12.01.2014

সতর আর পর্দা এক নয় বরং ‘সতর’ এবং ‘পর্দার’ মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।

আজকাল দেখা যাচ্ছে অনেক আলেম উলামা ইসলামিক জ্ঞান থাকা সত্বেও বেপর্দা চলাফেরা করছেন অথচ তারা হচ্ছেন ইসলামের ধারক বাহক আর ধারক বাহক যদি ভুল পথে থাকে তবে তাদের যারা অনুসরণ করবে তারা কি সঠিক পথের দিশা পাবে তাই আমাদের সবার ইসলামের সঠিক এবং মুল হুকুম আহকাম সম্পর্কে ধারনা থাকা প্রয়োজন যেনো মুসলিম নামধারী কতিপয় মুনাফিক আলেম উলামা পবিত্র কোরআন শরিফ ও হাদিস শরিফ বিরোধী কুনো বিষয়ে আমাদেরকে আমাদের নিজের অজান্তে না ঢুকাতে পারে।
সতর আর পর্দা এক নয় বরং ‘সতর’ এবং ‘পর্দার’ মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।
সতর আর পর্দা এক নয় বরং ‘সতর’ এবং ‘পর্দার’ মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।
আপনি কি জানেন সতর কি? 
সতর এর পরিচয়ঃ সতরবলা হয়, যা মাহরাম পুরুষদের (যাদের সাথে দেখা করা জায়িয এবং বিবাহ হারাম) সম্মুখেও উম্মুক্ত বা খোলা জায়িয নয়।মহিলাদের সতরবিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম।

যেমনঃ-
(১) মহিলাদের সামনে মহিলাদের সতরহচ্ছে নাভির উপর থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত,
(২) মাহরাম পুরুষদের সামনে মাথা হাত, পা, গলা ইত্যাদি খোলা রাখতে পারবে,
(৩) নামাযের সময় চেহারা, হাতের কব্জি ও পায়ের গিড়া পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে।

হিজাব বা পর্দাশব্দটি মাহরাম ব্যাপারে ব্যবহৃত হবেনা। বরং গাইরে মাহরামদের ব্যাপারে ব্যবহৃত হবে।

হিজাব বা পর্দার পরিচয়ঃ নারী গাইরে মাহরাম পুরুষদের থেকে এবং গাইরে মাহরাম পুরুষ (যাদের সাথে বিবাহ হালাল কিন্তু দেখা করা হারাম) নারীদের থেকে সম্পূর্ণভাবে অন্তরায় থাকাকেই হিজাব বা পর্দাবলা হয়।তাই একজন মহিলার আপাদমস্তক তথা সম্পূর্ণ শরীরের সামান্য অংশও বেগানা পুরুষদের জন্য দেখা হারাম। কোন কারন ছাড়া মহিলাদের কণ্ঠস্বর অন্য পুরুষদেরকে শুনানো হারাম। একজন পুরুষেরও আপাদমস্তক তথা সম্পূর্ণ শরীরের সামান্য অংশ বেগানা মহিলার জন্য দেখা হারাম। তবে প্রয়োজনে বেগানা পুরুষদের কণ্ঠস্বর মহিলারা শুনতে পারবে এবং প্রয়োজনে বেগানা মহিলাদের কণ্ঠস্বর পুরুষরা শুনতে পারবে । 

উল্লেখিত 'সতর ও পর্দা' বিষয়গুলোর ব্যাখ্যামূলক আলোচনা করলে এটাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হবে। যেমন প্রথমে নামায সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, “নামাযের সময় মহিলাদের চেহারা খোলা রাখা বৈধ, মূলত নামাযের সময় মহিলাদের চেহারা খোলা রাখা শুধু বৈধ নয় বরং ফরজেরও অন্তর্ভূক্ত। কেননা নামাযের সময় যদি মহিলারা চেহারা ঢেকে রাখে তবে তার নামাযই হবে না। তাই বলে শরীয়তের কোথাও একথা বলা হয় নাই যে, নামাযের সময় গায়রে মাহরাম বা বেগানা পুরুষকে মহিলাদের চেহারা দেখানো বৈধ। বরং শরীয়তের ফতওয়া হলো নামাযের মধ্যে যদি কোন বেগানা পূরুষ মহিলার চেহারা দেখে তবে তার নামায ফাসেদ বা বাতিল হয়ে যাবে। অর্থাৎ নামাযের মধ্যে হোক আর নামাযের বাইরে হোক প্রত্যেক অবস্থাতেই গায়রে মাহরামদের সামনে মহিলাদের চেহারাসহ সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা ফরজ। চেহারা খোলা রাখা তো দূরের কথাই একটি চুলও যদি বেগানা পুরুষ দেখে তবে কবীরা গুনাহ হবে।

মূলতঃ তারা সতর আর পর্দাকে এক করে দিয়েছে। অথচ সতর আর পর্দা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় যেমন পুরুষদের নামাযের ছতর হলো নাভির নিচ থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত অঙ্গ। অর্থাৎ এ পরিমাণ অঙ্গ নামাযের সময় ঢাকা ফরয।

আর মহিলাদের নামাযের সতর হলো মুখমন্ডল ও হাতের কব্জির উপর অর্থাৎ হাতের পাতা এবং দুপায়ের গিড়া থেকে নিচ পর্যন্ত ব্যতীত সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ। অর্থাৎ নামাযের সময় মুখমন্ডল ও হাতের পাতা দুপায়ের পাতা ছাড়া সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা ফরয। যেমন, নামাযের সতর সম্পর্কে বিশ্বখ্যাত ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবে উল্লেখ আছে,
ويستر عورته والعورة من الرجل ما تحت السرة الى الر كبة والركبة عورة دون السرة. وبدن المرأة الحرة كله عورة الارجهها وكفيها وما كان عورة من الرجل فهو عورة من الامة وبطنها وظهرها عورة وما سوى ذلك من بدنها ليس بعورة ومن لم يجد ما يزيل به النجاسة صلى معها ولم يعد ومن لم يجد ثوبا صلى عربانا فاعدا يومى بالر كسوع واسجود. فان صلى قائما اجراة والاول افضل.
অর্থঃ- নামাযের সময় ছতর ঢাকতে হবে। পুরুষের ছতর হলো নাভির নিচ থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত অঙ্গ। হাটু ছতরের অন্তর্ভুক্ত কিন্তু নাভী ছতর নয়। স্বাধীনা নারীর মুখমন্ডল ও হাতদ্বয়ের পাতা ছাড়া সমস্ত শরীর ছতর। দাসীর ছতর পুরুষের ছতরের মতই, তবে তার পেট ও পিঠ ছতরের মধ্যে শামিল। ইহা ছাড়া দাসীর দেহের আর কোন স্থান ছতর নয়। যে ব্যক্তি নাজাসাত বা নাপাকী দূর করার জন্য কোন কিছু না পায়, সে ঐ নাপাকীসহ নামায পড়বে, এতে নামায পুনরায় দোহরাতে হবে না। যার কোন কাপড় নেই, সে বসে নামায পড়বে এবং ইশারার মাধ্যমে রুকূও সিজদা করবে। যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়ে, তবে জায়িয হবে। কিন্তু প্রথম মতটিই উত্তম, অর্থাৎ বসে ইশারার সাথে রকূ’, সিজদা করে নামায পড়াই উত্তম বা আফযাল। (কুদূরী ২৩ পৃষ্ঠা, আত্ তানক্বীহুয্ যুরূরী ২৩ পৃষ্ঠা, হিদায়াহ্ মায়াদ দিরায়াহ ১ম জিঃ ৯২, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ৯৬ পৃষ্ঠা, ফতহুল ক্বদীর, কিফায়াহ্, শরহুল্ ইনায়াহ, হাশিয়ায়ে চলপী ১ম জিঃ ২২৩, ২২৪ পৃষ্ঠা)
العورة للرجل من تحت السرة حتى تجاوز ركبتبه فسرته ليس بعورة عند علما ئنا الثلاثة، وركبته عورة عند علمائنا جميعا هكذا فى المحيط. بدن الحرة عورة الا وجهها وكفيها وقدميها كذا فى المتون.
অর্থঃ- পুরুষের নামাযের ছতর হলো নাভির নিচ থেকে দুহাটুর নিচ পর্যন্ত অঙ্গ। নাভী ছতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। ইহা আমাদের তিন ইমাম তথা হযরত ইমাম আবূ হানীফা, আবূ ইউসূফ ও মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম-এর অভিমত। আমাদের সকল ইমামগণের মতে হাটু ছতরের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি মুহীতনামক কিতাবে আছে। স্বাধীনা মহিলার মুখম-ল, হাতদ্বয় এবং দুপায়ের পাতাদ্বয় ছাড়া সমস্ত শরীর ছতরের অন্তর্ভুক্ত।
অনুরূপ মাতূননামক কিতাবে আছে। (আল ফাতাওয়াল্ আলমগীরিয়া ১ম জিঃ ৫৮ পৃষ্ঠা, মুহীত, মাতূন) এছাড়াও নিম্নবর্ণিত ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবসমূহে অনুরূপভাবে ছতরের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, “তানবীরুল্ আবছার, আদ্ দুররুল মুখতার, রদ্দুল মুহতার, শামী, হাশিয়াতুত্ তাহতাবী, কাযীখান, তাতারখানিয়া, বায্যাযিয়া, আইনুল হিদায়াহ, নূরুল হিদায়াহ, শরহে বিকায়া, কানযুদ্ দাকাইক, আল বাহরুর রাইক, মিনহাতুল খালিক, নূরুল ঈযাহ, মারাকিউল ফালাহ, মালাবুদ্দা মিনহু ইত্যাদি।

মূল কথা হলো, সতর আর পর্দা এক নয় বরং সতরএবং পর্দারমধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: