7.01.2016

গেন্ডারিয়ায় মসজিদ নির্মাণ না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে কিভাবে?

গেন্ডারিয়ায় মসজিদ নির্মাণ না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে কিভাবে?
গেন্ডারিয়ায় মসজিদ নির্মাণ না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকবে কিভাবে?
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি নিজ নিজ ধর্ম পালন করে। এ ধরনের কথাগুলো শুনতে ভালো শোনা গেলেও কথাগুলোর আসলে ব্যাখ্যার প্রয়োজন আছে কারন আমরা ভারতীও নই আমরা বাংলাদেশী

যাইহোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ সম্পর্কটা আসলে তৈরী করে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়, সংখ্যালঘুরা তো সম্প্রীতি তৈরী করতে বাধ্য । সোজা ভাষায় বললে, সংখ্যাগুরু মুসলমানরা সম্প্রীতি বজায় রাখে বলে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে, এ ক্ষেত্রে সকল ক্রেডিট মুসলমানদেরই প্রাপ্য।

আপনারা লক্ষ্য করবেন, প্রতি বছর দূর্গা পূজার সময় হিন্দু সম্প্রদায় রাস্তাঘাটে প্রায় ৩০ হাজারের মতো মণ্ডপ তৈরী করে। মুসলমান সম্প্রদায় চুপ করে বলে- থাক না ওরা একটু করুক না। দেখা যায়ঃ- পূজা মন্ডপগুলো জমজমাট হবার মূল কারণ মুসলমানদের আগমণ ও সহযোগীতা। অর্থাৎ মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির কারণে শান্তি বজায় থাকলো।

স্বরসতী পূজার সময়ও একই অবস্থা। প্রত্যেক স্কুলে স্কুলে পূজার ব্যবস্থা করা হয়। বলাবাহুল্য এক্ষেত্রে অনেক পূজার আয়োজকদের মধ্যে মুসলিম থাকে। মুসলমানদের সহযোগীতা পেয়ে হিন্দুরা প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বরসতী পূজার ব্যবস্থা করে।

আজকাল হিন্দু সম্প্রদায় মুসলমানদের সহযোগীতা পেয়ে অবশ্য আরো এগিয়েছে। তারা এখন বিভিন্ন চাকুরী প্রতিষ্ঠানে জন্মাষ্টমীর আয়োজন করে। মুসলমানরা সেখানে সাহায্য সহযোগীতা করে, অংশগ্রহণ করে। ফলে বাংলাদেশে জন্মাষ্টমী পালনও বাড়ছে।

অর্থাৎ প্রত্যেক ক্ষেত্রে, সংখ্যালঘু হিন্দুরা সংখ্যাগুরু মুসলমানদের সহযোগীতা পায় বলে এত পূজা-পার্বন করতে পারে। মুসলমানরা যদি এগিয়ে না আসতো কিংবা বাধা সৃষ্টি করতো তবে পূজা আয়োজনের শিকিভাগও তারা করতে পারতো না।

সম্প্রতি গেন্ডারিয়া মসজিদ নিয়ে যে অবস্থা তৈরী হয়েছে, তার জন্য কিন্তু হিন্দুরা দায়ী। তারা একটি মসজিদ নির্মাণে বাধা দিয়েছে। আপনি হয়ত অর্পিত সম্পত্তি-তর্পিত সম্পত্তি ইত্যাদি হাবিজাবী বলে কথা ঘুরাতে চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু সেটা বলে লাভ হবে না। কারণ ঐ স্থানে কোন মন্দির ছিলো না। তাই গায়ে পরে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ভালো লক্ষণ নয়, এটা অবশ্যই উস্কানিমূলক ও হিন্দু-মুসলিম বিভেদ বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষণ।
এখন যদি মুসলিম সম্প্রদায় চিন্তা করে, “হিন্দুরা আমাদের মসজিদ নির্মাণে বাধা দিচ্ছে, ওদের মন্দির-মন্ডপের কাজে আমি সাহায্য করবো কেন? বাধা সৃষ্টি করবো, তারা মন্দিরে পূজা করবে, জনগণের রাস্তায় পূজা করবে কেন, রথযাত্রা করবে কেন? রাস্তাঘাট তো পাবলিক চলাচলের জন্য পূজা-রথযাত্রা করার জন্য নয়।তখন কিন্তু হিন্দুরা আগের মত এত সহজে তাদের অনুষ্ঠানগুলো চালাতে পারবে না। তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছায় বাধার সম্মুখীন হতে হবে।


আমি হলফ করে বলতে পারিহিন্দুরা মসজিদ নির্মাণ কাজে অহেতুক বাধা সৃষ্টি করে মোটেও ভালো কাজ করেনি। এটা বুঝেতে হবে, বাংলাদেশে হিন্দুদের পূজা পার্বন কিন্তু শুধু পুলিশ দিয়ে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, প্রয়োজন মুসলমানদের সহযোগীতার। কিন্তু হিন্দুরা যেহেতু মুসলমানদের ধর্মপালনে বাধা দিচ্ছে, তাই মুসলিম সম্প্রদায়ের থেকেও তাদের সহযোগীতার আশা ত্যাগ করতে হবে। আর মুসলমানদের সহযোগীতা না পেলে বাংলাদেশে হিন্দু কিভাবে তাদের পূজা-মণ্ডপ আর রথাযাত্রা টিখিয়ে রাখবে তা আমার বুঝে আসে না।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: