6.24.2016

রাজকাহিনী সিনেমার পটভূমি ও দুই বাংলা এক হওয়ার চক্রান্ত

রাজকাহিনী সিনেমার পটভূমি ও দুই বাংলা এক হওয়ার চক্রান্ত
রাজকাহিনী সিনেমার পটভূমি ও দুই বাংলা এক হওয়ার চক্রান্ত
পশ্চিমবঙ্গে একটা সিনেমা তৈরী হয়েছে, নাম রাজকাহিনী সিনেমাটি এক মাস পর পূজোয় মু্ক্তি পাবেসিনেমার পটভূমি ৪৭ এর দেশভাগসিনেমাটি ভারতের, তাই ভারত তার পক্ষে কাহিনী রচনা করবে সেটাই স্বাভাবিক, কিন্তু সমস্যা সিনেমাটির এক নায়িকা (জয়া আহসান) আবার বাংলাদেশেরতাই স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশীরা সেখানে মাথা ঘামানোর সুযোগ পাবে

সিনেমার ট্রেইলার দেখে (https://youtu.be/ru4G6EwhK9k) এক বন্ধু যা বললো তাতে আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশীদের জন্য এটি আপত্তিজনক কাহিনীকেননা সিনেমার মাধ্যমে যে মেসেজ থ্রো করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সত্যিই হুমকিস্বরূপ

সিনেমার কাহিনীঃ ৪৭ এর দেশভাগের সময় যখন হিন্দু-মুসলিম আলাদা আলাদা ভূমিতে চলে যায়, তখন বাংলাদেশ (পূর্ব পাকিস্তান)-ভারত সীমান্তের মাঝে একটি একটি পতিতালয় পড়েপতিতালয়টির নাম বেগমজান পতিতালয়সিদ্ধান্ত হয় সীমান্তের স্বার্থে পতিতালয়টি তুলে দেওয়া হবেসীমান্তভাগে পতিতালয়কে বাচানোর কাহিনীকে কেন্দ্র করে তৈরী হয় রাজকাহিনীনামক সিনেমাটি

সিনেমার মাধ্যমে কি মেসেজ থ্রো করা হলো ?

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিলো পশ্চিমবঙ্গের নায়ক দেবদেব বলেছিলো; “দাও, দুই বাংলা এক করে দাওএ সিনেমারও মূল মেসেজটিও কিন্তু সেটি, “দুই বাংলার মাধ্যে কোন সীমানার দরকার নাই”, যার কারণে ট্রেইলারের শেষ অংশে দেখা যায়, একটি শিশু সীমানার কাটাতারের মধ্যে প্রশ্রাব করছে

৪৭ এর দেশভাগের জন্য আসলে কে দায়ি ছিলো ?

পূর্ব পাকিস্তানবাসী (বাংলাদেশ) ৪৭ এ কখনই চায়নি- দুই বাংলা ভাগ হোকবাংলায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় তারা নিশ্চিত ছিলো পূর্ববাংলা, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম নিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠিত হবেকিন্তু এতে আপত্তি জানিয়েছিলো পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানকরা হিন্দুরাকারণ এতে তারা নিশ্চিত হয়েছিলো, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের মধ্যে পড়লে তারা ইচ্ছা-অনিচ্ছায় মুসলমানদের অধীন হয়ে পড়বেতাই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা পাকিস্তান নয়, ভারতের সাথে যোগ হওয়ার জন্য গো ধরলোএ সম্পর্কে জয়া চ্যাটার্জির লেখা বাঙলা ভাগ হলো: হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও দেশ বিভাগবইতে বলা হয়েছে: এখন সময় ঘোষিত হয়েছেভগ্নী ও ভায়েরা, আমি আপনাদের নমনীয় মনোভাব ত্যাগ করে স্বপ্নরাজ্যের বিহ্বলতার শিখর থেকে বাস্তবের জগতে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছিঐতিহ্যগতভাবে এবং আবেগের দিক থেকে বাঙলার জনগণ প্রদেশ ভাগের যে কোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধেকিন্তু আমরা যদি অন্তর্নিহিত অর্থ অনুধাবন না করে শুধু পুরনো স্লোগান উদ্ধৃত করি, তাহলে মাতৃভূমির কাছে আমরা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী বলে সাব্যস্ত হবস্বদেশী দিনগুলোতে বিভাগ-বিরোধী আন্দোলন ছিল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামঐ সাম্রাজ্যবাদের উদ্দেশ্য ছিল উভয় প্রদেশে বাঙলার হিন্দুদের সংখ্যালঘিষ্ঠ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত সবচেয়ে বৃহৎ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়াবিভক্তির জন্য আমাদের আজকের দাবি সেই একই আদর্শ ও লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত, অর্থাৎ জাতীয়তাবাদী শক্তির বিচ্ছিন্নতা রোধ, বাঙলার সংস্কৃতি রক্ষা করা এবং বাঙলার হিন্দুদের জন্য একটি স্বদেশভূমি অর্জন করা যা ভারতের অংশ হিসেবে জাতীয় রাষ্ট্রে পরিণত হবে” (সূত্র: বাঙলা ভাগ হলো: হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও দেশ বিভাগ, জয়া চ্যাটার্জি, ইউপিএল, ২৭৮ পৃষ্ঠা)

অর্থাৎ হিন্দু রাষ্ট্রের সাথে যোগ হতেই পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা দেশভাগ চেয়েছিলোএ লক্ষে ৪৬ এর ১৬ই আগস্ট তারা দাঙ্গা করে হাজার হাজার মুসলিমকে হত্যা করেছিলোবাংলাদেশের মধ্য হতে উগ্রহিন্দুত্ববাদী দল অনুশীলনযুগান্তর’ (চট্টগ্রামের প্রীতিলতা, সূর্যসেন এক সময় এ দলের সদস্য ছিলো) দাঙ্গা করে মুসলমানদের হত্যা করেএই দাঙ্গার কারণে বাংলাভাগ তরান্বিত হয় এবং বাংলাদেশের মুসলমানরা বিশাল এলাকা হারিয়ে ক্ষুদ্র ভূমি লাভ করতে পারে

কিন্তু এখন কেন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা বার বার দুই বাংলাকে এক হয়ে যেতে বলছে?

আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন,সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাংলাদেশে এসেছে এবং তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানকে পৈতৃক ভিটা বলে দাবি করেছেযেমন, খবরে এসেছে--
১) চট্টগ্রামে পিতৃপুরুষের ভিটায় পার্বতী পাল (http://goo.gl/v9Atwi)
২) ঝালকাঠিতে পৈতৃক ভিটায় চোখের জলে ভাসিয়ে গেলেন নচিকেতা, যায়গা ফেরত পেলে হাসপাতাল নির্মাণ করবে নচিকেতা। (http://goo.gl/4CjC34)
৩) ফরিদপুর যেতে চান পাওলি দাম (http://goo.gl/jQnTiX)
৪) ২৭ বছর পর পাবনায় সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়ি দখলমুক্ত (http://goo.gl/4xdhaQ)


সত্যিই বলতে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীরা দেবের সেই মেসেজটাই বার বার থ্রো করছে- দাও, দুই বাংলা এক কারে দাওকারণ এখন আর ৪৭ এর মত অবস্থা নেইএবং যদি দুই দেশের সীমানা তুলে দেওয়া যায়, তবে খুব সহজেই বাংলাদেশকে গিলে খেতে পারবে ভারততখন পুরো বাংলায় হিন্দুরা হবে কর্তা, মুসলমানরা হবে পরাধীনএ জন্যই রাজকাহিনীসিনেমার থিম সং হচ্ছে- ভারতের জাতীয় সংগীত, যেখানে বার বার ভারতকে বলা হচ্ছে ভাগ্যবিধাতা হিসেবে। (https://youtu.be/5NIh2iUmTcc) সবাইকে এত বড় লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: