4.07.2015

বাসর রাত সম্পর্কে কি বলেন আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্ম?

বাসর রাত
বাসর রাত
আউজুবিল্লা হিমিনাশ শাইতোওয়ানির রাজিম  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমঃ পরম করুণাময় আল্লাহ পাক উনার নামে শুরু করিলাম সকল ক্ষমা করুণা দয়া একমাত্র উনার নিকট প্রত্যাশি পৃথিবীর জমিনে মানুষ সৃষ্টির আদি থেকে শেষ পর্যন্ত বিবাহ এমন একটি বিশয় যা ছাড়া মানব জীবন কল্পনা করা যায়না আর এই বিবাহের প্রথম যে রাত পাওয়া যায় স্ত্রী সান্নিদ্দের তাকে বলে বাসর রাত বা ফুল সজ্জা আসুন জেনে নেই পবিত্র ইসলাম ধর্ম কি বলেন বাসর রাত বা ফুল সজ্জার রাত সম্পর্কে

১- বাসরঘরে স্ত্রীর মাথার অগ্রভাগে ডান হাত রাখা এবং দুআ পড়াঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ
 إِذَا أَفَادَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً أَوْ خَادِمًا أَوْ دَابَّةً فَلْيَأْخُذْ بِنَاصِيَتِهَا وَلْيُسَمِّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جُبِلَتْ عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جُبِلَتْ عَلَيْهِ.

তোমাদের কেউ যখন কোনো নারী, ভৃত্য বা বাহন থেকে উপকৃত হয় (বিয়েবা খরিদ করে) তবে সে যেন তার মাথার অগ্রভাগ ধরে, বিসমিল্লাহ পড়ে এবং বলেঃ

اللَّهُمَّ إِنِّى أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جُبِلَتْ عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جُبِلَتْ عَلَيْهِ.

(হে আল্লাহ পাক আমি আপনার কাছে আমার স্ত্রীর এবং উনার স্বভাবের কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং উনার ও উনার স্বভাবের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)

২- স্বামী-স্ত্রী উভয়ে একসঙ্গে দুই রাকা‌‘‌ত সালাত আদায় করাঃ

আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, স্ত্রী যখন স্বামীর কাছে যাবে, স্বামী তখন দাঁড়িয়ে যাবেন আর স্ত্রীও দাঁড়িয়ে যাবেন তার পেছনে অতপর তারা একসঙ্গে দুই রাকা‌‘‌ত সালাত আদায় করবেন এবং বলবেনঃ

اللَّهُمَّ بَارِكْ لِي فِي أَهْلِي، وَبَارِكْ لَهُمْ فِيَّ، اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي مِنْهُمْ وَارْزُقْهُمْ مِنِّي، اللَّهُمَّ اجْمَعَ بَيْنَنَا مَا جَمَعْتَ إِلَى خَيْرٍ، وَفَرِّقْ بَيْنَنَا إِذَا فَرَّقْتَ إِلَى خَيْرٍ.

হে আল্লাহ পাক আপনি আমার জন্য আমার পরিবারে বরকত দিন আর আমার ভেতরেও বরকত দিন পরিবারের জন্য আয় আল্লাহ পাক, আপনি উনাদের থেকে আমাকে রিযিক দিন আর আমার থেকে উনাদেরও রিযিক দিন হে আল্লাহ পাক আপনি আমাদের যতদিন একত্রে রাখেন কল্যাণেই একত্র রাখুন আর আমাদের মাঝে যখন বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেবেন তখন কল্যাণের পথেই বিচ্ছেদ ঘটাবেন

৩- স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসের সময় পড়ার দু

স্ত্রী সহবাসকালে নিচের দুআ পড়া সুন্নত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন,

لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ فَقَالَ بِاسْمِ اللهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا ، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرُّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا.

তোমাদের কেউ যদি স্ত্রী সঙ্গমকালে বলেনঃ

بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

(আল্লাহ পাক উনার নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ পাক আপনি আমাদেরকে শয়তানের কাছ থেকে দূরে রাখুন আর আমাদের যা দান করেন তা থেকে দূরে রাখুন শয়তানকে।) তবে সে মিলনে কোনো সন্তান দান করা হলে শয়তান কখনো উহার ক্ষতি করতে পারবে না

৪- নিষিদ্ধ সময় ও জায়গা থেকে বিরত থাকাঃ

আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ

مَنْ أَتَى حَائِضًا ، أَوْ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا ، أَوْ كَاهِنًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ ، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

যে ব্যক্তি কোনো ঋতুবতী মহিলার সঙ্গে কিংবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে অথবা গণকের কাছে যায় এবং তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করলো

৫- ঘুমানোর আগে অযূ বা গোসল করাঃ

স্ত্রী সহবাসের পর সুন্নত হলো অযূ বা গোসল করে তবেই ঘুমানো অবশ্য গোসল করাই উত্তম আম্মার বিন ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ

ثَلاَثَةٌ لاَ تَقْرَبُهُمُ الْمَلاَئِكَةُ جِيفَةُ الْكَافِرِ وَالْمُتَضَمِّخُ بِالْخَلُوقِ وَالْجُنُبُ إِلاَّ أَنْ يَتَوَضَّأَ.

তিন ব্যক্তির কাছে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আসেন নাঃ কাফের ব্যক্তির লাশ, জাফরান ব্যবহারকারী এবং অপবিত্র শরীর বিশিষ্ট ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে অযূ করে

৬- ঋতুবতীর স্ত্রীর সঙ্গে যা কিছুর অনুমতি রয়েছেঃ

হ্যা, স্বামীর জন্য ঋতুবতী স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমপথ ব্যবহার ছাড়া অন্য সব আচরণের অনুমতি রয়েছে স্ত্রী পবিত্র হবার পর গোসল করলে তার সঙ্গে সবকিছুই বৈধ কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ

اصْنَعُوا كُلَّ شَيْءٍ إِلاَّ النِّكَاحَ .

সবই করতে পারবে কেবল সঙ্গম ছাড়া

৭- বিয়ের নিয়ত শুদ্ধ করাঃ

নারী-পুরুষের উভয়ের উচিত বিয়ের মাধ্যমে নিজকে হারামে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচানোর নিয়ত করা তাহলে উভয়ে এর দ্বারা ছাদকার ছাওয়াব লাভ করবেন কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেনঃ

وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةً ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَيَأْتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ ، وَيَكُونُ لَهُ فِيهِ أَجْرٌ ؟ قَالَ : أَرأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي الْحَرَامِ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ ؟ فَكَذَلَكَ إِذا وَضَعَهَا فِي الْحَلالِ كَانَ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ.

তোমাদের সবার স্ত্রীর সঙ্গমপথে রয়েছে ছাদকা সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন উনারা জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  আমাদের কেউ কি তার জৈবিক চাহিদা মেটাবে আর তার জন্য সে কি নেকী লাভ করবে? তিনি বললেন, ‘তোমরা কি মনে করো যদি সে ওই চাহিদা হারাম উপায়ে মেটাতো তাহলে তার জন্য কোনো গুনাহ হত না? (অবশ্যই হতো) অতএব তেমনি সে যখন তা হালাল উপায়ে মেটায়, তার জন্য নেকী লেখা হয়

৮- স্ত্রী সান্বিধ্যের গোপন তথ্য প্রকাশ না করাঃ

বিবাহিত ব্যক্তির আরেকটি কর্তব্য হলো স্ত্রী সংসর্গের গোপন তথ্য কারো কাছে প্রকাশ না করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন,

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: