7.05.2016

গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার দুই সন্ত্রাসী ডাঃ জাকির নায়েকের কট্টর অনুসারী ছিলো

গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার দুই সন্ত্রাসী ডাঃ জাকির নায়েকের কট্টর অনুসারী ছিলো
গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার দুই সন্ত্রাসী ডাঃ জাকির নায়েকের কট্টর অনুসারী ছিলো
গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় দেশি-বিদেশি ২০ জন নিরীহ মানুষের হত্যাকারী ৫ সন্ত্রাসীর মধ্যে ২ জন (নিবরাস ইসলাম ও রোহান ইমতিয়াজ) বিতর্কিত ইসলামী ধর্মগুরু সালাফি লা মাজহাবী পন্থি স্কলার ডাঃ জাকির নায়েকের অনুসারী ছিলো। এরা জাকির নায়েক ছাড়াও আনজেম চৌধুরী এবং শামী উইটনেসের ধর্মীয় মতাদর্শও খুব কট্টরভাবে অনুসরণ করতো 

কথিত রয়েছেআনজেম চৌধুরী এবং শামী উইটনেস সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের হয়ে লোক নিয়োগ দিতো। ২২ বছর বয়সী সন্ত্রাসী নিবরাস ইসলাম এই দুই ধর্মগুরুকে সামাজিক মাধ্যম টুইটারে অনুসরণ করছে ২০১৪ সাল থেকে। আরেক খুনি রোহান ইমতিয়াজ গত বছর জাকির নায়েকের পিস টিভির হয়ে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়েছে  ফেসবুকে। রোহান সমস্ত মুসলমানদের সন্ত্রাসী হওয়ার জন্য প্ররোচনা দিয়েছে ফেসবুকে। নাউযুবিল্লাহ!!

৪৯ বসর বয়সী ধর্মগুরু আনজেম চৌধুরী ব্রিটিশ নাগরিক। ব্রিটেনের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ভঙ্গ করায় বর্তমানে বিচারের মুখে রয়েছে সে। এদিকে ভারতের ব্যাঙ্গালোরের আইএস এর প্রচারক শামী উইটনেসের একটি টুইটার একাউন্ট রয়েছে ২৪ বছর বয়সী মেহেদি বিশ্বাস নামে। আইএস সমর্থক হওয়ায় শামীও এখন বিচারের মুখে।
গুলশানের সন্ত্রাসী হামলার দুই সন্ত্রাসী ডাঃ জাকির নায়েকের কট্টর অনুসারী ছিলো


শামীর টুইটার একাউন্ট তদন্তের পর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তাকে আটক করা হয়েছিল। ২০১৪ সালে আগস্টে তার একাউন্ট জব্দ করা হয়। আনজেমের টুইটার একাউন্ট জব্দ করা হয় ২০১৫ সালের আগস্টে।

ডক্টর জাকির নায়েককেও যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং মালয়েশিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি ভারতেও সে একজন বিতর্কিত চরিত্র। কিন্তু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে জাকির নায়েক স্কুল কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির অনেকের কাছে জনপ্রিয়। তার পিস টিভির প্রচারণা ও লেকচারের মাধ্যমেই ইসলাম এবং জিহাদের মূল ব্যখা না জানা এইসব যুবকদের মাঝে এই জনপ্রিয়তা সে অর্জন করেছে ।

দীর্ঘদিন থেকে এই কথিত ধর্মগুরুদের অনুসারী হওয়াটা প্রমাণ করে গুলশান হামলার সন্ত্রাসী নিবরাস ও রোহান রাতারাতি সন্ত্রাসবাদী চিন্তাচেতনায় বদলে যায় নি। তাদের পরিবর্তন হয়েছে জাকির নায়েক, আনজেম কিংবা শামীর মত ভ্রান্ত ধর্মগুরুদের প্রচারণায়। চূড়ান্ত সন্ত্রাসী হামলা করার আগে তারা অনুসরণ করেছে এদেরকে।

আইএস এর মিডিয়া এবং সাইট ইন্টেলিজেন্সের দেয়া ছবি ও তথ্য অনুসারে যদি ধরে নেয়া হয় যে, গুলশান হামলার সন্ত্রাসীরা যে সময়টায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিল ঐ সময়ে তারা অস্ত্র পরিচালনা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রশিক্ষণ নিয়েছে তাহলে কি ভূল হবে?।

উল্লেখ্যগত শুক্রবার রাতে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এরপর তারা জিম্মি করে দেশি-বিদেশি অন্তত ৩৩ জনকে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা অবস্থায়।


মূল তথ্যসূত্রঃ দ্য ডেইলি স্টার http://goo.gl/hIUMis, http://archive.is/rCvG8http://goo.gl/6onV29


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: