6.25.2016

সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের নায়ক রাজা ‘জুম্বি’ ছিলেন একজন পিউর মুসলিম

সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের নায়ক রাজা ‘জুম্বি’ ছিলেন একজন পিউর মুসলিম
‘জুম্বি’ ছিলেন একজন পিউর মুসলিম
আপনারা কি জানেন দক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশ ব্রাজিলের একজন জাতীয় হিরো ও সপ্তদশ শতাব্দীতে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের নায়ক রাজা জুম্বিছিলেন একজন পিউর মুসলিম?

কিভাবে ইসলাম সপ্তদশ শতাব্দীতে ব্রাজিলে পৌঁছুলো? আর কিভাবেই বা একজন মুসলিম সেখানে রাজা হতে পারে? এর উত্তর পাওয়া যাবে আমাদের চায়ের চিনির ভেতর।

বর্তমান সময়ের মতো চিনি প্রাচীনকালে ঘরে ঘরে পাওয়া যেতোনা। কথাটি দক্ষিণ এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে ততোটা সত্য না হলেও ইউরোপের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সত্য। ইউরোপকে চিনি এশিয়া থেকে আমদানি করতে হতো কারণ আঁখ জন্মে গরম আবহাওয়ায়। দামী জিনিস হওয়ায় এটি শুধু তাদের অভিজাত শ্রেণীরই সামর্থ্যের মধ্যে ছিলো। সাধারণ মানুষেরা কোন উৎসব ছাড়া চিনির মুখই দেখতোনা।

পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে কলম্বাস অ্যামেরিকা মহাদেশে তার দ্বিতীয়বার অভিযানের সময় এশিয়া মহাদেশের ভারতবর্ষ থেকে কিছু আঁখ নিয়ে যায় আমেরিকায়। সেগুলো বপন করার পর দেখা যায় এশিয়া-আফ্রিকার চেয়েও দক্ষিণ অ্যামেরিকায় আঁখের ভালো উৎপাদন হয় এবং এর ব্যবসাও খুবই সম্ভাবনাময়। ইউরোপের সাধারণ মানুষ প্রথমবারের মত চিনি/মিষ্টি হাতের নাগালে পায়। অ্যামেরিকায় প্রস্তুত চিনির ব্যবসা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে এটি সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার একটিতে পরিণত হয়। ইউরোপের চাহিদা মেটাতে তখন আঁখের ক্ষেতে আরও মজুরের দরকার। স্থানীয়রা কাজে অস্বীকৃতি জানালে ইউরোপীয় কলোনিস্টরা তখন মধ্য আফ্রিকা বিশেষত কঙ্গো ও এঙ্গোলা থেকে হাজার হাজার মানুষকে বন্দী করে অ্যামেরিকায় পাঠিয়ে দেয় দাস হিসেবে আঁখ ক্ষেতগুলোতে বাধ্যতামূলক শ্রম দেয়ার জন্য। শুরু হয় আফ্রিকার নিগ্রোদের অন্ধকার দিন। শুধু ব্রাজিলেই ৩০ লাখ মানুষকে দাস হিসেবে নিয়ে আসা হয়।

মধ্য আফ্রিকার জনসংখ্যার একটি অংশ ছিলেন মুসলিম। কঙ্গোর এক মুসলিম রাজাকে পরাজিত করে পর্তুগীজরা রাজকন্যাকে তার শিশুপুত্র ও সমগ্র রাজবংশসহ দাস হিসেবে ব্রাজিলে বিক্রি করে দেন। মুসলিমেরা সবসময় ছিলেন স্বাধীনচেতা। তারা ইউরোপীয়দের দাস হিসেবে বেঁচে থাকতে চাইলেননা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের জাহাজ থেকে ভূমিতে নামানোর সাথে সাথে তারা পালাবার চেষ্টা করতেন। আবার অমানুষিক পরিশ্রম ও নির্দয় নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে অনেকে পালিয়ে যেতেন গভীর জঙ্গল বা দুর্গম এলাকায়।

সপ্তদশ শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকে অনেক দাস ব্রাজিলের পালমারেসনামক এক দুর্গম এলাকায় গিয়ে একটি মুক্ত দাসদের কমিউনিটি গড়ে তোলেন যা ইউরোপীয়দের থাবা থেকে ছিল মুক্ত। এই মুক্ত ভূমির কথা শুনে আরও অনেক দাস পালিয়ে এসে সেখানে বসতি গড়েন। দেখতে দেখতে এর জনসংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এ মুক্তভূমির রাজা হন কঙ্গোর সেই মুসলিম রাজকুমারীর সন্তান গাঙ্গা জুম্বা

গাঙ্গা জুম্বার পর রাজা হন তার বোন সাবিনার ছেলে জুম্বি। জুম্বি তার তারুণ্য থেকেই শক্তিশালী শারীরিক গড়ন ও চতুর সামরিক স্ট্র্যাটেজির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার পর্তুগীজরা পালমারেস আক্রমণ করলেও জুম্বির প্রতিরোধে পিছু হটে তারা। বিভিন্ন যুদ্ধে তার অসম সাহসিকতা তাকে খ্যাতি এনে দেয়।

জুম্বি রাজা হবার ১৫ বছর পর ১৬৯৪ সালে পর্তুগীজরা বড় আকারে হামলা চালায়। পর্তুগীজদের তৎকালীন আধুনিক আর্টিলারি ফায়ারের সামনে পালমারেস আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। পালমারেস দখল হয়ে যায়। জুম্বি প্রাণে বেঁচে গেলেও পায়ে আঘাত পান। তিনি আরও দেড় বছর পর্তুগীজদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যান। কিন্তু তারই এক সাবেক প্রজা বিশ্বাসঘাতকতা করে তার আস্তানার খবর পর্তুগীজদের দিয়ে দেয়। ২০ নভেম্বর, ১৬৯৫ সালে গ্রেফতার করে তাকে সেখানেই শিরোচ্ছেদ করা হয়।

তার জীবনী নিয়ে ব্রাজিলে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সেই সাথে তার সম্মানে ব্রাজিলের মেসিও শহরের জুম্বি দোস পালমারেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টএর নামকরণ করা হয়েছে।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: