12.01.2014

সামান্য এক খেজুর গাছ যা জান্নাতের টিকেট হয়ে গেলো দুনিয়ায় ।

সামান্য খেজুর গাছ যা জান্নাতের টিকেট হয়ে গেলো দুনিয়ায়।
এক মুসলিমের এক বাগানভর্তি খেজুর গাছ ছিলোবাগানের পাশেই ছিলো এক দরিদ্র লোকের পরিবারগাছের ডালগুলো সেই গরিবখানার আঙ্গিনায় ঝুলে থাকতো বাগানের মালিককে প্রায়ই দেখা যেতো গরিব লোকটির বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেসে যেতো তার বাগানের খেজুর পাড়তেমাঝে সাঝে দুএকটা খেজুর গরিব লোকটির ঘরের মেঝেতেও পড়তোবাড়ির বাচ্চারা সেগুলো তুলে নেওয়ার লোভ সামলাতে পারতো নাকিন্তু বাচ্চাদের হাতে খেজুর দেখামাত্রই বাগানের মালিক এসে খপ করে ওগুলো কেড়ে নিতোআর যদি দেখতো যে কেউ ইতিমধ্যে খেজুরে মুখ পুরেছে তাহলে তো কথাই নেই, রীতিমত আঙ্গুল বাঁকিয়ে মুখের ভেতর থেকে সেই খেজুর টেনে বের করে আনতো সে

এ ঘটনা কিছুকাল চলার পর সেই গরিব লোক আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন উনার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছে নালিশ জানালোরাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগান মালিকের সাথে দেখা করতে গেলেনতিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে একটি প্রস্তাব দিলেন, বললেনঃ তোমার খেজুর বাগানে যে গাছের ডালগুলো অমুক ব্যক্তির আঙ্গিনায় ঝুলে থাকে, ঐ গাছটি আমাকে দিয়ে দাও; বিনিময়ে তোমাকে জান্নাতে একটি খজুর গাছের সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে কিন্তু বাগান মালিক বললো, আমি আপনাকে এটি দিয়েই দিতাম, “কিন্তু ব্যপার হলো আমার খেজুর বাগানের সব গাছের মধ্যে এই গাছটার মতো ভালো খেজুর কোনটাতেই হয় নাএই বলে সে চলে গেলো বাগান মালিক আর আল্লাহ পাক উনার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার এই কথোপকথন একজন সাহাবি রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু শুনছিলেনবাগান মালিক চলে যাবার পর পরই ঐ সাহাবি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছে এসে উৎসুক হয়ে প্রশ্ন করলেন, “হে পাক রাব্বুল আলামিন উনার রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি ঐ ব্যক্তিকে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেই একই প্রস্তাব কি আপনি আমাকেও দেবেন?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেনঃ হ্যাঁ এ কথা শুনে সেই সাহাবি ছুটে গেলন ঐ বাগান মালিকের বাড়িতেসেই সাহাবি উনার নিজেরও অনেকগুলো খেজুর গাছ ছিলতিনি বাগান-মালিককে বললোঃ তোমার যে গাছের ডালগুলো আমুকের বাড়ির আঙিনায় ঝুলে থাকে, সে গাছের বদলে আল্লাহ পাক উনার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জান্নাতের একটি খেজুর গাছের ওয়াদা করেছেন বাগান মালিকের সেই একই জবাব, “আমার সব খেজুর গাছ গুলোর মধ্যে এই গাছটার চেয়ে বেশি ফল আর কোন গাছ দেয় না সেই সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি গাছটি বিক্রি করবে?” বাগান মালিক বললো, “নাতবে আমি যে দাম চাইবো তা যদি কেউ দিতে রাজি থাকে, তাহলে বেচতে পারিকিন্তু আমার মনে হয় না ঐ দামে কেউ এই গাছটি কিনতে রাজি হবে
কেন তুমি কতো চাও?” সেই সাহাবি প্রশ্ন করলেন
চল্লিশটি খেজুর গাছ”, বাগান মালিকের সোজাসাপ্টা উত্তর
চল্লিশটি খেজুর গাছ!! এই একটি গাছের বিনিময়ে? তুমি তো অতিরিক্ত দাম চাইছো!
বাগান মালিকের কথা শুনে সাহাবি বিস্ময়ে থ হয়ে গেলেনকিছুক্ষন চুপ থাকার পর বললেন, “ঠিক আছেআমি তোমাকে চল্লিশটি খেজুর গাছই দেবো, তুমি যদি সত্য কথা বলে থাকো তো আসো চুক্তি পত্র সই করো বাগান মালিকের কথামতো কিছু সাক্ষী যোগাড় করে চুক্তি সই করলোঐ সাহাবি চুক্তি পত্র হাতে নিয়ে গেলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছেবলে উঠলেন, “হে আল্লাহ পাক উনার রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমি ঐ বাগানের মালিকের কাছ থেকে এই গাছটি কিনে নিয়েছি এখন এটি আপনার! নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন গরিব লোকটির কাছে ফিরে গেলেন, তাকে বললেন, “ এই গাছটি এখন থেকে তোমার ও তোমার পরিবারের...ঠিক সেই মূহুর্তে সাত আসমানের ওপর থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ আয়াত গুলো নাজিল করলেন, {শপথ রাত্রির, যখন সে আচ্ছন্ন করে, শপথ দিনের, যখন সে আলোকিত হয় এবং তাঁর, যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন, নিশ্চয় তোমাদের কর্ম প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনেরঅতএব, যে দান করে এবং খোদাভীরু হয়, এবং উত্তম বিষয়কে সত্য মনে করে, আমি তাকে সুখের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করবআর যে কৃপণতা করে ও বেপরওয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, আমি তাকে কষ্টের বিষয়ের জন্যে সহজ পথ দান করবযখন সে অধঃপতিত হবে, তখন তার সম্পদ তার কোনই কাজে আসবে নাআমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করাআর আমি মালিক ইহকালের ও পরকালেরঅতএব, আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিএতে নিতান্ত হতভাগ্য ব্যক্তিই প্রবেশ করবে, যে মিথ্যারোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়এ থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে, যে আত্নশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করেএবং তার উপর কারও কোন প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে নাতার মহান পালনকর্তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ ব্যতীতসুরাহ আল লাইল শরিফ।} আল্লাহু আকবার!

সামান্য এক খেজুর গাছ যা জান্নাতের টিকেট হয়ে গেলো দুনিয়ায় ।
কতো দুর্ভাগা সেই বাগান মালিক যে সামান্য এক খজুর গাছের বদলে জান্নাতের একটি গাছের মালিক হবার প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দিতে পারে? আর কতো সৌভাগ্যবান সেই বান্দা যে কিনা মাত্র ৪১ টি গাছের বিনিময়ে জান্নাতে নিজের জন্য জায়গা কিনে নেন?? (জান্নাতে একটি গাছের ওয়াদা পাওয়ার অর্থ জান্নাতে যাবারই ওয়াদা পেয়ে যাওয়া, কারন জান্নাতে না থাকলে তো আর সেই গাছকে উপভোগ করা যাবে না।) এই বান্দা একটি ভালো কাজের খোজ পেয়েছিলেন যা তাকে সরাসরি জান্নাতে পৌছে দেবেআর তাই এমন দুর্লভ মুহূর্তটি তিনি তৎক্ষণাৎ আকড়ে ধরেনআর একটু দেরি করলে বা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করলেই হয়তো সুযোগটি হাতছাড়া হয়ে যেতো, হয়তো অন্য কেউ লুফে নিতো এমন অসামান্য এক প্রস্তাব।।


আল্লাহর এই বান্দাটি হলেন আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) তিনি উনার জীবনে অসংখ্যবার এমন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেনএমন একটিবার ও হয়নি যে তিনি ভালো কনো কাজের সুযোগ পেয়েও সেটাকে হাতছাড়া হতে দিয়েছেন সুবাহানআল্লাহ্‌।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: