11.24.2014

রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর ছাহেব কিবলা সম্পর্কে সমস্থ অপপ্রচারকারিদের দাঁতভাঙ্গা জবাব

"বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম"

আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আ'লামীনআছ-ছলাতু ওয়াস সালামু আলা সাইয়্যিদুল আম্বিয়ায়ি ওয়াল মুরসালিন, ওআ'য়ালা আহলু বাইতিহিল কারীম!!!

সন্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল আশেকীন মুহীব্বীন, ভাই ও বোনেরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে আজ এই লেখা শুরু করলামআজকে একটি জঘন্য লিখা আমার চোখে পড়ে

যেখানে গোলাম দস্তগির লিসানী নামক রেজাখানী ফের্কার অনুসারী এক আইডি থেকে বর্তমান জামানার লক্ষ্যস্থল একজন ওলী আল্লাহ সুমহান ঢাকা রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা উনার বিরুদ্ধে অত্যন্ত অশালীল, কুরুচিপূর্ণ, আপত্তিকর, মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়েছে

উক্ত লেখার আর্কাইভ লিংকঃ [https://archive.is/ucPhQ]

যেটা দেখে একজন ঈমানদার হিসাবে এর প্রতিবাদ মূলক লেখা দেয়ার ঈমানী দায়িত্ব অনুভব করিআপনারা জানেন আখেরী জামানায় অনেক মিথ্যাবাদী দাজ্জালের চেলা বের হবে, এরা মিথ্যা, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর, ও দলীলবিহীন বক্তব্য প্রদান করে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবেতাদের কাজ হচ্ছে কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কুফরীমূলক বক্তব্যকে কুরআন সুন্নাহ বলে প্রচার করে জন সাধারণের ঈমান বিনষ্ট করা এবং মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে হক্কানী উলামায়ে কিরাম উনাদের বিরোধীতা ও কুৎসা রটনা করাঅবশ্য এধরনের কাজ ইতিহাসে নতুন কিছু নয়হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সকল নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধিতা করেছে ইবলিসের অনুসারী কাযযাবরাশুধু তাই নয় সত্তর হাজার নবীকে শহীদও করেছে

এরা বিরোধিতা করেছিলো হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারউনাকে অপবাদ স্বরূপ যাদুকর, জ্বিনে ধরা, পাগল, ধর্মত্যাগী ইত্যাদি বলেও সম্মোধন করেছেনাউযুবিল্লাহ!!!

তারই ধারাবাহিকতায় সকল আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের প্রতিও যুগ যুগ ধরে হয়েছে বিরোধিতা অপপ্রচারইমামে আযম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জেলখানায় বম্দি করা হয়েছে, ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব জ্বালীয়ে দেয়া হয়েছে, বড় পীর সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরোধিতা হয়েছে, মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জেলখানায় বন্দি করা হয়েছে এভাবে বিরোধিতার ধারাবাহিকতা চলেই এসেছে আর এটা কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে কারন হক্ব যখন প্রকাশিত হয় বাতিল তখন বিরোধিতার জন্য উঠে পরে লাগেনিজেদের মুখোশ খুলে যাওয়ার ভয়ে এরা শুরু করে হক্কানী ওলীদের বিরোধীতা, প্রচার করে বিভিন্ন অপপ্রচারতারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান জামানার লক্যস্থল ওলীআল্লাহ ঢাকা রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেবের বিরুদ্ধেও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে একশ্রেণীর কুলাঙ্গার, মিথ্যাবাদী মুনাফিকতারা নিজেদের মুখোশ খুলে যাওয়ার ভয়ে বিভিন্ন ভাবে কুৎসা রটিয়ে যাচ্ছে

আসুন আমি আপনাদের সম্মুখো মিথ্যাবাদী রেজাখানী গোলাম দস্তগীরের মিথ্যার জবাব গুলো দলীল দ্বারা উপস্থাপন করি-

মানুষ যখন নফসের কারনে সত্যকে মেনে নিতে পারে না, তখন নফসের কারনে শয়তানের ধোঁকায় সত্যের মোকাবিলায় নিজেদের মুখোশ খুলে যাওয়ার ভয়ে হক্বের বিরোধিতা শুরু করে দেয়এক্ষেত্রেও ওহাবী, সালাফী, দেওবন্দী, জামাতিদের মতই নামধারী সুন্নী রেজাখানী গ্রুপের এই অনুসারী পবিত্র "রাজারবাগ শরীফের" বিরোধিতায় নিকৃষ্ট বিরোধীতায় লিপ্ত হয়েছে এবং সেই সাথে একের পর এক মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, এবং অপবাদ দিতে গিয়ে পবিত্র শরীয়তের অনেক বিধানকেও অবমাননা করেছেসম্মানিত পাঠক! আপনাদের সম্মুখে এই মিথ্যাবাদী অপপ্রচারকারীর লেখা থেকে কয়েকটা আপত্তি অপবাদ নিয়ে বিশ্লেষণ করবোতাই ঠান্ডা মাথায় নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পড়ার অনুরোধ রইলো

আসুন এই রেজাখানীদের অনুসারী গোলাম দস্তগীরের লেখা থেকে কিছু পয়েন্ট বের করে বিশ্লেষণ করা যাক

(১) আস সাফফাহ লক্বব মুবারকঃ রেজখানের অনুসারী গোলাম দস্তগীর নামক এই মিথ্যাবাদীটা "আস সাফফাহ" লক্বব মুবারককে ভুল দিকে বিশ্লেষণ করার জন্য অধিক রক্তপাতকারী বলে বাজে ভাবে উপস্থাপন করেছেঅথচ অত্যন্ত আশ্চার্যের বিষয় হচ্ছে "আস সাফফাহ" এই মুবারক লক্ববের প্রায় ৩০ প্রকার অর্থ বিভিন্ন অভিধানে উল্লেখ আছেএই মিথ্যাবাদীটা উক্ত ৩০ প্রকারের অন্য অর্থগুলো উদ্দেশ্যে প্রোনদিতভাবে আড়াল করে গেছেকিন্তু সে আড়াল করলে কি হবে তার মিথ্যার মুখোশ উম্মোচন করার লক্ষ্যে আমি ইনশাআল্লাহ এই লক্বব মুবারকের ত্রিশ প্রকারের অর্থই আপনাদের খেদমতে উপস্থাপন করবো

(১) মুক্তির দিশারী(২) সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিদানকারী(৩) অসীম দাতা(৪) বড় উদার(৫) অসীম ইলিমের অধিকারী (৬) সুবক্তা(৭) সর্বোত্তম ওয়ায়িজ(৮) সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী(৯) সর্বোত্তম ব্যাখা বিশ্লেষণকারী(১০) সর্বোত্তম বর্ননাকারী(১১) মিষ্টভাষী(১২) বিশুদ্ধভাষী(১৩) বাগ্নী(১৪) সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল(১৫) কাফির, মুশরিক, গোমরাহদের ধ্বংসকারী(১৬) নাহক্বকে নিশ্চিহ্ন কারী(১৭) তাগুত শক্তিকে বিলীনকারী(১৮) অধিক খুন প্রবাহিতকারী(১৯) বিশুদ্ধ(২০) খাঁটি(২১) পুত পবিত্র(২২) সুমহান চরিত্রের অধিকারী(২৩) সর্বশ্রেষ্ঠ আযাদদানকারী(২৪) অনুসরনীয়(২৫) উসওয়াতুন হাসানাহ(২৬) পবিত্র(২৭) আল্লাহ পাক উনার গুনে গুনান্বিত(২৮) হাবীবুল্লাহ(২৯) অপরিসীম ফায়িজ দানকারী(৩০) বেমেছাল পরিশুদ্ধতা দানকারী

তথ্যসূত্রঃ
* লিসানুল আরব ৪র্থ খন্ড ২০২৩ পৃষ্ঠা
* তাজুল আরুস মিন যাওয়াহিরিল ক্বামুস ২য় খন্ড ১৬৪ পৃষ্ঠা
* আর রইদ ৪৪২ পৃষ্ঠা
* ফীরুযুল লুগাত, আরবী-উর্দূ ৮৮০ পৃষ্ঠা
* আল মুনযীদ, আরবী-উর্দূ ৪৭৬ পৃষ্ঠা
* মিছবাহুল লুগাত, আরবী-উর্দূ ৫৬৪ পৃষ্ঠা

এছাড়া আরো অসংখ্য লুগাত তথা অভিধানের কিতাবে "আস সাফফাহ" মুবারক লক্বব খানার এরকম অর্থই করা হয়েছেঅথচ উক্ত রেজাখানের অনুসারী গোলাম দস্তগীর শুধুমাত্র "অধিক রক্ত প্রবাহকারী" লিখে সম্পূর্ণ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে

সম্মানিত পাঠক! আপনারা যদি কেউ নিরপেক্ষ মনোভাব নিয়ে পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফে আসেন তবে অবশ্যই আপনারা উপরোক্ত ত্রিশ প্রকারের সকল বৈশিষ্ট্য ঢাকা রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেব ক্বিবলা উনার মাঝে পাবেনআমি চাইলে উপরোক্ত সবকয়টি বৈশিষ্ট্যর যে রাজাবাগ শরীফের পীর সাহেব কিবলা উনার মাঝে আছে সেটার বর্ননা দিতে পারি, কিন্তু কলেবর বৃদ্ধির জন্য সেটা আপাতত আর লিখছি নাপরবর্তীতে প্রয়োজন হলে লিখবো ইনশাআল্লাহ তবে উপরোক্ত দলীল প্রমান দিয়ে মিথ্যাবাদী গোলম দস্তগীর লিসানীর "আস সাফফাহ" লক্বব নিয়ে মিথ্যাচারের জবাব দেয়া হলো

(২) খেজুর পাতার ছাউনী, খুঁটি দ্বারা সুন্নতী মসজিদ প্রতিষ্ঠা নিয়ে উপহাসঃ যাদের অন্তরে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত নেই তাদের পক্ষে সুন্নতের গুরুত্ব বোঝাটা প্রায় অসম্ভবহাদীস শরীফে আছে, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে আমার সুন্নত মুবারককে মুহব্বত করে সে আমাকেই মুহব্বত করলোদেখেন পাঠক! হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মসজিদে নববী শরীফও খেজুর গাছের ছাউনী, খুঁটি ইত্যাদি দ্বারা তৈরি করেছিলেনএখন কেউ যদি সেই সুন্নতের মুহব্বতে উক্ত অনুকরনে একটা সুন্নতী মসজিদ তৈরী করে সেটা কি উপহাসের বিষয়? একমাত্র সুন্নত বিরোধী এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিদ্বেষকারী ছাড়া কারো পক্ষে কোন সুন্নতের প্রতি উপহাস করা সম্ভব নয়অথচ অপপ্রচারকারী গোলাম দস্তগীর লিসানী সুন্নতী মসজিদ নিয়ে উপহাস করে সেই কাজটিই করার মাধ্যমে সুন্নত বিদ্বেষী হিসাবেই প্রমানিত হলোহাদীস শরীফে আছে, সুন্নতকে অবজ্ঞা করা কুফরীযার দ্বারা প্রমান হলো সে কুফুরী করে কাফের হয়ে গেছে

(৩) সম্মানিত বিষয় সমূহে "উনার" শব্দ ব্যবহারঃ রাজারবাগ দরবার শরীফের অনুসারীদের প্রতিটি সম্মানিত বিষয়ের ক্ষেত্রে "উনার" শব্দ ব্যবহার নিয়েও এই মিথ্যাবাদী গোলাম দস্তগীর লিসানী উপহাস করেছে

দেখুন সম্মানিত পাঠক! কোন মানুষ যদি পবিত্র ইসলামের প্রতিটা সম্মানিত বিষয়কে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করে সেটা কি উপহাসের বিষয়? হ্যা, তাদের কাছেই উপহাসের বিষয় যাদের অন্তরে ইসলামের সম্মানিত বিষয় সম্পর্কে কোন তাযীম তাক্বরিম বা সম্মান নেইআমরা জানি বাংলা ভাষায় আপনি হচ্ছে সম্মান সূচক সম্মোধনসেই সাথে "উনার" শব্দটাও সম্মান সূচকদেখুন সাধারন একজন মানুষের বেলায় সম্মোধন করা হয়, এটা আহমদ রেজার বাড়িএখন মনে করেন এই আহমদ রেজা হচ্ছেন একজন সম্মানিত বিজ্ঞ আলেমতখন কি এটাই বলা আদব হবে না, এটা আহমদ রেজা উনার বাড়িতদ্রুপ আমরা অনেকেই বলিঃ- কাবা শরীফের, রওজা শরীফের, কুরআন শরীফের ইত্যাদি

যদি মুহব্বতের কারনে চরম আদব প্রদর্শনের কারনে বলা হয়, পবিত্র কাবা শরীফ উনার, পবিত্র রওজা শরীফ উনার, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার তবে কি সেটা অন্যায় হবে?

অথছ আপনি যদি ইউটিউবে রেজাখানিদের পাকিস্থানের মুল্লাদের ওয়াজ শুনেন তাহলে দেখবেন তাঁরা আপ শব্দ ব্যবহার করছে যেমন আপ নে কাহা অথচ উনি উপস্থিত ই নন

আসলে মূল বিষয় হচ্ছে ইলমে তাছাউফের যোগ্যতার বিষয়তাছাউফ হচ্ছে আদবযাদের ভিতর তাছাউফের নূর নাই তারা এসকল আদবের বিষয় নিয়ে হাসি তামাশা করবে এটাই স্বাভাবিকযেমনটা হয়েছে গোলাম দস্তগীর লিসানী নামক তাছাউফের জ্ঞানহীন এক বেয়াদবের লিখনীতে

(৪) ছবি তোলা হারাম মানে না তারা কাফিরঃ রেজাখানী বেদয়াতী অজ্ঞ লেখক লিখেছে রাজারবাগীরা বলে যারা ছবি তোলা হারাম মানে না তারা কাফিরসম্মানিত পাঠক! আপনারাই বলুন হারামকে যে হারাম মানবে না সে কি কাফির নয়? বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ সহ সিহা ছিত্তার সকল কিতাব শুধু তাই নয় দুনিয়ার সকল হাদীস শরীফের কিতাবে প্রানীর ছবি তৈরী করা হারাম বলা হয়েছেসিয়া ছিত্তার প্রতিটি হাদীস শরীফের কিতাবে "বাবুত তাছবীর" অর্থাৎ ছবি সংক্রান্ত একটা অধ্যায় রচনা করা হয়েছেসকল হাদীস শরীফের কিতাবে আছে, কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির সবচাইতে বেশি শাস্তি হবে যে ছবি আঁকে আঁকায়এমনকি ছবি তৈরী করিদের লা'নত পর্যন্ত করা হয়েছেএখন প্রানীর ছবি তোলা হারাম এটা হাদীস শরীফেই আছেপ্রশ্ন হচ্ছে হারামকে হারাম না বলে কি বলতে হবে?

নাকি তাদের রেজবী গুরু তাহের শাহ, ছাবের শাহ হরদম ছবি তোলে বলে ছবি তোলা জায়িয হয়ে গেছে ?

আক্বীদা সম্পর্কে রেজভীদের বিন্দুমাত্র জ্ঞান নাইদেখুন আক্বায়িদের কিতাবে এ প্রসঙ্গে কি লেখা আছেঃ- [استحلال المعصية كفر]
অর্থঃ গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল বলা কুফরী (শরহে আক্বায়িদে নসফী)
এখন প্রানীর ছবির মত গুনাহের বা হারাম কাজকে হালাল যারা বলবে তারা কি কাফির নয়?

রাজারবাগ দরবার শরীফ থেকে প্রকাশিত মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফে ফতোয়া বিভাগে ১৬৮ তম সংখ্যা থেকে ২৩৭ তম মোট ৬৯ পর্বে ১১৬০ খানা কিতাবের রেফারেন্স দিয়ে প্রমান করা হয়েছে প্রানীর ছবি, আঁকা, রাখা, তোলা হারামযদি ক্ষমতা থাকে রেজবীরা যেন সেই ফতোয়া খন্ডন করে

(৫) শুধু ফাঁড়া সিলাইবিহীন লুঙ্গিকে সুন্নত মনে করেঃ সম্মানিত পাঠক! সুন্নত কে সুন্নত মনে করবো নাতো কি মনে করব আপনারাই বলুন?

এই গোলাম দস্তগীরটা কতটা মূর্খ তার আপত্তি গুলো পড়লেই বোঝা যায়সিলাইবিহীন লুঙ্গি পরিধান করা সুন্নত এটাতো হাদীস শরীফের কথাস্বয়ং হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সিলাইবিহীন ফাঁড়া লুঙ্গি মুবারক পরিধান করেছেনসেই সুন্নতের আমলও পবিত্র রাজারবাগ শরীফে করা হয়এই পরিপূর্ণ সুন্নতের আমল দেখেও নামধারী সুন্নী অথচ আমলে সম্পূর্ণ বেদয়াতী রেজবীদের গা জ্বালা করেযাইহোক কথা আর বাড়াতে চাই না, সিলাইবিহীন লুঙ্গী সুন্নত এটা জানতে এই লেখাটাই দলীল হিসাবে যথেষ্টঃ সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরিধান করা খাস সুন্নতে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম


(৬) চার কল্লি টুপিকে সুন্নত মনে করাঃ পাঠকগন আপনারাই বলুন সুন্নতকে সুন্নত বলা হবে নাতো কি বলা হবে? রেজাখানীরা তো কোনটা সুন্নত সেটাই জানে না

হাদীস শরীফে আছে, হযরত আব কাবশা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার টুপি মুবারক ছিলো গোল, যা ভালভাবে মাথার সাথে লেগে থাকে"
দলিল (তিরমিযী শরীফ, মেশকাত, মিরকাত ৮/২৪৬, তোহফাতুল আওয়াজীহ ৫/৫৭৯)

এছাড়া চিশতীয়া খান্দানের সকল মাশায়েখ গনের কিতাবে চার টুকরা বিশিষ্ট টুপি পড়ার হাদীস শরীফ উল্লেখ আছেঃ হে দরবেশগন! চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপিই হচ্ছে প্রকৃত টুপিহযরত জিব্রাঈল আমিন আলাইহিস সালাম বেহেশত থেকে হতে এ টুপি এনে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পরিধান করতে দিয়ে বললেন, আপনি পরিধান করুন এবং আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে এ টুপি দান করে আপনার খলীফা নিযুক্ত করেনহাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপিটি মাথায় পরিধান করেন এবং পরবর্তীতে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হযরত উমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের একটি করে টুকরা দান করেন

দলিলঃ (ইসসারুল আউলিয়া ১১৯ পৃষ্ঠা, আনিসুল আরওয়াহ ১ম বাব ১০-১১ পৃষ্ঠা, ফাওয়ায়েদুস সালেকীন ১ম মজলিস ১০৬ পৃষ্ঠা, রাহাতুল মুহিব্বীন ৪র্থ মজলিস ৩০২ পৃষ্ঠা, দলীলুল আরেফীন ১ম মজলিস ৪৭ পৃষ্ঠা,)

এমন অসংখ্য কিতাবে চার টুকরা টুপির কথা উল্লেখ আছেবেদয়াতী মূর্খ রেজবী গোলাম দস্তগীরের পক্ষে এগুলা জানার কথা নয়যেখানে রেজবীদের ওস্তাদ ছাবের শা মাথায় কোন টুপিই পরে না সেই বিদয়াতী পীরের মুরীদ গোলামের পক্ষে কি করে চার টুকরা বিশিষ্ট সুন্নতী টুপির পরিচয় জানা সম্ভব হবে? বিশ্বাস না হলে রেজাখানীদের পীর ছাবের শাহ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ Pir Sabir Shah (President PML N KPK )Ex Chief Minister KPK

(৭) সাত বছরের মেয়েরাও সামনে না আসাঃ যাক অনিচ্ছায় হলেও এই মিথ্যাবাদী গোলাম দস্তগীর লিসানীর লিখনীতে রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা উনার একটা সুমহান শান ফুটে উঠেছেসে লিখেছে রাজাবাগ শরীফের পীর সাহেব কিবলার সম্মুখে সাত বছরের কোন মেয়েও আসতে পারে নাআমি একটু সংশোধন করে দিচ্ছি সেটা হচ্ছে, রাজাবাগ শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব কিবলার সামনে ৫/৬ বছরের কোন শিশু মেয়েও আসতে পারে নাকারন তিনি খুবই সুক্ষ্ম পর্দার অনুসরন করেনসুবহানাল্লাহ্!!!

এটা বর্তমান পৃথিবীতে একটা বিরল ঘটনাউনার এ তুলনাহীন শরয়ী পর্দার কারনে যেখানে গর্ব করা উচিত ছিলো সেখানে বেপর্দা গুরুর শিষ্য গোলাম দস্তগীর লিসানী সেটা নিয়ে উপহাস করেছে [এইখানে তাঁর পিরের বেপর্দা হয়ে বেগানা নারীদের সাথে মেলামেশার ছবি দিলাম দেখতে পারেন]পবিত্র রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেব ক্বিবলা এতটাই তাক্বওয়া সম্পন্ন যে উনি এমন তুলনাহীন পর্দা পালন করে থাকেনএই সুক্ষ্ম তাক্বওয়ার বিষয়টা রেজাখানের অনুসারীর পক্ষে বোঝাটা কঠিনই হওয়ার কথাকারন রেজা খান নিজে কেমন পর্দা করতো নিম্নের ঘটনায় দেখুনঃ

- আলা হযরত বলেনঃ আমি নিজে দেখলাম গ্রামে ১৮ বা ২০ বছরের এক তরুণী ছিলতার মা ছিল খুবই দুর্বলসে সময়ও তার দুধ ছাড়ায়নিমা প্রতিদিন তাকে নিষেধ করে, সে জোর খাটিয়ে সিনার উপর চড়ে দুধ পান করতো
[মালফুজাতে আহমাদ রেজা-৩/৬৮, আহমাদ রেজা]

এই ঘটনা থেকে যা বোঝা যায়,
- রেজা খা যুবতী মেয়েদের দর্শন করতো
- রেজা খা যুবতী মেয়েদের মা দেরও দর্শন করতো
- রেজা খা মহিলাদের দুধ পান করানো দর্শন করতো

এখন আপনারাই বলুন, যাদের ইমামের চরিত্রই এমন তাদের পক্ষে কি পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব কিবলা উনার সুক্ষ্ম পর্দা পালনের তাক্বওয়া বোঝা সম্ভব?

এদের মুরুব্বী তাহের শাহ, সাবের শাহ এরাও অহরহ বেবর্দা হয়মহিলাদের গায়ে ফুঁ দেয় এটা দুনিয়ার সবাই জানেতাহলে এমন বেপর্দা গুরুদের সাগরেদ গোলাম দস্তগীর লিসানীর পক্ষে কি পর্দার মর্ম বোঝা সম্ভব? তার কাছেতো এমন সুক্ষ্ম শরয়ী পর্দা হাস্যকর লাগবেই, কারন তাদের ওস্তাদরাই বেপর্দার তালিম দিয়ে যায় তাদের লুচ্চামি করার জন্য

(৮) শিশু বয়সে বিয়ে হওয়া জরুরীঃ মিথ্যাবাদী গোলাম দস্তগীর লিসানী বলেছে, রাজাবাগ শরীফে নাকি শিশু বয়সে বিয়ে হওয়া জরুরী বলা হয়েছেআসলে মিথ্যাবাদী যারা তারাই মুনাফিকমুনাফিকের মত এমন বিভ্রান্তিকর ভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের নমুনা দেখে সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেমূলত বক্তব্যটা হচ্ছে, বাল্যবিবাহ সুন্নতআর বিবাহের জন্য কোন নিদৃষ্ট বয়স ঠিক করা নাজায়িযস্বয়ং হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনাকে ছয় বছর বয়স মুবারকে শাদী মুবারক করেন এবং নয় বছর বয়স মুবারকে ঘরে তুলে নেনতাই এক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট বাল্যবিবাহ সুন্নতআর শরীয়তের হুকুম হচ্ছে ছেলে মেয়ে যখন বালেগ হবে সমর্থবান হবে তখনই সে বিয়ের উপযুক্ত হবেএই বিষয়টাকে অপব্যাখ্যা করে, মুনাফিকি সুলভ আচরনে গোলাম দস্তগীর লিসানী লিখেছে, রাজারবাগ শরীফ থেকে নাকি বলা হয় শিশু বয়সে বিয়ে হওয়া জরুরী

আর হাদিস শরীফে আছে, পিতা যদি ১২ বছর বয়সের মধ্যে তার কন্যাকে বিবাহ না দেয় আর সে মেয়ে দ্বারা যদি কোন পাপ কাজ হয় তাহলে সেই পাপের শাস্তি পিতাকে পেতে হবে হাদীছ শারীফে বর্ণিত হয়েছেঃ [حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، أنا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبْدُوسٍ، نا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، نا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، نا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، أنا -- أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ الْغَسَّانِيُّ، عَنِ الْمُجَاشِعِ الْأَزْدِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: " مَكْتُوبٌ فِي التَّوْرَاةِ: §مَنْ بَلَغَتْ لَهُ ابْنَةٌ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً فَلَمْ يُزَوِّجْهَا فَرَكِبَتْ إِثْمًا فَإِثْمُ ذَلِكَ عَلَيْهِ]
বাংলা অর্থঃ হযরত ওমর ফারূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিততিনি বলেন, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাওরাত শরীফে লেখা আছে যে, যখন কারো কন্যা সন্তান বারো বছর বয়সে পৌঁছে, আর সে যদি তার বিয়ে না দেয়, আর তার দ্বারা যদি কোনো পাপকর্ম হয়, তবে ঐ পাপকর্ম পিতার ওপর বর্তাবে। (বায়হাক্বী- শুআবুল ঈমান ৮৩০৩, মিশকাত শরীফ ৩১৩৯, তাফসীরে মাযহারী সূরা নূরের ৩২ নং অায়াত শরীফের তাফসীর)

উক্ত হাদীছ শরীফ খানা হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আনান বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে ২ টি পৃথক সনদে বর্ণিত আছেযা একে অপরকে শক্তিশালী করেএছাড়া বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে হাজার হায়ছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার الإفصاح عن أحاديث النكاح কিতাবে এই হাদীছ শরীফ দলীল হিসাবে এনেছেন

সূতরাং বাল্যবিবাহ সর্ম্পকে সরাসরি হাদীছ শরীফই পাওয়া গেলোসূতরাং এর পরও যারা বাল্যবিবাহের বিরোধীতা করে তারা হাদীছ শরীফ বিরোধীতাকারী

আর ঐ সকল পিতাও সাবধান যারা তার মেয়ের বিবাহের ব্যবস্থা সময় মত করলেন না কিন্তু মেয়ে কোন পাপ কাজ করে ফেললোতাদের জন্য রয়েছে আযাব!

(৯) ধর্মের দিক দিয়ে কঠোর অনুসারী হওয়াঃ এতক্ষন গোলাম দস্তগীরকে মিথ্যাবাদী মুনাফিক মনে হচ্ছিলো এখন সেই সাথে মূর্খও মনে হচ্ছেদেখুন সম্মানিত পাঠক! মুসলমান মাত্রইতো ধর্মের বিষয়ে কঠোর অনুসারী হতে হবে তাই নয় কি? এটা লিসানীর কাছে এত অবাক লাগলো কেন সেটা বুঝলাম না!!!

দেখেন মহান আল্লাহ পাক নিজেই কালামে পাকে বলেনঃ [يايها الذين امنوا ادخلوا في السلم كافة ولا تتبعوت خطوات الشطان انه لكم عدو مبين]
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণ ভাবে প্রবেশ করশয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো নানিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু" [সূরা বাক্বারা শরীফঃ ২/২০৮]

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেনঃ [نَّ الدِّينَ عِندَ اللّهِ الإِسْلاَمُ] নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন(ধর্ম) একমাত্র ইসলাম [সূরাহ আল ইমরানঃ ১৯]

সূতরাং দেখা যাচ্ছে, ইসলাম ব্যতীত কোন মতবাদ সেটা ওহী দ্বারা হোক বা মানব রচিত হোক কোনটাই আল্লাহ পাক কবুল করবেন নাএ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেনঃ [ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه وهو في الاخرة من الخسرين]
অর্থঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের নিয়মনীতি তালাশ করে তার থেকে সেটা কখনো কবুল করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে
[সূরাহ আল ইমরানঃ ৮৫]

দেখুন আল্লাহ পাক নিজেই ইসলামে পরিপূর্ণ দাখিল হতে বলেছেন এবং ইসলাম ব্যতীত অন্য কিছু তালাশ করতেও নিষেধ করেছেনএখন আপরাই বলুন রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব ক্বিবলা তিনি যে ইসলামের প্রতিটা বিষয় পরিপূর্ণ অনুসরন করেন এটা কি ভালো না খারাপ?

অথচ মুনাফিক গোলাম দস্তগীর এই ধর্মের বিষয়ে কঠোর ভাবে অনুসরন করা নিয়েও উপহাস করেছেতবে কি এই রেজভীপন্থী মানুষদের কাছে ইসলামের প্রতি পরিপূর্ণ অনুসরণকারী হওয়াটা হাস্যকর লাগে?

সম্মানিত পাঠক আপনারাই এর বিচার করেন, তবে মজার বিষয় হচ্ছে এই মুনাফিক গোলাম দস্তগীর এটা অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও স্বীকার করতে বাধ্য হলো রাজাবাগ শরীফে ইসলামের প্রতিটা বিষয়ে সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম অনুসরণ করা হয়আল্লাহু আকবার!!

(১০) আহলে বাইত শরীফ, সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম, আওলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে আলাইহিস সালাম ব্যবহারঃ সম্মানিত পাঠ আলাইহিস সালাম প্রসঙ্গে তাদের আপত্তির জবাবের জন্য নিম্নোক্ত লিখাটাই যথেষ্টএকটু কষ্ট করে লিংকটাতে প্রবেশ করে লেখা দুটি পড়ুনঃ (১) আলাইহিস সালাম অর্থ কি? কারো নামের সাথে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে শরীয়তে কোন বিধি-নিষেধ আছে কি? এবং আহলে বাইত শরীফ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের নামের সাথে আলাইহিস সালাম লেখার দলীল  

(১১) নামের আগে ৯০ টা টাইটেলঃ মুনাফিক গোলাম দস্তগীর লিসানী রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেব উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক নিয়ে উপহাস করে বলেছে নামের আগে ৯০ টা টাইটেললক্বব ব্যবহার যে সুন্নত এটা কি রেজবীরা জানে না?

অথচ তাদের গুরু রেজা খানের নামের আগে যখন তারা বিশাল বিশাল টাইটেল লাগায় সেটা কেন দৃষ্টিকটু লাগে না?

ফতোয়ায়ে রেজভীয়া, আহকামে শরীয়ত সহ আরো অনেক রেজবী কিতাবে রেজাখানের নামের আগে ৩১ টা টাইটেল পাওয়া যায়

নিজের মুরুব্বীর নামের আগের টাইটেল জায়িয আর অন্যরা ব্যবহার করলে সেটা নাজায়িয এই দ্বিমুখী মুনাফিকি নীতি কেন?

পৃথিবীর সকল ইমাম এবং ওলী আল্লাহ উনার নামের পূর্বে এমন অসংখ্য লক্বব মুবারক রয়েছে, যা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত

উদাহরণ স্বরূপ-
- ইমামে আজম ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ৪৮ টি লক্বব
- ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ৩৭ টা লক্বব
- ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৪১ টি লক্বব
- ইমাম বুখারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২৮ টা লক্বব
- হযরত বড় পীর সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৫১ টি লক্বব
- হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ৮২ টি লক্বব
- হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ২৪ টি লক্বব

এমন করে অসংখ্য আওলিয়ায়ে কিরাম গনের নাম মুবারকের পূর্বে অনেক লক্বব আছে

তথ্যসূত্রঃ মানাকেবে আবু হানীফা, তাহাবী শরীফ, আত তাগরীব, মায়ারেফুস সুনান, মুয়াত্তা মালেক আওজাজুল মাসালিক, শরহে যুরকানী, উমদাতুল ক্বারী, আখবারুল আখইয়ার, মঈনুল হিন্দ, সিরাতে আলফে সানী, ইত্যাদি)

প্রমাণ হলো জগতের সব উলামায়ে কিরামগন লক্বব ব্যবহার করেছেনতাই যারা লক্বব নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে তারা যে গন্ডমূর্খ সেটাই প্রমান হবে

(১২) ভণ্ড রেজাখানী ঘরনার মূর্খ লেখক বলেছে, রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব নাকি বাসা থেকে বের হন নাঃ মূর্খ লেখককে বলবো, সে যেনো রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব সম্পর্কে ৬৪ জেলায় একটু খবর নিযে দেখেনিলেই জানতে পারবে সে নিজে কুয়োর ব্যাঙ বলে সবাই কি তাঁর মতো হবে? তিনি প্রত্যেক জেলায় একাধিক বার (কোন কোন জেলায় ১৫-২০ বার) মাহফিল করেছেন, ওয়াজ নসিহত করেছেনএমনকি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কিংবা সন্দীপের মত সমুদ্রের মাঝে কিংবা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দুর্গম এলাকাগুলোতেও ১০-এর উপর তিনি নিজেই ওয়াজ মাহফিল করেছেনকিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন পত্রিকা-কিতাব প্রকাশনা, এবং দরবার শরীফে ৩৫৬ দিন ব্যাপী মাহফিল হওয়ায় তিনি সাধারণত বাইরে যান না, ভেতরেই দ্বীন ইসলাম উনার কাজে ব্যস্ত থাকেনএখানে জানার প্রয়োজন ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মানার্থে ৩৬৫ দিনব্যাপী দরবার শরীফে (সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ বা ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ উদাযাপনে) মাহফিল করেন যা প্রতিদিন রাত ১০-১/২/৩ টা পর্যন্ত হয়ে থাকেসেখানে তিনি আগত সবাইকে পোলাও-গোশত তবারক হিসেবে খাওয়ানএকই সাথে তিনি দোয়া করেছেন, এ মাহফিল যেন অনন্তকাল ব্যাপী জারি থাকেসুবাহানাল্লাহ!!! সত্যি কথা বলতে, নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতটুকু মুহব্বত থাকলে একজন সারা বছর এমনি অনন্তকাল ব্যাপী সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ মাহফিলের নিয়ত করতে পারেন?? এবং এত এত খরচ করতে পারেন?? এগুলো চিন্তা করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়তবে তিনি যেহেতু এ জামানার মুযাদ্দিদ তাই উনার পক্ষেই এ ধরনের চিন্তা ফিকির করা সম্ভব

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে ছোট লোকদের চিন্তাভাবনাগুলো সব সময় হয় ছোট লোকদের মতো হয়তিনি কেন নিচে আসছেন না, তাদের মত ফুটপাতে ঘুরাঘুরি করছেন না, এটাই তাদের মাথা ব্যাথ্যার কারণধরুন একজন সাধারণ মানুষ যদি চিন্তা করে, “হায়রে প্রধানমন্ত্রী কেন আমার মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে না ?? সে কেন গাড়ি দিয়ে ঘুরে ?? এত সিকিউরিটি কেন ?? আমার তো সিকিউরিটি লাগে না ?? তাহলে কি হবে ?? প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব অফিস আছে, সেখানে সে বসবে, সেখানে তার সাথে কথা বলতে হবে

তেমনি রাজাবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব একজন ওলী আল্লাহতিনি অসংখ্য গবেষণাধর্মী কাজের আঞ্জাম দিচ্ছেন, প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকা আল ইহসান, মাসিক আল বাইয়্যিনাত এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, প্রতিদিন তিনি মাহফিলের প্রধান অতিথি হয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন কেউ যদি উনার সাথে দেখা চায়, তবে প্রতিদিন রাতে খানকাহ শরীফে দেখা করা উন্মুক্তএছাড়া জোহরের সময়ও চাইলে দেখা করা যায়এছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে ফজর, আসর, মাগরীবেও উনার খানকা শরীফে দেখা করা যায়এখন কোন মূর্খ যদি একদিন দরবার শরীফে এসে কারো কাছে জিজ্ঞেস করে কিংবা নিজেই ধারণা করে ভাবে, তিনি মনে হয় কোন সমস্যা আক্রান্ত নাহলে দেখা যায় না কেন ?? তাহলে আর কি বলবো ?? পেচা অন্ধকারে থাকতে ভালোবাসে, তার কখন সূর্য দেখার সৌভাগ্য হয় না

(১৩) রেজাখানী ঘরনার মূর্খ লেখক বলেছে, রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত শাহজাদা কিবলা নাকি বাইরে বের হন না, শুধু কুরবানীর সময় ছুরি নিয়ে বের হনঃ এখানে বলবো, মূর্খ লেখক এমনভাবে নাস্তিকদের মত লিখেছে মনে হচ্ছে কুরবানী সময় ছুরি নিয়ে বের হওয়া মনে হয় অপরাধীদের কাজঅথচ ঈদের দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট সবচেয়ে পছন্দের কাজটি হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করাআর শাহজাদা কিবলা ঐ পছন্দের কাজটি করার জন্য নিচে আসেন, এটা দোষের কি আমি বুঝলাম না

পাশাপাশি আরো বলতে হয়, ছোটলোকের চিন্তা ছোট লোকের মত, সে প্রাসাদের মধ্যে রাজা-বাদশাহরা কি করে সেটা বুঝবে কিভাবে?? যেমন হযরত শাহজাদা কিবলা তিনি সবার আড়লে থেকে কি কি করেন সেটা বুঝার জন্য আমি যা দেখেছি তাই বলছি,

ক) তিনি একটি ইসলামীক সৌর ক্যালেন্ডার চালু করেছেন, যার নাম আত তাক্বউইমুশ শামসিকারণ মুসলমানরা এখন খ্রিস্টানদের খ্রিস্ট ক্যালেন্ডার ইউজ করে যেটা প্রত্যেকটি নাম বিভিন্ন দেব-দেবী ও কাফিরদের নাম অনুসারেমুসলমানদের যে একটি পৃথক সৌর ক্যালেন্ডার প্রয়োজন এটা আবিষ্কার করা তো দূরের কথা, এটা যে দরকার সেটাই কেউ কখন চিন্তা করেছে কিনা সন্দেহএ বিশেষ ক্যালেন্ডার সম্পর্কে জানতে এ লিঙ্কটি দেখতে পারেন: http://attaqweemushshamsi.net

খ) তিনি একটি বই প্রকাশ করেছেন, নামঃ বিজ্ঞান-ই মুসলমানগণ উনাদের অবদান(বইটি আপনারা দরবার শরীফের কিতাব বিক্রয় কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে পারেন)এ বইটিতে দলিল প্রমাণসহকারে প্রকাশ করা হয়েছে প্রত্যেকটি বড় বড় আবিষ্কার মুসলমানরেই করেছে কিন্তু কাফিররা চুরি করে তাদের নামে চালিয়ে দিয়েছেএ বইটির প্রথম খণ্ড বের হয়েছে, আরো কয়েকশখণ্ড ইনশাআল্লাহ বের হবেএ ইতিহাসগুলো নির্ভেজালভাবে বের করে প্রকাশ করার জন্য কঠোর পরিশ্রমের দরকার রয়েছেযেটা তিনি নিরলসভবে করে যাচ্ছেনএ্ই বইগুলো যে বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কি উপকারে আসবে সেটা যারা বুঝার তারা বুঝবেকিন্তু মুসলমানদের জ্ঞান বিজ্ঞানের পুরো ইতিহাস যে একত্র করে প্রকাশ করা দরকার সেটা কয়েজনে চিন্তা করেছে বলুন তো ??

আমি আবার বলছি, ওলী আল্লাহদের কাজ ওলী আল্লাহদের মতমুযাদ্দিদদের কাজ মুযাদ্দিদদের মতউনাদের চিন্তাধারা কার্যক্রম সবকিছু ‍সাধারণ মানুষের জ্ঞানের উর্ধেকিন্তু ছোট লোকরা চিন্তা করে ছোট লোকদের মত, তাদের চিন্তা কি করে পীর-মুরিদি নাম দিয়ে কিছু ধান্ধা করা যায়, কি করে নারী নেতৃত্ব করে কিছু ক্ষমতা পাওয়া যায়, কি করে খোটা-খুটি করে কিছু প্রচার পাওয়া যায় এতটুকুইকিন্তু রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব এবং উনার সম্মানিত শাহজাদা উনারা সমস্ত উম্মাহর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন, সেটা এ সমস্ত মূর্খদের পক্ষে অনুধাবন করা কষ্মিনকালেও সম্ভব হবে না

(১৪) কম ঘুমানোঃ গোলাম দস্তগীর লিসানী উপহাস করে লিখেছে, রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেব ক্বিবলা কম ঘুমানপ্রতিদিন ২/৩ ঘন্টা ঘুমান।
মূলত রেজবীপন্থীরা ইলমে তাছাউফের জ্ঞান হতে সম্পূর্ণ মাহরূমদেখুন ইলমে তাছাউফের সকল কিতাবে বিশেষ করে ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে বেলায়েতের নমুনা স্বরূপ তিনটা কাজের কথা বলা আছে, যথা-
- কম খাওয়া(পরিমানমত)
- কম কথা বলা
- কম ঘুমানো

পৃথিবীর যত ওলী আল্লাহ এসেছেন তারা কি পরিমান ঘুমিয়েছেন এটা উনাদের জীবনী পড়লেই জানা যায়হযরত মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির জ্বিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনি রাতের পর রাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করেছেন, চিশতীয়া খান্দানের সকলেই রাত জেগে না ঘুমিয়ে কঠোর ইবাদত বন্দেগী করেছেন, এমনকি ইমামে আযম ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনিও সারা রাত ইবাদত করতেনদিনে তালিম দিতেনউনারা কি পাগল ছিলেন? বেয়াদব গোলাম দস্তগীর কি সেটাই বলবে?

মূলত এই সকল রেজবীপন্থী লোকদের তাছাউফ সম্পর্কে এবং ওলী আল্লাহদের জীবনি সম্পর্কে এতটাই অজ্ঞতা যে তাদের লিখনি থেকে সেটা পরিস্কার বোঝা যায়মূর্খটা তাযকেরাতুল আউলিয়া কিতাবটাও পড়েছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে

(১৫) তাদের অমুসলিম বিদ্বেষ দেখার মতঃ বিধর্মীরা মুসলমানের শত্রু এটা আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে অনেকবার বলেছেনএই বিধর্মী কাফিররা সাড়া পৃথিবীতে পাইকারী হারে মুসলমান নারী পুরুষ দের শহীদ করছে, কুরআন শরীফ জ্বালিয়ে দিচ্ছে, মসজিদ ভেঙ্গে আস্তাবল এবং মদের দোকান বানাচ্ছে, পর্দা করতে দিচ্ছে না, নামাজ পড়তে দিচ্ছে না, আজান দিতে দিচ্ছে না, এককথায় মুসলমানদের নাম নিশানা ধ্বংস করার জন্য কাফিররা উঠে পরে লেগেছেঅথচ বর্তমান জামানায় ঢাকা রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেব কিবলা এই সকল বিধর্মীদের নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ করে যাচ্ছেনআর এই প্রতিবাদকে বিধর্মীদের এজেন্ট গোলাম দস্তগীর "তাদের অমুসলিম বিদ্বেষ দেখার মত" বলে উপহাস করেছেএ থেকে বোঝা যায় রেজাখানীরা কতটুকু বিধর্মীদের আশেকবিধর্মীদের এসব অন্যায়ের প্রতিবাদও তাদের ভালো লাগে না

আর কুরআন শরীফে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার শান সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ [اشداء علي الكفار]
অর্থঃ কাফিরদের প্রতি কঠোর
(সূরা ফাতাহ, আয়াত শরীফ নং ২৯)

এখন ফারুকে আজম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু সহ সকল সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন ছিলেন কাফিরদের প্রতি কঠোর যা বদর যুদ্ধের ইতিহাস পড়োলেই জানা যায়এখন কি রেজাখানীরা উপহাস করে বলবে, কাফেরদের প্রতি সাহাবীদের কঠোরতা দেখার মত??

(১৬) বাহিরের খাবার না খাওয়াঃ মূর্খ লেখক গোলাম দস্তগীর লিসানী উপহাস করে লিখেছে, রাজারবাগ শরীফের সন্মানিত পীর সাহেব বাহিরের খাবার খান না"

সম্মানিত পাঠক! আসলে এই বাজার দরের রেজবী মোল্লাদের পক্ষে তাক্বওয়ার বিষয়টা বোঝাটাই অসম্ভবএরা যে যাই দেয় তাই হাপুস গাপুস করে খায়কোন হালাল হারাম তমীয করে নাএরা কি করে ওলী আল্লাহ উনাদের তাক্বওয়ার বিষয়টা বুঝবে? যেখানে সেখানে বসে হুক্কা খাওয়া যাদের মুরুব্বীদের আমল তারা কি খাবারের তাক্বওয়া বুঝবে?

মহান আল্লাহ পাক কুরআন শরীফে স্পষ্ট বলে দিয়েছেনঃ তোমরা খাও এবং পান করো হালাল এবং পবিত্র বস্তু" শুধু হালাল খেলেই হবে নাখাবার পবিত্রও হতে হবেকারন ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত হচ্ছে হালাল এবং পবিত্র খাবারবর্তমানে বাহিরের তৈরী খাবার এতটাই বাজে পরিবেশে তৈরী হয় সেটা সাধারণ মানুষের পক্ষেও খাওয়া অনুচিতআপনারা পেপার পত্রিকার মাধ্যমে অনেক কিছুই জানেনতাই খাবার খাওয়ার বিষয়ে যদি তাক্বওয়া অবল্বন করা হয়ে সেটা কি উপহাসের বিষয় ? সারাদিন যারা হারাম নাপাক খাবার খায় তারা অবশ্য এসব তাক্বওয়ার বিষয় বুঝবে না

হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার জীবনি মুবারকে একটা ঘটনা আছেঃ- উনার ছেলে বাদশার দরবারে চাকরি করতেন তাই ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি কখনো ছেলের কোন খাবার খেতেন নাএকদিন উনার ঘরে খাবার না থাকায় উনার ছেলের বাড়ি থেকে আটা নিয়ে রুটি বানানো হলোতিনি জিজ্ঞাসা করলেন বাড়িতে তো খাবার নেই রুটি এলো কোথা থেকে? বলা হলো, আপনার ছেলের বাড়ি থেকেতিনি বললেন, এ রুটি আমি খাব নাকোন ফকিরকে দিয়ে দাওফকির আসলে তাদের দেয়ার সময় কারন বললে, ফকিররাও উক্ত রুটি নিতে অসম্মত হয় ফকিররা বলে যে রুটি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি খান নাই আমরা কি করে খাবোএভাবে রুটি কেউ নিলো নাগন্ধ হয়ে গেলোপরে উনার ছাত্ররা নদীতে সে রুটি ফেলে দেনইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি জিজ্ঞাসা করলেন, সে রুটির কি করলে? উত্তর দেয়া হলো, নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। তিনি তখন বললেন, আজ থেকে এই নদীর মাছ খাওয়াও আমার জন্য নিষিদ্ধ হলোসুবহানাল্লাহ!!!

এই হলো ওলী আল্লাহ উনাদের তাক্বওয়াএসব বিষয় হুক্কা সেবনকারী গং দের পক্ষে বোঝা অসম্ভব বললেই চলেএকারনেই সম্মানিত রাজারবাগ শরীফের পীর সাহেব উনার খাওয়া দাওয়ার বিষয় নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা নাপাকখোর লিসানীর পক্ষে সম্ভব হয়েছে

(১৭) পরিবারবর্গের কেউ বাহিরে গেলে কেউ তাদের দেখে নাঃ আমি বুঝলাম না এইখানে আপত্তির কি হলো? এসকল বেপর্দা বেহায়া রেজবীরা কি মনে করে তাদের গুরু তাহের শাহ, সাবের শাহ যেমন বেপর্দা হয়ে চলাচল করে হক্কানী ওলী আল্লাহ উনারাও সেভাবে চলবেন? সাধারণ পর্দা সম্পর্কে যাদের কোন ধারনা নেই এরা কি করে ওলী আল্লাহর মূল্যায়ন করবে? এদের পীর ছাবের শাহ তার অনেক অনুষ্ঠানে বেগানা মহিলার পাশে বসে কথা বলে, নিজের বউ নিয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দেয় বলে কি এরা মনে করে এটাই শরীয়ত? ভন্ডামীরও একটা সীমারেখা থাকা দরকার 

রেজাখানী বাতিল বেপর্দা দের এটা জেনে রাখা দরকার যে, রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব ক্বিবলা এবং উনার সম্মানিত পরিবারবর্গ যে সুক্ষ্ম শরয়ী পর্দা করেন তার দৃষ্টান্ত বর্তমান পৃথিবীতে নেই বললেই চলেআর অন্যদিকে রেজাখানী বাতিল পীররা যেমন নিজেরা বেপর্দা হয় সেটা দেখে লিসানী মার্কা মুনাফিকরা মনে করে বেপর্দা হওয়াটাই বুঝি শরীয়তনাউযুবিল্লাহ!!!


(১৮) নিরাপত্তাঃ মূর্খ অপপ্রচারকারী গোলাম দস্তগীর লিসানী পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করেছেমূর্খটার জেনে রাখা উচিত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব ক্বিবলা উনার জন্য নয় বরং সাধারণ মানুষের জন্যএকটা জিনিস সব সময় মনে রাখতে হবে আল্লাহ পাক স্বয়ং উনার ওলীদের নিরাপত্তা দানকারীইতিপূর্বে বিভিন্ন মাহফিলে বাতিল ফির্কারা পবিত্র রাজাবাগ শরীফ উনার পীর সাহাবের ক্বিবলা উনার ক্ষতি করার জন্য টাইমবোমা, পিস্তল ইত্যাদি প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছিলোকিন্তু কোনটাই কাজ করে নাইসুবহানাল্লাহ!!!

রাজারবাগ শরীফ থেকে প্রকাশিত মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ, দৈনিক আল ইহসান শরীফের ক্ষুরধার লিখনের কারনে কাফের মুশরেকদের ষড়যন্ত্র, ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে সূদের মুখোশ খুলে যাচ্ছেযে কারনে তারা বিভিন্ন ফিৎনা সৃষ্টির চেষ্টা সব সময়ই করে যাচ্ছেযাতে করে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে এজন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থাআর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রনয়ন সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত সে যদি এই সিম্পল ব্যপারে না জানে তাহলে নিজেকে উম্মত দাবী করে কিসের ভিত্তিতে

(১৯) হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারতঃ মূর্খ লিসানী উপহাস করে লিখেছে নবীজীর সাথে তাদের অলটাইম যোগাযোগ এই মূর্খ লিসানী ওহাবী কিনা এখন সন্দেহ হচ্ছেহাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মাহবুব উম্মতদের যে অলটাইম দিদার হয় এটা কি লা'নত প্রাপ্ত রেজাখানী গং জানে না?

জানবে কি করে তাদের পক্ষে তো আর কোনদিন দিদার নছীব হয় নাইবুখারী শরীফ মুসলিম শরীফ সহ অসংখ্য হাদীস শরীফের কিতাবে "স্বপ্নের অধ্যায়" নামক একটা আলাদা অধ্যায় আছেযেখানে জানা যায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে যিয়ারত করা যাবেএছাড়া অসংখ্য ওলী আল্লাহ উনাদের জীবনীতে রয়েছে তাঁরা স্বপ্নে এবং জাগ্রত অবস্থায় অসংখ্যবার হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত লাভ করেছেন

এখন রেজবী পন্থী গোলাম কি বলবে উনারাও হ্যালুসিনেশনে ভুগছিলেন? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার, অন্যান্য নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের দীদার, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাদের দীদার যাদের কাছে হ্যালুসিনেশন তারা যে কতবড় মুর্দা হৃদয়ের অধিকারী সেটা সহজেই অনুমেয়অথচ পবিত্র রাজারবাগ শরীফের সম্মানিত পীর সাহেব ক্বিবলাতো অবশ্যই বরং উনার সোহবতে যাওয়ার কারনে উনার অসংখ্য মুরীদান জাগ্রত এবং ঘুমন্ত অবস্থায় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং আওলিয়ায়ে কিরাম উনাদেরকে অসংখ্য বার যিয়ারত করে থাকেনসুবহানাল্লাহ!!!

এখন কথা হচ্ছে যারা কোনদিন এসব কিছু দেখে নাই, যাদের বিদয়াতি রেজবীপন্থী পীররা দেখে নাই তাদের কাছে এগুলা হ্যালুসিনেশনই মনে হওয়া স্বাভাবিককারন যার আঙ্গুর খাওয়ার যোগ্যতা নাই তাদের কাছেতো আঙ্গুর ফল টকই মনে হবে, তাইনয় কি?

পরিশেষে আপনাদের আবারো দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, দেখুন বিরোধিতা করতে গিয়েও কিন্তু মিথ্যাবাদী গোলাম দস্তগীর ইচ্ছায় অনিচ্ছায় রাজারবাগ শরীফের শান মান প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে 

তার লিখনি থেকে ফুটে উঠেছে

  • রাজারবাগ শরীফে পরিপূর্ণ সুন্নত পালন করা হয় 
  • রাজারবাগ শরীফে পরিপূর্ণ শরীয়তের আমল করা হয় 
  • রাজারবাগ শরীফে কোন হারাম নাজায়িয কাজ করা হয় না 
  • রাজারবাগ শরীফে পরিপূর্ণ শরয়ী পর্দা পালন করা হয় 
  • রাজারবাগ শরীফেই কেবল মুসলমানদের অত্যাচারকারী কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়
  • রাজারবাগ শরীফেই খাবারের বিষয়ে খুবই তাক্বওয়া অবলম্বন করা হয় 
  • একমাত্র রাজাবাগ শরীফেই ছবি তোলা হয় না, এবং হারাম ছবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয় 
  • রাজারবাগ শরীফেই ইসলামের যাবতীয় বিষয়ে পরিপূর্ণ আদব রক্ষা করা হয়
  • রাজারবাগ শরীফেই প্রকৃত ইলমে তাছাউফের চর্চা করা হয় 
  • রাজারবাগ শরীফের সকলেই স্বপ্নে জাগরনের হাবীবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার লাভ করেন
আলহামদুলিল্লাহ!!! 

রেজাখানীদের পীর ছাবের শাহ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ Pir Sabir Shah (President PML N KPK )Ex Chief Minister KPKআপনারা নিজেরাই দেখুন এ লোক কতবড় বেপর্দা, বেদয়াতি, দাড়ি বিহীন ফাসেক ফুজ্জার, গনতন্ত্রের পূজারী মুনাফিক 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: