12.04.2014

শরীয়তের কোন বিষয়ের মীমাংসা বা ফায়সালা করতে হলে তা কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতেই করতে হবে।

শরীয়তের কোন বিষয়ের মীমাংসা বা ফায়সালা করতে হলে তা কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতেই করতে হবে, এর বাইরে কোন কথা বা কাজ মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা শরীয়তের ভিত্তি বা দলীল হলো উপরিউক্ত চারটি বিষয় এ প্রসঙ্গে উছুলের কিতাবে উল্লেখ আছে যে,
اصول الشرع ثلثة--القران--الحديث--الاجماع--ورابعهاالقياس
অর্থঃ "মূলত শরীয়তের ভিত্তি হলো তিনটি। কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা এবং চতুর্থ হলো -- ক্বিয়াস৷"

দলিল - (নুরূল আনোয়ার)

শরীয়তের কোন বিষয়ের মীমাংসা বা ফায়সালা করতে হলে তা কোরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতেই করতে হবে।


(১) কোরআন শরীফ।

মূলতঃ কোরআন শরীফ সম্পূর্নটাই আল্লাহ পাক উনার ওহীর অন্তর্ভূক্ত৷ কেননা আল্লাহ পাক বলেন,  
وما ينطق عن الهو اء ان هو الا وحى يو حى
অর্থঃ" রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কথাই নিজের থেকে বলেন না, ওটা ওহী ব্যতীত কিছুই নয়।"
শুধু তাই নয়, উপরিউক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা এটা স্পষ্টই বুঝা যায় যে হাদীস শরীফগুলোও কোরআন শরীফ উনার ন্যায় ওহীর অন্তর্ভুক্ত। আর তাই ওহীকে দু'ভাগে ভাগ করা হয়েছে --

১৷ ওহীয়ে মাতলূ --- অর্থাৎ কোরআন শরীফ, যা তিলওয়াত করা হয়।

২৷ ওহীয়ে গায়ের মাতলূ ---
-----------------------------------------
অর্থাৎ হাদীস শরীফ যা তিলাওয়াত করা হয় না।

মূলতঃ কোরআন শরীফ শরীয়তের অকাট্য দলীল, প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য কোরআন শরীফ উনার হুকুম-আহকাম, আদেশ-নিষেধ মেনে চলা অপরিহার্য। কারন বিপথগামী, পথভ্রষ্ট মানুষদেরকে হিদায়েতের পথে আনার জন্য মহান আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ অবতীর্ন করেন। এপ্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবীরক করেন,
كتاب انز لناه اليك لتخرج النا س من الظلما ت الى النور
অর্থঃ "আমি এই কিতাবকে আপনার প্রতি অবতীর্ন করেছি, মানুষকে গোমরাহী হতে হিদায়েতের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য৷"(সূরা ইবরাহীম আলাইহিস সালামঃ আয়াত শরিফ ১)
সুতরাং যারা এ কোরআন শরীফ উনার আদেশ-নিষেধ, হুকুম-আহকামের অনুসরন করবে, তাঁরা হিদায়েত প্রাপ্ত হবে, আর যারা অনুসরণ করবে না , তারা গোমরাহীর মধ্যে নিপতিত থাকবে ৷

আর তাই কোরআন শরীফের অনেক স্থানে কালামুল্লাহ শরীফ উনার হুকুম-আহকামের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে ৷যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فاما يأ تين كم منى هدى فمن تبع هداى فلا خو ف عليهم ولا هم يحزنون
অর্থঃ "আর যখন আমার পক্ষ হতে তোমাদের জন্য হিদায়েতের বাণী আসবে, আর এ হিদায়েত হিদায়েতবাণীকে (কোরআন শরীফ কে) যাঁরা অনুসরণ করবে , তাঁদের কোন ভয় নেইএবং চিন্তা নেই৷ " ( সূরা বাক্বারাঃ আয়াত শরিফ ৩৮)

আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফ্ আরো ইরশাদ করেন,
اتبعوا ما انزل اليكم من ربكم
অর্থঃ তোমাদের প্রভূর নিকট হতে তোমাদের নিকট যা (কোরআন শরীফ) অবতীর্ন করা হয়েছে , তার অনুসরণ করো ৷" (সূরা আরাফঃ আয়াত শরিফ ৩)
কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ হয়েছে ,
اتبعوا النور الزى انزل معه اولءك هم الفلحون
অর্থঃ "সেই নূরের অনুসরণ করো যা রসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লান উনার প্রতি অবতীর্ন হয়েছে , (যারা এরুপ করবে ) তারাই সফলকাম ৷"
আর তাই আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
خذوامااتينا كم بقوة
অর্থঃ "তোমাদেরকে যা দিয়েছি, (কোরআন শরীফ ) তা শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরো ৷" (সূরা বাক্বারা/৬৩)

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমানিত হয় যে, কোরআন শরীফ শরীয়তের অকাট্য দলীল এবং ক্বুরআন শরীফ উনাকে অনুসরন করা প্রতিটি মুসলমান নর-নারী উনাদের জন্য অবশ্যই কর্তব আর যারাই এর বিপরিত চলাফেরা করবে তারাই গুমরাহ আর পথভ্রষ্ট।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: