3.23.2015

ইলমে তাসাউফ অর্জন করা এবং একজন হক্কানী শায়েখের কাছে বাইয়াত হওয়া ফরজ ।

ইলমে তাসাউফ অর্জন করা এবং একজন হক্কানী শায়েখের কাছে বাইয়াত হওয়া ফরজ ।
ইলমে তাসাউফ।
আজকের এই অতি আধুনিক জুগে মানুষ খাটি ইসলাম থেকে সরে যাওয়ার পেছনে একমাত্র কারন তাঁর মাঝে ইসলামের মুলনিতি গুলা নাই এবং সমাজে যারা ইসলাম কে মানুষের কাছে পৌঁছাইতেছে তাদের ডিজিটাল ইসলামিক সিস্টেমে অথছ ইলমে তাসাউফ এর জ্ঞান অর্জন করা এবং একজন হক্কানী শায়েখের কাছে বাইয়াত হওয়ার জন্যে স্বয়ং রাব্বুল আলামিন নির্দেশ করেছেন উনার কালামুল্লাহ শরিফে কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী এই বিষয়টাকে মানুষের মাঝে এমন খারাপভাবে ভুল উপস্থাপন করে মানুষকে ইলমে তাসাউফ থেকে দূরে সরিয়েছে যে এখন কেঁউ ইলমে তাসাউফ এর নাম শুনলে মনে করে ইলমে তাসাউফ মানে মাজারে সেজদাহ করা, মাজারে ভণ্ড পিরের সাথে বসে গাঞ্জার কল্কিতে টান দেওয়া, হারাম গান বাজনা করে মাজার এবং অলি-আল্লাহ উনাদের বাড়ির পরিবেশ অপবিত্র করে, (নাউজুবিল্লাহ) অথছ ইলমে তাসাউফ হল সেই গোপন বিষয় যা একমাত্র কুফরি, শিরিক, হারাম মুক্ত জিসিম মুবারাক ছাড়া ধারন করা যায়না, যদি এই হয় ইলমে তাসাউফ তাহলে সেই পবিত্র মানুষ কি মানুষকে হারাম কুফরি আর শিরিকপূর্ণ আমল শিক্ষা দেবেন? আসুন তাহলে দেখি পবিত্র আল কুরআন উল কারিম এবং হাদিস শরিফ ইলমে তাসাউফ সম্পর্কে কি কি বলেন আমাদের।

পবিত্র আল কুরআন উল কারিম উনার মধ্যে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উনার রহমত - মুহসিন অথবা আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের নিকটে” (সূরা আরাফ শরিফঃ আয়াত শরীফ ৫৬)

পবিত্র আল কুরআন উল কারিম উনার সূরা কাহাফ শরিফ’-উনার ১৭ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে, কামিল মুর্শিদের গুরুত্ব সম্পর্কে কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে হেদায়েত দান করেন, সেই হিদায়েত পায়আর যে ব্যক্তি গুমরাহীর মধ্যে দৃঢ় থাকে, সে কোন ওলীয়ে মুর্শিদ (কামিল শায়খ বা পীর) উনার ছোহবত লাভ করতে পারে না

আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “তোমরা সব আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও। (সূরা আল ইমরান শরিফ-আয়াত শরিফ ৭৯)

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ পাক উনার সূরা তওবা শরিফ উনার ১১৯ নম্বর আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং ছাদিক্বীন বা সত্যবাদীগণ উনাদের সঙ্গী হওএখানে ছাদিক্বীন বলতে ওলী-আল্লাহগণ উনাদেরকেই বুঝানো হয়েছে

আল্লাহ পাক পবিত্র আল কুরআন উল কারিম উনার মধ্যে বলেন, “আল্লাহ পাক উনার ও উনার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ইত্বায়াত করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা (উলিল আমর) আদেশদাতা, তাদের অনুসরণ করো

আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমাকে পাওয়ার জন্য উসিলা তালাশ কর। (সূরা মায়িদা শরিফঃ আয়াত শরিফ ৩৫)

সূরা কাহাফ শরিফ উনার ২৮ নম্বর আয়াত শরীফে উল্লেখ আছে আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আপনি নিজেকে উনাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন, যাঁরা সকাল-সন্ধ্যায় উনাদের রবকে ডাকেন উনার সন্তুষ্টি হাছিলের জন্যঅর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক, উনার সন্তুষ্টি হাছিলের জন্য ক্বল্বী যিকির করেন, উনার অনুসরণ ও ছোহ্বত (সাক্ষাত) এখতিয়ার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আদম সন্তানের শরীরে এক টুকরা গোস্ত আছে যদি সেটা শুদ্ধ হয়ে যায় তবে সমস্ত শরীর শুদ্ধ হয়ে যায়আর যদি সেটা অশুদ্ধ হয় তাহলে সমস্ত শরীর বরবাদ হয়ে যায়, সাবধান ওটা হচ্ছে কলব। (বুখারী শরীফ)

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “যার ক্বলবে আমার যিকির জারি নেই সে নফসের অনুসরণ করে এবং তার আমলগুলো হয় শরীয়তের খিলাফ

১০আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআন শরীফ উনার মধ্যে বলেন, “সাবধান! আল্লাহ পাক উনার যিকির দ্বারা দিল ইতমিনান হয়এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “শয়তান আদম সন্তানের কলবের উপর বসে, যখন আল্লাহ পাক উনার যিকির করে তখন পালিয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ পাক উনার যিকির থেকে গাফিল হয় তখন শয়তান ওসওয়াসা দেয়

১১সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মোবারক করেন, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য (জরুরত আন্দাজ) ইল্ম অর্জন করা ফরয। (বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, লুময়াত, তালীকুছ্ ছবীহ্, শরহুত্ ত্বীবী, মোযাহেরে হক্ব, আশয়াতুল লুময়াত)

১২হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ইল্ম দুপ্রকার-
(১) ক্বল্বী ইল্ম অর্থাৎ ইল্মে তাছাউফআর এটাই মূলতঃ উপকারী ইল্ম
(২) যবানী ইল্ম অর্থাৎ ইল্মে ফিক্বাহ্, যা আল্লাহ্ পাক, উনার পক্ষ হতে বান্দার জন্য দলীল। (দারিমী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, দাইলামী, বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত, শরহুত্ ত্বীবী, তালীকুছ্ ছবীহ্, আশয়াতুল লুময়াত, লুময়াত, মুযাহিরে হক্ব)

সকলেই একমত যে, ইল্মে তাছাউফ অর্জন করার মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ করতঃ হুযূরী ক্বল্ব হাছিল করা তথা অন্ততঃপক্ষে বিলায়েতে আম হাছিল করা ফরযএ ফরয ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব হবেনা, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন কামিল মুর্শিদ, উনার নিকট বাইয়াত না হবে

উল্লিখিত উছুলের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে এটিই প্রমাণিত হয় যে, ফরয পরিমাণ ইল্মে তাছাউফ যেহেতু অর্জন করা ফরয, আর তা যেহেতু কামিল মুর্শিদ বা পীর ছাহেব, উনার নিকট বাইয়াত হওয়া ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়, সেহেতু একজন কামিল মুর্শিদ অর্থাৎ যিনি সর্বদা আল্লাহ্ পাক, উনার যিকিরে মশগুল, যিনি ১০০ ভাগ কোরআন সুন্নাহ অনুসরণ করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করাও ফরয

১৩সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদুত্ ত্বায়িফা হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাজ্জালী আলাইহিস সালাম সহ আরো অনেকেই বলেন যে, “যার কোন পীর বা মুর্শিদ নেই তার মুর্শিদ বা পথ প্রদর্শক হলো শয়তান। (ক্বওলুল জামীল, নুরুন আলা নূর, তাছাউফ তত্ত্ব)

১৪হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মোবারক হয়েছে, “তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন শিক্ষা করছো, তাকে দেখে নাও। (মুসলিম শরীফ)তাই, ইসলাম তিনি কখনও বলেন না যে তোমরা কোন ওলী-আল্লাহ উনাদের কাছে যেও না, বরং উনাদের কাছে যাওয়ার জন্যই নির্দেশ করা হয়েছে

১৫আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “যদি তোমরা না জান, তবে আহলে যিকির বা আল্লাহওয়ালাগণ উনাদেরকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও। (সূরা নহল শরিফঃ আয়াত শরিফ ৪৩ ও সূরা আম্বিয়া শরিফঃ আয়াত শরিফ ৭)

১৬)  আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিততিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার অলী উনার সাথে শত্রুতা করে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছিআমার বান্দার প্রতি যা ফরয করেছি তা দ্বারাই সে আমার অধিক নৈকট্য লাভ করেআমার বান্দা নফল কাজের মাধ্যমেও আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকেঅবশেষে আমি তাকে ভালবেসে ফেলিযখন আমি তাকে ভালবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই যা দিয়ে সে চলাফেরা করেসে আমার কাছে কিছু চাইলে, আমি তাকে তা দেইসে যদি আমার নিকট আশ্রয় কামনা করে, তাহলে আমি তাকে আশ্রয় দেইআমি যা করার ইচ্ছা করি, সে ব্যাপারে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগি না কেবল মুমিনের আত্মার ব্যাপার ছাড়াসে মৃত্যুকে অপছন্দ করে আর আমি তার মন্দকে অপছন্দ করি। [সহিহ বুখারী শরিফঃ হাদিস শরিফ ৬৫০২]

এরপরেও যারা ইলমে তাছাউফ ও হক্কানী শায়েখের ব্যাপারে চু-চেরা করে তারা গন্ডমুর্খ, গোমরাহ, পথভ্রষ্ট, বকলম ও বাতিল ফিরকার অনুসারী এবং শয়তানের কাছে সে মুরিদ নিসন্দেহে

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

2 comments:

  1. shoriote shob kichhu royechhe. sunnahti torikay shoriot poropuri mante o amol korte hobe, tapor asol rohosso prokas pabe er age naa,tasawwaf shoriot er ekta ongsho matro,trutijukto amolerche truti mukto amol obossoi valo.

    ReplyDelete
  2. ইলমে তাসাওফ শিক্ষা করা ফরজ। আর এই শিক্ষা হারিয়ে গেছে। সঠিক ইল্মে তাসাওফ শিক্ষা নেয়ার জন্য বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার দুশল হুকুরের শরনাপন্ন হোন। যাচাই করে দেখুন।

    ReplyDelete