7.07.2016

সালাফিদের ইমাম ডাঃ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকার

সালাফিদের ইমাম ডাঃ জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকার
জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকার
বাংলাদেশের গুলশানে হামলাকারীদের মধ্যের দুজন তরুণ বিতর্কিত ও সমালোচিত ভারতীও বক্তা ডাঃ জাকির নায়েকের কট্টর ভক্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ভারত সরকারঃ জাকিরের বক্তৃতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণরা সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়ায় তাকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে ভারতে। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজ্জু বলেছে, জাকিরের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তা আইনশৃংখলা বাহিনীই ঠিক করবে 

এদিকে বিতর্কের মুখে বৃহস্পতিবার সকালে জাকির নায়েকের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডোংরির অফিসে হানা দেয়  মুম্বাই পুলিশের একটি দল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের মক্কায় সফররত জাকির নায়েক জানিয়েছে, আগামী ১১ জুলাই সে দেশে ফিরে পরদিন নিজের অবস্থান ব্যাখা করে সংবাদ সম্মেলন করবে। গত শুক্রবার রাতে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী সিন্ত্রাসি ভার্সিটিপড়ুয়া যুবক; দেশ-বিদেশের অন্তত ৩৩ জন সেখানে জিম্মি হন।

হামলাকারীদের ঠেকাতে গিয়ে বোমায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে পরের দিন শনিবার ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা অবস্থায়। নিহতদের মধ্যে নয়জন ইটালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক৷ বাকি তিনজন বাংলাদেশী, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল৷

গুলশানের এই নিষ্ঠুর হামলায় অংশগ্রহণকারী ছয়জন তরুণের মধ্যে রোহান ইমতিয়াজ ও নিবরাস ইসলাম নামে দু'জন এই বিতর্কিত সালাফি মতবাদি ধর্মগুরু জাকির নায়েকের কট্টর অনুসারী ছিলো বলে বাংলাদেশী সংবাদ মাধ্যমের বরাতে জানায় ভারতীয় এনডিটিভি।

এ প্রতিবেদন প্রকাশ হলে জাকির নায়েককে ভারতে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন শিবসেনা।

সংগঠনটি থেকে নির্বাচিত এমপি অরবিন্দ সায়ন্ত বলেন, 'আমার বুঝে আসে না যে জাকির কী প্রচার করে। সে ঘৃণা করতে ও প্রতিশোধ নিতে শেখায়। আমি আশ্চর্য হয়ে যাই যে অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণরা তার অনুসারী হয়। সরকারের উচিত তাকে নিষিদ্ধ করা, এ ধরণের মানুষ ভয়াবহ।'

বুধবার জাকিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'কী ব্যবস্থা নেয়া হবে তা বলা মন্ত্রী হিসেবে আমার জন্য সঙ্গত নয়। এটি আইনশৃংখলা বাহিনীর বিষয়, তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।'

দে বলে, 'নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারত বহু বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের উদ্বেগের বিষয়ে বেশ ইতিবাচক। এ কারণে যেকোনো সিদ্ধান্তই নেয়া হোক না কেন তা দু'দেশ একসঙ্গেই নেবে।'

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'আমরা যদি ঢাকা থেকে অনুরোধ পাই, তাহলে জাকির নায়েককে নিষিদ্ধের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।'

এদিকে গুলশান হামলায় দুই ভক্তের সংশ্লিষ্টতা ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কে আবার উপায়অন্তর না দেখে শেষমেশ মুখ খোলে জাকির নায়েক।

দে বলে, যে 'ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএস) নামটিই অনৈসলামিক। ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামটি ব্যবহার করে আমরা আসলে ইসলামের নিন্দা করছি।'

আইএসকে 'এন্টি ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া' নামে অভিহিত করে আইএস নামটি ইসলামের শত্রুদের দেয়া বলেও উল্লেখ করে সে।

গুলশানের হত্যাকারীরা তার অনুসারী- এমন তথ্যকে মিথ্যা দাবি করে জাকির নায়েক বলে, 'আমার ফেসবুক ফলোয়ারের বড় অংশই বাংলাদেশি। এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের মানুষই বাংলায় প্রচারিত পিসটিভিতে আমাকে দেখে। ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি আমাকে চেনে। প্রবীণ রাজনীতিক থেকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র, শিক্ষকরা রয়েছেন সেই তালিকায়। আর এই বিপুল মানুষের পঞ্চাশ শতাংশ আমার গুণমুগ্ধ। এই অবস্থায় জঙ্গিরা যদি আমায় চেনে তাহলে কি আমার খুব বেশি অবাক হওয়ার কথা? না।'

গুলশান হামলাকারীদের ব্যাপারে জাকির নায়েক বলে, 'হত্যাকারীরা আমার বক্তব্যের সঙ্গে পরিচিত হতেই পারে। কিন্তু তার মানে এই নয় আমি তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছি। আমি সাধারণত ধর্মীয় বই অনুসারে বক্তব্য দেই। আমার বক্তব্য শুনে তারা যদি সঠিক ইসলামকে বুঝতে না পারে সেটা তাদের দুর্ভাগ্য।'

আলোচিত বক্তা জাকিরের পুরো নাম জাকির আব্দুল করিম নায়েক। ১৯৬৫-র ১৮ অক্টোবর ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বইয়ে তার জন্ম। বর্তমানে স্ত্রী ফাহাতের সঙ্গে সে দুবাইতে থাকে। ফাহাতের বাড়ি পুনেতে। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। দুই সন্তানই বাবার পদাঙ্ক অনুসরন করে সালফি ইসলাম এর প্রচারক হয়েছে।

জাকির ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট। ভারত ও দুবাইভিত্তকি পিস টিভির মালিক সে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষায় বিশ্বের ২০ কোটি মানুষ টিভিতে তার অনুষ্ঠান দেখে। ফেসবুকে তার এক কোটি ৪০ লাখ ফলোয়ার রয়েছে।

ইসলাম প্রচারক হিসেবে খ্যাতিমান হলেও তার নানা বক্তব্য নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। ব্রিটেন, কানাডা সহ বেশ কয়েকটি দেশ তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এবিপিলাইভ, ইন্ডিয়া টুডে।

জাঁকির আর ইসলামের মাঝে দিন রাত ফারাক যা আপনারা এই পোষ্ট গুলো পড়লে বুঝতে পারবেন যদি কোরআন সুন্নাহ দিয়ে বিচার করেন।












শেষ করার আগে একটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন, যদি কেউ জেনে থাকেন তা হলো, আমার জানা মতে সঠিক তথ্যমতে জাকির নায়েক হচ্ছে একটা পিতৃ পরিচয় হিন লাওয়ারিশ যার মাতাপিতার কুনো পরিচয় এখন পর্যন্ত কেউ জানেনা তাই কেউ জেনে থাকলে কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: