6.20.2016

পবিত্র ভূমি/বাইতুল মুকাদ্দিস শরিফ সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহির দ্বারা রক্ষা পায়

২০ হাজার নাইটসহ লক্ষাধিক সৈন্যবাহিনী নিয়ে বারবারোসা ক্রুসেডে বেরিয়ে পড়ে
 লক্ষাধিক সৈন্যবাহিনী নিয়ে বারবারোসার ক্রুসেড আক্রমণ
মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তিনি ১১৮৭ সালে যবরদস্ত আউলিয়া হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র হাত মোবারক দিয়ে পবিত্র ভূমি/বাইতুল মুকাদ্দিস শরিফ সম্মানিত মুসলিমদের হাতে ফিরিয়ে দেন। এ ঘটনায় সারা ইউরোপ রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। খ্রিষ্টান পোপের আহ্বানে সমগ্র ইউরোপ এক হয়ে হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিরুদ্ধে তৃতীয় ক্রুসেড যুদ্বের ঘোষণা করে। এবার ক্রুসেডে নেতৃত্ব দিতে শুধু সেনাপতি না পাঠিয়ে ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানিসহ ইউরোপের রাজারা স্বয়ং এগিয়ে আসে। শুরু হয় আরেকটি ক্রুসেডের আয়োজন।

তৎকালীন ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালীঃ জার্মানির হোলি রোমান এম্পায়ারএর সম্রাট, ফ্রেডরিক বারবারোসা দম্ভভরে হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চিঠি লিখেছিলো যে, সে পবিত্র ভূমিতে যে করেই হোক অবস্থান নিয়েই ছাড়বে। ২০ হাজার নাইটসহ লক্ষাধিক সৈন্যবাহিনী নিয়ে বারবারোসা ক্রুসেডে বেরিয়ে পড়ে। হযরত ইবনে কাসির রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন তার সৈন্যসংখ্যা ছিলো প্রায় তিন লক্ষের মত আর খ্রিষ্টান ঐতিহাসিকদের মতে সে সংখ্যা এক লক্ষের কিছু বেশী। ফ্রান্স ও ব্রিটেন জাহাজে করে তাদের সৈন্যদের নিয়ে যাত্রা করে। কিন্তু জার্মানির সৈন্য সংখ্যা বিশাল হওয়ায় তারা পদব্রজেই ইউরোপের মধ্য দিয়ে এশিয়াতে প্রবেশ করে।

একদল নামধারী আলেম(বাতিল ৭২ ফেরকার মতো) প্রথম প্রথম জিহাদে আগ্রহ দেখালেও ফ্রেডরিকের বিশাল বাহিনীর কথা শুনে তারা ময়দান থেকে পলায়ন করে নাউযুবিল্লাহ। এসব আলেমদের জন্য দলিলের অপব্যবহারের ইতিহাস কোনদিনই থেমে থাকেনি। তাদের যুক্তি ছিল এতো বিশাল শত্রু বাহিনীকে অল্প সংখ্যক মুসলিম নিয়ে মোকাবেলা আত্মহত্যার শামিল আর পবিত্র আল কোরআনে তো বলাই আছে নিজেরা নিজেদের ধ্বংসে নিক্ষেপ করোনা” (সূরা বাকারা শরিফঃ আয়াত শরিফ ১৯৫) । যাই হোক সবসময়ের মতো ঈমানদার আলেমদের একটি দল মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় অটল থাকলেন(যদিও মুনাফিক আলেম রা পবিত্র আল কোরানের আয়াত শরিফের ভূল ব্যখা এবং প্রয়োগ করে নিজেদের হেফাজতে ব্যস্ত ছিলো) এবং হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে বারবারোসাকে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে লাগলেন এই আয়াত শরিফ উনার উপর শতগুণ বিশ্বাস স্থাপন করে যে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর তাওয়াক্কুল করে, তার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনিই যথেষ্ট” (পবিত্র সূরা তালাক শরিফঃ আয়াত শরীফ ৩)।

সে সময় ছিল গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরম। সবসময় ভারী বর্ম পরিহিত নাইট আর জার্মান সৈন্যরা এ যাত্রায় প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে গেলো মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতে। এর মধ্যে তারা আবার পেলো এক বরফগলা ঠাণ্ডা পানির নদী যা পার হওয়া ছাড়া আর কোন গতি নেই। ঠান্ডা পানি ও গরমের প্রতিক্রিয়ায় জার্মান ক্যাম্পে অসুখ আর জ্বর ছড়িয়ে পড়লো খোদায়ি গজব হিসেবে। ৬৮ বছর বয়স্ক বারবারোসা ছিল আপাদমস্তক বর্মে আচ্ছাদিত। ১০ জুন, ১১৯০ সালে আনাতোলিয়ায় এসে একটি হাটুপানির নদী পার হবার সময় তার ঘোড়াটি কোন কিছু দেখে লাফাতে শুরু করলো। বারবারোসা ঘোড়া থেকে হাটুপানিতে পড়ে হার্ট এটাক করে মারা গেলো। যে দম্ভভরে বলেছিল আমি জেরুসালেমে পা না দিয়ে ছাড়বোনা, তাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ফিলিস্তিনের কাছেও ঘেঁষতে দিলেন না আফসোস।

গরম, অসুস্থতা, অনৈক্য সহ বিভিন্ন কারণে আগে থেকেই তার সেনাবাহিনী থেকে অনেকে পালাচ্ছিল। তার মৃত্যুর পর দেখা গেল লক্ষাধিক সৈন্যের মধ্যে পাঁচ হাজারও আর অবশিষ্ট নেই। ইবনে কাসির বলেন শেষ পর্যন্ত বিশাল জার্মান সৈন্যবাহিনীর যে অংশ শেষ পর্যন্ত মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র এক হাজার। তার পিতার গৌরবও পবিত্র ভূমিতে যাওয়ার ওয়াদা রক্ষার জন্য বারবারোসার ছেলে তার মৃতদেহকে সংরক্ষণের জন্য ভিনেগার ভর্তি একটা কন্টেইনারে ভরে নিয়ে চলল। কিন্তু কিছু সময় পরেই তার পচা-গলা দেহ কন্টেইনার ফেটে বেরিয়ে গেলে সে দেহকে সিদ্ধ করে পুঁতে ফেলা হয়। এমনই ছিলো মহান আল্লাহ পাক উনার হাক্কানি রাব্বানি খাঁটি অলি আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী দাম্ভিক কাফের/মুশরেকদের পরিণতি।


শিক্ষনীয় বিষয় হলোঃ হাক্কানি রাব্বানি খাঁটি অলি আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের সাথে যুগে যুগে যারাই দাম্ভিকতা দেখিয়েছে তারাই ধ্বংস হয়েছে এবং হবে ইন শা আল্লাহ।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: