7.06.2016

পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামায আদায়ের নিয়ত নিয়ম ও ফজিলত!!!

পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামায আদায়ের নিয়ত নিয়ম ও ফজিলত!!!

পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মোবারক হয়েছেঃ যে পাঁচ মহিমান্বিত রাত্রিতে বিশেষভাবে দুআ কবুল হয়ে থাকে। তার মধ্যে একটি রজনী হচ্ছেন ঈদুল ফিতর উনার রাত্রি অর্থাৎ আমাদের দেশে যে রাত চাঁদ রাত হিসেবে পরিচিত সেই রাত্রি। কাজেই এই রাত্রিতে সকলের উচিত বিশেষভাবে তওবা-ইস্তিগফার করা, ইবাদত বন্দেগী দোয়া কালাম করা যেরূপ শবে বরাত, শবে ক্বদরে করা হয়ে থাকে 

পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর হুকুম-আহকাম।

ঈদ অর্থ খুশি, আনন্দ। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এর এক মাস রোযার পর শাওওয়াল মাসের প্রথম তারিখ কুল-মুসলিমের জন্য খুশির দিন হিসেবে মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদিয়া করেছেন।

সর্বপ্রথম ফজর নামাযের পর গোসল করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় পরে আতর-সুরমা মেখে খুব সকাল সকাল ঈদগাহে গিয়ে ঈদুল ফিতর-এর দুরাকাআত নামায আদায় করার মধ্য দিয়েই এই ঈদ শুরু হয়। নামায শেষে মুছাফাহা-মুআনাকা করে পরস্পরে কুশল বিনিময় করে, যথাসাধ্য ভাল খাদ্য খেয়ে এদিন মুমিন-মুসলমানগণ ঈদ উদযাপন করে থাকেন। ঈদুল ফিতরের দিন বিজোড় সংখ্যক খুরমা-খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া, তাকবীর বলতে বলতে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং ফিরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়িতে ফেরা খাছ সুন্নত।

হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, ঈদুল ফিতর-এর নামায আদায় করে ফিরার পথে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালামগণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে রোযা পালনকারীকে এই বলে ইস্তিক্ববাল জানাতে থাকেন যে, “হে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দাগন! আপনাদেরকে ক্ষমা করা হলো। আপনাদের গুনাহ-খতা মাফ করা হলো। আপনাদেরকে কবুল করা হলো।সুবহানাল্লাহ!

যেহেতু ঈদের নামায বছরে পড়তে হয় মাত্র দুইবার, ফলে অনেকেই এর নিয়মকানুন একটু গুলিয়ে ফেলেন। অনেকেই জানেন না যে কখন হাত বাঁধবেন, কখন হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবেন এটা নিয়ে খুবই চিন্তিত থাকেন, এমনকি অনেকে একবার ডানপাশের/বামপাশের লোকেরটাও অনুসরণ করেন। অথচ বিষয়টা খুবই সহজ।

উল্লেখ্য ঈদ এর নামাজ ২ রাকাত পড়তে হয় এবং সেটা ওয়াজিব নামায।

ঈদুল ফিতর-এর নামাযের নিয়ত

نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة العيد الفطر مع ستة تكبرات واجب الله تعالى اقتديت بهذا الامام متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر .

উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রকাআতাই ছলাতিল ঈদিল ফিতর মাআ সিত্তাতি তাকবিরতি ওয়াজিবুল্লাহি তায়ালা ইক্বতাদাইতু বি হা-যাল ইমাম মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল ক্বাবাতিশ শারীফাতি- আল্লাহু আকবার।

বাংলায়ঃ আমি ক্বিবলামুখী হয়ে আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য ছয় তাকবীরের সাথে ঈদুল ফিতর-এর ওয়াজিব নামায এই ইমামের পিছনে আদায় করছি- আল্লাহু আকবার।

এ দিন সূর্যোদয়ের পর হতে দ্বিপ্রহরের পূর্বে জামাআতের সাথে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরসহ দুরাকাআত নামায আদায করা ওয়াজিব। ঈদের নামাযে খুৎবা পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলার নিয়ম হলোঃ প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত ৩ তাকবির (ছানা পড়ার পর): আল্লাহুয়াকবার বলে হাত বেঁধে নামাযে দাঁড়ালেন এখন আপনাকে শুধু ছানা (সুবহানাকা) পড়তে হবে। তখন থেকে আপনাকে আর কিছু পড়তে হবেনা। ইমাম সাহেব ৩ টি তাকবীর বলবেন আপনি ও ইমাম এর সাথে তাকবীর বলবেন (হাত তুলে তাকবীর বলবেন কিন্তু হাত বাধবেন না) ইমাম সুরা পড়বেন, রুকু করবেন সিজদা করবেন আপনি শুধু রুকু সিজদার তাসবিহ পড়বেন।

দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত ৩ তাকবির (সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা পড়ার পর)। এখানেও প্রতি তাকবীরের পর হাত ছেড়ে দিবেন অর্থাৎ হাত বাঁধতে হবেনা। এবার ও ইমাম কে অনুসরণ করুন এইবার ৩ য় তাকবীর শেষ হলে চতুর্থবার আল্লাহু আকবারবলে হাত না বেঁধে রুকুতে চলে যান রুকুর তাসবিহ পড়ুন সিজদাতে গেলে সিজদার তাসবিহ পড়ুন । সিজদা থেকে উঠার পর আত্তাহিয়াতু/ সাল্লি আলা /বারিক আলা/ দুয়া মাসুরা/ আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি পড়ুন এবং অপেক্ষা করুন ইমাম সাহেব সালাম ফিরালে আপনিও সালাম ফিরান।

পবিত্র ঈদের নামাযের পর অবশ্যই খুতবা শুনবেন খুতবা শোনা ওয়াজিব। মহান আল্লাহ পাক আমাদের কে সঠিক নিয়মে নামায পড়ার তাওফিক দিন । আমীন।

পবিত্র ঈদুল ফিতর এর দিনের সুন্নতসমূহ।
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
পবিত্র ঈদুল ফিতর এর দিনের সুন্নত হলো-

(১) খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠা,
(২) গোসল করা,
(৩) মিসওয়াক করা,
(৪) সামর্থ অনুযায়ী নতুন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা,
(৫) আতর ব্যবহার করা,
(৬) নামাযের পূর্বে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা,
(৭) ঈদুল ফিতর নামাযের পূর্বে কিছু মিষ্টান্ন খাওয়া
(৮) তিন বা বেজোড় সংখ্যক খেজুর বা খুরমা খাওয়া,
(৯) এলাকার মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায পড়া,
(১০) ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া,
(১১) এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা,
(১২) সকাল সকাল ঈদের নামায পড়ার জন্য যাওয়া,
(১৩) ঈদের নামায ঈদগাহে গিয়ে পড়া। সম্ভব না হলে মহল্লার (এলাকার) মসজিদে গিয়ে ঈদের নামায পড়া,
(১৪) আস্তে আস্তে নিম্নলিখিত দোয়া পড়তে পড়তে ঈদগাহে যাওয়া
الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله والله اكبر الله اكبر ولله الحمد
(১৫) শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে খুশি প্রকাশ করা ইত্যাদি ঈদের সুন্নত।

সূত্রঃ (আলমগীরী, নূরুল ঈজাহ ও অন্যান্য ফিক্বাহর কিতাব সমূহ)

পবিত্র ঈদুল ফিতর এর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

মুসলমানগণ পরস্পরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করাতে অসুবিধা নেই। কারণ সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন পবিত্র ঈদ উপলক্ষে তা করতেন। উনারা একে অপরকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করতেন।

সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শুভেচ্ছা বিনিময়ে একে অপরকে বলতেনঃ تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنْكَ

‘‘মহান আল্লহ তাআলা আমাদের ও আপনার ভাল কাজ কবূল করুন।’’ (ফতহুল বারী)

এছাড়াও বলা যেতে পারেঃ كُلَّ عَام وَأَنْتُمْ بِخَيْرٍ

প্রতি বছরই আপনারা ভাল থাকুন।

অথবা বলা যেতে পারে,

عِيْدٌ سَعِيْدٌ ( عِيْدٌ مُبَارَكٌ) ঈদ মোবারক (আপনাকে বরকতময় ঈদের শুভেচ্ছা)।


দোয়া করি পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে রংধনুর মত রং ছড়িয়ে বার বার ফিরে আসুক। আর সে রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে উঠুক আমাদের জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত। ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার হয়ে যাক সকল পাপ ও পঙ্কিলতা। আ'মীন 


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: