4.07.2015

জেনে নিন কেন পহেলা বৈশাখ পালন করলে আপনি কাফির-মুরতাদ হয়ে যাবেন?

জেনে নিন কেন পহেলা বৈশাখ পালন করলে আপনি কাফির-মুরতাদ হয়ে যাবেন?
পহেলা বৈশাখ
হযরত ইমাম আবু হাফস্ কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেনঃ নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে যদি কেউ একটি ডিমও দান করে তাহলে তার ৫০ বছরের আমল থাকলে তা বরবাদ হয়ে যাবেঅর্থাৎ নওরোজ বা নববর্ষ পালনের কারণে তার জিন্দেগীর সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবেঅতত্রব, পহেল বৈশাখ উপলক্ষে বিশেষ পোশাক পরিধান করা, ব্যবসা-বাণিজ্য করা, দ্রব্যমূল্যে বিশেষ ছাড় দেয়া, ইলিশ-পান্তা খাওয়া, ফলমুল খাওয়া সবকিছুই বিজাতীয় ও বিধর্মীয় সংস্কৃতির সাথে তাশাব্বুহ বা মিল হিসেবে হারামের অন্তর্ভুক্তযদি কোনো মুসলমান তাদের সাথে মিল রেখে পহেলা বৈশাখ পালন করে তবে শরীয়ত-এর দৃষ্টিতে সে আর মুসলমান থাকতে পারে নাঅর্থ্যাৎ তার জীবনের সব নেক আমল বরবাদ হয়ে যায়

কোন বছরের পহেলা দিবস পালন করা মজুসী বা অগ্নি উপাসকদের একটি একান্ত উৎসবের দিনপরবর্তীতে অবশ্য অন্যান্য মুশরিক ধর্ম যেমনঃ বৌদ্ধ, হিন্দু ও উপজাতিরাও এ দিবসটিকে উৎসব ও পূজার দিন হিসেবে গ্রহণ করে

তাই পহেলা বৈশাখ দুটি কারণে হারাম ও কুফরীঃ

এটি মজুসীদের অনুকরণ
এটি হিন্দু, বৌদ্ধ ও উপজাতিদের পূজা ও উৎসবের সাথে সদৃশ্য
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইসলাম কি কাফিরদের সাদৃশ্যপূর্ণ আমল করার অনুমতি দেয়?? পবিত্র কুরআন শরিফ আর হাদীস শরিফ এ সম্পর্কে কি বলেন???

পবিত্র কুরআন পাকে আছেঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন (নিয়মনীতি, অন্য ধর্ম) তালাশ করে, তা কখনোই তার থেকে গ্রহণ করা হবেনা এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে” (সূরা আলে ইমরান শরিফঃ আয়াত শরিফ ৮৫)

পবিত্র হাদীস পাকে আছেঃ عن جابر رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم حين اتاه عمر فقال انا نسمع احاديث من يهود تعجبنا افترا ان نكتب بعضها فقال امتهوكون انتم كما تهوكت اليهود والنصرى لقد جئتكم بها بيضاء نقية ولو كان موسى حيا ماوسعه الا اتباعى.
অর্থঃ হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত ওমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, ওটার কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরাও কি দ্বিধাদন্দ্বে রয়েছো? যে রকম ইহুদী নাছারারা দ্বিধাদন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি তোমাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছিহযরত মুসা আলাইহিস্ সালামও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো” (মুসনদে আহমদ, বায়হাক্বী, মিশকাত শরিফ)

হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছেঃ عن عمرو بن شعب عن ابيه عن جده ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ليس منا من تشبه بغيرنا.
অর্থঃ হযরত আমর বিন শুয়াইব উনার পিতা থেকে এবং তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে” (মিশকাত শরিফ)

ইহুদীরা আশুরা উপলক্ষে একটি রোজা রাখতনবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিষয়টি অবহিত হয়ে মুসলমানদের রোজা রাখার অনুমতি দিলেন, যেহেতু রোজা মুসলমানরাও রাখেকিন্তু ইহুদীদের সাদৃশ্য না রাখার জন্য দুইটি রোজা রাখতে বলবেনতাই আশুরা উপলক্ষে ১টি রোজা রাখা মাকরুহ

যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে” (আবু দাউদ শরিফ, মিশকাত শরীফ)

এরকম পবিত্র কুরআন শরিফ হাদীস শরিফ উনাদের বহু জায়গায় কাফির-মুশরিকদের অনুরসরণ-অনুকরণ করতে সরাসরি নিষেধ করা হয়েছেএবং যে এরুপ করবে সে সৃষ্টির মালিক স্রষ্টা আল্লাহ পাক উনার আদেশ অমান্য করে ইসলামচ্যূত মুরতাদ হয়ে যাবে

কিন্তু এখানে অনেকে বলতে পারেঃ আমরা যে কম্পিউটার, গাড়ি, প্লেন ইত্যাদি কাফিরদের তৈরী জিনিস ব্যবহার করছি সেগুলো কি হালাল?? ঐগুলো কেন বর্জন করি না

কাফিরদের তৈরী জিনিস ব্যবহার করা কি হারাম??

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিশরের সূতি কাপড় পরিধাণ করতেন, ইয়েমেনী চাদর ব্যবহার করতেন এবং রোম-পারস্যের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করতেন, যেসব দেশে ঐ সময় মুসলমানরা থাকত না, সবাই কাফির ছিলোঅর্থ্যাৎ তিনিই নিজেই কাফিরের তৈরী জিনিস ব্যবহার করেছেনতাহলে বিষয়টি আসলে কি??

মূলত এখানে দু্ইটি বিষয় আছেঃ

কাফিরের তৈরী জিনিসপত্র,
কাফিরদের নিয়মনীতি বা সংস্কৃতি
যারা এ দুটি বিষয়ের পার্থক্য ধরতে পারে না তারাই এ ধরনের প্রশ্ন করে থাকেএখানে মনে রাখতে হবে হাদীস শরীফে আছেঃ নিশ্চয়ই দুনিয়ার সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে আপনাদের(মুসলমানদের) জন্য, আর আপনাদের সৃষ্টি করা হয়েছে আখেরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি হাসিলের জন্যঅর্থ্যাৎ সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে মুসলমানদের জন্য, এমনকি কাফিররাও মুসলমানদের খাদিমসেজন্য খাদিম মনিবকে অনেককিছু বানিয়ে দিতে পারেমুসলমান সবকিছু গ্রহণ করবে এমন কোন কারণ নাইযেগুলো শরীয়ত সম্মত সেগুলোই গ্রহণ করবে, যে জিনিস শরীয়ত সম্মত নয় (যেমন মদ) সেগুলো গ্রহণ করবে নাঅপরদিকে মাল-সামানা ব্যবহার করতে পারলেও সংস্কৃতি বা নিয়মের ব্যাপারে কাফিরদের থেকে কোন কিছুই গ্রহণ করা যাবে নাএবং কেউ যদি গ্রহণ করে তবে উপরক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীস শরীফ অনুসারে সে মুরতাদ ও কাফির বলে গণ্য হবে

তাই ইসলামী শরীয়ত অনুসারে পহেলা বৈশাখ পালনকারী মুরতাদ বা ইসলামচ্যূত হয়ে যাবে আর মুরতাদের শাস্তি হচ্ছেঃ

তার জীবনের সমস্ত নেক আমল বাতিল হয়ে যাবে
পবিত্র হজ্জ করলে তা বাতিল হয়ে যাবে
স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে, এরপর সন্তান হলে জারজ সন্তান হবে
ওয়ারিস সত্ত্ব বাতিল হয়ে যাবে
মারা গেলে জানাজা পরা যাবে না, কেউ ঐ ব্যক্তির জানাজা পরলে সেও মুরতাদ হয়ে যাবে
তাকে মুসলিম উপায়ে কবর দেয়া যাবে না, কুকুর বিড়ালের মত মাটির নিচে পুতে রাখতে হবে
এখানে স্মরণীয় মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা যা জানো না, তা আহলে যিকির (ওলী আল্লাহগণ) উনাদের থেকে যেনে নাওতাই বিভিন্ন বিষয় শরীয়ত সম্মতভাবে জানতে হলে কোন হাক্কানি ওলী-আল্লাহ উনাদের থেকে জেনে নিতে হবেকিন্তু যারা ধর্মব্যবসায়ী, নিজ প্রয়জনের জন্য ফতওয়া ঘুরিয়ে ফেলে, নিজেরাই ঠিক মত আমল করে না, বেপর্দা চলে, হারাম কাজে লিপ্ত থাকে হারাম কুফরি গণতন্ত্রের রাজনীতি করে তাদের থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হবে না

অন্যদিকে, যেহেতু পহেলা বৈশাখ পালন করে কোটি কোটি মুসলমান মুরতাদ হয়ে যাবে, তাই মুসলমান হিসেবে আমাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে এ কুফরী কাজ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করাকারণ পবিত্র কুরআন শরিফ উনার মধ্যে আছেঃ আপনারাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের(কল্যাণের) জন্য আপনাদেরকে বের করা হয়েছেআপনারা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবেন এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে” (সূরা আল-ইমরান শরিফ, আয়াত শরিফ ১১০)


তাই আসুন একজন মুসলমান হিসেবে আমরা এই হারাম ও কুফরী কাজ থেকে নিজে দূরে থাকি এবং নিজ পরিবার পরিজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু বান্ধবকে দূরে রাখি, আল্লাহ পাক তিনি আমাদের হক্ব বোঝার তৌফিক দিন আমিন

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম, ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুজ দান করুন


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: