহান আল্লাহ পাক মনে করার সবাই উনাকেই মহান আল্লাহ পাক মনে করে, এবং ওলী আল্লাহগণকে মহান আল্লাহ পাক উনার  বন্ধুই কাছে মানুষ মনে করেই উনাদের জিয়ারতে যায়দুইজনকে কখনই এক করে না এগুলো সেইসব ফেত্নাবাজরা বলে যারা ইসলামের দুষমন।

উপরের আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমান হলো, যারা মাজার শরীফ ভাঙ্গছে তারা ইচ্ছাকৃত ভাবেই পবিত্র হাদীস শরীফগুলোকে বিকৃত করে বলছেকিন্তু এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্যটা কি????

উদ্দেশ্যটা খুব সোজাযখন আপনি আপনার আব্বার কবর জিয়ারত করেন, তখন ইচ্ছায় অনিচ্ছায় আপনার আব্বার আদেশ নিষেধগুলো আপনার স্মরণে আসে, আপনার আব্বার কথা আপনার মনে পড়ে, সেগুলো আপনি পালন করেনকিন্তু যদি কখন আপনার আব্বার কবর নাই পান তবে ইচ্ছা অনিচ্ছায় বাবার স্মরণ বেখালেই ভুলে যাওয়াটা স্বাভাবিক

প্রকৃতপক্ষে ব্রিটিশ সম্রজ্যবাদীদের বসানো সউদ পরিবার কাফিরদের হয়ে সেই কাজটি করেছেতারা চায় মুসলমানদের অনুসরণীয় ব্যক্তিদের চিহ্নগুলো ধ্বংস হোক, তবে মুসলমানরা পূর্ব পুরুষ দের কথা ভুলে যাবে এবং উনারা কিভাবে নবীজিকে অনুসরণ করতো তাও ভুলে যাবেআর এই সুযোগে কাফির ব্যক্তিদের স্মরণ মুসলমানদের মাথায় প্রবেশ করানো সহজ হবে


যেই জিনিস এখন হচ্ছেমুসলমানরা মুসলমানদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের চিনে না, নামও জানে নাকিন্তু ঠিকই কোন নাদান কাফির কোন কালে এসেছিলো তার কথা হুবুহু বলে দেয়, তার কথাই সারা দিন স্মরণ করে এবং ইচ্ছা অনিচ্ছায় ঐ কাফিররকেই অনুসরণ করেফলে সে ইসলাম থেকে দূরে সরে কাজ কর্মে কাফিরই হয়ে যায়


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

1 comment:

  1. হাদিস নাম্বার ও পৃস্টা নাম্বার সহ বর্ননা করলে ভাল হত।

    ReplyDelete