7.05.2016

আওয়ামীলিগ ও বিএনপির জাতীয় ঐক্য হবে কি হবে না ?

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা।
গুলশান হামলার পর একটা কথা শোনা যাচ্ছে, সেটা হলো জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য শব্দটা উচ্চারিত হওয়ার অর্থ- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কিছু মানুষ চিন্তা করছে, বাংলাদেশে হয়ত কোন বিদেশী শক্তির শকুনী দৃষ্টি পড়েছে, এ থেকে নিস্তারের জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। যেমন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেনঃ দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এবং বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ডঃ কামাল হোসেন বলেছেন, বিভেদের রাজনীতি থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় সুস্থ রাজনীতির পক্ষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। অবশ্য জাতীয় ঐক্যের বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছে অনেকে। বলছে- না জাতীয় ঐক্য সম্ভব না। যেমনঃ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্য চাই বক্তব্যের জবাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তা নাকোচ করে দেন


আসলে জাতীয় ঐক্যশব্দটার সাথে সাধারণ মানুষ মুটোমুটি পরিচিত আর জাতীয় ঐক্য বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো বাংলাদেশে বড় দুটো রাজনৈতিক দল এক হয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির মোকাবেলা করা। তাহলে এখন কথা হচ্ছে- সেই তৃতীয় শক্তিটা আসলে কে?

বাংলাদেশের জন্য এই তৃতীয় শক্তিটা হচ্ছে আমেরিকা এবং তাদের মদদদাতা বাংলাদেশের জন্যে স্লো পয়জন ভারত। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না যে ১/১১ এর সময়ও বাংলাদেশে মার্কিনপন্থী ডাঃ ইউনুসর উদ্ভব হয়ে গিয়েছিলো প্রায়, কিন্তু আওয়ামী-বিএনপি এক হয়ে তাকে দমন করেছে। বর্তমানেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে।


আমার দৃষ্টিতে আওয়ামীলীগের পায়ের তলার মাটি এখন অনেকটাই দুর্বল। বিশেষ করে গুলশান হামলার ফলে বাংলাদেশের প্রধান বিনিয়োগকারী দেশ জাপানের সাথে বাংলাদেশে সম্পর্কের অবনমন ঘটেছে। এখন সেই সম্পর্ক পুর্নস্থাপনে জাপান (জাপান আসলে আমেরিকারই একটি অংশ) যদি আওয়ামী সরকারকে বিশেষ কোন শর্ত মানতে চাপ দেয়, সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনা তা মেনে নিলেও নিতে পারেন। আর এক্ষেত্রে আওয়ামী সরকারকে আরো বেকায়দায় ফেলতে পারবে আমেরিকা।


গুলশানের ঘটনায় আমার কাছে শেখ হাসিনাকে অনেকটা অসহায় বলে মনে হয়েছে, আপনিও দেখবেন যে উনি যখন উনার বক্ত্যব দিচ্ছিলেন তখন কেমন বিমর্শ লাগছিলো। মিডিয়ার এত বড় বেঈমানি দেখার পরেও কিন্তু তিনি শুধু মৌখিক বকা দিতে পেরেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন এ্যাকশনে যেতে পারেননি, লাইসেন্স বাতিল করতে পারেননি কোন টিভি চ্যানেলের পারেননি বন্ধ করে দিতে দালাল পত্রিকাগুলো। উল্লেখ্য গুলশানের ঘটনায় বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো এবং কতিপয় অনলাইন পোর্টাল বাংলাদেশের সরকারের কথা না শুনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা শুনেছে, এক্ষেত্রে আসলে প্রমাণ হয়ে গেছে বাংলাদেশের মূল মূল টিভি চ্যানেলগুলো এবং নিউজ পোর্টাল গুলো এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে, যা বাংলাদেশের জন্য সমূহ বিপদের অশনি সংকেত নির্দেশ করছে।


বলাবাহুল্য আওয়ামী সরকার এখন তার সরকারের মধ্যে ঢুকে পড়া মার্কিন এজেন্টদের বিরুদ্ধে শক্ত গলায় কথা কিছু বলতেও পারছে না। মিডিয়ামন্ত্রী ইনু যে আওয়ামী সরকারের ভেতর সিদ কাটছে বহুদিন ধরে। সৈয়দ আশরাফ তা প্রকাশ করেছিলো যেমনঃ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ জাসদকে হঠকারীদল আখ্যায়িত করে বলেন, এদের একজনকে আবার মন্ত্রিত্বও দেওয়া হয়েছে, যার প্রায়শ্চিত্ত আওয়ামী লীগকে আজীবন করতে হবে।), কিন্তু সেটা শুধু মুখ পর্যন্তই, বাস্তবে সেটা দমনের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিচারক এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুইজন মন্ত্রী মুখ খুলেছিলো, কিন্তু উল্টো তাদেরকেই জরিমানা করা হয়েছে। যেমনঃ আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত করে দুই মন্ত্রীকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ



জাতীয় ঐক্য, জাতীয় ঐক্য বলা হচ্ছে। কিন্তু আওয়ামীলীগের মধ্যেই তো কোন ঐক্য নেই। আওয়ামীলীগের ভেতরে থাকা ছদ্মবেশি মার্কিন এজেন্টরা ঢুকে দলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে আর একই ঘটনায় বিএনপির অবস্থা তো মৃতপ্রায় তা জ্ঞানি মাত্রই অবগত। স্বাভাবিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ নিকট ভবিষ্যতে মাইনাস-টু দেখতে যাচ্ছে, উত্থ্যান ঘটতে যাচ্ছে কোন মার্কিনপন্থী সরকারের যা এই পোষ্ট পড়লেই আপনার হয়তো কিছুটা আন্দাজ হবে (আমরা মূর্খ বাংলাদেশি কি বুঝতে পেরেছি গুলশানের হামলা আমাদের কি কি ভবিষ্যতবাণী দিয়ে গেলো?)। তাই এখন যদি জাতীয় ঐক্যের কথা চিন্তা করতেই হয় তবে আগে নিজ নিজ দলের মার্কিনপন্থী দালাল দেশবিরোধি শকুনদের বিতাড়িত করার ব্যবস্থা করতে হবে। হয় আমেরিকা ছাড়ো, নয়ত দল ছাড়োএই মর্মে কঠিন শর্ত জুড়ে দিতে হবে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় আওয়ামী-বিএনপি যদি মার্কিনপন্থীগুলোকে গণহারে দল থেকে বহিষ্কার করে দেয়, তবেই জাতীয় ঐক্য সম্ভব, এছাড়া জাতীয় ঐক্য স্থাপন কখনই সম্ভব নয়।


সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুনঃ

এডমিন

আমার লিখা এবং প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বে আইনি।

0 facebook: