2.27.2015

পবিত্র ইসলাম ধর্ম উনার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদন্ডঃ একটি দলিল ভিত্তিক পোষ্ট !!!

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদন্ডঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদন্ডঃ
পবিত্র ইসলাম ধর্ম উনার মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদন্ডঃ একটি দলিল ভিত্তিক পোষ্ট !!!

ভূমিকাঃ একজন মুসলমানের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে নিজের প্রাণের চেয়ে, নিজের সন্তানের চেয়ে, নিজের মা-বাবার চেয়ে এবং তার যাবতীয় সম্পদ থেকে প্রিয়যদি কোন ব্যক্তির এমন মোহাব্বত না থাকে, তাহলে লোকটি প্রকৃত মুসলমানই নয়রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি হাদীসে ইরশাদ করেন-হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেছেন, কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার পিতা-মাতা, এবং তার সন্তান ও সমস্ত মানুষ থেকে আমাকে বেশি মোহাব্বত করবে{সহীহ বুখারী শরিফ, হাদীস নং-১৫, সহীহ মুসলিম শরিফ, হাদীস নং-১৭৭}

নাস্তিক্যতা এক জিনিস, আর ধর্মকে কটাক্ষ্য করা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল দেয়া, অশ্লিলভাবে উপস্থাপন করা ভিন্ন জিনিসরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে যারা গালি দেয়, অপমানিত করে, অসম্মানজনক কথা বলে বা লিখে, সে মুরতাদসে তওবা না করলে হত্যা করা ইসলামের বিধানএরকম কুলাঙ্গারের এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেইআল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন উনার সৃষ্টির মাঝে যিনি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, উনার যে কুৎসা রটায় এমন কুলাঙ্গারের আল্লাহ পাক উনার এই জাহানে বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই

এ বিধান শুধু পবিত্র ইসলাম ধর্মে নয়, রহিত ও বিকৃত ধর্ম ইহুদী ও খৃষ্টান ধর্মেও আছে

তওরাতের ভাষায় মুরতাদের শাস্তিঃ

,৭-দুনিয়ার এক সীমানা থেকে অন্য সীমানা পর্যন্ত তোমার কাছে বা দূরের লোকেরা যে দেব-দেবীর পূজা করে, যারা তোমার এবং তোমার পূর্বপুরুষদের অজানা সেই সব দেব-দেবীর দিকে যদি তোমার নিজের ভাই কিংবা তোমার ছেলে বা মেয়ে কিংবা প্রিয় স্ত্রী কিংবা তোমার প্রাণের বন্ধু তোমাকে একা পেয়ে বিপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে, “চল আমরা গিয়ে দেব-দেবীর পূজা করি৮-তবে তার ডাকে সাড়া দিও না বা তার কথায় কান দিয়ো নাতাকে কোন দয়া দেখাবে নাতাকে রেহাই দিবে নাকিংবা তাকে রক্ষা করবে না৯- তাকে হত্যা করতেই হবেতাকে হত্যা করাবার কাজে তুমি নিজের হাতেই শুরু করবেতারপর অন্য সবাই যোগ দেবে১০- যিনি তোমাকে মিসর দেশের গোলামী থেকে বের করে এনেছেন তোমার সেই মাবুদ আল্লাহ পাক উনার দিক থেকে সে তোমাকে ফিরাবার চেষ্টা করেছে বলে তাকে তুমি পাথর ছুড়ে হত্যা করবে১১-তাতে বনি ইসরাঈলরা সকলে সেই কথা শুনে ভয় পাবে, এবং তোমাদের মধ্যে কেউ আর এই রকম খারাপ কাজ করবে না{বাংলা কিতাবুল মুকাদ্দাস-২৪২, তৌরাত, দ্বিতীয় বিবরণ, ১৩: ৬-১}

খৃষ্টান ধর্মেও মুরতাদের শাস্তি হল মৃত্যুদন্ডঃ

মুরতাদ হওয়া ক্ষমার অযোগ্য গোনাহহত্যা এবং জিনাকারীর স্থলাভিষিক্ত{এনসাইক্লোপেডিয়া, রিলিজিওন অধ্যায়, ইন্ডিয়া এডিশন, ৬ নং খন্ড}

ইংলেন্ডে এক খৃষ্টান পাদ্রি ইহুদী এক মহিলাকে বিয়ে করার জন্য স্বীয় ধর্ম ত্যাগকরার কারণে অক্সফোর্ডে তাকে ১২৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল প্রকাশ্যে জ্বালিয়ে হত্যা করা হয়{ এনসাইক্লোপেডিয়া, রিলিজিওন অধ্যায়, ইন্ডিয়া এডিশন, ৬ নং খন্ড ৬৪৪পৃষ্ঠা}

পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উনার ভাষায় নবী অবমাননার শাস্তিঃ

পবিত্র আল কোরআন উল কারিম উনার মধ্যে গুস্তাখে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর আল্লাহ পাক উনার অভিশম্পাত বর্ষিত হবে মর্মে ইরশাদ মোবারক হয়েছে।

ইরশাদ মোবারক হচ্ছে - যারা আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ পাক তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি{সূরা আহযাব শরীফ - আয়াত শরীফ-৫৭}

১) তারপর তাদের হত্যার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন - অভিশপ্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবেযারা পূর্বে অতীত হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহ পাক উনার রীতিআপনি আল্লাহ পাক উনার রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না। [সূরা আহযাব শরীফ - আয়াত শরীফ ৬১-৬২}

২) যারা আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবেএটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি[সূরা আল মায়েদাহ শরীফ - আয়াত শরীফ ৩৩]

অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে-

অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাইআর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকিআর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ করকারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসেতোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছেতোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও{সূরা তওবা শরীফ - আয়াত শরীফ -১১-১৩}

বিক্ষাত ইমাম আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ এ আয়াতের দ্বারা দলিল দিয়ে বলেন- যে ব্যক্তি ইসলাম বা কুরআনের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্য করে, অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ব্যাপারে মন্দ কথা বলে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে{মাহাসিনুত তাওয়ীল-৫/১৪২}

হাদীসের ভাষায় গুস্তাখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাস্তিঃ

যে ব্যক্তি মুসলমান সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গালাগাল ও মন্দ বলার মাধ্যমে মুরতাদ হয়ে যায়প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মন্দ বলার কারণে, তারপর মুরতাদ হওয়ার কারণে লোকটি হত্যার যোগ্য হয়ে যায়তাই সেসব হাদীসও নিচে উদ্ধৃত করা হল যদ্বারা মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড সাব্যস্ত হয়, এবং সেসব হাদীসও উদ্ধৃত করা হল যার দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মন্দ বলার কারণে মৃত্যুদন্ড সাব্যস্ত হয়

১-হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিততিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মুসলমান হয়, আর সে সাক্ষ্য দেয় একথার যে, আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই, এবং একথার যে, আমি আল্লাহ পাক উনার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তার রক্ত তিনটি অপরাধ ছাড়া বৈধ হবে নাএক হল সে কারো প্রাণ বধ করল, (ফলে কেসাস আবশ্যক হল) দ্বিতীয় হল বিবাহিত হওয়ার পরেও জিনা করে, তৃতীয় হল স্বীয় ধর্ম ছেড়ে দেয় এবং জামাআত ছেড়ে আলাদা হয়ে যায়{সহীহ বুখারী শরিফ, হাদীস নং-৬৪৮৪, সহীহ মুসলিম শরিফ, হাদীস নং-১৬৭৬}

২- হযরত ইকরিমা থেকে বর্ণিততিনি বলেন, হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার কাছে ধর্মত্যাগীদের উপস্থিত করা হল, তখন তিনি তাদের পুড়িয়ে ফেললেন, এ সংবাদ হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে পৌঁছল, তখন তিনি বললেন, যদি আমি হতাম, তাহলে আমি তাদের পুড়িয়ে ফেলতাম না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার এ নিষেধাজ্ঞার কারণে যে, “তোমরা আল্লাহ পাক উনার শাস্তি দিয়ে শাস্তি দিওনা”. বরং আমি তাদের হত্যা করতামকারণ আল্লাহ পাক উনার হাবিব নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেছেন-যে ব্যক্তি ধর্ম পাল্টায় তাকে হত্যা কর{সহীহ বুখারী শরিফ, হাদীস নং-৬৫২১, সহীহ ইবনে হিব্বান শরিফ, হাদীস নং-৫৬০৬, সুনানে আবু দাউদ শরিফ, হাদীস নং-৪৩৫৩}

৩- হযরত আয়শা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তুমি জান না যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেছেন যে, বিবাহিত জিনাকারী, অথবা মুসলমান হওয়ার পর কুফুরীকারী অথবা হত্যার কারণ ছাড়া কোন মুসলমানকে হত্যা করা জায়েজ নয়{সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৩৪৮০, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৩১৫৩}

৪- হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) উনার থেকে বর্ণিতরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামেনের গভর্ণর বানিয়ে পাঠালেনতারপর হযরত মুআজ বিন জাবাল (রাঃ) উনাকে পাঠালেনতিনি যখন সেখানে পৌঁছলেন, তখন তিনি ঘোষণা করলেন-আমি আল্লাহ পাক উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে দূত স্বরূপসেসময় হযরত আবু মুসা আশআরী (রাঃ) উনার জন্য একটি চেয়ার দিলেন, যেন তিনি তাতে বসেনএমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এলযে ব্যক্তি প্রথমে ইহুদী ছিলতারপর মুসলমান হয়েছেতারপর আবার ইহুদী হয়ে গেছেতখন মুআজ বিন জাবাল (রাঃ) বললেন, “আমি ততক্ষণ পর্যন্ত বসবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত এ লোককে হত্যা করা হয়আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার এটাই ফায়সালা”. একথা তিনি তিনবার বললেনতারপর যখন তাকে হত্যা করা হলতখন তিনি বসলেন{সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৩৫২৯}

৫- হযরত আয়শা সিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিতওহুদ যুদ্ধে এক মহিলা মুরতাদ হয়ে যায়, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তাকে তওবা করানো হোক, আর যদি তওবা না করে, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে{সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২১, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৬৬৪৫, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১৮৭২৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৯৬০৭}

৬- হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) উনার থেকে বর্ণিতউম্মে মারওয়ান নামের এক মহিলা মুরতাদ হয়ে গেলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আদেশ দেন যে, তার কাছে ইসলাম পেশ করতে, যদি সে ফিরে আসে তাহলে ভাল, নতুবা তাকে হত্যা করা হবে{সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১৬৬৪৩, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২২}

মুরতাদ হওয়ার ঘটনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জমানায় শুধু মুরতাদ হওয়ার কারণে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছেবিদ্রোহ প্রমাণিত হওয়ার দরকার নেইকারণ মুরতাদ হওয়াটাই একটি বিদ্রোহএমনিভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মন্দ বলাটাও দ্বীনের বিষয়ে বিদ্রোহশুধু এ কারণেই মৃত্যুদন্ড আবশ্যক হয়ে যায়আর কোন বিদ্রোহীতা পাওয়ার দরকার নেইনিম্নের হাদীসগুলো লক্ষ্য করুন-
৭-من سب نبيًّا فاقتلوه ومن سب أصحابى فاضربوه

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিতরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেছেন- যে ব্যক্তি নবীকে গালি দেয়, তাকে হত্যা করআর যে সাহাবীকে গালি দেয়, তাকে প্রহার কর{জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২২৩৬৬, জমউল জাওয়ামে, হাদীস নং-৫০৯৭, দায়লামী, ৩/৫৪১, হাদীস নং-৫৬৮৮, আস সারেমুল মাসলূল-৯২}


অভিধানে ছব্ব (গালি) এর অর্থ কি?

আরবী অভিধানে ছব্ব (গালি) বলা হয় কোন বিষয়ে এমন কথা বলা, যার দ্বারা উক্ত বিষয়ে দোষ ও দুর্বলতা সৃষ্টি হয়{মেরকাত}

ওয়াহাবি গুরু ইবনে তাইমিয়া ও বলেছে-যে যে কথা সমাজে খারাপ ও দোষ এবং ত্রটি হিসেবে বলা হয় তাই ছব্ব তথা গালি{আস সারেমূল মাসলূল-৫৩৪}

৮- হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) উনার থেকে বর্ণিতএক অন্ধ সাহাবীর একটি উম্মে ওয়ালাদ বাদি ছিলসে বাদিটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল করতোঅন্ধ সাহাবী তাকে নিষেধ করেন, কিন্তু সে নিষেধ অমান্য করে, তিনি তাকে হুমকি দেন, তাতেও সে বিরত থাকে নাতিনি বলেন, একদা রাতে বাদিটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল শুরু করে, তখন সাহাবী খঞ্জর নিয়ে তার পেটে চেপে ধরলেনএবং জোরে চাপ দিলেনফলে বাদিটি মারা গেলএমনকি বাদিটি দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে পেটের বাচ্চা বের হয়ে যায়বাচ্চাটি রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়সকালে বিষয়টি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কাছে উপস্থাপিত হয়তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে একত্র করে বলেন, যে এ কাজ করেছে তাকে আল্লাহর কসম ও আমার উপর থাকা তার হকের কসম দিচ্ছি সে যেন দাঁড়িয়ে যায়তখন সেই অন্ধ সাহাবী দাঁড়ালেনতিনি লোকদের ভীর ঠেলে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে গেলেনরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সামনে গিয়ে বসে পড়লেনতারপর বললেন-হে আল্লাহ পাক উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সে আপনাকে গালাগাল করতো, আপনার কুৎসা রটাতোআমি তাকে এসব করতে বাঁধা দিতামকিন্তু সে বিরত হতো নাতাকে হুমকি ধামকি দিতাম, তবু সে থামতো নাআর আমার হীরার টুকরোর মত দুটি সন্তান তার গর্ভ থেকে আছেআমি তাকে খুব ভালবাসতামগতরাতে সে যখন আপনাকে গালাগাল শুরু করে, কুৎসা বলতে থাকে, তখন আমি একটি খঞ্জর তার পেটে চেপে ধরিতারপর তা চাপ দিয়ে তাকে হত্যা করিতখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন- লোকেরা! তোমরা স্বাক্ষ্যি থাক! এর প্রাণটা বেঘোরে গেল। (কোন বদলা নেয়া ছাড়া অনর্থক প্রাণ বিসর্জিত হল){সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৩৬৩, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১০৩, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১১৯৮৪, বুলুগুল মারাম, হাদীস নং-১২০৪}

বুলুগুল মারাম ফি আহাদীসিল আহকাম গ্রন্থে আল্লামা ইবনে হাজার লিখেন, অন্ধ সাহাবীর এ হাদীসটি প্রমাণ করে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মন্দ মন্তব্যকারীকে হত্যা করে দেয়া হবেআর মুসলমান হলে সে মুরতাদ হয়ে যায়আর তার থেকে তওবা করার আবেদন করার দরকার নেই{বুলুগুল মারাম ফি আহাদীসিল আহকাম-১৩৩}

৯- হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার দুষমন কাব বিন আশরাফের ব্যাপারে কে আছো? কেননা সে আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়তখন মুহাম্মদ বিন মাসলামা দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি চান আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮১১}

১০- হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যখন মক্কা বিজয়ের বছর মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মাথায় ছিল শিরস্ত্রাণতিনি মাথা থেকে তা খুললেনসেসময় একজন এসে বললেন যে, ইবনে খাতাল কাবার গিলাফ ধরে বসে আছেরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-তাকে হত্যা কর{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৭৪৯}

ইবনে খাতালকে কেন কাবার গিলাফ ধরা অবস্থায়ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার হত্যার নির্দেশ দিলেন? আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে বিস্তারিত ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে, লোকটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল করত{ফাতহুল বারী-২/২৪৮,আস সারেমুল মাসলূল-১৩৫}

১১- হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিতএক ইহুদী মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল করত, মন্দ কথা বলততখন এক ব্যক্তি তার গলা চেপে ধরে, ফলে সে মারা যায়তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হত্যার বদলে হত্যাকে অগ্রহণীয় সাব্যস্ত করেছেন{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৩৬৪, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৩১৫৪}

১২- হযরত বারা ইবনে আজেব (রাঃ) থেকে বর্ণিততিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি একদা আব্দুল্লাহ বিন আতিক (রাঃ) কে আমীর বানিয়ে আবু রাফে ইহুদীকে হত্যা করতে পাঠালেনআবু রাফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে কষ্ট দিত এবং অন্যদের কষ্ট দিতে সাহায্য করতআব্দুল্লাহ বিন আতিক বলেন, আমি তাকে প্রচন্ড আঘাত করলামকিন্তু হত্যা করতে পারিনি, তারপর তরবারীর ধারালো ডগা তার পেটে ঢুকিয়ে দিলাম এমনকি তা তার পিঠ ফুরে বেরিয়ে যায়তখন আমি বুঝলাম যে, আমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছি{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮১৩}

এ হাদীস শরিফ উনার দ্বারা বুঝা যায় যে, কতিপয় লোক একাজে নিয়োগ রাখা দরকারযারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল করবে, অশ্লিল মন্তব্য করবে তারা তাদের হত্যা করবে

সাহাবাগণ কর্তৃক মুরতাদ হত্যার প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল বা মন্দ বললে লোকটি মুরতাদ হয়ে যায়মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ডসাহাবাগণ কর্তৃক কতিপয় মুরতাদ হত্যার নজীর নিচে উদ্ধৃত করা হল-

১- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বিছাল শরীফের পর ইয়ামেন ও নজদে মুরতাদ হওয়ার ফিতনা প্রবল আকার ধারণ করেঅনেক লোক মুসায়লামা কাজ্জাব ও সাজ্জাহের নবুওয়ত মেনে মুরতাদ হয়ে যায়হযরত আবু বকর সিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি ইরতিদাদের এ ফিতনারোধে দৃঢ়তার সাথে দাঁড়ালেনহযরত ইকরিমা বিন আবী জাহাল (রাঃ) কে সেখানে পাঠানোর সময় নসীহত করলেন যে, ومن لقيته من المرتدة بين عمان إلى حضرموت واليمن فنكل به، তথা আম্মান থেকে হাজরামাওত এবং ইয়ামান পর্যন্ত যত মুরতাদ পাবে সবকটিকে হত্যা করবে{আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৫/৩৬৩}

২-عن سعيد بن عبد العزيز : أن أبا بكر قتل أم قرفة الفزارية في ردتها

হযরত সাঈদ বিন আব্দুল আজীজ থেকে বর্ণিতহযরত আবু বকর সিদ্দীক আলাইহিস সালাম তিনি উম্মে কিরফাকে মুরতাদ হওয়ার অপরাধে হত্যা করেন{সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১১০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৬৬৪৯}

৩- হযরত আমর বিন আস (রাঃ) হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম উনার কাছে লিখলেন যে, এক লোক ইসলাম গ্রহণ করে আবার কাফের হয়, তারপর আবার ইসলাম গ্রহণ করে, তারপর আবার কাফের হয়, এভাবে সে কয়েকবার করে, তার ইসলাম কি কবুল করা হবে? তখন হযরত ওমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি লিখলেন যে, যতক্ষণ আল্লাহ তাআলা তার ইসলাম গ্রহণ করেন, তুমিও তার ইসলামকে গ্রহণযোগ্য মান, তাই তুমি তার সামনে ইসলাম পেশ কর, যদি গ্রহণ করে তাহলে ছেড়ে দাও, নতুবা হত্যা কর{কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১৪৬৭}

৪- أن عثمان بن عفان كان يقول: “من كفر بعد إيمانه طائعا فإنه يقتل

হযরত উসমান গনি আলাইহিস সালাম তিনি বলেন যে, যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর ইচ্ছেকৃত কুফরী করে, তাকে হত্যা করা হবে{কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৪৭০}

৫-عن علي قال “يستتاب المرتد ثلاثا فإن عاد قتل

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মুরতাদকে তাওবা করতে তিনবার বলা হবে, তওবা না করলে, তাকে হত্যা করা হবে{কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-১৪৭৫}

সাহাবাগণ কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে অবমানকারীদের হত্যার নজীর

১- ইবনে খাতালের দুই বাদি ছিল, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্পর্কে কুৎসামূলক গান গাইতোমক্কা বিজয়ের দিন তাদেরও হত্যা করার নির্দেশ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেন{আসাহহুর সিয়ার-২৬৬, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৪/৪৯৮}

গান যদিও অন্যের বানানো, তবু গাওয়ার কারণে তাদের হত্যা করা হয়সুতরাং যারা নিজেরাই বানিয়ে নোংরা কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্পর্কে বলে, তাদের ব্যাপারে কি বিধান হবে তা সহজেই অনুমেয়

২- এমনিভাবে মক্কা বিজয়ের দিন হুয়াইরিস বিন নাকীজ নামের এক কুলাঙ্গার যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে কষ্ট দিতো, তাকেও হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়{আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া-৪/২৯৮}

হুয়াইরিসকে হযরত আলী আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি হত্যা করেন{আসাহহুস সিয়ার-২৬৪}

৩- মদীনায় আবু ইফক নামে এক কুলাঙ্গার ছিলসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্পর্কে কুৎসামূলক কবিতা রচনা করে, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার তাকে হত্যা করার নির্দেশ দিলে সালেম আমের নামে একজন সাহাবী তাকে হত্যা করেন{সীরাতে ইবনে হিশাম-৪/২৮৫}

৪- বনী উমাইয়্যার এক কবি মহিলা ছিলযার নাম আসমা বিনতে মারওয়ানসে আবু ইফকের হত্যা দেখে ইসলামকে ঠাট্টা করে কবিতা রচনা করেতখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেও হত্যার নির্দেশ দিলে উমায়ের বিন আদল আল খাতামী (রাঃ) তার ঘরে গিয়ে তাকে হত্যা করে আসেনএ সংবাদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে জানালে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হয়ে বলেন- হে উমায়ের! তুমি আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে সাহায্য করেছো{সীরাতে ইবনে হিশাম-৪/২৮৬}

৫- গুরফা বিন হারেস আল কিন্দী নামের একজন সাহাবী ছিলেনতিনি এমন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেনযার সাথে এ চুক্তি ছিল যে, তার জান-মালের হিফাজতের দায়িত্ব ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধানেরবিনিময়ে সে ইসলামী রাষ্ট্রে কোষাগারে কর জমা দিতইসলামের পরিভাষায় যাকে জিম্মি বলা হয়হযরত গুরফা বিন হারেস আল কিন্দী জিম্মি লোকটিকে ইসলামের দাওয়াত দিলেনলোকটি জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালি দিলহযরত গুরফা রেগে লোকটিকে সেখানেই হত্যা করে ফেলেন

এ সংবাদ হযরত আমর বিন আস (রাঃ) এর কাছে পৌঁছলে তিনি গুরফাকে বললেন, এ লোকের সাথেতো আমাদের অঙ্গিকার আছেসে হিসেবে সে তো নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্যতুমি তাকে হত্যা করলে কেন?

গুরফা জবাব দিলেন- তার সাথে আমাদের অঙ্গিকার একথার উপর নয় যে, সে আল্লাহ পাক ও উনার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল দিবে আর আমরা তার হিফাজত করবো{হায়াতুস সাহাবা-২/৩৫১, উর্দু এডিশন}

গুস্তাখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাস্তি মৃত্যুদন্ড ইজমায়ে উম্মতের দৃষ্টিতেঃ

পবিত্র কোরআন হাদীস শরিফ, সীরাত ও ঐতিহাসিক গ্রন্থ এবং মুজতাহিদ ইমামদের ইজমা তথা সর্বসম্মত মতানুসারে এ কথা প্রমানিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগালকারী, কুৎসাকারী এবং মুরতাদের শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড

আর উম্মতে মুহাম্মদীর বিগত চৌদ্দশত বৎসর যাবত কোন মুসলমান নবী অবমাননাকারীকে মুসলমানরা হত্যা না করে ছাড়েনিকেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সাথে গুস্তাখী করা মুরতাদ হওয়াকে আবশ্যক করে

আল্লামা কাজী ইয়াজ রহঃ একথার উপর ইজমা হয়েছে মর্মে নকল করেন-আল্লামা কাজী ইয়াজ রহঃ বলেন, পবিত্র কোরআন হাদীস ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার শানে কি কি হক রয়েছে তা প্রমানিতএবং তাকে কতটুকু সম্মান-ইজ্জত দিতে হবে তাও সুনির্দিষ্টএ হিসেবে আল্লাহ পাক কুরআনে কারীমে রাসূলকে কষ্ট দেয়াকে হারাম করেছেনআর উম্মত একথার উপর ইজমা তথা ঐক্যমত্বে পৌঁছেছেন যে, মুসলমানদের মাঝে যে উনার কুৎসা বলবে, কিংবা গালি দিবে তাকে হত্যা করা হবে{সুবুলু হুদা ওয়ার রাশাদ-১২/২১, আশ শিফা-২/২১১}

চার ইমামের দৃষ্টিতে গুস্তাখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাস্তিঃ

পবিত্র কোরআন উল কারীম ও হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার এবং আসারে সাহাবা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আলোকে সমস্ত ফুক্বাহায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার শানে যে ব্যক্তি বেয়াদবী করবে, কটু কথা বলবে, নিন্দা করবে, দোষচর্চা করবে, তাহলে সে মুসলমান থাকলে মুরতাদ হয়ে হত্যা আবশ্যক হয়ে যায়

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী হানাফী রহঃ তাম্বীহুল ওলাত ওয়াল আহকামের মাঝে আল্লামা তাক্বীউদ্দীন সুবকী রহঃ কিতাব আসসাইফুল মাসলূল আলা মান সাব্বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কিতাব থেকে কপি করেন - ইমামে খাতিমাতুল মুজতাহিদীন তাক্বীউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল কাফী আস সুবকী রহঃ তার আসসাইফুল মাসলূল আলা মান সাব্বার রাসূল সাঃ গ্রন্থে লিখেন যে, কাজী ইয়াজ বলেন, উম্মতের ইজমা একথার উপর যে, মুসলমানদের মাঝে যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার শানে বেয়াদবী করবে, গালাগাল করবে তাকে হত্যা করা আবশ্যক

আবু বকর ইবনুল মুনজির বলেন, সমস্ত আহলে ইলম একথার উপর একমত যে, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগাল করবে, বা মন্দ বলবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব

ইমাম মালেক বিন আনাস, ইমাম আবুল লাইস, ইমাম আহমাদ এবং ইমাম ইসহাক এ বক্তব্যের প্রবক্তাআর এটাই ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর মাজহাব

আল্লামা কাজী ইয়াজ বলেন, এমনিভাবে একই মত ইমাম আবু হানীফা রহঃ হানাফী ফুক্বাহাদের, এবং ইমাম সাওরী, আহলে কুফা ও ইমাম আওজায়ী থেকে গুস্তাখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারে এমনটিই বর্ণিত (তাদের হত্যা করা হবে)

ইমাম মুহাম্মদ বিন সুহনুন বলেন, ওলামায়ে কেরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে গালাগালকারী ও তার কুৎসাকারীদের কাফের হওয়ার উপর ইজমা তথা ঐক্যমত্ব হয়েছেনআর এমন ব্যক্তির উপর আল্লাহর শাস্তি ও ধমক রয়েছেআর যে ব্যক্তি এমন ব্যক্তির কাফের হওয়া ও শাস্তির অধিকারী হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করবে সেও কাফের

আর ইমাম আবু সুলাইমান খাত্তাবী বলেন যে, আমি এমন কোন মুসলমানের ব্যাপারে জানি না যে, এমন ব্যক্তির হত্যার আবশ্যকতার ব্যাপারে মতবিরোধ করে{রাসায়েলে ইবনে আবেদীন-১/৩১৬}

মোটকথা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কুৎসাকারী ও বেআদবী কারীর ব্যাপারে সমস্ত ফুক্বাহায়ে কেরাম একমত যে, এমন কুলাঙ্গার যদি স্বীয় কুফরী থেকে তওবা না করে, স্বীয় ঈমান ও বিবাহ নতুন করে না করে, তাহলে এ ব্যক্তি মুরতাদ এবং তাকে হত্যা করা আবশ্যক

কিন্তু ফুক্বাহায়ে কেরামের মাঝে এ ব্যাপারে এখতেলাফ আছে যে, যদি সে ব্যক্তি তওবা করে, তাহলে তার থেকে হত্যার বিধান রহিত হবে কি না?

ইমাম মালেক রহঃ এবং ইমাম মুহাম্মদ রহঃ এর ফাতওয়া হল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মন্দ বলা এটা এমন অপরাধ যে, তওবা করার পরও তার থেকে হত্যার বিধান রহিত হয় নাঅনেক হানাফী ফক্বীহ ও শাফেয়ী ফক্বীহ একথার উপরই ফাতওয়া দিয়েছেন

কিন্তু ইমাম আবু হানীফা রহঃ এবং ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর প্রাধান্য পাওয়া বক্তব্য হল তওবা করা ও দ্বিতীয়বার ঈমান আনার পর তার থেকে হত্যার শাস্তির বিধান রহিত হয়ে যায়অবশ্য এসব লোকদের উপর উপযোগী শাস্তি দেয়া আবশ্যক

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী হানাফী রহঃ লিখেন যে, ইমাম সুবকী রহঃ বলেন যে, যদিও একথাকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে যে, গুস্তাখে রাসূল সাঃ তওবা করলে এবং দ্বিতীয়বার ইসলাম গ্রহণ করলে এবং ইসলামী বিধান মানার দৃঢ়তা প্রকাশ করলে তার তওবাকে গ্রহণ করা হবে এবং তাকে হত্যা করা হবে নাকিন্তু এমন ব্যক্তির ব্যাপারে আমার সন্দেহ হয় যে, সে ঈমানের মরতে পারবে কি না? কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সাথে বেয়াদবী বহুত মারাত্মক অপরাধআর এ ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আত্মমর্যাবোধ অনেক কঠোরএজন্য এ ব্যাক্তির মৃত্যুর ব্যাপারে আমার ঘোর সন্দেহ আছে যে তাকে হেদায়াত থেকে বঞ্চিত করা হতে পারেতার ঈমানকে বরবাদ করা হতে পারে, এবং হেদায়াত পাওয়ার তৌফিকনাও হতে পারে{রাসায়েলে ইবনে আবেদীন-২/২৫১}


বিস্তারিত জানতে দেখুন-

১- ইবনে তাইমিয়া প্রণিত আস সারেমুল মাসলূল আলা শাতিমির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

২- আল্লামা তাক্বীউদ্দীন সুবকী রহঃ প্রণিত আসসাইফুল মাসলূল আলা মান সাব্বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

৩- কাজী ইয়াজ রহঃ এর প্রণিত আশ শিফা

৪- আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ প্রণিত তাম্বীহুল ওলাত ওয়াল আহকাম আলা শাতিমি খাইরিল আনাম

মুরতাদ ও গুস্তাখে রাসূলকে হত্যা করবে কে?

ইমাম আবু হানীফা রহঃ এবং ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর মতানুসারে তাকে হত্যা করবে রাষ্ট্রপ্রধান বা তার প্রতিনিধিরাকিন্তু সাথে সাথে একথাও লিখেছেন যে, যদি কোন সাধারণ মানুষ তাকে হত্যা করে ফেলে তাহলে তার উপর কোন শাস্তি আসবে নাকেননা মুরতাদ হওয়ার কারণে গুস্তাখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর লোকটি প্রথমেই তার রক্তকে অন্যের জন্য হালাল করে দিয়েছে

বাদায়েউস সানায়েতে বলা হয়েছে- যদি তাকে কেউ হত্যা করে তওবা করার আগেই তাহলে কাজটি মাকরূহ হলেও হত্যাকারীর উপর কোন কিছু আবশ্যক হবে নাকেননা মুরতাদ হওয়ার কারণে গুস্তাখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই লোকটি প্রথমেই তার রক্তকে অন্যের জন্য হালাল করে দিয়েছে{বাদায়েউস সানায়ে-৭/১৩৪}

তবে বর্তমানে ওলামায়ে কেরাম এমতই পোষণ করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার অবমানকারীকে রাষ্ট্রপক্ষকে চাপ দিবেনিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করবেনিজের হাতে নবী অবমাননাকারীকে হত্যা করবে নাকারণ এ অনুমতি থাকলে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে

শেষকথাঃ উল্লেখিত রেফারেন্সসহ আলোচনা দ্বারা একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে যারা গালাগাল করে, কুৎসা রটায় তারা মুরতাদতাদের একমাত্র শাস্তি হল মৃত্যুদন্ডকার্যকর করবে রাষ্ট্রপক্ষ

মক্কারর কাফেররা পর্যন্ত যে নবীজীকে আল আমীন তথা বিশ্বাসভাজন বলে মন্তব্য করতো, খৃষ্টান বাদশা নাজ্জাশীর সামনে মক্কার মুশরিকরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানহানীকর বক্তব্য দেয়ার উদ্দেশ্যে গিয়েও যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মক্কার সবচেসম্ভ্রান্ত, সবচেনীতিবান, সবচেচরিত্রবান বলে মন্তব্য করেছেসেখানে আজ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে, হাজারো পীর বুজুর্গ, লাখো আলেম ওলামার দেশে কতিপয় কুলাঙ্গাররা কি করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্পর্কে জঘন্য সব মন্তব্য করে পাড় পেয়ে যায়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্পর্কে জঘন্য মন্তব্য শুনার পর চুপ করে থেকেও যারা হাশরের ময়দানে রাসূল সাঃ এর হাতে হাউজে কাউসারের পানি পান করার লালসা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার শাফায়াতে হাশরের ভয়াবহ হালাত থেকে মুক্তি পেতে আশা রাখেন তাদের দেখলে হাসি পায়এমন নিমকহারাম জাতি পৃথিবীতে আর আছে কি না মনে সন্দেহ জাগে

আমার বাপকে গালি দিলে আমি গর্জে উঠিমায়ের চরিত্রে কেউ কালিমা লেপন করলে আমি তার টুটি চেপে ধরিকিন্তু যার নাম আমার কালিমার অংশ, আমার মুসলমানিত্বের অংশ, আমার ঈমান, যার নাম না বলে কবরে মুক্তি পাব না, যার সুপারিশ ছাড়া হাশরের ভয়াবহ হালাত থেকে মুক্তি পাব না, যার হাতে হাউজে কাউসারের পানি পান না করলে কলজে ফাটা কান্নায় কাতরাবো, সেই মহান নবীকে আজ কতিপয় কুলাঙ্গার গালাগাল করছে, নোংরা ভাষায় উপস্থাপন করছে বিভিন্ন লেখায়তারপরও আমি নিশ্চুপআমি খুব দ্বীনদার মুসলমান?! ধিক! এই মুসলমানিত্বের! ধিক! এই স্বার্থপরতার


আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সত্যিকার অর্থে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে ভালবাসার তৌফিক দান করুনগুস্তাখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কুলাঙ্গারদের আল্লাহ পাক রাব্বুল লামিন তিনি হেদায়াত দিন, নতুবা কাব বিন আশরাফ, ইবনুল খাতাল, আবু রাফেদের মত নিকৃষ্ট মৃত্যু দান করুনআমীনছুম্মা আমীন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্নাআসসালামু আলাইকুমফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: