6.28.2016

আপনি কি জানেন রমনা কালী মন্দির কার যায়গায় স্থাপিত হয়েছে ?

আপনি কি জানেন রমনা কালী মন্দির কার যায়গায় স্থাপিত হয়েছে ?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ দাবি করেছেঃ- বাংলাদেশের ঢাকায় রমনা কালী মন্দিরের যায়গা দখল করে নাকি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নির্মাণ করা হয়েছে (http://goo.gl/yveeBM) আর্কাইভ (http://archive.is/4cxbU)

আমার মনে হয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নিয়মিত গাজা খায়নয়তো এ ধরনের উদ্ভট কথা তাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়বরং এটা বলা যায়, মুসলমানদের জায়গা দখল করে আজকে হিন্দুরা অবৈধভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে অবৈধ মন্দির বানিয়েছেএ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ইতিহাস আমি তুলে ধরছিঃ- ইতিহাস বলে, শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয় বরং পুরো রমনা এলাকার (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ) গোড়াপত্তন করেছিলেন মুসলমানরা

মোঘল বাদশাহ জাহাঙ্গীরের শাসন আমলে ১৬১০ সালে রমনা এলাকার গোড়াপত্তন শুরু করেন সুবেদার ইসলাম খা, তিনি সেখানে দুটো চমৎকার আবাসিক এলাকা নির্মাণ করেছিলেনএকটি এলাকার নাম মহল্লা চিশতিয়াএবং অপরটির নাম মহল্লা সুজাতপুরএ এলাকাগুলোতে বাস করতেন ইসলাম খাঁ চিশতির বংশধরের লোকজন

মোগল আমলের পুরো সময়টা বর্তমান রমনা এলাকা বাগ-ই বাদশাহী বা বাদশাহী বাগান হিসেবে পরিচিত ছিলো এবং তখন থেকে ঢাকার নবাব আমল পর্যন্ত রমনা বাগানে সাধারণ জনসাধারণের প্রবেশ অধিকার ছিল নামহল্লা সুজাতপুর ও মহল্লা চিশতিয়ার তৎকালে ঢাকার নাম করা জ্ঞানী-গুণী,শিল্পী, সাহিত্যিক, আইনজীবী, ডাক্তার প্রমুখ বসবাস করতেন

কলা ভবন, কার্জন হল, শাহবাগ, সিদ্ধেশ্বরী কালী বাড়ী, রমনা থানা সকলই ছিল ১৮৩২ সাল ওয়াল্টারের তথ্য অনুসারে বাগ-ই-বাদশাহী রমনা বাগানের মধ্যবর্তী এলাকাকালক্রমে সুজাতপুর, চিশতিয়া, বাগ-ই-বাদশাহী এলাকার নামকরণ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং জনসাধারণের নিকট পরিচিতি পায় উক্ত এলাকাটি রমনা হিসেবেউল্লেখ্য রমনা শব্দটি ফার্সী শব্দ এবং এ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন সেনাপতি ইসলাম খাঁ-ই

বর্তমানে রমনা কালী মন্দির বলে যেটি দাবি করা হচ্ছে সেটিও বানানো হয়েছিলো তৎকালীন মোঘল বাদশাহর পৃষ্ঠপোষকতায়ইতিহাস বলে, মোঘল আমলের শেষ দিকে বাদশাহর পৃষ্ঠপোষকতায়, মোঘল সেনাপতি মান সিংহের সহযোগিতা ও বার ভূঁইয়ার অন্যতম কেদার রায় এর অর্থে শাহবাজ মসজিদের উত্তর দিকে হরিচরণ গিরি অতিক্ষুদ্র পরিসরে ভিত্তি স্থাপন করেছিলো কৃপা সিদ্ধির আখড়াযা পরবর্তীতে ভদ্রাকালী বাড়ীএবং পর্যায়ক্রমে নামকরণ করা হয় রমনা কালী মন্দিরহিসেবে

আর মন্দিরের সাথে যে আনন্দময়ী আশ্রম নির্মিত হয়েছে সেটা হচ্ছে আনন্দময়ী নামক এক মহিলার নাম অনুসারেঐ মহিলা রমনা এলাকার মালিক ছিলো নাঐ মহিলা ছিলো রমণীমোহন চক্রবর্তী নামক এক ব্যক্তির স্ত্রীরমণীমোহন চক্রবর্তী ছিলো ঢাকার শেষ নবাব, খাজা হাবীবুল্লাহ বাহাদুরের কর্মচারী, যে ১৯২৪ সালে স্ত্রী আনন্দময়ীসহ নবাবের শাহবাগ বাগান দেখাশোনার জন্য ঢাকায় এসেছিলো

উল্লেখ্য যে কর্মচারির স্ত্রী আনন্দময়ী গিয়েছিলো ঐ রমনা কালী মন্দিরে, আর তাতেই নিচুজাতের হিন্দুরা ঐ মহিলাকে পূজনীয় ভাবতে শুরু করে, তার ভক্তরাই মন্দিরের পাশে ছোট্ট করে পূজারি আশ্রম বানায়, যা পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় মা আনন্দময়ী আশ্রমঅথচ এখন হিন্দুরা উদ্ভট ভাবে দাবি করে বলে যে ঐ আনন্দময়ী নাকি পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মালিক

যাই হোক, ঐ সময়কার ছবিগুলোতে রমনা কালী মন্দির ও আশ্রমের যে আয়তন দেখা যায়, তাতে সব মিলিয়ে আয়তন ১০-১৫ কাঠা হয় নাকি সন্দেহ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী মন্দিরটিকে ভেঙ্গে দিলে মন্দিরটির সঠিক আয়তন নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো শুরু করে দখলবাজ হিন্দুরাতারা দাবি করতে থাকে পুরো এলাকাটাই নাকি তাদেরযুদ্ধ উত্তর সময় হিন্দুদের একাধিক বার ঐ মন্দিরের বদলে নতুন জমি দেওয়া হয়কিন্তু সেটা তারা বিক্রি করে ফের সেখানে ফিরে আসেএক পর্যায়ে জোর করে প্রায় ১৩৩ কাঠা যায়গাকে মন্দির হিসেবে দখল করে নেয় তারা, দেয় বাউন্ডারী ওয়ালঅতিরিক্ত তৈরী করে লোকনাথ মন্দির, দূর্গা মন্দিরবলাবাহুল্য এ দখল সম্ভব হয়েছে শুধু ঢাবির জগন্নাথ হলের সাম্প্রদায়িক হিন্দু ছাত্রদের অপতৎপরতায়এলাকাবাসী জানায়, রাতের আধারে জগন্নাথ হলের শত শত ছাত্র এসে বেড়া দিয়ে দখল করেছিলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল এলাকা, যা বাউন্ডারী দিয়ে বানানো হয় রমনা কালী মন্দিরের নিজস্ব এলাকাঅর্থাৎ ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে- মুসলমানরা হিন্দুদের জায়গা দখল করেনি, বরং হিন্দুরাই মুসলমানদের যায়গা দখল করে মন্দির বানিয়েছে

আমার মনে হয়, শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মুক্ত হওয়া উচিতবাংলাদেশ সৃষ্টির যে ইতিহাস রচিত হয়েছিলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে সে স্থান কারো দখলবাজীর যায়গা হতে পারে নাতাই দখলদার মন্দিরটিকে প্রাপ্য যায়গা দিয়ে সেটিকে অন্যত্র সরিয়ে ঐতিহাসিক স্থানটিকে মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি

প্রয়োজনীয় লিঙ্কঃ
১) http://bn.wikipedia.org/wiki/সোহরাওয়ার্দী_উদ্যান
২) http://bdhindu.blogspot.com/2008_08_01_archive.html

৩) https://bn.wikipedia.org/wiki/আনন্দময়ী_মা


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: