12.01.2014

তাবলীগ জামাতের মসজিদ ঘুমানো এবং ব্যবহার ইসলামিক শরীয়তের খিলাপ ।

তাবলীগ জামাতের মসজিদ ঘুমানো ইসলামিক শরীয়তের খিলাপ ।
মসজিদ হচ্ছে সেজদার স্থান, নামাজ, জিকির, তেলাওয়াত, ইতিকাফ প্রভৃতি ইবাদতের স্থানসুতরাং মসজিদকে এসব ইবাদতের জন্যই নির্দিষ্ট রাখা জরুরী কর্তব্য আর এজন্য পবিত্র কোরআনুল কারীম, হাদিস শরীফ ও নির্ভরযোগ্য ফিকাহ এবং ফতুয়ার কিতাবে নির্দেশ এসেছেসেসব দলিলের আলোকে ৬ উসুলী তাবলীগ জামাতের কর্মীদের মসজিদে রাত্রিতে অথবা দিনে ঘুমানো তথা মসজিদকে বিশ্রামাগার বানানো অবৈধ কাজএকটি পার্র্টির দলীয় কর্মসূচী পালনে ব্যস্ত এসব লোকের মসজিদে রাতে বা দিনে আরাম করা, ঘুমানো বা বিশ্রাম করা মোটেও শরিয়ত সম্মত নয়ইতিকাফের নিয়তে মৌখিক দাবী মসজিদ সমূহকে আবাসিক হোটেল বানানো সম্পূর্ণ অবৈধ কাজমসজিদের পবিত্রতা রক্ষার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ রয়েছেযেমন আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা এরশাদ মোবারক করেন,
وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَوَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
অর্থাৎ আমার গৃহকে পবিত্র রাখ তওয়াফকারীদের জন্যে, নামাযে দণ্ডায়মানদের জন্যে এবং রুকু সেজদাকারীদের জন্যে (সূরা হজ্জ শরিফ- আয়াত শরিফ ২৬)অন্যত্র আরও এরশাদ করেন-
وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَوَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
অর্থাৎ আমি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) ও ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) উনাদেরকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু সেজদাকারীদের জন্যে পবিত্র রাখো” (সূরা বাকারা শরিফ- আয়াত শরিফ ১২৫)
উপরোক্ত আয়াত শরীফদ্বয়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ইবাদতের ঘরকে নামাজ, ইতিকাফ তথা ইবাদতের জন্য পবিত্র রাখতে হবেকেননা প্রত্যেকটি মসজিদ হলো খানায়ে কাবার প্রতিচ্ছবিআবাসিক হোটেল বানিয়ে উনার পবিত্রতা নষ্ট করা উচিত নয়
তাবলীগ জামাতের লোকেরা বলে থাকে আমরা যখন মসজিদে প্রবেশ করি তখন সুন্নত ইতিকাফের নিয়ত করিপ্রকৃত পক্ষে তাদের নিয়ত কি সুন্নত ইতিকাফের জন্য? না ৬ উসুলী তাবলীগ প্রচারের জন্য? আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তিনি সব কিছুই জানেনআল্লাহকে ধোঁকা দেওয়া যাবে নাইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করলে আসর নামাজের পরে বা জোহর নামাজের পরে দাওয়াত দেওয়ার জন্য বের হন কেনো? আবার বাজার করতে যান কেনো? বাড়ীতে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য বাজারে মোবাইল করতে যান কেনো? ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে ঢুকেন, কিন্তু ইতিকাফ বহির্ভূত কাজও করেন, তাহলে এটা কি ইতিকাফ, না আল্লাহকে ধোঁকা দেয়া?

তাবলীগ ওয়ালাদের ইতিকাফ হলো এই রকম অর্থাৎ ধোঁকাযেহেতু ইতিকাফ ছাড়া মসজিদে অবস্থান করা বা রাত কাটানো যাবে নাতাই যদি মসজিদে প্রবেশের সময় কেউ ইতিকাফের নিয়ত করে প্রবেশে করে, কিন্তু প্রবেশ করার পর শুরু হয় ওহাবী চক্রান্তআরও একটি কথা হলো, সুন্নত ইতিকাফ কখনও দলবদ্ধভাবে হয় নাকিন্তু তাবলীগিরা দলবদ্ধভাবে ইতিকাফ করছেঅনেক সময় রাতে মসজিদে স্বপ্নদোষ হয়ে যায়, ফলে মসজিদের পবিত্রতাও নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ্য যে, সাহাবায়ে কেরামগণ ইতিকাফ করতেন নিজের এলাকার মসজিদেবাড়ী-ঘর রেখে দূর দূরান্তে গিয়ে অন্য এলাকার মসজিদে ইতিকাফ করতেন নাইলিয়াছি তাবলীগী ভাইয়েরা যে এক জেলা হতে অন্য জেলার মসজিদে ইতিকাফ করতে যান কোন দলিলের প্রেক্ষিতে? নিজের এলাকা বাদ দিয়ে অন্য এলাকার মসজিদে ইতিকাফ করা কি ইসলাম সম্মত? না এটাও ইলিয়াছ মেওয়াতীর স্বপ্নে পাওয়া তাবিজ? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, রোজা ছাড়া ইতিকাফ হয় নাবিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ মুয়াত্তা শরীফের কিতাবুল ইতিকাফ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, ইতিকাফ জায়েজ নহে রোজা ব্যতিত, কারণ কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-
وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّوَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ
অর্থাৎ আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাত্রির কৃষ্ণ রেখা হতে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়অতঃপর নিশাগমন পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করতোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সঙ্গত হইও না’ (সূরা বাকারা-১৮৭)আল্লাহ তায়ালা ইতকিাফের উল্লেখ করেছেন রোজার সাথেতাই রোজা ব্যতিত ইতিকাফ হয় না” (মুয়াত্তা শরীফ, ১ম খন্ড, ইতিকাফ অধ্যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)।

তাবলীগ জামাতিগণ বুখারী শরীফের দুটি হাদিস দিয়ে মসজিদ ব্যবহার করতে চায়তাই সে সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা যাকবুখারী শরীফে মসজিদে পুরুষদের ঘুমানো নামে একটি পরিচ্ছেদ আছেতাতে মাত্র দুটি হাদিস শরীফ উল্লেখ করা হয়েছেইসলামিক ফাউন্ডেশন এর বুখারী শরীফ ১ম খন্ড, কিতাবুস সালাত বা সালাত অধ্যায়ের ২৯৯ নং পরিচ্ছেদ যার নাম বাবু নাউমির রিজালি ফিল মাসজিদঅর্থাৎ পুরুষদের মসজিদে ঘুমানো২৯৯ নং পরিচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়, “আবু কিলাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণনা করেনঃ উকল গোত্রের কতিপয় ব্যক্তি হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলেন এবং সুফফায় অবস্থান করলেনআবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সুফফাবাসিগণ ছিলেন দরিদ্রএ কথা বলেই দুটি হাদিস শরীফ পেশ করা হয়হাদিস শরীফ নং ৪২৭ ও ৪২৮উল্লেখ্য যে, মসজিদে নববীর বারান্দায় যারা অবস্থান করতেন তাদেরকে আসহাবে সুফফা বা বারান্দার অধিবাসী বলা হততারা খুবই গরীব ছিলেন এবং নবীজির পক্ষ থেকে কোন খাদ্য আসলে তা গ্রহণ করতেননবীজি এদেরকে মেহমান বলে আখ্যায়িত করেছেনএই দলিল দিয়ে তাবলীগী ভাইয়েরা মসজিদ ব্যবহার করতে চায়, যা বোকামী ছাড়া কিছু নয়
৪২৭ নং হাদিসঃ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, ‘তিনি মসজিদে নববীতে ঘুমাতেনতিনি ছিলেন অবিবাহিততাঁর কোন পরিবার-পরিজন ছিল না’ (বুখারী শরীফ, ১ম খন্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
পাঠকগণ! একটু গভীরভাবে চিন্তা করুন২৯৯ নং পরিচ্ছেদে বলা হল সুফফাবাসিগণ ছিলেন দরিদ্রআর আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদে ঘুমাতেনতাঁর কোন পরিবার-পরিজন ছিল না অর্থাৎ তিনি গরীব ছিলেন এবং ছিলেন সাংসারিক দায়িত্বমুক্তঅতএব উক্ত হাদিস দিয়ে তাবলীগ জামাতিগণ কোনক্রমেই মসজিদে থাকতে পারবে নাকেননা আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যে প্রেক্ষাপটে মসজিদে থাকতেন তা তাবলীগ জামাতিগণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়উক্ত হাদিস শরীফ হতে বুঝা যায় যে, কোন গরীব মুসাফির যদি কোন স্থানে থাকার জায়গা না পায় তবে সে কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে মসজিদে থাকতে পারেতাই তাবলগী জামাতীগণ কোনভাবেই উক্ত হাদিস শরীফ দিয়ে মসজিদ ব্যবহার করতে পারে নাএবার দ্বিতীয় হাদিস অর্থাৎ ৪২৮ নং হাদিস শরীফের দিকে লক্ষ্য করি
৪২৮ নং হাদিসঃ সাহল ইবনে সাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, “ তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমাতুয যাহ্‌রা আলাইহাস সালাম উনার ঘরে এলেন, কিন্তু আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে ঘরে পেলেন নাতিনি ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ আমার চাচাত ভাই কোথায়? তিনি বললেনঃ আমার ও তাঁর মধ্যে কিছু ঘটেছেতিনি আমার সাথে রাগ করে বাইরে চলে গেছেনআমার কাছে দুপুরের বিশ্রামও করেননিতারপর হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেনঃ দেখ তো সে কোথায়? সে ব্যক্তি খুঁজে এসে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি মসজিদে শুয়ে আছেনরাসূলুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এলেন, তখন আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম কাত হয়ে শুয়ে ছিলেনতাঁর শরীরের এক পাশের চাদর পড়ে গিয়েছে এবং তাঁর শরীরে মাটি লেগেছেহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শরীরের মাটি ঝেড়ে দিতে দিতে বললেনঃ উঠ, হে আবু তুরাব! উঠ, হে আবু তুরাব!” (বুখারী শরীফ, ১ম খন্ড, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
পাঠকগণ! একটু গভীরভাবে চিন্তা করুনএখানে হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে মসজিদ শয়ন করাকে পছন্দ করেন নি, তাই তাঁকে উঠ, হে আবু তুরাব! উঠ, হে আবু তুরাব!বলে মসজিদ থেকে নিয়ে আসলেনকেননা মসজিদ বিশ্রামের স্থান নয়, বিশ্রামের স্থান হলো বাড়ীআর হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার বাড়ী আছে, তিনি মসজিদে কেন ঘুমাবেন? তাই হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মসজিদে ঘুমানো পছন্দ করলেন না বলে তাকে মসজিদ থেকে নিয়ে আসলেনঅতএব এ হাদীস দিয়েও তাবলীগ জামাতীগণ মসজিদকে থাকার হোটেল বানাতে পারবে না

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আকরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, “তোমরা মসজিদকে ঘুমাবার স্থান বানাইও না” (উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারী, ৫ম খন্ড, ৪৪৬ পৃষ্ঠা)যেখানে মসজিদে ঘুমানো স্পষ্ট নিষেধ রয়েছে, সেখানে অন্যান্য হাদিসগুলির মর্মার্থ এবং প্রেক্ষাপট অবশ্যই বিশ্লেষণ করতে হবেবিশ্লেষণ না করে যেন-তেনভাবে মসজিদ ব্যবহার করা যাবে নাকেননা ইসলামের ইতিহাসে এমন কোন প্রমান নেই যে, সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের দাওয়াত নিয়ে কোন মসজিদে অবস্থান করেছেনহুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন রাষ্ট্রে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন চিঠির মাধ্যমে এবং সরাসরি রাষ্ট্র প্রধানের নিকটসেখানে সাহাবায়ে কেরাম নবীজির চিঠি নিয়ে সরাসরি রাষ্ট্র প্রধানের নিকট গেছেন, কোন মসজিদ বা ধর্ম উপাসনালয়ে অবস্থান করেননিউদাহরণস্বরূপ বলা যায় রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস এর নিকট হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন চিঠির মাধ্যমে

অতএব তাবলীগ জামাতের মসজিদ দখল কুরআন হাদিস বিরোধীযদি কেহ হাদিস দিয়ে মসজিদ দখল প্রমাণ করতে চায়, তবে তা হবে হাদিসের ভুল ব্যাখ্যামানুষ যখন কোন বিপদে পড়ে, তখন সে বিপদ থেকে বাঁচার জন্য কোন উপায় খুঁজতে থাকেসেরূপভাবে তাবলীগ জামাতিগণ মসজিদ দখলের জন্য বিভিন্ন হাদিসের ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে হাদীস শরীফ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, দরিদ্র ও সামর্থ্যহীন মুসাফির মসজিদে রাতে কিছু সময় বা কয়েকদিন থেকেছেনকেননা নবীজির যুগে আবাসিক হোটেল ছিল নাবর্তমানে অনেক আবাসিক হোটেল আছেতাই মসজিদকে আবাসিক হোটেল না বানানোই শ্রেয়হাদীস শরীফ হতে জানা যায় যে, সাহাবীগণ যদি কোন কারণবশতঃ মসজিদে ঘুমাতেন তবে মসজিদে নববী ব্যতিত অন্য কোন মসজিদে তার প্রমাণ পাওয়া যায় নাএ ব্যাপারে ফতোয়া আলমগীরীতে উল্লেখ আছে, “মসজিদে না ঘুমানই উত্তম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন মসজিদ ব্যতিরেকে অন্য কোন মসজিদে সফর করতে নিষেধ করেছেনহযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,
عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه و سلم قال لا تشد الرحال إلا إلى ثلاثة مساجد المسجد الحرام ومسجد الرسول صلى الله عليه و سلم ومسجد الأقصى
অর্থাৎ তিন মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে সফর করা যাবে নামসজিদে হারাম (মক্কা), আমার মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে আল আকসা (বায়তুল মুকাদ্দাস)” (সূত্রঃ বুখারী শরীফ, হাদিস নং-১১২৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মুসলিম শরীফ, হাদিস নং-৩৪৫০)এ বক্তব্যটির অনুকূলে মুসনাদে আহমদে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি সমর্থন হিসেবে পাওয়া যায়
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا ينبغي للمطي أن تشد رحاله إلى مسجد يبتغى فيه الصلاة غير المسجد الحرام والمسجد الأقصى ومسجدي هذا
অর্থাৎ হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, “মসজিদে হারাম, মসজিদে আকসা ও মসজিদে নববী ব্যতিত অন্য কোন মসজিদে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সফর করা কোন মুসাফিরের জন্য সঙ্গত নয়। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১১৬০৯)
কিন্তু তাবলীগী ভাইয়েরা নবীজির হাদিসকে অমান্য করে বিভিন্ন মসজিদে সফর করে বেড়ায়, যা ইসলামের পরিপন্থীএ ব্যাপারে মসজিদ কমিটিকে সচেতন হতে হবে, যেন ইলিয়াছি বাহিনী মসজিদ ব্যবহার ও মসজিদের পরিবত্রতা নষ্ট করতে না পারে হাদিসের খিলাপ কাজ করা কাফির-মুশরিকদের অন্যতম ষড়যন্ত্র যা তারা এই গাট্রিওয়ালা তাবলীগ জামায়াত দিয়ে করাচ্ছে এই ছয় উছুলী তাবলীগ জামায়াত ভ্রান্ত ,পথভ্রষ্ট ও বাতিল ফিরকা

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: