10.21.2016

পবিত্র দ্বিন ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব কতটুকু এবং কাদের সাথে বিবাহ হারাম নাযায়েজ এবং কাঁদের সাথে বিবাহ হালাল ও যায়েজ

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বংশ পরম্পরায় মানব প্রজন্মকে দুনিয়ার জমিনে টিকিয়ে রেখে দুনিয়াকে আবাদ রাখার জন্য বিবাহ বন্ধনকে বৈধ করেছেন। এটা হলো খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন উনার একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সিস্টেম। এ ছাড়া বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন গঠন করা নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের ও পবিত্র সুন্নত। আর এ প্রসঙ্গে কালামুল্লাহ শরিফে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তিনি বলেনঃ (وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ۚ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ) অর্থাৎ, হে আমার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিশ্চয় আপনার পুর্বে আমি অনেক রাসুল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেছি। আমি উনাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করেছি। (সুরা আর রা'দ শরীফঃ আয়াত শরিফ ৩৮)

আর সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি হলেন আমাদের সকলের আদর্শ। আমাদের জীবনে আমরা কোনো কাজ কিভাবে করবো তা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের দেখিয়ে গেছেন এবং উনার জাহেরি অবর্তমানে বোঝার জন্যে রেখে গেছেন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং উনার পবিত্র সুন্নাহ মোবারক (হাদিস শরিফ সহ)।

পবিত্র হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عن أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ جَاءَثَلَاثَةُ رَهْطٍ إِلَى بُيُوتِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُونَ عَنْ عِبَادَةِ النَّبِيِّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أُخْبِرُوا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوهَا فَقَالُوا وَأَيْنَ نَحْنُ مِنْ النَّبِيِّ صَلَّىاللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ قَالَ أَحَدُهُمْ أَمَّا أَنَا فَإِنِّيأُصَلِّي اللَّيْلَ أَبَدًا وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَصُومُ الدَّهْرَ وَلَا أُفْطِرُ وَقَالَ آخَرُ أَنَا أَعْتَزِلُ النِّسَاءَفَلَا أَتَزَوَّجُ أَبَدًا فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ أَنْتُمْ الَّذِينَ قُلْتُمْكَذَا وَكَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ لَكِنِّي أَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأُصَلِّي وَأَرْقُدُوَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي

আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, উম্মুল মুমিনিন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বাড়ীতে তিনজন লোক আসলেন। উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইবাদাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলেন যে উনার ইবাদাত কেমন ছিলো? উম্মুল মুমিনিন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইবাদাত সম্পর্কে উনাদেরকে জানালে উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইবাদতের সম্মুখে নিজেদের ইবাদতকে খুবই নগন্য মনে করলেন এবং উনারা বললেনঃ কোথায় সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (মর্যাদার দিক থেকে) আর কোথায় আমরা? কারণ, খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গুনাহমুক্ত করে সৃষ্টি করেছেন উনার আগে পিছে কোনো গুনাহ নাই। এরপর উনাদের একজন বললেনঃ আমি এখন থেকে সর্বদা সারারাত নামাজ পড়বো। দ্বিতীয়জন বললেনঃ আমি এখন থেকে আজীবন (সাওমে দাহর) রোজা রাখতে থাকবো। রোজা ভাঙ্গবো না। তৃতীয়জন বললেন আমি নারী সংগ থেকে দূরে থাকবো আজীবন, বিবাহ করব না কখনো। অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কাছে এসে বললেনঃ আপনারা এমন সব কথা বলছেন! জেনে রাখুন! খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি আপনাদের থেকে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে অনেক বেশী ভয় করি। এতদসত্ত্বেও আমি পবিত্র রোজা রাখি আবার রোজা ছেড়ে দিই, পবিত্র নামাজ পড়ি, ঘুমাই এবং বিবাহ করি। যে ব্যক্তি আমার এ পবিত্র সুন্নাত মোবারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে আমার উম্মতনয়। (সহিহ বুখারী শরীফ)

সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেনঃ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْفَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاء
হে যুবকেরা! আপনাদের মধ্যকার যে সামর্থবান সে যেনো বিবাহ করে। কেননা, তা তার দৃষ্টি নিম্নগামী রাখতে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করায় সহায়ক হয়। আর যে বিবাহের সামর্থ রাখে না, সে যেনো (তার পরিবর্তে) রোজা রাখে। কেননা, তা তার জন্য ঢালস্বরূপ (অনেক অপরাধ হতে রক্ষা করে)।

দলিল সুত্রঃ (পবিত্র বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবুদাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, দারেমী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)।

এবার আসুন! আমরা দেখে নিই কাদেরকে বিবাহ করা বৈধ এবং কাদেরকে বিবাহ করা বৈধনয়।

খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি এই ব্যপারে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মোবারক করেছেনঃ (حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ وَأَخَوَاتُكُمْ وَعَمَّاتُكُمْ وَخَالَاتُكُمْ وَبَنَاتُ الْأَخِ وَبَنَاتُ الْأُخْتِ وَأُمَّهَاتُكُمُ اللَّاتِي أَرْضَعْنَكُمْ وَأَخَوَاتُكُم مِّنَ الرَّضَاعَةِ وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُم مِّن نِّسَائِكُمُ اللَّاتِي دَخَلْتُم بِهِنَّ فَإِن لَّمْ تَكُونُوا دَخَلْتُم بِهِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ وَأَن تَجْمَعُوا بَيْنَ الْأُخْتَيْنِ إِلَّا مَا قَدْ سَلَفَ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا ٤:٢٣  وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ كِتَابَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ ۚ وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ ۚ فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا ٤:٢٤) অর্থাৎ, তোমাদের জন্যে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের নিজ কন্যা, তোমাদের আপন বোন, তোমাদের আপন ফুফু, তোমাদের আপন খালা, আপন ভাইয়ের মেয়ে; আপন বোনের মেয়ে, তোমাদের সেইসব মাতা, যারা তোমাদেরকে দুধপান করিয়েছেন, এবং তোমাদের সেইস ব মায়েদের মেয়ে যারা তোমাদের দুধ-বোন, আর তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, ও তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছো সেই স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। কিন্তু যদি তাদের(সেইসব স্ত্রীদের) সাথে সহবাস না করে থাকো, তবে তাদের মেয়েদের সাথে বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করাও হারাম। তবে, আয়াত শরীফ নাযিলের পুর্বে যা হয়ে গেছে তা আলাদা। নিশ্চয় খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। এবং নারীদের মধ্যে তাদের(যারা অবিবাহিত) ছাড়া সকল বিবাহিত স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তবে তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক (শরীয়ত সম্মত উপায়ে) হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম। আর এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সকল মুসলিম নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় মোহরানার বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যার সাথে তোমরা মিলিত হবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান করো। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। (সুরা নিসা শরীফঃ আয়াত শরিফ ২৩-২৪)

আর যাদের সাথে বিবাহ হালাল তাদের সাথে অবশ্যই পর্দা করতে হবে কিন্তু যাদের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ তাদের সাথে পর্দা করা লাগবেনা যেমন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ্‌ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি এরশাদ মোবারক করেনঃ হে আমার হাবিব সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, উনারা যেনো উনাদের দৃষ্টিকে নত রাখেন এবং উনাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করেন। উনারা যেনো যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া উনাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করেন এবং উনারা যেনো উনাদের মাথার ওড়না দিয়ে বক্ষ দেশ ঢেকে রাখেন এবং উনারা যেনো উনাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে উনাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করেন, উনারা যেনো উনাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করেন। মুমিনগণ, আপনারা সবাই খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করেন, যাতে আপনারা সফলকাম হন। (পবিত্র সূরা আন নুর শরীফঃ আয়াত শরিফ ৩১)।

আর আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে যে সমস্ত মহিলাদেরকে বিবাহ করা হারাম তাদেরকে দু'টি ভাগে ভাগ করে নিচে দেয়া হয়েছে।

ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক একজন পুরুষ/নারী মোট ১৪ জন নারী/পুরুষের সাথে দেখা করতে পারবে।

মায়ের মতো ৫ জন।

১। নিজের মা
২। দুধ মা
৩। আপন খালা
৪। আপন ফুফু
৫। শাশুড়ী

বোনের মতো ৫ জন।

১। আপন বোন
২। দুধ বোন
৩। দাদী
৪। নানী
৫। নাতনী

মেয়ের মতো ৪ জন

১। নিজের মেয়ে
২। ভাইয়ের মেয়ে
৩। বোনের মেয়ে
৪। পুত্রবধু

এমনিভাবে একজন মহিলার জন্যেও ১৪ জন পুরুষের সাথে দেখা করা বৈধ এবং বিবাহ হারাম।

বাবার মতো ৫ জন

১। নিজের বাবা
২। দুধ বাবা
৩। চাচা
৪। মামা
৫। শশুর

ভাইয়ের মতো ৫ জন

১। আপন ভাই
২। দুধ ভাই
৩। দাদা ভাই
৪। নানা ভাই
৫। নাতী

ছেলের মতো ৪ জন

১। নিজের ছেলে
২। ভাইয়ের ছেলে
৩। বোনের ছেলে
৪। মেয়ের জামাতা

অনেকে জিজ্ঞাসা করে থাকেন যে, বাবা মায়ের খালাতো, মামাতো, ফুফাতো বা চাচাতো বোন কে বিবাহ করা যাবে কিনা?

তার উত্তর হচ্ছেঃ- আসলে খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি উপরোক্ত আয়াত শরীফে যাদের সাথে বিবাহ করা নিষিদ্ধ তাদের সকলের কথা পরিষ্কার বলেই দিয়েছেন। আর সেখানে মা/বাবার খালাতো, মামাতো, ফুফাতো বা চাচাতো বোন বা ভাই তাদের মধ্যকার কেউ নাই। অতএব, তাদেরকে বিবাহ করা বৈধ। এমনকি, আপন চাচা/মামা মারা গেলে বা তালাক দিয়ে দিলে চাচীকে/মামিকে বিবাহ করার বৈধতাও ইসলাম দিয়েছে। তবে, তাদেরকে বিবাহ করবেন কি করবেন না সেটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত ইচ্ছা। আমার দৃষ্টিতে না করাই উত্তম কারন এদের সাথে যদিও পর্দা করা ফরজ বিবাহ হালাল কিন্তু সামাজিক অনেক প্রতিবন্দকতা আছে যা মানুষ সহজে নেবে না।

বিঃদ্রঃ উপরে উল্লেখিত অনুমোদিত ১৪ জন ছাড়া বাকিদের সাথে দেখা করা তো দূরের কথা, বিনা প্রয়োজনে কথা বলাও হারাম কবিরা গুনাহ! চাই তা সরাসরি হোক বা মোবাইল ফোনে হোক। যে গুনাহ তওবা ছাড়া মাফ হয়না। তাই আসুন আমরা সকলে এই গুনাহ থেকে বাচার চেষ্টা করি। খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: