3.14.2015

ইসলাম ধর্মে কসমের কাফফারা ও তার নিয়ম ।

ইসলাম ধর্মে কসমের কাফফারা ও তার নিয়ম ।
ইসলাম ধর্মে কসমের কাফফারা ও তার নিয়ম ।
কসমের কাফফারা ও তার নিয়মঃ আল্লাহ্‌ পাক তিনি ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ করা বা কসম করা শিরক ও কুফরতাই কখনো শপথ করলে একমাত্র আল্লাহর নামেই করতে হবেনিজের মাথা, বুকে বা শরীর ছুঁয়ে, সন্তানদের কসম করে, বিদ্যা, মাটির নামে বা এইগুলো ছুঁয়ে কসম করা এইসবগুলো কাজ সম্পূর্ণ হারাম

দ্বিতীয়ত, কসম করলে অবশ্যই জায়েজ কোনো কাজের জন্য করতে হবেহারাম কোনো কাজের জন্য কসম করা জায়েজ নয়, আর করলেও সেই কসম রক্ষা করা যাবেনাবরং হারাম কসম ভংগ করতে হবে

এখন কেউ যদি কোনো কসম করেন এবং সেটা ভেঙ্গে ফেলেন এর পরিবর্তে তাকে কাফফারা দিতে হবেআর কাফফারা দিলে তিনি কসম করার আগের অবস্থায় ফিরে যাবেনযেমন, কেউ যদি কসম করে বলেন, আল্লাহ পাক উনার কসম আমি অমুক জায়গায় যাবোকিন্তু তিনি পরে আর যেতে চাচ্ছেন না যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনাতখন তিনি যদি কসম ভেঙ্গে ফেলন (ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত) তাহলে তিনি কসম ভাঙ্গার জন্য কাফফারা দেবেনআর কাফফারা দেওয়ার পর না গেলেও কোনো সমস্যা নেই

কসম ভাঙ্গার জন্য কাফফারা দেওয়ার তিনটা উপায় আছেযার সামর্থ আছে তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো একটাকে বেছে নিবেনআর এই তিনটা না পারলে চতুর্থ আরেকটা আছে সেটা করতে হবেকিন্তু তিনটার সামর্থ থাকলে তার মধ্য থেকে যেকোনো একটাকেই বেছে নিতে হবে

  • দশজন মিসকীনকে খাবার দিতে হবেখাবার এমন মানের দিতে হবে যা তার পরিবারের জন্য ব্যয় করে থাকেন
  • অথবা দশজন মিসকীনকে পোশাক দিতে হবে
  • অথবা একজন দাস মুক্ত করতে হবে
  • কারো পক্ষে যদি উপরের তিনটা কাজ করার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকে তাহলে তিনদিন রোজা রাখতে হবে

এই সম্পর্কে আল্লাহ্‌ পাক তিনি বলেনঃ আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তায়ালা তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না তোমাদের অনর্থক শপথের জন্যে; কিন্তু পাকড়াও করেন ঐ শপথের জন্যে যা তোমরা মজবুত করে বাধঅতএব, এর কাফফরা এই যে, দশজন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করবে; মধ্যম শ্রেনীর খাদ্য যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে দিয়ে থাকঅথবা, তাদেরকে বস্ত্র প্রদান করবে অথবা, একজন ক্রীতদাস কিংবা দাসী মুক্ত করে দিবেযে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোযা রাখবেএটা কাফফরা তোমাদের শপথের, যখন শপথ করবেতোমরা স্বীয় শপথসমূহ রক্ষা কর এমনিভাবে আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশ বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৮৯


উল্লেখ্যঃ কাফফারা টাকা দিলে হবেনাযেটা দিয়ে কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছেন (খাবার অথবা পোশাক) ঠিক সেটাই দিতে হবে, তার মূল্য দেওয়া জায়েজ নয় আর বড় কোনো বিষয় ছাড়া কসম করা উচিত নাআর কথায় কথায় কসম করে কিছু বলার অভ্যাস ছেড়ে দেওয়া উচিত

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: