11.30.2014

ফিরে দেখা ইতিহাস: ‘৭১ এ মু্ক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রেজাখানিদের জিহাদের ডাক এবং কথিত তাহের শাহের জঘন্য মিথ্যাচার।

ফিরে দেখা ইতিহাস: ৭১ এ মু্ক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রেজাখানিদের জিহাদের ডাক এবং কথিত তাহের শাহের জঘন্য মিথ্যাচার......

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কট্টর বিরোধী ছিলো সুন্নী নামধারী রেজাখানি গোষ্ঠী১৯৭১ সালে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে জিহাদ বলে ফতওয়া দিয়েছিলোআমার এখন সেই গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকাবো :

১) ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ ভয়ঙ্কর কালো রাত্রীর আগে ২২ই মার্চ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে একটি প্রতিনিধি দল এসেছিলো পূর্ব পাকিস্তানেপ্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ছিলো রেজাখানিদের রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতা শাহ আহমদ নূরানীতাদের উদ্দেশ্য ছিলো, যে কোন্ উপায়ে বঙ্গবন্ধুকে ম্যানেজ করাকিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় রেজাখানিদের নেতা শাহ আহমদ নূরানী রাগ করেই বলে বসে: ইট মে বি আওয়ার লাস্ট মিটিং” (সূত্র: http://goo.gl/VuamXo)

২) ১৯৭১ সালে রেজাখানি এই নেতা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দিয়েছিলোএ সম্পর্কে ঘাতকের দিনলিপিনামক বইয়ের ২১ পৃষ্ঠায় বলা হয়:
দেশের সংহতি সংরক্ষণে প্রেসিডেন্ট পূর্ব-পাকিস্তানে যে ব্যবস্থা নেয় তার প্রতি সমর্থন এবং দুষ্কৃতিকারী ও ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জিহাদের ডাক দেন জমিয়তে ওলামা-ই পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা শাহ আহমদ নূরানী” (ছবিতে দ্রষ্টব্য)
বিষয়টি সত্যতা আরো পাওয়া যায়, পাকিস্তানে ডন পত্রিকার ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর সংখ্যায়সেখানে মাওলানা শাহ আহমদ নূরানী সম্পর্কে বলা হয়: “when he saw the Indian government and Indian troops supporting the Mukti Bahini, he lent his backing to the military government.”
অর্থাৎ: যখন তিনি দেখেলেন ভারত সরকার ও ভারতীয় সেনাবাহিনী মুক্তিবাহিনীর পক্ষ নিয়েছে, তখন তিনি সামরিক সরকারের পক্ষে তার সমর্থন জানান। (সূত্র: http://goo.gl/pv5TYf)
ফিরে দেখা ইতিহাস: ‘৭১ এ মু্ক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রেজাখানিদের জিহাদের ডাক এবং কথিত তাহের শাহের জঘন্য মিথ্যাচার।

পাঠক আপনি বলতে পারেন, পাকিস্তানের নাগরিক পাকিস্তানের অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানাবে এটাই তো স্বাভাবিকআমিও বলবো ঠিক আছেকিন্তু সমস্যা হচ্ছে অন্যখানেএরজন্য আপনাদের দেখতে হবে, রেজাখানিদের ভাড়া করা কথিত পীর তাহের শাহের একটি সাক্ষাতৎকারকে, যে সাক্ষাৎকারটি তাহের শাহ বাংলাদেশে এসে ২০০৭ সালের ৩০ শে মার্চ দৈনিক যুগান্তরের নিকট দিয়েছিলোআসুন সাক্ষাৎকারটি একটু পড়ি:

দৈনিক যুগান্তর : ২৬ মার্চ ছিল আমাদের স্বাধীনতা দিবসআজ থেকে ৩৬ বছর আগে এই দিনে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী এদেশের আমজনতার উপর নৃশংস, ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছিলতারপর দীর্ঘ নয়মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধশেষে আমারা প্রতিক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করিআপনি পাকিস্তানের একজন নাগরিক হিসাবে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কোন দৃষ্টিতে দেখেন?

তাহের শাহ: তৎকালীন শাসকগোষ্ঠি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর যে জুলুম চালিয়েছিল তা ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বরোচিত ঘটনা হিসাবে স্বীকৃতএ স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল জালেম, স্বৈরচারী শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে মজলুম নিপীড়িত বঞ্ছিত মানুষের জুলুমের শোষণ থেকে মুক্তির পবিত্রতম স্বাধীকার আন্দোলনআপনাদের এ স্বাধীনতার লড়াই সন্দেহাতীতভাবে মজলুমের আত্ম-অধিকার প্রতিষ্ঠার পবিত্রতম লড়াই

দৈনিক যুগান্তর: এ যুদ্ধ তো সংঘটিত হয়ে ছিল জালেম ও মজলুমের মধ্যেতাই আমাদের জানতে ইচ্ছে করে সে সময়কার পাকিস্তানের আলেমদের ভূমিকা কী ছিল?

তাহের শাহ: পাকিস্তানের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম আল্লামা শাহ আহমদ নূরানীতিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে অবর্ণনীয় জুলুম করা হয়েছে, তা সত্যিই ন্যাক্কারজনক ও ঘৃণ্যপূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাঘরিষ্ঠ লোক যখন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিল, তখন তাদের দাবী মেনে নেয়া উচিত ছিল এবং তাদের প্রতি অন্যায়, জুলুম করে তারা মানব ইতিহাসের একটি অধ্যায়কে কলংকিত করেছে (কত্ত বড় মিথ্যাবাদী !!!)

দৈনিক যুগান্তর: পাকিস্তানের তখনকার ভূমিকার জন্য আপনি কি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমাপ্রার্থী?

তাহের শাহ: কেন? পাকিস্তান কতৃপক্ষকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেনঅন্যায় যে করেছে, সে ক্ষমা প্রার্থী হবেক্ষমা পাকিস্তান কতৃপক্ষ চাইবেজুলুম যে করবে, সে ক্ষমা প্রার্থনা করবেজুলুম করবে একজন, ক্ষমা প্রার্থনা করবে আরেকজনএটা তো শরীয়তসম্মত নয়, জায়েজও নয়আপনারা কি বলেন?
(সাক্ষাৎকারটি মাসিক ছাত্রবার্তা, মে-২০০৭ সংখ্যার :১১-১২ পৃষ্ঠাতেও আসে)

পাঠক !! আপনাদের বুঝতে আর বাকি নেই রেজাখানিরা যে কত বড় মুনাফিকতারা ৭১ সালে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড করে এখন কথিত ভাড়া করা পীর তাহের শাহকে দিয়ে মিথ্যা ইতিহাস রচনা করছে
শুধু এখানেই শেষ নয়, রেজাখানি সাহস কত, মওলানা আহমদ নূরানী নামক রাজাকারকে ২০০২ সালে বাংলাদেশে নিয়ে আসে তারা এবং আন্তর্জাতিক সুন্নী কনফারেন্সের নামক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিধি করা হয় তাকে
ভিডিও লিঙ্ক:
১) https://www.youtube.com/watch?v=fzLbW7UCJ10
২) https://www.youtube.com/watch?v=QvKcKUREN7Q


পাঠক আমার মনে হয়, এতদিনের লুকায়িত এ ইতিহাস প্রকাশ হওয়ার দরকার ছিলোকারণ রেজাখানিরা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে দাবি করে, রাজাকার জামাতের বিরোধীতা করে মানুষকে দলে ভেড়ায়কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারাই তো ৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের মূল হোতাদের অন্যতমএমনকি তাদের সাহস এতটাই বেশি যে, ঐ রাজাকারকে বাংলাদেশে এনে তারা অনুষ্ঠান পর্যন্ত করে থাকেএবার আপনারাই তাদেরকে হাকীক্বত বিচার করুন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: