12.04.2014

ইসলাম ধর্মে কুনো মানুষকে গালি দেওয়া বা গালিগালাজ করা যায়েজ না বরং নিষিদ্ধ এবং হারাম।

ইসলাম ধর্মে কুনো মানুষকে গালি দেওয়া বা গালিগালাজ করা যায়েজ না বরং নিষিদ্ধ এবং হারামতাই এগুলো থেকে দুরে থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করুনঃ নিচে পবিত্র কুরআন মাজিদ এবং হাদীস শরীফ থেকে গালাগালি বা গালিগালাজ না করার পক্ষে দলিল পেস করা হলো, মানা না মানা আপনার ব্যপার


যারা গালিগালাজ করে তাদের ব্যপারে আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি বলেনঃ- রহমান-এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে{গালিগালাজ/যুক্তিহিন/কতর্ক}, তখন তারা বলে, সালাম। {সূরা আল ফুরকানঃ আয়াত শরিফ ৬৩}

যেসব লোক ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের বিনা কারণে কষ্ট দেয় তারা একটা অতি বড় মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় উঠিযে নেয়” (সূরা আহযাবঃ আয়াত শরিফ ৫৮)

যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি। (সূরা আন-নূর: আয়াত শরিফ ২৩)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “মুসলমানদের কে গালমন্দ করা ফাসেকী আর তাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করা কুফরী” (বুখারী ও মুসলিম)

হযরত আবু যর (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনার থেকে বর্ণিততিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে যেন ফাসেক অথবা কাফের এর অপবাদ না দেয়কেননা সে যদি প্রকৃতই তা না হয়ে থাকে তবে এই অপবাদ তার নিজের ঘাড়ে চেপে আসবে। (বুখারী)

হযরত আবু হোরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, পরস্পরকে গালি দানকারীর মধ্যে যে পূর্বে গালি দিয়েছে সে দোষী, যদি নির্যাতিত (প্রথম যাকে গালি দেয়া হয়েছে) ব্যক্তি পরিসীমা অতিক্রম না করে থাকে। (মুসলিম)

হযরত আবু হোরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) থেকে বর্ণিততিনি বলেন, এক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছে উপস্থিত করা হলসে মদ পান করেছিলতিনি বললেন, একে প্রহার করহযরত আবু হোরায়রা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বর্ণনা করেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ হাত দিয়ে, কেউ জুতা দিয়ে, আবার কেউ বস্ত্র দিয়ে তাকে প্রহার করলযখন সে সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করল, তখন কোন একজন বলল, আল্লাহ তোকে লাঞ্ছিত করুকএ কথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “এধরণের কথা বল নাতার বিরুদ্ধে শয়তানকে সাহায্য কর না” (বুখারী)  


আর হাদিস শরিফেঃ- হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বসিয়াছিলেন, তাহার উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) উনাকে গালি দিলোতিনি (ঐ ব্যক্তির বার বার গালি দেওয়া এবং হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) উনার সবর ও খামুশ থাকার উপর) খুশী হইতে থাকেন এবং মুচকি হাসিতে থাকেনঅতঃপর যখন সেই ব্যক্তি অনেক বেশী গালিগালাজ করিল তখন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) তাহার কিছু কথার জবাব দিলেনইহার উপর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হইয়া সেখান হইতে চলিয়া গেলেনহযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) ও তাহার পিছনে পিছনে তাহার নিকট পৌঁছিলেন এবং আরজ করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যতক্ষণ) ঐ ব্যক্তি আমাকে গালি দিতেছিল আপনি সেখানে অবস্থান করিতেছিলেন, তারপর যখন আমি তাহার কিছু কথার জওয়াব দিলাম তখন আপনি নারাজ হইয়া উঠিয়া গেলেনরাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিলেন, (যতক্ষণ তুমি চুপ ছিলে এবং সবর করিতেছিলে তোমার সহিত একজন ফেরেশতা ছিল, যে তোমার পক্ষ হইতে জওয়াব দিতেছিলতারপর যখন তুমি তাহার কিছু কথার জওয়াব দিলে (তখন সেই ফেরেশতা চলিয়া গেলো আর) শয়তান মাঝখানে আসিয়া গেলোআর আমি শয়তানের সহিত বসি না। (এই জন্য আমি উঠিয়া রওয়ানা হইয়া গিয়াছি)-(মুসনাদে আহমদ)।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আর পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: