11.30.2014

৭১ সালে রেজাখানিরা ছিলো রাজাকার বা দেশবিরোধী, এটা ঐতিহাসিক সত্য, এখানে দ্বিমত করার কোনই অবকাশ নেই।

৭১ সালে রেজাখানিরা ছিলো রাজাকার বা দেশবিরোধী, এটা ঐতিহাসিক সত্য, এখানে দ্বিমত করার কোনই অবকাশ নেই.............

১) রেজাখানি গুরু মাওলানা নূরানী ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানীদের হুজুরবেশী এজেন্টযুদ্ধশুরু মাত্র ২ দিন আগে বঙ্গবন্ধুকে ম্যানেজ করার তারই নেতৃত্বেই প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলো পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী। (সূত্র: http://goo.gl/VuamXo)

২) রেজাখানি গুরু মাওলানা নূরানী পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর কত বড় এজেন্ট ছিলো তার জন্য একটি উদাহরণ দেইআপনারা জানেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশভাবে নির্বাচনে জয়লাভ করেকিন্তু পশ্চিমপাকিস্তানী শাসকরা সেই নির্বাচন মেনে নেইনিতারা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আসনগুলো বাতিল করে দেয়এতে ১৯৩টি আসন শূণ্য হয়ে যায়এরপর পাকিস্তান সরকার ১৯৭১ সালে সে আসনগুলোতে প্রহসনমূলক উপনির্বাচনের ডাক দেয়এখানে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, উক্ত প্রহসনমূলক উপনির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যোগাযোগ করার জন্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে যাকে পাঠানো হয়েছিলো সেই ছিলো রেজাখানি গুরু মাওলানা নুরানীএ সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লিখিত ঘাতকের দিনলিপি বইয়ের ১৮ই অক্টোবর সোমবার অংশে বলা হয়: জমিয়তের ওলামায়ে পাকিস্তানের মওলানা শাহ নূরানীর নেতৃত্বে দুসদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য ঢাকার উদ্দেশ্য করাচী ত্যাগ করেন” (পৃ: ২২৫)
৭১ সালে রেজাখানিরা ছিলো রাজাকার বা দেশবিরোধী,
বলাবাহুল্য ১৯৭১ সালে যে প্রহসনমূলক উপনির্বাচন হয়েছিলো তাতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ছিলো জামাতসহ বিভিন্ন স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার-আল বাদর মার্কা দলগুলোএখান থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট রেজাখানিগুরু নূরানী ছিলো ঐসময় সকল রাজাকার দলের সাথে পশ্চিমপাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর মধ্যস্থতাকারী

৩) মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বই ঘাতকের দিনলিপি বইয়ের ১৯ই অক্টোবর মঙ্গলবার অংশে বলা হয়: জমিয়তে ওলামায়ে পাকিস্তানের সফরকারী দলের নেতা শাহ আহমদ মওলানা নূরানী আজ দেখা করেন পিডিবি প্রধান নুরুল আমিনের সঙ্গে।" উল্লেখ্য পিডিবির নুরুল আমিন ছিলো বাংলাদেশ বিরোধী শান্তি কমিটি গঠনের অন্যতমত উদ্যোক্তা

৪) রেজাখানি গুরু মাওলানা নূরানী ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতিকারী বলে জিহাদের ডাক দিয়েছিলোএ সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বই ঘাতকের দিনলিপির ১০ই এপ্রিল শনিবার অংশে বলা হয়: দেশের সংহতি সংরক্ষণে প্রেসিডেন্ট পূর্ব-পাকিস্তানে যে ব্যবস্থা নেয় তার প্রতি সমর্থন এবং দুষ্কৃতিকারী ও ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দেন জমিয়তে ওলামা-ই পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা শাহ আহমদ নূরানী” ( পৃষ্ঠা: ২১)
এখানে মাওলানা নুরানীর এ বিভ্রান্তমূলক ফতওয়াটি নিয়ে চিন্তার দরকার আছেমুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা যায়, অনেক স্বল্প শিক্ষিত পাকিস্তানী সেনা বাংলাদেশে এসে ভেবেছিলো এটা মনে হয় হিন্দুর দেশঅনেকে বাংলাদেশকে ভারত মনে করেছিলোযার কারণে তারা যুদ্ধ করতে দ্বিধা করেনিএখানে স্পষ্ট, স্বল্প শিক্ষিত পাকিস্তানী সেনাদের ধোকা দেয়া হয়েছিলোআর সেই ধোকা শুধু পাকিস্তানী সেনাপ্রধান নয়, ধর্মব্যবসায়ী গোস্ঠীগুলোও দিয়েছিলোআর পাকিস্তান যেহেতু সুন্নী প্রধান দেশ, তাই তাদের ধোকা দেয়ার জন্য সুন্নী নামধারী ধর্মব্যবসায়ীর ফতওয়া প্রয়োজন ছিলো আর সেই ধর্মব্যবসায়ীর ভূমিকাই পালন করেছিলো রেজাখানি গুরু নূরানীএখানে মনে রাখা প্রয়োজন, ধর্মব্যবসায়ীদের বিভ্রান্ত ফতওয়া ছাড়া সোয়া লক্ষ সেনা বাংলাদেশে কখনই পাঠাতে পারতো না পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী

৫) অনেকে বলতে পারে, ঘাতকের দিনলিপি বইটিতে ভুল থাকতে পারেআমি বলবো পারে, কিন্তু এ তথ্য যে সত্য তার স্বপক্ষে দলিল হচ্ছে, পাকিস্তানে ডন পত্রিকার ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর সংখ্যাসেখানে স্পষ্ট করেই মাওলানা শাহ আহমদ নূরানী সম্পর্কে বলা হয়: “when he saw the Indian government and Indian troops supporting the Mukti Bahini, he lent his backing to the military government.”
অর্থাৎ: যখন যখন তিনি দেখেলেন ভারত সরকার ও ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর পক্ষ নিয়েছে, তখন তিনি সামরিক সরকারের পক্ষে তার সমর্থন জানান। (সূত্র: http://goo.gl/pv5TYf)

৬) আবার অনেকে বলতে পারেন, নূরানী তো প্রথমে আওয়ামী সরকারের নিকট ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে ছিলোআমি বলব: হতে পারেইবলিশ শয়তানও তো ৬ লক্ষ বছর আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করেছিলোকিন্তু পরে সে এক ঘটনায় লানতপ্রাপ্ত হয়এখন পূর্বের ইবাদাতের জন্য ইবলিশকে ছেড়ে দিলে চলবে ?? ঠিক তেমনি রেজাখানি গুরু আগে কি করেছিলো সেটা বড় নয়, যুদ্ধের সময় কি করেছিলো সেটাই বড়আরো গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, একজন প্রকৃত আলেম কখনই পাকিস্তান সরকারের পক্ষে যাওয়া স্বাভাবিক ছিলো নাকারণ ২৫ মার্চ যে নির্মম হত্যাকাণ্ড চলেছিলো তার দলিল সকল পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেয়ে যায়সেটা দেখেও যুলুমবাজ পাকিস্তান সরকারের পক্ষ নেওয়া একজন ধর্মব্যবসায়ীর পক্ষেই কেবল সম্ভব

৭) এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৩০ শে মার্চ দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশিত রেজাখানীদের ভাড়া করা পীর তাহের শাহর একটি সাক্ষাৎকারসেখানে তাহের শাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, ৭১ এ পাকিস্তানী আলেমদের অবস্থান কোন পক্ষে ছিলোউত্তরে সে নিজ থেকেই রাজাকার নূরানীর নাম নিয়ে আসে এবং মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বলতে থাকে: মওলানা নূরানী বাংলাদেশেরে পক্ষে ছিলোতবে এ সাক্ষাৎকারটি কখনই নিদের্শ করে না রেজাখানি গুরু নূরানী বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো, বরং এটাই নিদের্শ করে তাহের শাহ একটা মুনাফিক ও মিথ্যাবাদীএকই সাথে নির্দেশ করে, মানুষের অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাজাকারকে স্বাধীনতার পক্ষে বানানোর চেষ্টা করায় তাকে ও তার জ্ঞাতিগুষ্টিকে বাংলাদেশে পেলে জুতা দিয়ে পিটাতে হবেতাই বাংলাদেশে জঘন্য মিথ্যাবাদী-ধান্ধাবাজ তাহের শাহ ও তার জ্ঞাতিগুষ্ঠিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হোক

৮) অনেকে হয়ত এখন বুঝেন নাই, নূরানী রেজাখানি গোষ্ঠীর কে ?? বুঝার জন্য বলছি বাংলাদেশসহ পাকিস্তানের সকল রেজাখানিরা গোষ্ঠী মাওলানা নূরানীকে গুরু হিসেবে একবাক্যে স্বীকার করে নেয়বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২০০২ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কথিত আন্তর্জাতিক সুন্নী কনফারেন্সে প্রধান অতিধি ছিলো রেজাখানি গুরু রাজাকার মওলানা নূরানী
১) https://www.youtube.com/watch?v=fzLbW7UCJ10
২) https://www.youtube.com/watch?v=QvKcKUREN7Q

তাই বলতে হয়, ’৭১ স্বাধীনতার বিরোধীতা করায় জামাতের বিচার হলে, ৭১ এ সমস্ত রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষক রেজাখানি গোষ্ঠীরও বিচার হওয়া উচিত

লেখাটি ভালোভাবে বুঝতে আগের লেখাটি পড়তে পারেন: http://rajibkhaja.blogspot.com/2014/11/rezakhani71.html

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: