7.07.2016

সালাফি সন্ত্রাসী সংগঠন "আইএস" এবং বাংলাদেশের মানুষের করনীয়

সালাফি সন্ত্রাসী সংগঠন "আইএস" এবং বাংলাদেশের মানুষের করনীয়
সালাফি সন্ত্রাসী সংগঠন "আইএস" এবং বাংলাদেশের মানুষের করনীয়
আইএস আসলে কে? সোজা উত্তর- একটা গুন্ডাবাহিনী। কার গুন্ডা বাহিনী? উত্তরঃ- আমেরিকা ও ইসরায়েলের গুন্ডা বাহিনী। কেউ কথা না শুনলে কোনো রাজনৈতিক নেতারা যেমন গুন্ডা বাহিনী পাঠিয়ে থ্রেট দেয়, ঠিক তেমনি আমেরিকা ও ইসরায়েলের কথা না শুনলে সে আইএস নামক কথিত মুসলিম সন্ত্রাসী সংগঠনের গুন্ডা পাঠিয়ে বাংলাদেশকে থ্রেট দিলো। এর বেশি কিছু নয়।

অনেকে হয়তো ভাবছে- আহারে, বাংলাদেশ থেকে কতগুলো ছেলে আইএসএ যোগ দিয়েছে, বাংলাদেশে আইএস হামলা করেছে, বাংলাদেশ কি তবে জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র হয়ে গেলো?”

না এ ধরনের চিন্তার করার কোনো কারণ নাই। কারণ ফ্রান্স থেকে শত শত তরুণ আইএস যে যোগদান করেছে, ফ্রান্সে আইএস একাধিকবার হামলা করে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। তাই বলে কিন্তু ফ্রান্স জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র হয়ে গিয়েছে? আছে এমন কারো বুকের পাটা বলতে পারবে ফ্রান্স জঙ্গীবাদী রাষ্ট্র। এমনকি ফ্রান্সে মার্কিন সেনাও পাঠানো হয়নি।

অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে দুচারটা ছেলে আইএস-এ গেলে, দুএকটা হামলা করলে, কিংবা বাংলায় কথা বললে, এটা কখনই প্রমাণ হয় না- বাংলাদেশে আইএস তার ঘাটি গেড়েছে। বরং গতকালকে প্রকাশিত ভিডিও বলে দিচ্ছে বাইরের কোনো দেশ থেকে ভিডিও তৈরী করে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে এই মার্কিন গুণ্ডারা।

আমি আপনাদের স্পষ্ট করে বলছি- আইএস নিয়ে ভয় পেয়ে কোন লাভ নেই। কারণ ভয় সৃষ্টি করাই তাদের কাজ। আপনি যদি ভয়-ই পেয়ে যান, তাহলে কিন্তু তাদের মিশন সাকসেসফুল। তাই ভয় না পেয়ে আইএস জুজুকে ছুড়ে ফেলে দেওয়াই আইএস বিরোধী সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় কার্যক্রম।

উল্লেখ্য, আইএস নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে একটি বক্তব্য দিয়েছিলো।

আমি সেই বক্তব্যটা হুবুহু তুলে ধরলামঃ- দেশে আইএস আছে স্বীকার করতে প্রচণ্ড চাপ রয়েছেঃ শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন আইএস আছে এমন স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক মহল। বাংলাদেশে যদি আইএস আছে, জঙ্গি আছে একবার স্বীকার করানো যায়, তাহলে বাংলাদেশের কী অবস্থা হবে, দেশের মানুষকে একবার ভেবে দেখতে হবে। সিরিয়া, মিশর, আফগানিস্তান, ইরাকে, পাকিস্তানে কী হচ্ছে।" (http://goo.gl/ROQYWF)

এতএব মাথা থেকে এই ভুত ঝেড়ে ফেলুন এবং কিভাবে যুব সমাজ কে ভ্রান্ত সালাফি মতবাদ থেকে দূরে রেখে সঠিক ইসলামি জ্ঞান দেওয়া যায় সেই চিন্তা করুন। মনে রাখবেন যতক্ষণ আপনার সন্তান আহলে হাদিস, লা মাজহাবি, বা ওয়াহাবি সালাফি আক্বিদা থেকে দূরে থাকবে সে মুসলিম থাকবে থাকবে কোরআন সুন্নাহর অনুসারী যে কোরআন সুন্নাহ বলেঃ যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেনো সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেনো সবার জীবন রক্ষা করে। (সূরা আল মায়েদা শরীফঃ আয়াত শরিফ ৩২)


অর্থাৎ যদি কেউ কাউকে অন্যায় ভাবে হত্যা করে তাহলে একমাত্র সেই হত্যাকারীকে হত্যা করার হুকুম আছে এবং যদি কেউ সমাজে ফিত্না ফ্যসাদ ঘটায় যার একার জন্যে পুরো সমাজ অথবা জাতি সমস্যায় ভুগে এমন লোক কে ইসলাম হত্যা করার হুকুম দেয় যা সাধারণত দুনিয়ার আইনেও দেখা যায়, কিন্তু সেই অপরাধীকে সাধারণ কেউ হত্যা করার ক্ষমতা রাখেনা বরং সমাজের পরিচালক রাখেন এতএব যে বিনা কারনে হত্যা করলো সে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করলো যা আমাদের পবিত্র আল কোরআন শিক্ষা দেন, আর এই আল কোরআন এও শিক্ষা দেন যা আপনারা উপরে আয়াত শরীফে দেখেছেন যে কেউ যদি কাউকে প্রাণে বাচায় তাহলে সে সমগ্র মানব জাতিকে বাচালো। তাহলে লক্ষ লক্ষ মুসলিম এবং ভিন্ন ধর্মের লোক কে হত্যা করে কোরআনের অনুসারী হতে পারে? অবশ্যই না তাহলে বুঝতেই পারছেন ইসলাম কি আর আই এস কি?


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: